Friday, February 13, 2026
Friday, February 13, 2026
17 C
Dhaka
a2news24
Home Blog

বিএনপি বনাম জামায়াত: ত্রয়োদশ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে আন্তর্জাতিক জরিপ

0

বিএনপি বনাম জামায়াত: এক নতুন ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম এক বড় দলের অনুপস্থিতিতে এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যালটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে যাচ্ছেন দেশের ভোটাররা। তবে নির্বাচনের দিন সকালেও সবার নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার জনমত জরিপ, যা বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এক নজিরবিহীন ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জরিপের কাঁটাছেঁড়া: কার পাল্লা ভারী? নির্বাচনের আগমুহূর্তে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, এবারের ভোটের লড়াই মূলত দ্বিমুখী হতে যাচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক জরিপ বলছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সারা দেশে ৪৪.১ শতাংশ ভোট পেতে পারে। অন্যদিকে, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত সমর্থিত জোট ৪৩.৯ শতাংশ ভোট পেতে পারে। অর্থাৎ, দুই পক্ষের মধ্যে জনপ্রিয়তার ব্যবধান মাত্র ০.২ শতাংশ, যা অত্যন্ত সামান্য।

তবে আসনের হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একটি জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে, অপর একটি জরিপ বলছে, লড়াই অত্যন্ত তীব্র হবে যেখানে ইসলামপন্থী দলগুলো ১০৫টি এবং বিএনপি ১০১টি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ, প্রায় ৭৫টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে অতি ক্ষুদ্র ব্যবধানে।

Read More: আওয়ামী লীগ হীন ঐতিহাসিক নির্বাচন: তারেক রহমান’র ‘ক্লিন পলিটিক্স’ ও নতুন পথের অঙ্গীকার

ভোটের ময়দানে মূল ফ্যাক্টরসমূহ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের পছন্দই হবে বড় ফ্যাক্টর। বিএনপি তাদের ‘বন্ধু সবাই, মাস্টার কেউ নয়’ স্লোগান নিয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সোচ্চার। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের তৃণমূল পর্যায়ের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চমক দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে জামায়াতের অবস্থান আগের তুলনায় অনেকটা সংহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটার পরিসংখ্যান ও নিরাপত্তা আজকের এই নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ২৮ লাখ এবং পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ১,২২০ জন ভোটারও তালিকায় রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও কেন্দ্রে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের এই নির্বাচন নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত এই ভোটের ফলাফলের ওপর কড়া নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ধরণ কেমন হবে, তা নিয়ে দিল্লি কিছুটা চিন্তিত থাকলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারেক রহমানের ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতি’র প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক মহলে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিও দেখার বিষয়।

শেষ কথা: ফলাফল ও পরবর্তী গন্তব্য ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আজ রাতেই প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করবে। তবে জরিপের এই পূর্বাভাস বাস্তবে কতটা সত্য হয়, তা জানতে কাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিএনপি কি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে একক শক্তিতে সরকার গঠন করবে, নাকি জামায়াতের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হবে—তা নির্ধারিত হবে আজ বিকেলের মধ্যেই। এক শান্তিকামী ও উন্নত বাংলাদেশের প্রত্যাশায় এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে পুরো দেশ।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

আওয়ামী লীগ হীন ঐতিহাসিক নির্বাচন: তারেক রহমান’র ‘ক্লিন পলিটিক্স’ ও নতুন পথের অঙ্গীকার

0

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এক নতুন অবয়বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরেছেন তারেক রহমান। আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, সারা দেশে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে, তখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশীয় জনপদ—সবার নজর এখন বিএনপির এই নেতার ওপর। প্রায় দুই দশক পর এক উন্মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি দিচ্ছেন ‘ক্লিন পলিটিক্স’ বা পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতিশ্রুতি।

নতুন পথ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যদি তাঁর দল ক্ষমতায় আসে, তবে শাসনব্যবস্থার শীর্ষ স্তর থেকে নিচ পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৫ বছরের শাসনকালে দেশের অর্থনীতি ও বিচারব্যবস্থা যে সংকটের মুখে পড়েছিল, তা সংস্কার করাই হবে তাঁর সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য।

