বিতর্ক থেকে দূরে থাকতেই কি এই কৌশলী পথ? রহমানের মন্তব্যে সৌরভ শুক্লার জুতসই জবাব

0
বিতর্ক থেকে দূরে থাকতেই কি এই কৌশলী পথ? রহমানের মন্তব্যে সৌরভ শুক্লার জুতসই জবাব

বিনোদন ডেস্ক, A2News24: বলিউড বা গ্ল্যামার জগতে তারকাদের যেকোনো মন্তব্যই এখন কাঁটাছেঁড়া হয় নতুন কোনো বিতর্কের খোঁজে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের একটি বিশেষ মন্তব্য নিয়ে যখন বিনোদন পাড়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই এক অনন্য প্রতিক্রিয়া দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন শক্তিমান অভিনেতা সৌরভ শুক্লা। তার এই প্রতিক্রিয়া যেমন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, তেমনই ইঙ্গিত দেয় বর্তমান সময়ের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো থেকে শিল্পীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতাকেও।

প্রেক্ষাপট ও রহমানের মন্তব্য ঘটনার সূত্রপাত হয় এ আর রহমানের একটি সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপট থেকে, যেখানে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠীগত বিভাজন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। ভারতের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে রহমানের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীর মুখে এমন কথা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের একাংশ একে সাহসিকতা হিসেবে দেখলেও, অন্য পক্ষ এর সমালোচনা করতে শুরু করে।

সৌরভ শুক্লার সেই ‘মজার’ জবাব সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অভিনেতা সৌরভ শুক্লাকে যখন রহমানের সেই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি সরাসরি কোনো তর্কে জড়াননি। বরং নিজের স্বভাবজাত রসবোধকে কাজে লাগিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে হয় এখন এখান থেকে যাই।” তার এই সংক্ষিপ্ত ও কৌশলী প্রস্থান মূলত এটিই বুঝিয়ে দেয় যে, সমসাময়িক রাজনৈতিক বা স্পর্শকাতর তর্কে তিনি নিজের নাম জড়াতে ইচ্ছুক নন। এই এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গিটি নেটিজেনদের কাছে ‘ইউনিক’ বা অনন্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বলিউডে মতপ্রকাশের চ্যালেঞ্জ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, বলিউডের কোনো তারকা সামাজিক বা রাজনৈতিক ইস্যুতে মন্তব্য করলে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সিনেমা বয়কটের ডাক পর্যন্ত দেওয়া হয়। সৌরভ শুক্লার মতো অভিজ্ঞ অভিনেতারা সম্ভবত এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই বিতর্ক এড়িয়ে চলার শিল্প আয়ত্ত করেছেন। তিনি সরাসরি রহমানের পক্ষ নেননি, আবার তার বিরোধিতা করে কোনো বিতর্কও উসকে দেননি।

বাংলাদেশি দর্শকদের ওপর প্রভাব এ আর রহমান এবং সৌরভ শুক্লা—দুজনেই বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রহমানের সুরে যেমন বাঙালি শ্রোতারা মুগ্ধ হন, তেমনি ‘পিকে’ বা ‘জলি এলএলবি’র মতো সিনেমায় সৌরভ শুক্লার অভিনয়ের কদর বাংলাদেশেও আকাশচুম্বী। এদেশের পাঠকদের কাছে বলিউডের ভেতরের এই মান-অভিমান বা কৌশলী অবস্থান সবসময়ই কৌতূহলের বিষয়। বিশেষ করে সাম্প্রদায়িকতা বা সম্প্রীতির মতো বিষয়গুলো যেহেতু দুই দেশের প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই সংবাদটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

শেষ কথা: আগামীর পথ কী? সৌরভ শুক্লার এই প্রতিক্রিয়া কি কেবল রসিকতা নাকি বলিউডের বড় তারকাদের নীরব থাকার ইঙ্গিত? বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পের আঙিনায় রাজনীতি সরাসরি প্রভাব ফেললে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই হয়তো অনেক শিল্পীই এখন নিজের শিল্পকর্ম দিয়ে কথা বলতে চান, বিতর্ক দিয়ে নয়। রহমানের মন্তব্যের রেশ কতদূর গড়ায় এবং অন্যান্য তারকারা এ নিয়ে মুখ খোলেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here