প্রযুক্তি ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা দেখা যায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার প্রাইস সেগমেন্টে। এই বাজেটের ফোনগুলো যেমন সাধারণ ব্যবহারকারীদের চাহিদা মেটায়, তেমনি তরুণ প্রজন্মের গেমিং কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ফিচারের সমন্বয়ও থাকে এখানে। তবে মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের দাম বাড়ার কারণে বর্তমানে এই বাজেটে একটি মানসম্মত ফোন খুঁজে পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের এই দ্বিধা দূর করতে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেরা কয়েকটি স্মার্টফোনের আদ্যোপান্ত নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ আয়োজন।
ফিচারের লড়াই: কী থাকছে এই বাজেটে? একটা সময় ২৫ হাজার টাকার ফোনে প্রিমিয়াম ফিচার আশা করা কঠিন ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। বর্তমানে এই বাজেটে অধিকাংশ ব্র্যান্ডই ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের অ্যামোলেড (AMOLED) ডিসপ্লে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া ৫জি কানেক্টিভিটি এখন এই সেগমেন্টের একটি অলিখিত স্ট্যান্ডার্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বড় ব্যাটারি এবং দ্রুতগতির চার্জিং সুবিধাতো থাকছেই।
বাজারের শীর্ষ কয়েকটি মডেল বর্তমানে বাজারের ট্রেন্ড অনুযায়ী শাওমি, রিয়েলমি এবং স্যামসাং এই তিনটি ব্র্যান্ডের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। শাওমির রেডমি সিরিজের ফোনগুলো বরাবরের মতোই তাদের পাওয়ারফুল প্রসেসরের জন্য এগিয়ে আছে। যারা গেমিং পছন্দ করেন, তাদের জন্য স্ন্যাপড্রাগন বা মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি সিরিজের হাই-পারফরম্যান্স চিপসেট সমৃদ্ধ মডেলগুলো সেরা হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ফেব্রুয়ারি: বাজারে আসছে শক্তিশালী ৭টি নতুন ফোন
অন্যদিকে, যারা ডিসপ্লে এবং সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্সকে প্রাধান্য দেন, তাদের জন্য স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এ-সিরিজ বা এম-সিরিজের ফোনগুলো আস্থার প্রতীক। বিশেষ করে স্যামসাংয়ের ডিসপ্লে কোয়ালিটি এবং নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট এই বাজেটে অন্য অনেক ব্র্যান্ডের তুলনায় এগিয়ে রাখে। রিয়েলমি এবং ইনফিনিক্সের মতো ব্র্যান্ডগুলো নজর কাড়ছে তাদের আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং দ্রুতগতির চার্জিং টেকনোলজি দিয়ে।
ক্যামেরা ও ব্যাটারি পারফরম্যান্স স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্রাধান্য দেন ক্যামেরাকে। বর্তমানে ২০-২৫ হাজার টাকার ফোনগুলোতে ৫০ মেগাপিক্সেল থেকে শুরু করে ১০৮ মেগাপিক্সেল পর্যন্ত মেইন সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কেবল মেগাপিক্সেল নয়, ইমেজ প্রসেসিং এবং কালার অপ্টিমাইজেশনের দিকেও নজর দিতে হবে। দিনের আলোতে প্রায় সব ফোনই ভালো ছবি দিলেও, রাতের ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে পার্থক্য গড়ে দেয় চিপসেট ও লেন্সের গুণমান। অন্যদিকে, ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এখন একটি সাধারণ ফিচারে পরিণত হয়েছে, যা সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।
কেনাকাটায় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন নতুন ফোন কেনার আগে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের ফিচারের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পারফরম্যান্স যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ফোনটি কিস্তিতে কেনার সুবিধা আছে কি না, ওয়ারেন্টি পলিসি এবং আপনার এলাকায় সার্ভিস সেন্টারের লভ্যতা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া অফিসিয়াল নাকি আন-অফিসিয়াল—কোন ফোনটি আপনি কিনছেন, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
উপসংহার: আপনার জন্য কোনটি সঠিক? ২৫ হাজার টাকার বাজেটটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। আপনি যদি একজন গেমার হন তবে প্রসেসরকে প্রাধান্য দিন, আর যদি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা সাধারণ ব্যবহারকারী হন তবে ক্যামেরা এবং ডিসপ্লের দিকে নজর দিন। তবে মনে রাখবেন, প্রযুক্তির এই বাজারে প্রতিদিন নতুন মডেল আসছে, তাই কেনার ঠিক আগ মুহূর্তে বর্তমান বাজারদর এবং স্টক যাচাই করে নেওয়া ভালো। সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারলে এই বাজেটের ফোনটিও আপনাকে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার স্বাদ দিতে পারে।