Read More: আওয়ামী লীগ হীন বাংলাদেশে আজ সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি। বিপ্লব পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটি ছাড়াই আজ ভোটযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এখন জনগণের প্রধান ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারেক রহমান নিজেও স্বীকার করেছেন যে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ, তবে তিনি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী।

বিদেশি সম্পর্ক ও ভারত প্রসঙ্গ প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান কিছুটা কৌশলী হলেও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বিএনপি। তবে ভারতের মাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান ও সেখান থেকে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়ে তিনি তাঁর উদ্বেগের কথা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করেছেন।

জনগণের জন্য নতুন উপহার: ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমান সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’, যার মাধ্যমে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবে। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য ঋণের বোঝা লাঘব করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তরুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান ও আইটি খাতের উন্নয়নই হবে তাঁর আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার।

উপসংহার: এরপর কী? আজকের এই ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামী কয়েক দশকের গতিপথ। তারেক রহমান যেভাবে নমনীয় ও সংলাপি ভঙ্গিতে নিজেকে উপস্থাপন করছেন, তা সাধারণ ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের এই ‘ক্লিন পলিটিক্স’-এর প্রতিশ্রুতি ব্যালট বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

আওয়ামী লীগ হীন বাংলাদেশে আজ সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট

0

ঢাকা (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬): এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ ব্যালটের মাধ্যমে নতুন সরকার বেছে নেবেন দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার।

ভোটের সমীকরণ ও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দলটির কার্যক্রম স্থগিত থাকায় তারা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে ভোটের মাঠ মূলত দ্বি-মুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), অন্যদিকে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক দল’সহ ১১ দলীয় জোট।

Read More: রাজপথ থেকে ব্যালট বক্স: ২০২৬ নির্বাচনে জেন-জি’র ভূমিকা ও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

একযোগে নির্বাচন ও গণভোট আজ কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনই নয়, ভোটারদের হাতে দেওয়া হচ্ছে দুটি ব্যালট। সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং গোলাপী ব্যালটে চলছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা নতুন সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট। ‘জুলাই সনদের’ পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেবেন দেশের জনগণ, যা ভবিষ্যতের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো নির্ধারণ করবে।

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ২৯৯টি আসনে ২ হাজারেরও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারাদেশে ৪২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবারই প্রথম ড্রোনের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং পোলিং অফিসারদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভোটার উপস্থিতি ও প্রত্যাশা সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেহেতু এবার কোনো বড় দলের পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের ডাক নেই, তাই ভোটার উপস্থিতি ৫০-৫৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি রোধ এবং সংস্কার বাস্তবায়নই এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

পরবর্তী ধাপ কী? আজ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপরই শুরু হবে গণনা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফল এবং গণভোটের রায় জানা সম্ভব হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী ৫ বছর কারা বঙ্গভবন ও গণভবনের মসনদে বসবেন।

Follow Us On Facebook: A2news24

রাজপথ থেকে ব্যালট বক্স: ২০২৬ নির্বাচনে জেন-জি’র ভূমিকা ও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

‘জেন-জি’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি আর স্লোগানে মুখরিত ছিল রাজপথ। এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় যে বড় পরিবর্তন এসেছিল, তার মূল কারিগর ছিল এদেশের ‘জেন-জি’ বা জেনারেশন জেড। সেই বিপ্লবের ১৮ মাস পর, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন। প্রশ্ন উঠেছে, রাজপথে অসাধ্য সাধন করা সেই তরুণ প্রজন্ম এখন কোথায়? তারা কি পারবেন ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে?

