নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসির নামটাই যেন এক জাদুর কাঠি। তিনি যেখানে যান, সেখানেই বদলে যায় সমীকরণ। মার্কিন ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির চেহারা আমূল বদলে গেছে। তবে এবার যা ঘটছে, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। ২০২৬ সালের নতুন ফুটবল মৌসুমকে সামনে রেখে ইন্টার মায়ামি এমন এক দল গঠন করছে, যা অন্য কোনো এমএলএস (MLS) ক্লাবের পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব। আর এর পেছনের মূল কারণ—‘মেসি ফ্যাক্টর’।
মেসির জন্য বেতন কমাতে রাজি তারকারা সাধারণত বড় তারকাদের দলে ভেড়াতে ক্লাবগুলোকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু ইন্টার মায়ামির ক্ষেত্রে হচ্ছে উল্টো। মেসির সাথে একই ড্রেসিংরুম শেয়ার করার লোভে অনেক নামী খেলোয়াড় তাদের স্বাভাবিক পারিশ্রমিকের চেয়ে অনেক কম বেতনে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কানাডিয়ান গোলরক্ষক ডেন সেন্ট ক্লেয়ার। এমএলএস-এর ‘সেরা গোলরক্ষক’ নির্বাচিত হওয়া এই তারকাকে তার পুরনো ক্লাব মিনেসোটা ইউনাইটেড কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিলেও, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে অনেক কম বেতনে মায়ামিতে যোগ দিয়েছেন। সেন্ট ক্লেয়ার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের পাশে খেলার সুযোগটাই তার কাছে বড়।
২০২৬ মৌসুমের শক্তিশালী লাইনআপ কেবল গোলরক্ষকই নয়, আক্রমণেও শক্তি বাড়িয়েছে মায়ামি। মেক্সিকান স্ট্রাইকার জার্মান বের্টেরামকে ১৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে দলে ভিড়িয়েছে ক্লাবটি। এছাড়াও মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পলের চুক্তি স্থায়ী করা হয়েছে এবং লুইস সুয়ারেজের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের সাথে নিয়ে এক বিধ্বংসী দল গঠন করেছেন কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো। এদিকে, মেসির পুরনো সতীর্থ অস্কার উস্তারি ক্লাব ছেড়েছেন, যা নতুন পুনর্গঠনেরই একটি অংশ।
বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য প্রভাব বাংলাদেশে মেসির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকায় ইন্টার মায়ামির প্রতিটি ম্যাচ এখন এদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও, ক্লাব পর্যায়ে তার এই শক্তিশালী প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে ফুটবল চালিয়ে যেতে ক্ষুধার্ত। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ জয় করাই এখন মায়ামির প্রধান লক্ষ্য, যা মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে আরেকটি নতুন পালক যোগ করতে পারে।
উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? লিওনেল মেসি যত দিন মায়ামিতে আছেন, ক্লাবটি এমএলএস-এর সব নিয়মকানুন ছাপিয়ে এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করবে। বেতন সীমা বা অন্যান্য সীমাবদ্ধতা মেসির ব্যক্তিগত আকর্ষণের কাছে যেন নস্যি। আগামী মাসেই শুরু হতে যাওয়া নতুন সিজনে মেসি-সুয়ারেজ-ডি পল ত্রয়ীর রসায়ন মাঠের লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




