এক বাবার শত শত সন্তান! ভোটার তালিকায় ডিজিটাল জালিয়াতি নাকি নিছক ভুল?

0
এক বাবার শত শত সন্তান! ভোটার তালিকায় ডিজিটাল জালিয়াতি নাকি নিছক ভুল?
এক বাবার শত শত সন্তান! ভোটার তালিকায় ডিজিটাল জালিয়াতি নাকি নিছক ভুল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভোটার তালিকায় সাধারণত ছোটখাটো ভুল বা নামের বানান ভুল লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় এমন এক তথ্য উঠে এসেছে যা স্রেফ বিস্ময়কর নয়, বরং অসম্ভবও বটে। একটি বা দুটি নয়, এক ব্যক্তির নামের পাশে ‘সন্তান’ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে ৩৮৯ জন ভোটারকে। বাস্তব ও বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব এই ঘটনাটি ধরা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায়।

বীরভূমে ‘আজব’ কাণ্ড নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া একটি হলফনামায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। বীরভূম জেলার নানুর বিধানসভা এলাকায় এক ব্যক্তিকে ৩৮৯ জন ভোটারের অভিভাবক বা বাবা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোটার তালিকার ডাটাবেজে এটি একটি বড় ধরণের তথ্যগত ও যুক্তিগত ত্রুটি (Logical Error)।

একাধিক জেলায় একই ধরণের অসঙ্গতি শুধু বীরভূম নয়, পশ্চিমবঙ্গের আরও বেশ কিছু জেলায় একই ধরণের অস্বভাবিক তথ্য মিলেছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • হাওড়া (সাঁকরাইল): এখানে এক ব্যক্তিকে ৩১০ জন ভোটারের অভিভাবক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

  • মুর্শিদাবাদ: এক ব্যক্তির নামে ১৯৯ জন ভোটার নিবন্ধিত।

  • দার্জিলিং: এক অভিভাবকের অধীনে ১৫২ জন ভোটার।

  • জলপাইগুড়ি (নাগরাকাটা): এখানে ১২০ জন ভোটার একই ব্যক্তিকে তাদের অভিভাবক হিসেবে দাবি করেছেন।

  • আসানসোল: এখানে একই বাবার নামে ১৭০ জন ভোটার নথিভুক্ত।

কমিশনের পদক্ষেপ ও আইনি লড়াই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ছয় জন বা তার বেশি সন্তান একই অভিভাবকের অধীনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এই ধরণের অসঙ্গতি কেন এবং কীভাবে হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা চলছে এবং আগামী বুধবার এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের এই হলফনামার পর ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে পরিকল্পিত জালিয়াতি হিসেবে দেখলেও কমিশন একে টেকনিক্যাল ত্রুটি হিসেবে সংশোধনের চেষ্টা করছে। আগামী বুধবারের শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচনের শুদ্ধতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here