জেমিনি এআইঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দুনিয়ায় গুগল প্রতিনিয়তই নতুন নতুন চমক নিয়ে আসছে। চ্যাটবট এবং ইমেজ জেনারেশনের পর এবার মিউজিক বা গান তৈরির ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে টেক জায়ান্টটি। গুগল ডিপমাইন্ডের তৈরি মিউজিক জেনারেশন মডেল ‘লিরিয়া’ (Lyria)-র সবশেষ সংস্করণ ‘লিরিয়া ৩’ এখন সরাসরি জেমিনি (Gemini) ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে পেশাদার মিউজিক ক্রিয়েটররা শুধুমাত্র টেক্সট প্রম্পট ব্যবহার করেই তৈরি করতে পারবেন উচ্চমানের গান ও সুর।
কী এই লিরিয়া ৩ এবং এটি কীভাবে কাজ করে? লিরিয়া ৩ হলো গুগলের সবচেয়ে উন্নত এআই অডিও জেনারেশন মডেল। এটি আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় অনেক বেশি নিখুঁত এবং সুরের গভীরতা বুঝতে সক্ষম। ব্যবহারকারীরা যখন জেমিনিতে নির্দিষ্ট কোনো মুড, ঘরানা বা বাদ্যযন্ত্রের নাম লিখে প্রম্পট দেবেন, লিরিয়া ৩ সেই নির্দেশ অনুযায়ী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন মিউজিক ট্র্যাক তৈরি করে দেবে। এটি কেবল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নয়, বরং ভোকাল বা কন্ঠসহ গান তৈরি করতেও সক্ষম।
Read More: টেক দুনিয়ায় নতুন চমক: স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর নিয়ে আসছে নাথিং ফোন ৪এ সিরিজ
জেমিনিতে লিরিয়া ৩-এর বিশেষত্ব লিরিয়া ৩-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখিতা। আপনি চাইলে গানের লিরিক্স বা কথা লিখে দিতে পারেন এবং লিরিয়া ৩ সেই কথার সাথে মানানসই সুর এবং কন্ঠ বসিয়ে দেবে। এছাড়া যারা ভিডিও মেকার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর, তারা তাদের ভিডিওর মেজাজ অনুযায়ী কাস্টম মিউজিক তৈরি করে নিতে পারবেন। গুগল জানিয়েছে, লিরিয়া ৩ উচ্চ-কম্পাঙ্কের অডিও বা হাই-ফিডেলিটি সাউন্ড আউটপুট দিতে সক্ষম, যা প্রফেশনাল স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের কাছাকাছি মানের।
নিরাপত্তা ও কপিরাইট সুরক্ষা এআই দিয়ে মিউজিক তৈরির ক্ষেত্রে কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গুগল এই সমস্যা সমাধানে লিরিয়া ৩-এ যুক্ত করেছে ‘সিন্থ আইডি’ (SynthID) প্রযুক্তি। এটি এক ধরনের ডিজিটাল ওয়াটারমার্কিং পদ্ধতি, যা মানুষের কানে শোনা যাবে না কিন্তু সফটওয়্যারের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে যে এই মিউজিকটি এআই দিয়ে তৈরি। এটি শিল্পীদের মেধাস্বত্ব রক্ষা করতে এবং ভুল তথ্যের বিস্তার রোধে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের ইউটিউবার, ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং শর্ট ফিল্ম নির্মাতারা প্রায়ই কপিরাইট-ফ্রি মিউজিক খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন। লিরিয়া ৩-এর জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এই সমস্যার একটি দারুণ সমাধান হতে পারে। এর মাধ্যমে নিজেদের ভিডিওর জন্য একদম ইউনিক এবং কপিরাইট-মুক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে আন্তর্জাতিক মানের কনটেন্ট তৈরিতে বাংলাদেশি তরুণরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
উপসংহার: সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত লিরিয়া ৩-এর মাধ্যমে গুগল প্রমাণ করেছে যে এআই কেবল তথ্য দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের সৃজনশীলতার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। যদিও এটি পুরোপুরি পেশাদার মিউজিশিয়ানদের বিকল্প নয়, তবে এটি সংগীত তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গণতান্ত্রিক করে তুলবে। জেমিনি ব্যবহারকারীরা এখন থেকেই এই ফিচারের মাধ্যমে তাদের কল্পনাকে সুরে রূপ দিতে পারবেন।




