নতুন পথচলায় তারেক রহমান: বাংলাদেশের আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ধ্বংসপ্রায় অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন সরকারের প্রধান কাজ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানান।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে ভঙ্গুর দশায় পৌঁছেছে, তা থেকে উত্তরণে দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করাকে তিনি জরুরি কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং এবং সাপ্লাই চেইন সচল করার ওপর জোর দেবেন তিনি। হবু প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি না করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়, আর তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ করবে তাঁর প্রশাসন।
Read More: সোমবার বা মঙ্গলবারই নতুন সরকার: সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি, প্রস্তুত বঙ্গভবন
সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কেবল অর্থনীতি নয়, রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা দুর্নীতি নির্মূল করাকেও বড় চ্যালেঞ্জ মানছেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, “প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা হবে।” বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।
তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও কর্মসংস্থান বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, আইটি সেক্টর এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি আয়ের নতুন উৎস তৈরি করা সম্ভব। তরুণরা যেন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য ঋণের সহজলভ্যতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আগামীর পথচলা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই অবস্থান জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। তবে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো সমাধান করা খুব একটা সহজ হবে না। আন্তর্জাতিক মহলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াটাই হবে তাঁর নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।
উপসংহার বাংলাদেশের মানুষ এখন একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির অপেক্ষায়। তারেক রহমানের এই সংস্কারমুখী চিন্তা কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তা কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পরই এই নতুন যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