প্রতিবাদী তারুণ্য এখন ভোটার ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা প্রথম সারিতে ছিলেন, তাদের একটি বড় অংশই এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি নতুন ও তরুণ ভোটার রয়েছেন, যারা কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দলের আদর্শে অন্ধ নন। তারা চান সুশাসন, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আমূল সংস্কার। রাজপথের লড়াই থেকে এসে তারা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের সচেতন করতে কাজ করছেন।

Read More: ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী ভোট কাল

আন্দোলনের নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক দল গত দেড় বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ছাত্র নেতাদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ। অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা অনেক তরুণ নেতা এখন নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম বা নতুন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা প্রথাগত বড় দলগুলোর বাইরে একটি ‘থার্ড ফোর্স’ বা তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো—পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

সংশয় বনাম সম্ভাবনা তবে জেন-জি ভোটারদের মধ্যে কেবল আশাবাদই নয়, কিছুটা সংশয়ও কাজ করছে। সংস্কারের গতি এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে মোহভঙ্গ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। এই ভোটাররা কেবল মুখ চিনে নয়, বরং ইশতেহার এবং প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার করে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে জেন-জি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জেন-জি ভোটাররাই হবে ‘কিংমেকার’। বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাই তাদের ইশতেহারে তরুণদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা, আইটি সেক্টরে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে। তরুণদের এই বিশাল ভোটব্যাংক যেদিকে ঝুঁকবে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে আগামীকালকের ভোট কেবল একটি সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং ২০২৪-এর শহীদদের রক্তের অঙ্গীকার রক্ষার দিন। রাজপথের সেই সাহসী জেন-জি প্রতিনিধিরা যদি ব্যালট বক্সেও তাদের বিপ্লব জারি রাখতে পারেন, তবেই বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ১২ ফেব্রুয়ারির এই ঐতিহাসিক গণরায়ের দিকে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী ভোট কাল

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রতীক্ষা আর সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের পতনের পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই ভোটকে দেখা হচ্ছে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের প্রথম ধাপ হিসেবে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বারবার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অঙ্গীকার করেছিলেন। কালকের এই ভোট কেবল সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করার এক অগ্নিপরীক্ষা। ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার নির্ধারণ করবেন আগামীর বাংলাদেশের পথচলা।

Read More: দেশ পুনর্গঠনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির বিশাল জনসভা

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রধান পক্ষসমূহ এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপট গত দেড় দশকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি মাঠের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, আইনি লড়াই শেষে রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়া জামায়াতে ইসলামীও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২৪-এর আন্দোলনের ছাত্র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে। তারা মূলত তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই রাজনৈতিক ভারসাম্য কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নির্বাচনের মূল প্রচারণায় এবার গুরুত্ব পেয়েছে অর্থনীতি। ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাব সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের কারণ। ভোটাররা এমন এক নেতৃত্ব আশা করছেন যারা কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দ্রুত টেনে তুলতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা, যারা ‘বৈষম্যবিরোধী’ স্লোগান তুলে রাজপথে প্রাণ দিয়েছিল, তাদের কাছে এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার হাতবদল নয়, বরং একটি সুশাসন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম।

নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দেড় লাখের বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায়। আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনের ওপর কড়া নজর রাখছে। তাদের মতে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা কালকের ভোটের স্বচ্ছতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে ১২ ফেব্রুয়ারির সূর্যাস্তের সাথে সাথেই নির্ধারিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য। ফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের মানুষ আশা করছে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তারা এমন এক সরকার পাবে যারা ২০২৪-এর বীর শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করবে। কালকের এই ভোটই বলে দেবে আমরা কি সত্যিই একটি স্বৈরাচারমুক্ত ও টেকসই গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে সক্ষম হলাম কি না।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

স্মার্টফোন’র বাজারে দুঃসংবাদ: ২০২৬ সালে কেন বাড়ছে ফোনের দাম?

0

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আপনি কি আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে নতুন স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন? তবে আপনার জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ রয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে স্মার্টফোনের গড় দাম ২০২৬ সালে অন্তত ৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে মেমোরি চিপের যে বিশ্বব্যাপী সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে।

মূল কারণ: এআই ডেটা সেন্টার ও চিপ সংকট স্মার্টফোনের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মেমোরি চিপের (DRAM এবং NAND Flash) ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ। বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো এআই ডেটা সেন্টার তৈরির দিকে ঝুঁকছে। এই ডেটা সেন্টারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী মেমোরি চিপ প্রয়োজন হয়। চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ স্মার্টফোনের চেয়ে উচ্চ-মুনাফাসম্পন্ন এআই সার্ভারের জন্য চিপ তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলে স্মার্টফোনের মেমোরি চিপের সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং দাম বাড়ছে।

Read More: বাজেট যখন ২৫ হাজার: ২০২৬ সালে বাংলাদেশের বাজারে সেরা স্মার্টফোন এখন কোনগুলো?

