বিসিবিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে হঠাৎ কড়াকড়ি: বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঢাকতেই কি এই বিধিনিষেধ?

0
বিসিবিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে হঠাৎ কড়াকড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ভরাডুবির পর যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কঠোর ও আকস্মিক নিয়ম জারি করা হয়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

হঠাৎ কেন এই কড়াকড়ি? সম্প্রতি শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। বোর্ডের অনেক সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের নির্বাচন নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত সমালোচনা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিসিবি প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশে বাধা দেওয়াকে অনেকেই “তথ্য গোপনের চেষ্টা” হিসেবে দেখছেন। বিসিবির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সাংবাদিকরা চাইলেই বোর্ডের যে কোনো ফ্লোরে বা কর্মকর্তাদের কক্ষে যেতে পারবেন না। নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতের জন্য আগে থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিক্রিয়া বিসিবির এই সিদ্ধান্তে ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মিরপুর স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয় সাংবাদিকদের জন্য একটি উন্মুক্ত জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে খবরের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতো। কিন্তু নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বড় ধরণের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখার পরিবর্তে বোর্ড এখন নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে।

স্বচ্ছতা ও বিসিবির অবস্থান যদিও বিসিবির পক্ষ থেকে এই কড়াকড়িকে “পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার অংশ” হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তবে টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সাধারণত বড় কোনো টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর বোর্ড নানা ধরণের সংস্কারের পথে হাঁটে, কিন্তু সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কোনো গঠনমূলক সংস্কার হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যখন দলের ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখা এবং বোর্ডকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন, তখন এই ধরণের সিদ্ধান্ত মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়।

সাধারণ দর্শকদের ভাবনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স একটি সংবেদনশীল বিষয়। সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন যে, মাঠের ব্যর্থতা ঢাকতে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং বোর্ডের উচিত ছিল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তুলে ধরা।

উপসংহার: এরপর কী? বিসিবির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কতদিন স্থায়ী হয়, তা এখন দেখার বিষয়। সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। যদি এই দূরত্ব বজায় থাকে, তবে বিসিবি ও সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে বড় ধরণের চিড় ধরতে পারে, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here