ঢাকা (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬): এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ ব্যালটের মাধ্যমে নতুন সরকার বেছে নেবেন দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার।
ভোটের সমীকরণ ও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দলটির কার্যক্রম স্থগিত থাকায় তারা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে ভোটের মাঠ মূলত দ্বি-মুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), অন্যদিকে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক দল’সহ ১১ দলীয় জোট।
Read More: রাজপথ থেকে ব্যালট বক্স: ২০২৬ নির্বাচনে জেন-জি’র ভূমিকা ও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ
একযোগে নির্বাচন ও গণভোট আজ কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনই নয়, ভোটারদের হাতে দেওয়া হচ্ছে দুটি ব্যালট। সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং গোলাপী ব্যালটে চলছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা নতুন সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট। ‘জুলাই সনদের’ পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেবেন দেশের জনগণ, যা ভবিষ্যতের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো নির্ধারণ করবে।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ২৯৯টি আসনে ২ হাজারেরও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারাদেশে ৪২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবারই প্রথম ড্রোনের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং পোলিং অফিসারদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভোটার উপস্থিতি ও প্রত্যাশা সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেহেতু এবার কোনো বড় দলের পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের ডাক নেই, তাই ভোটার উপস্থিতি ৫০-৫৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি রোধ এবং সংস্কার বাস্তবায়নই এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
পরবর্তী ধাপ কী? আজ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপরই শুরু হবে গণনা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফল এবং গণভোটের রায় জানা সম্ভব হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী ৫ বছর কারা বঙ্গভবন ও গণভবনের মসনদে বসবেন।