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাজেট ফোন গবেষণা বলছে, ২০২৬ সালের এই দাম বৃদ্ধির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লাগবে বাজেট বা এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনগুলোর ওপর। যেসব ফোনের দাম ২০০ ডলারের (প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা) নিচে, সেগুলোর উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, মিড-রেঞ্জ এবং প্রিমিয়াম ফোনগুলোর উৎপাদন খরচ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও দাম-সংবেদনশীল বাজারে এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বলিং করা ফোনের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চিপ সংকটের কারণে ইতিমধ্যেই দেশের বাজারে স্মার্টফোনের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যামেরা বা ডিসপ্লের মতো অন্যান্য যন্ত্রাংশের মান কমিয়ে দেওয়ার (Downgrade) কৌশল নিতে পারে।

পণ্য ও মুনাফা রক্ষার কৌশল স্মার্টফোন নির্মাতারা এখন তাদের মুনাফা ধরে রাখতে গ্রাহকদের ‘প্রো’ (Pro) মডেল বা আরও দামি ভ্যারিয়েন্ট কিনতে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করছে। স্যামসাং বা অ্যাপলের মতো বড় কোম্পানিগুলো শক্তিশালী সরবরাহ চেইনের কারণে এই সংকট কিছুটা সামলে নিতে পারলেও ছোট ও বিশেষ করে বাজেট-নির্ভর চীনা ব্র্যান্ডগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

উপসংহার: আগামী দিনের প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিপ সংকট এবং উচ্চ মূল্যের প্রবণতা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ হলো, যদি খুব জরুরি প্রয়োজন থাকে, তবে বর্তমান প্রজন্মের ফোনগুলো কিনে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমত্তার কাজ। কারণ আগামীর ফোনগুলো কেবল দামিই হবে না, অনেক ক্ষেত্রে এগুলোর ফিচারেও বড় কোনো চমক নাও থাকতে পারে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

হাতে ট্রফি, সোশ্যাল মিডিয়ায় মুস্তাফিজ’র এক শব্দের সেই বার্তা: রহস্য কী?

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মাঠের লড়াইয়ে বল হাতে তিনি যেমন শান্ত, মাঠের বাইরেও ঠিক তেমনই মিতভাষী। তবে তার নীরবতা অনেক সময় হাজারো শব্দের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বলছি বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের কথা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রফি হাতে তার একটি ছবি এবং সাথে দেওয়া এক শব্দের একটি বার্তা নিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিরোপা জয়ের উল্লাস মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’-এর জমজমাট ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ধুমকেতু একাদশ ও দুর্বার একাদশ। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৭ রানের জয় তুলে নিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় মুস্তাফিজের দল ধুমকেতু একাদশ। জয়ের পর ট্রফি হাতে একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি শেয়ার করে মুস্তাফিজ ক্যাপশনে লিখেছেন কেবল একটি শব্দ— ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

Read More: শাস্তি নয়, বরং বড় সুখবর পেল বিসিবি: ২০৩১ বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশে আইসিসি ইভেন্ট

ম্যাচের রোমাঞ্চকর লড়াই প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটিতে ২০৮ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে ধুমকেতু একাদশ। সাইফ হাসান ৪৪ বলে ৭৯ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল সাতটি ছক্কার মার। অন্যদিকে তানজিদ তামিম ৫৪ বলে ৮৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্বার একাদশ লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২০১ রানে থামে তাদের ইনিংস। তানজিদ তামিম তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।

বল হাতে মুস্তাফিজের ভূমিকা বিশাল রান তাড়া করতে গিয়ে দুর্বার একাদশের হাবিবুর রহমান সোহান যখন ২৭ বলে ৬৭ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলছিলেন, তখন মুস্তাফিজের অভিজ্ঞ বোলিংই ধুমকেতু একাদশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ৪ ওভারে ৩৩ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন ফিজ। শেষ ওভারে স্নায়ুচাপ সামলে দলকে জয় উপহার দিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

