নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ দুই দশক পর রূপসী বাংলার প্রাণকেন্দ্র বরিশালে দলীয় জনসভায় ভাষণ দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত বিশাল এই বিভাগীয় সমাবেশে তিনি আগামী ১৩ তারিখের পর থেকে পাঁচ বছর জনগণের সেবক হিসেবে থাকার দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি নাম উল্লেখ না করে একটি ‘গুপ্ত’ সংগঠনের কঠোর সমালোচনা করে তাদের রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেন।
২০ বছর পর বেলস পার্কে জনসমুদ্র হেলিকপ্টারে করে দুপুর ১২টায় বরিশালে পৌঁছান তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের প্রবল ভিড় ঠেলে জনসভাস্থলে পৌঁছাতে তার গাড়িবহরের বেশ সময় লাগে। ২০ বছর আগে তিনি এই মাঠেই সর্বশেষ ভাষণ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসন থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বেলস পার্ক এলাকা। সমাবেশের মাঠ উপচে জনস্রোত আশেপাশের বান্দ রোড ও জেলা স্কুল মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
আরো পড়ুনঃ তারেক রহমান এর বিশেষ সাক্ষাৎকার: নতুন বাংলাদেশের জন্য এক মহাপরিকল্পনা
‘গুপ্ত’ শক্তির মুখোশ উন্মোচন বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের এক নতুন ‘জালেম’ শক্তির আবির্ভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই সংগঠনের বড় নেতারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন এবং পরে আইডি হ্যাকের অজুহাত দিয়ে পার পেতে চান। তিনি বলেন, “সৎলোকের শাসনের কথা বলে যারা অহরহ মিথ্যা বলছে এবং ভোটের আগে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই শক্তিটি ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরার কথা বললেও ১৩ তারিখ থেকে জনগণকে তাদের পা ধরার হুমকি দিচ্ছে।
বরিশালের জন্য উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বরিশালের উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি নির্বাচিত হলে বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, ভোলায় নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের আধুনিকায়নের কথা বলেন। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের নদীভাঙন রোধ এবং কৃষি ও মৎস্য সম্পদের জন্য হিমাগার নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। পরিবেশ ও কৃষি উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচিত হতে পারলে আমি আবার বরিশালে আসব এবং আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নেব।”
জনগণই সব ক্ষমতার উৎস বিভাগের ২১টি আসনের প্রার্থীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের সমর্থন যার পেছনে থাকে না, তার পরিণতি কী হয় তা আমরা দেখেছি।” তিনি বিএনপি ও শরিক দলের প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেন যেন তারা সর্বদা জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত থাকেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “১৩ তারিখের পর থেকে আমাদের প্রার্থীদের কাজ হবে আপনাদের দেখাশোনা করা। আমরা বিশ্বাস করি জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।”
উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে শরিক দলের নেতা আন্দালিব রহমান পার্থ ও নুরুল হক নুরকে সাথে নিয়ে মঞ্চে তার উপস্থিতি এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা দিচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের প্রচারণায় এই জনসভার প্রভাব কতটা পড়ে এবং বিরোধী পক্ষের ‘গুপ্ত’ তৎপরতা রুখতে ভোটাররা কী ভূমিকা নেন, সেদিকেই এখন সবার নজর।




