কেন দেশ পরিচালনায় নারীরা এখনো পিছিয়ে? বাধা কোথায়?

1
কেন দেশ পরিচালনায় নারীরা এখনো পিছিয়ে? বাধা কোথায়?
কেন দেশ পরিচালনায় নারীরা এখনো পিছিয়ে? বাধা কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন আধুনিকতা ও সমানাধিকারের কথা বলি, তখন বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র এক ভিন্ন ও কিছুটা হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের অনেক দেশেই রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হ্রাস পাচ্ছে। কেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীরা আজও সংখ্যালঘু? কেন একটি দেশ নারী নেতৃত্বের জন্য ‘অনুকূল’ হয়ে উঠতে পারছে না? এই প্রশ্নগুলো এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

প্রথাগত বাধার অদৃশ্য দেওয়াল নারী নেতৃত্বের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে বিদ্যমান সামাজিক কাঠামো এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। রাজনীতিতে একজন নারীকে যতটা কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, একজন পুরুষকে তার অর্ধেকও হতে হয় না। একজন নারী নেত্রীকে শুধু তার কাজ দিয়ে বিচার করা হয় না, বরং তার পোশাক, পারিবারিক জীবন এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও প্রতিনিয়ত কাটাছেঁড়া চলে। এই দ্বিমুখী মানদণ্ড অনেক দক্ষ নারী নেত্রীকেও মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।

Read More: গোপালগঞ্জ এ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভঙ্গ: নৌকাশূন্য ব্যালট পেপার নিয়ে নতুন সমীকরণে ভোটাররা

এশীয় রাজনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশেষ করে এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে রাজনীতি অনেকটা বংশপরম্পরা বা পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এই অঞ্চলে অনেক প্রভাবশালী নারী নেত্রী আমরা দেখেছি, কিন্তু তাদের ক্ষমতার নেপথ্যে অনেক সময়ই শক্তিশালী পারিবারিক পরিচয় কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে পরিবর্তন আসছে। স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে এবং নিজের যোগ্যতায় শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা নারীর সংখ্যা এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পুরুষদের প্রাধান্য দিচ্ছে, যা নারীদের জন্য এক ধরণের ‘গ্লাস সিলিং’ বা অদৃশ্য বাধা তৈরি করছে।

বাংলাদেশের চিত্র ও বাস্তবতা নারী নেতৃত্বের কথা বললে বাংলাদেশের নাম বিশ্ব দরবারে বারবার উচ্চারিত হয়। গত কয়েক দশক ধরে দেশটির শীর্ষ পর্যায় সামলাচ্ছেন নারীরা। তবে তৃণমূল পর্যায়ে বা নীতিনির্ধারণী বড় সভাগুলোতে এখনো পুরুষের আধিপত্য দৃশ্যমান। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শীর্ষ পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব থাকলেও সামগ্রিকভাবে রাজনীতিতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার পথে চ্যালেঞ্জগুলো এখনো রয়ে গেছে। রাজনীতিতে নারীদের কোটা থাকলেও তা কি তাদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে, নাকি তা কেবল সংখ্যার হিসেবেই সীমাবদ্ধ—সেটি আজ বড় প্রশ্ন।

অবকাঠামোগত অন্তরায় রাজনীতিতে অর্থ ও শক্তির দাপট নারীদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকায় অনেক যোগ্য নারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভয় পান। এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সাইবার বুলিং-এর শিকার হওয়া বর্তমান সময়ে নারী নেত্রীদের জন্য এক চরম আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের চরিত্রহনন করার প্রবণতা অনেক শিক্ষিত ও মার্জিত নারীকে রাজনীতি বিমুখ করছে।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে নারী নেতৃত্ব কেবল একটি নৈতিক দাবি নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি অপরিহার্য। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা বলছে, যেসব দেশে নারীরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছেন, সেখানে মানবিক উন্নয়ন এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতি বেশি হয়েছে। তবে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে কেবল সদিচ্ছা নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব কি পারবে নারীদের জন্য এক সমতার পৃথিবী গড়ে তুলতে? নাকি ক্ষমতার লড়াইয়ে নারীরা আড়ালেই রয়ে যাবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here