৪১ দফা ‘জনতার ইশতেহার’: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের মহাপরিকল্পনা

0
৪১ দফা ‘জনতার ইশতেহার’: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের মহাপরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আমির ড. শফিকুর রহমান ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামে এই রূপরেখা তুলে ধরেন। রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ২৬টি মূল অগ্রাধিকারসহ মোট ৪১টি দফায় সাজানো হয়েছে এই ইশতেহার।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও অর্থনৈতিক সংস্কার জামায়াতের এবারের ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি নির্মূলে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এছাড়া বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে চালু করা এবং সেখানে ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তরুণ ও শিক্ষিত সমাজের জন্য বিশেষ স্কিম দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। ইশতেহার অনুযায়ী, স্নাতক শেষ করার পর চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ তরুণকে মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রদান করা হবে। এছাড়া আগামী ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদানের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

নারী অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে বিশেষ নজর দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারে ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও হোম ইকোনমিক্স কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ড. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে মা-বোনদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং কর্মক্ষেত্রে তারা নিরাপদ থাকবেন”। এছাড়াও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এবং ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতা’র ভিত্তিতে গঠনমূলক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে জামায়াত। এছাড়া মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎপরতা চালানোর কথাও ইশতেহারে উল্লেখ আছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবগুলো ভোটারদের মাঝে কী প্রভাব ফেলে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। জামায়াতের এই ‘জনতার ইশতেহার’ যদি মাঠপর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারে, তবে নির্বাচনী ফলাফলে তা বড় ধরণের চমক নিয়ে আসতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here