স্পোর্টস ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): কাতার বিশ্বকাপের সেই সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর থেকেই একটি প্রশ্ন ফুটবল বিশ্বে ধ্রুবতারার মতো ঘুরপাক খাচ্ছে—লিওনেল মেসি কি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলবেন? ফুটবল জাদুকরের বয়স তখন ৩৯ ছুঁইছুঁই হবে। তবুও বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের মনে প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী। সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির বর্তমান কোচ এবং মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ হাভিয়ের মাশ্চেরানোর একটি মন্তব্য এই জল্পনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
মাশ্চেরানোর সেই রহস্যময় তিন শব্দ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসির আগামী বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাশ্চেরানো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ একটি জবাব দেন। অনেকটা রহস্য ধরে রেখেই তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী” (I hope so)। মাত্র তিনটি শব্দের এই উত্তর এখন ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদের মাঝে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাশ্চেরানো কেবল মেসির বর্তমান ক্লাবের কোচই নন, তিনি মেসির দীর্ঘদিনের বন্ধু। ফলে তার এই ‘আশাবাদী’ হওয়াকে কেবল সৌজন্যমূলক মনে করছেন না ভক্তরা।
শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রস্তুতি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায়। যেহেতু মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতেই খেলছেন, তাই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া তার জন্য সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মূল চ্যালেঞ্জটি হবে শারীরিক। ২০২৬ সালে মেসির বয়স হবে ৩৯। এই বয়সে বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ স্তরের টুর্নামেন্টে খেলার জন্য যে তীব্র শারীরিক সক্ষমতার প্রয়োজন, তা মেসি বজায় রাখতে পারবেন কিনা—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যদিও মাশ্চেরানোর মতে, মেসির ফুটবল মেধা এবং ফিটনেসের প্রতি তার নিষ্ঠা তাকে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করার শক্তি যোগায়।
বাংলাদেশি সমর্থকদের উন্মাদনা ও প্রভাব বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ মানেই বড় এক অংশ জুড়ে থাকে আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের ভক্তদের সেই অবিস্মরণীয় সমর্থন ফিফা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মেসি ভক্ত এখনও স্বপ্ন দেখেন, তাদের প্রিয় তারকা ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে নামবেন। মাশ্চেরানোর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য বাংলাদেশি সমর্থকদের মাঝেও এক পশলা স্বস্তির বাতাসের মতো কাজ করছে।
শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে মেসি কি অপরিহার্য? আর্জেন্টিনার বর্তমান স্কোয়াড অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ হলেও মেসির উপস্থিতি সেখানে এক বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ করে। মাশ্চেরানো মনে করেন, মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি মাঠের ভেতরে এবং বাইরে পুরো দলের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। যদি তিনি খেলেন, তবে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও বেগবান হবে।
উপসংহার: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার? মাশ্চেরানো বা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন যতই আশাবাদী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিতে হবে খোদ লিওনেল মেসিকেই। তিনি কি তার ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত? ফুটবল বিশ্ব এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেসির ফিটনেস এবং মাঠের ফর্মই বলে দেবে—আমরা কি আবারও ‘এলএম ১০’ (LM10) জাদু দেখতে পাবো কিনা।




