বিসিবিতে কঠোর শৃঙ্খলা: যৌন হয়রানির দায়ে সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ

0
বিসিবিতে কঠোর শৃঙ্খলা: যৌন হয়রানির দায়ে সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ
বিসিবিতে কঠোর শৃঙ্খলা: যৌন হয়রানির দায়ে সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক এবং জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মঞ্জুরুল ইসলামকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সব ধরণের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া সূত্রমতে, নারী ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকাকালীন মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ে বিসিবির কাছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপরই বোর্ড তাকে আজীবনের জন্য কিংবা নির্দিষ্ট মেয়াদে (বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী) নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

Read More: চ্যাটজিপিটিতে হামলার পরিকল্পনা ফাঁস: সজাগ ওপেনএআই কর্মীরা

নারী ক্রিকেটে সুরক্ষা ও সচেতনতা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক সাফল্য বয়ে আনছে, তখন এমন এক বিতর্কিত ঘটনা বিসিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিবির কর্মকর্তাদের মতে, নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে নারী ক্রিকেটারদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে এবং নতুন প্রতিভারা ক্রিকেটে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

বিসিবির জিরো টলারেন্স নীতি বিসিবি সভাপতি ও বর্তমান বোর্ড সদস্যরা বারবারই স্পষ্ট করেছেন যে, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের আচরণ এবং নৈতিকতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। মঞ্জুরুল ইসলামের মতো একজন জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এই ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এটিই প্রমাণ করে যে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের অন্য ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কাছেও একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া হলো।

আগের ভূমিকা ও প্রভাব মঞ্জুরুল ইসলাম এক সময় জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ছিলেন এবং পরবর্তীতে নির্বাচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ কেবল তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারই নয়, বরং দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতেও কিছুটা কালিমা লেপন করেছে। তবে বিসিবির তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভক্তদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? বিসিবির এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মঞ্জুরুল ইসলাম দেশের কোনো ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বিসিবির অধীনে কোনো পদে কাজ করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিসিবি নারী উইং এবং কোচিং স্টাফদের জন্য আরও কঠোর আচরণবিধি প্রবর্তন করার পরিকল্পনা করছে। ক্রিকেটের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখতে বিসিবির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ভবিষ্যতে কতটুকু কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Follow Us On Facebook: A2news24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here