প্রেক্ষাপট ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মুস্তাফিজের এই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বার্তার পেছনে বিশেষ প্রেক্ষাপট দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। আইপিএল ২০২৬-এর নিলামের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাকে ছেড়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কিছুটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া মুস্তাফিজের জন্য এই ঘরোয়া শিরোপা জয় ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এক বড় মাধ্যম। স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেওয়া তার এই বার্তাটি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তিনি আবার নিজের চেনা ছন্দে ফেরার জন্য প্রস্তুত।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে ঘরোয়া ক্রিকেটে এই সাফল্য মুস্তাফিজকে আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোর জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে। বিশেষ করে তার কাটার ও স্লোয়ারের ধার যে এখনো কমেনি, মিরপুরের মরা উইকেটে তার প্রমাণ মিলেছে। এখন দেখার বিষয়, আইপিএল নিলামে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দলে ভেড়ায় এবং জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি কতটা জ্বলে উঠতে পারেন।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের জট কাটল: আইসিসির মধ্যস্থতায় অবশেষে খেলতে রাজি পাকিস্তান

0

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এবং উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মেঘ অবশেষে কেটেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সফল মধ্যস্থতায় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য বিশেষ সমঝোতা প্যাকেজ ঘোষণার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে রাজি হয়েছে। এর ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হওয়া বয়কট বা বর্জনের শঙ্কা দূর হলো।

যেভাবে কাটল রাজনৈতিক জট গত কয়েক মাস ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে ভারতের পাকিস্তান সফরে অসম্মতি এবং পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনের হুমকি টুর্নামেন্টের সফলতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং বিসিবি প্রতিনিধিদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর একটি ‘রোডম্যাপ’ চূড়ান্ত করা হয়, যা সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।

Read More: শাস্তি নয়, বরং বড় সুখবর পেল বিসিবি: ২০৩১ বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশে আইসিসি ইভেন্ট

বাংলাদেশ ফ্যাক্টর ও আইসিসির নমনীয়তা মজার বিষয় হলো, ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের জট খুলতে বড় ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশের জন্য নেওয়া আইসিসির কিছু বিশেষ সিদ্ধান্ত। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর যে বিশাল আর্থিক ও প্রশাসনিক শাস্তির খড়গ ঝুলছিল, তা মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। একই সাথে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে একটি বড় আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এই ‘প্যাকেজ ডিল’ দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় এবং পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলাতে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।

মাঠে ফেরার অপেক্ষায় দুই দল পাকিস্তানের সরকার এর আগে ভারতকে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, আইসিসির এই নতুন সমঝোতার পর তারা সুর নরম করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিশাল বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং দর্শকদের চাপের মুখে আইসিসি এই মধ্যস্থতায় বাধ্য হয়েছে। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এখন দুই দলের ক্রিকেটারদের মাঠের লড়াই দেখার অপেক্ষায় কোটি কোটি ভক্ত।

বাংলাদেশি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই খবরটি মিশ্র অনুভূতির। যদিও বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপ বর্জন করেছে, তবুও ভারত-পাকিস্তান লড়াই সবসময়ই এদেশের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে বড় ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাওয়াকে দেশের ক্রিকেটের বড় জয় হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া প্রেমীরা।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আকাশ কি নীল জার্সির দখলে যাবে নাকি সবুজ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হবে—তা নিয়ে এখন তুঙ্গে আলোচনা। তবে মাঠের বাইরের এই লড়াই জেতার কৃতিত্ব আইসিসিকে দিতেই হবে। এই সমঝোতা কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে এক ধরণের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। এখন সবার চোখ মাঠের সেই মহাযুদ্ধের দিকে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

শাস্তি নয়, বরং বড় সুখবর পেল বিসিবি: ২০৩১ বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশে আইসিসি ইভেন্ট

0

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবির মধ্যকার একটি ফলপ্রসূ আলোচনার পর জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির বিরুদ্ধে কোনো ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আইসিসি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটের একটি অত্যন্ত মূল্যবান পূর্ণ সদস্য এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটের প্রসারে দেশটির ভূমিকা অপরিসীম।

