স্পোর্টস ডেস্ক, a2news24.com টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের বিতর্কে উত্তাল হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন। ক্রিকেটারদের অধিকার রক্ষা এবং বাণিজ্যিক শর্তাবলী নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) এখন একে অপরের মুখোমুখি। মূলত খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ইমেজ স্বত্ব এবং অংশগ্রহণের বিতর্কিত কিছু শর্তকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত।
দ্বন্দ্বের মূলে যা আছে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে যে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি ক্রিকেটারদের কাছে এমন কিছু চুক্তিনামা পাঠিয়েছে, যা ২০২৪ সালে হওয়া দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ক্রিকেটারদের সংগঠনের দাবি, নতুন এই শর্তগুলো অত্যন্ত ‘শোষণমূলক’ এবং এতে খেলোয়াড়দের মৌলিক বাণিজ্যিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। বিশেষ করে নাম, ছবি এবং ইমেজ স্বত্ব ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইসিসি এমন কিছু নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছে যা আন্তর্জাতিক মানের পেশাদারিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আইসিসি বনাম ডব্লিউসিএ: পাল্টাপাল্টি অবস্থান ডব্লিউসিএ-র প্রধান নির্বাহী টম মোফাট এই বিষয়ে আইসিসিকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। তার মতে, খেলোয়াড়দের কাছে পাঠানো বর্তমান মেমোতে অন্তত আটটি জায়গায় বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। তবে আইসিসি এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, ২০২৪ সালের সেই চুক্তিটি ছিল নির্দিষ্ট আটটি ক্রিকেট বোর্ডের জন্য। বাকি অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এই চুক্তির আওতাভুক্ত নয়। আইসিসির এই বিভাজনমূলক অবস্থানকে বৈষম্যমূলক হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ও প্রাসঙ্গিকতা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশ নিচ্ছে না। বাংলাদেশের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। তবে বাংলাদেশ সরাসরি এই টুর্নামেন্টে না থাকলেও, বৈশ্বিক এই বিতর্ক বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ডব্লিউসিএ-র সদস্য হিসেবে কোয়াব (Cricketers’ Welfare Association of Bangladesh) এই আইনি লড়াইয়ের অংশ। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রেও এই সংঘাতের ফলাফল সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।
শোষণমূলক শর্তের প্রভাব ডব্লিউসিএ-র আশঙ্কা, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর ক্রিকেটারদের ওপর এই ‘শোষণমূলক’ শর্তগুলো জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং উপার্জনের পথ সংকুচিত হতে পারে। বিশেষ করে গণমাধ্যমে উপস্থিতি এবং ব্যক্তিগত স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে আইসিসি কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাচ্ছে, যা আধুনিক ক্রিকেটের যুগে খেলোয়াড়দের জন্য হুমকিস্বরূপ।
ভবিষ্যৎ কী? বিশ্বকাপের মতো একটি বড় আয়োজনের আগে এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ ক্রিকেটের সৌন্দর্যে কালি লেপন করছে। একদিকে আইসিসি তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় অনড়, অন্যদিকে ডব্লিউসিএ খেলোয়াড়দের অধিকার আদায়ে বদ্ধপরিকর। যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয়, তবে বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




