ট্রাম্পের শাসনে ‘অস্থির’ ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট; স্থায়ীভাবে ছাড়তে পারেন দেশ!

0
ট্রাম্পের কারণে আমেরিকা ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট!

বিনোদন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা নিয়ে পশ্চিমা বিনোদন জগতে বইছে বিতর্কের ঝড়। হলিউডের জনপ্রিয় ও অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট এবার সেই ঝড়ে নতুন মাত্রা যোগ করলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আর নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে স্থায়ীভাবে আমেরিকা ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই ‘টোয়াইলাইট’ খ্যাত তারকা।

বাস্তবতা যখন ভেঙে পড়ে সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস অব লন্ডন’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট তার মনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকার বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো বা ‘বাস্তবতা’ পুরোপুরি খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এমন এক গুমোট পরিবেশে স্বাধীনভাবে সৃজনশীল কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টুয়ার্ট বলেন, “আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে বাস্তবতাকে নিজের সুবিধামতো সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। আমাদের উচিত এই বৈরী পরিবেশ থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নিজেদের জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ কাজের পরিবেশ তৈরি করা।”

আমেরিকা ত্যাগের পথে আরও এক তারকা সাক্ষাৎকারে যখন তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয় যে তিনি কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন? উত্তরে স্টুয়ার্ট বলেন, “সম্ভবত হ্যাঁ। কারণ বর্তমান মার্কিন মুলুকে আমি স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রেরণা পাচ্ছি না। তবে আমি পুরোপুরি হাল ছাড়তে চাই না। আমি ইউরোপে গিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে চাই এবং সেই সৃষ্টিগুলো মার্কিন দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাই।”

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টই প্রথম নন, যিনি দেশ ছাড়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এর আগে জনপ্রিয় সঞ্চালক এলেন ডিজেনারেস এবং কমেডিয়ান রোজি ও’ডোনেলও ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে আমেরিকা ছেড়েছেন। এমনকি ‘টাইটানিক’ ও ‘অ্যাভাটার’ খ্যাত কিংবদন্তি নির্মাতা জেমস ক্যামেরনও বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী হয়েছেন। ক্যামেরনের মতে, তিনি নিউজিল্যান্ডের সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজকে পছন্দ করেন, যা বর্তমানে মেরুকরণ হওয়া আমেরিকার ঠিক বিপরীত।

পুরানো শত্রুতা যখন সামনে আসে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের মধ্যে শীতল সম্পর্কের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০১২ সালে যখন রবার্ট প্যাটিনসনের সঙ্গে স্টুয়ার্টের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল, তখন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে প্যাটিনসনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন স্টুয়ার্টকে ত্যাগ করার জন্য। একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর কেন একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত আগ্রহ থাকবে, তা নিয়ে সেসময় বেশ আলোচনা হয়েছিল। স্টুয়ার্ট সেই স্মৃতি মনে করে বলেন, “তিনি কেন আমাকে নিয়ে এতটা আচ্ছন্ন ছিলেন, তা আজও আমার কাছে এক রহস্য। বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত ছিল।”

উপসংহার ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের এই মন্তব্য হলিউড এবং বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাক-স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার অন্তরায় হিসেবে তিনি বর্তমান প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। এখন দেখার বিষয়, আসলেই কি এই প্রভাবশালী অভিনেত্রী তার মাতৃভূমি ছেড়ে ইউরোপে নতুন ঠিকানা গড়েন কি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here