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট ও বিসিবির অবস্থান ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তাদের সব ম্যাচ ভারতের বাইরে খেলার যে আবেদন করেছিল, তা আইসিসি গ্রহণ না করায় বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দাঁড়ায়। ফলে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড এই আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। তবে এই ঘটনা বিসিবির সদস্যপদ বা ভবিষ্যতে আইসিসির সাথে সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে আইসিসি নিশ্চিত করেছে।

Read More: বাবর আজম এর ‘স্লো ব্যাটিং’ কি পাকিস্তানের জন্য বোঝা? নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর নতুন বিতর্ক

বাংলাদেশে ফিরছে আইসিসি ইভেন্ট সবচেয়ে ইতিবাচক খবর হলো, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশে একটি বড় আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এই ইভেন্টটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো এবং কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের আবেগের প্রতি আইসিসির আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আইনি অধিকার বিসিবি এখনও চাইলে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটির (ডিআরসি) কাছে আবেদন করার অধিকার বজায় রেখেছে। আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা এবং সহমর্মিতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে শাস্তির চেয়ে সমর্থনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ খেলা নিয়ে জটিলতার মধ্যে রয়েছে। সার্বিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং খেলার অখণ্ডতা রক্ষা করতে সকল পক্ষ আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

Follow Us ON Facebook: A2NEWS24

আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: ১৯ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঐতিহাসিক চুক্তি সই

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনল (আমেরিকা) ওয়াশিংটন। দীর্ঘ ৯ মাসের স্নায়ুক্ষয়ী আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে। নতুন এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কের হার ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়াবে। একই সাথে আমেরিকান তুলা বা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পোশাকে মিলবে ‘জিরো ট্যারিফ’ বা শুল্কমুক্ত সুবিধা।

ঐতিহাসিক চুক্তির প্রেক্ষাপট সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এই চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জ্যামিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে সই করেন। উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীতে তা কয়েক দফায় কমিয়ে বর্তমানে ১৯ শতাংশে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

Read More: ২০২৬ সাধারণ নির্বাচন: নতুন বাংলাদেশের পথে ১২ কোটি ভোটারের ভাগ্যনির্ধারণী পদযাত্রা

পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো—আমেরিকায় উৎপাদিত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু (Man-made fiber) ব্যবহার করে বাংলাদেশে যে পোশাক তৈরি হবে, তা আমেরিকার বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, “এই মেকানিজম আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য বিশ্ববাজারে নতুন করে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরি করবে”।

বিনিময়ে যা দিচ্ছে বাংলাদেশ এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশও মার্কিন পণ্যের জন্য নিজেদের বাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকান রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, মোটর যান এবং কৃষি পণ্য যেমন—সয়াবিন, গরুর মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বিশেষ বাজার সুবিধা দেবে ঢাকা। এছাড়া বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বাংলাদেশি পাঠকদের গুরুত্ব বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ছাড় পাওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান আরও সুরক্ষিত হবে। বিশেষ করে ভারতের সাথে সম্প্রতি আমেরিকার ১৮ শতাংশ শুল্কের যে চুক্তি হয়েছে, তার সাথে পাল্লা দিতে বাংলাদেশের ১৯ শতাংশ শুল্কের এই হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই বড় ধরণের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চুক্তি কার্যকরের ফলে আগামী মাসগুলো থেকেই বাংলাদেশি পোশাক কারখানায় মার্কিন কার্যাদেশের (অর্ডার) হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Follow Us ON Facebook: A2NEWS24

২০২৬ সাধারণ নির্বাচন: নতুন বাংলাদেশের পথে ১২ কোটি ভোটারের ভাগ্যনির্ধারণী পদযাত্রা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ভাগ্যনির্ধারণী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ১৮ মাস পর এই ভোটের মাধ্যমে দেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় পরীক্ষাও বটে।

বিশাল ভোটার সংখ্যার পরিসংখ্যান এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ তরুণ প্রজন্ম। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ভোটার (মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশ) ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ তরুণ ভোটার এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন। ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৩৬৬ জন মানুষের বসবাস, যা ভারতের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। এই বিশাল জনপদ এখন তাকিয়ে আছে নতুন এক নেতৃত্বের দিকে।

