২০২৬ নির্বাচন: তরুণদের ভোটে বিরোধী দলে জামায়াত-ই-ইসলামী

0
২০২৬ নির্বাচন: তরুণদের ভোটে বিরোধী দলে জামায়াত-ই-ইসলামী
২০২৬ নির্বাচন: তরুণদের ভোটে বিরোধী দলে জামায়াত-ই-ইসলামী

জামায়াত-ই-ইসলামী বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে রইল। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রথাগত রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে দিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবং অধিকাংশ বুথ ফেরত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে তরুণ ভোটারদের বিপুল সমর্থনে রাজপথের লড়াই থেকে এখন সংসদের প্রধান বিরোধী বেঞ্চে আসীন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রাজনীতির নতুন মেরুকরণ ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতিতে যেমন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ফলাফলেও দেখা গেছে বড় ধরনের ওলটপালট। গত ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্ম যে একটি ‘তৃতীয় ধারা’ বা সুশৃঙ্খল বিকল্প খুঁজছিল, এই নির্বাচনের ফলাফল তারই প্রতিফলন। বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণদের সিংহভাগই জামায়াতের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কেন তরুণরা জামায়াতকে বেছে নিল? নির্বাচন পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তরুণ ভোটারদের এই পছন্দের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। প্রথমত, গত এক বছরে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে এবং তরুণদের প্রাধান্য দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, দলটির সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী এবং নির্বাচনী প্রচারণায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করেছে।

Read More: নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা’র বিস্ফোরক মন্তব্য: ড. ইউনূসের পদত্যাগ দাবি ও কড়া সমালোচনা

এ২নিউজ২৪-এর সাথে আলাপকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি চেয়েছি যারা সুশৃঙ্খল এবং যাদের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ কম। জামায়াতের আধুনিক প্রচারণা এবং তাদের নতুন প্রজন্মের নেতাদের প্রতিশ্রুতি আমাদের প্রভাবিত করেছে।”

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আধিপত্য জামায়াতের এই জয়ের পেছনে তাদের ডিজিটাল প্রচারণারও বড় ভূমিকা ছিল। ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে দলটির কন্টেন্ট তরুণদের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাদের ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতি’ এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার’-এর স্লোগানগুলো ইন্টারনেটে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যা শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।

সংসদীয় ভারসাম্যের নতুন চ্যালেঞ্জ জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় সংসদে এখন এক নতুন ধরনের বিতর্ক ও পরিবেশ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত বিরোধী দলে থাকায় ক্ষমতাসীন দলের ওপর জনদাবি আদায়ের চাপ অনেক বেশি থাকবে। তবে এটি দেশের রাজনীতিতে মেরুকরণ আরও বাড়াবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও জামায়াতের এই উত্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

উপসংহার: আগামীতে কী ঘটবে? জামায়াতে ইসলামীর এই রাজকীয় উত্থান বাংলাদেশের প্রচলিত দ্বিদলীয় রাজনীতিতে এক বড় ধরনের ধাক্কা। তরুণ প্রজন্মের এই ম্যান্ডেট জামায়াত কতটা সদ্ব্যবহার করতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়। সংসদের ভেতরে তারা জনগণের কথা কতটা বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে পারে এবং সামনের দিনগুলোতে তারা সর্বজনগ্রাহ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here