মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক: চাঁদে যাওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে নাসা

0
মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক: চাঁদে যাওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে নাসা
মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক: চাঁদে যাওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে নাসা

মানুষকে পুনরায় চাঁদে পাঠানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। এই অভিযানের প্রাণকেন্দ্র হলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস (SLS)। সম্প্রতি এই রকেটের উৎক্ষেপণের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে ‘জ্বালানি পরীক্ষা’ বা ক্রায়োজেনিক ডেমোনস্ট্রেশন টেস্টের দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছে নাসা। এই পরীক্ষার সফলতার ওপরই নির্ভর করছে আর্টেমিস-১ মিশনের ভবিষ্যৎ।

কেন এই জ্বালানি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ? এসএলএস রকেটটি বিশাল উচ্চতার এবং এটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন লাখ লাখ গ্যালন সুপার-কোল্ড লিকুইড হাইড্রোজেন এবং লিকুইড অক্সিজেন। এই জ্বালানিগুলো মাইনাস ডিগ্রির অনেক নিচে রাখতে হয়। রকেটে এই জ্বালানি লোড করা এবং প্রয়োজনে তা আবার নিরাপদে বের করে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। এর আগে প্রথম প্রচেষ্টায় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি লিকের কারণে পরীক্ষাটি সফল হতে পারেনি। তাই এবারের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাটি নাসার বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

Read More: এমআরএনএ প্রযুক্তির মালিকানা নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ: আদালতে মুখোমুখি দুই ভ্যাকসিন জায়ান্ট

অতীতের বাধা ও বর্তমান প্রস্তুতি এর আগে আর্টেমিস মিশনের এই রকেটটি যখন কেনেডি স্পেস সেন্টারের প্যাডে নেওয়া হয়েছিল, তখন হাইড্রোজেন লিকের কারণে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছিল। নাসা জানিয়েছে, তারা লিক হওয়া সীলগুলো পরিবর্তন করেছে এবং জ্বালানি ভরার পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে যাতে চাপের ভারসাম্য বজায় থাকে। এবারের পরীক্ষায় মূলত দেখা হবে রকেটের কোর স্টেজ এবং আপার স্টেজে জ্বালানি পূর্ণ করার সময় কোনো লিকেজ হয় কি না।

আর্টেমিস মিশনের মূল লক্ষ্য নাসার এই আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে ৫০ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর্টেমিস-১ হবে একটি মানুষবিহীন মিশন, যেখানে রকেট ও ওরিয়ন ক্যাপসুলের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এই মিশন সফল হলে পরবর্তী ধাপে মানুষসহ মিশন পরিচালনা করা হবে, যেখানে প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি চাঁদের বুকে পা রাখবেন।

বাংলাদেশি বিজ্ঞান অনুরাগীদের মধ্যে উৎসাহ মহাকাশ গবেষণা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সবসময়ই ব্যাপক কৌতূহল কাজ করে। বিশেষ করে নাসার এমন বড় অভিযানের প্রতিটি ধাপ বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিজ্ঞানপ্রেমীরাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি এবারের জ্বালানি পরীক্ষা সফল হয়, তবে খুব শীঘ্রই আর্টেমিস-১ এর উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে নাসা।

উপসংহার: পরবর্তী ধাপ কী? যদি এই জ্বালানি পরীক্ষাটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, তবে নাসা পরবর্তী উৎক্ষেপণের উইন্ডো বা সময় নির্ধারণ করবে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এসএলএস রকেটের এই পরীক্ষা কেবল একটি কারিগরি পরীক্ষা নয়, এটি মঙ্গল গ্রহে মানুষের ভবিষ্যৎ বসতি গড়ার পথেও একটি প্রাথমিক সোপান। এখন সবার নজর ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের দিকে, যেখানে মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় শক্তিশালী রকেটটি গর্জনের অপেক্ষায় রয়েছে।

Follow Us On Facebook: A2news24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here