ক্রীড়া ডেস্ক, A2News24: বিশ্ব ক্রিকেটের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক বৈরিতা এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বড় আইসিসি ইভেন্টগুলোতেও। সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যা বাংলাদেশে আয়োজনের কথা রয়েছে (যৌথভাবে বা এককভাবে আইসিসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী), তা বর্জনের হুমকি দিতে শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই সিদ্ধান্তে কেবল পাকিস্তান নয়, বরং আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট অর্থনীতি ও উন্মাদনাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সংকটের মূলে সেই ‘হাইব্রিড মডেল’ মূলত এই টানাপোড়েনের শুরু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনকে কেন্দ্র করে। ভারত পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আইসিসি যখন ‘হাইব্রিড মডেল’ এর প্রস্তাব দেয়, তখনই পাকিস্তান কড়া অবস্থান নেয়। পিসিবির স্পষ্ট বার্তা—যদি ভারত পাকিস্তানে না যায়, তবে পাকিস্তানও ভারতের আয়োজনে বা ভারতের প্রভাবাধীন কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। এই রেশ ধরেই বাংলাদেশের মাটিতে হতে যাওয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের আলোচনা সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশ সবসময়ই ক্রিকেটের জন্য একটি নিরাপদ এবং আবেগী জনপদ। কিন্তু এশীয় দেশগুলোর মধ্যে এই রাজনৈতিক বিভাজন বাংলাদেশের মতো আয়োজক দেশগুলোকে বিপাকে ফেলছে। পাকিস্তান যদি সত্যিই বিশ্বকাপ বর্জন করে, তবে টুর্নামেন্টের জৌলুস যেমন কমবে, তেমনই টিকিট বিক্রয় ও স্পন্সরশিপের দিক থেকেও বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের কাছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, যা থেকে বঞ্চিত হতে পারে সাধারণ দর্শকরা।
পিসিবির অনড় অবস্থান ও আইসিসির ভূমিকা পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, তারা আর ‘একতরফা’ ছাড় দিতে রাজি নন। আইসিসি বর্তমানে এই সংকট নিরসনে দৌড়ঝাঁপ করছে। যদি আইসিসি কোনো সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে না পারে, তবে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ইভেন্টগুলো জৌলুস হারাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি যদি এখনই শক্ত হাতে হাল না ধরে, তবে ক্রিকেটের মানচিত্র বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে।
আশঙ্কার মেঘ বনাম আশার আলো ক্রিকেট প্রেমীরা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত কূটনীতির টেবিলেই এর সমাধান মিলবে। খেলাধুলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার যে কথা সবসময় বলা হয়, বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখার সময় এসেছে। বাংলাদেশের মাঠগুলো যখন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন এমন বর্জনের হুমকি আয়োজক হিসেবে বিসিবির জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ।
উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? আপাতত বল এখন আইসিসির কোর্টে। পাকিস্তানের এই হুমকির পর আইসিসি তাদের ইভেন্টগুলোর নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ সভায় বসার কথা রয়েছে। পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অনড় থাকবে নাকি বড় কোনো সমঝোতায় আসবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।