Read More: দেশ পুনর্গঠনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির বিশাল জনসভা

নির্বাচনী ময়দানে যারা আছেন ২০২৬-এর এই নির্বাচনী লড়াইয়ে ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ১,৯৮১ জন, যার মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দিতে পারছে না। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বড় দুটি শক্তির মধ্যে:

  • বিএনপি: তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

  • জামায়াতে ইসলামী: প্রায় এক দশকের নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন শক্তিতে আবির্ভূত হয়েছে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই দল।

  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ২০২৪-এর বিপ্লবের ছাত্র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন দল তরুণ ভোটারদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

অর্থনীতি ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বেড়েছে, তবে সম্প্রতি প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়ে ৩.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক হারের সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের বড় লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল আগামী ৫ বছরের সরকার নির্ধারণ করবে না, বরং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ বা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদের মতো প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো আলোর মুখ দেখবে কি না, তাও স্পষ্ট হবে।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর দ্রুতই ফলাফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্যে দেশ কতটা স্থিতিশীল থাকে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এই ভোটের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’।

Follow Us On Facebook: A2News24

দেশ পুনর্গঠনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির বিশাল জনসভা

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত বিএনপির এক বিশাল জনসভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিগত দিনের স্বৈরশাসন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, যা পুনর্গঠনে জনগণের নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই।

জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার ডাক ঠাকুরগাঁওয়ের এই বিশাল জনসমাবেশে তারেক রহমান তার ভাষণের শুরুতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রয়োজন। একমাত্র জনগণের সরকারই পারে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করতে।” তিনি ঠাকুরগাঁওবাসীকে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

Read More: কেন দেশ পরিচালনায় নারীরা এখনো পিছিয়ে? বাধা কোথায়?

রাষ্ট্র সংস্কার ও ৩১ দফা প্রস্তাব তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই সংস্কার প্রস্তাব একটি মাইলফলক। তার মতে, দেশ পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ জরুরি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগই হচ্ছে সেই অংশগ্রহণের প্রথম ধাপ।

ভঙ্গুর অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনাই আমাদের অগ্রাধিকার।” তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বাধা ও সতর্কতা তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “গণতন্ত্রের পথে অনেক ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে জনগণের রায় কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে।” তিনি তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ানোর এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

উপসংহার: আগামী দিনের প্রত্যাশা ঠাকুরগাঁওয়ের এই জনসভাটি কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং দেশজুড়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার একটি জোরালো বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। তারেক রহমানের এই আহ্বানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

কেন দেশ পরিচালনায় নারীরা এখনো পিছিয়ে? বাধা কোথায়?

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন আধুনিকতা ও সমানাধিকারের কথা বলি, তখন বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র এক ভিন্ন ও কিছুটা হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের অনেক দেশেই রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হ্রাস পাচ্ছে। কেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীরা আজও সংখ্যালঘু? কেন একটি দেশ নারী নেতৃত্বের জন্য ‘অনুকূল’ হয়ে উঠতে পারছে না? এই প্রশ্নগুলো এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

প্রথাগত বাধার অদৃশ্য দেওয়াল নারী নেতৃত্বের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে বিদ্যমান সামাজিক কাঠামো এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। রাজনীতিতে একজন নারীকে যতটা কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, একজন পুরুষকে তার অর্ধেকও হতে হয় না। একজন নারী নেত্রীকে শুধু তার কাজ দিয়ে বিচার করা হয় না, বরং তার পোশাক, পারিবারিক জীবন এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও প্রতিনিয়ত কাটাছেঁড়া চলে। এই দ্বিমুখী মানদণ্ড অনেক দক্ষ নারী নেত্রীকেও মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।

Read More: গোপালগঞ্জ এ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভঙ্গ: নৌকাশূন্য ব্যালট পেপার নিয়ে নতুন সমীকরণে ভোটাররা

এশীয় রাজনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশেষ করে এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে রাজনীতি অনেকটা বংশপরম্পরা বা পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এই অঞ্চলে অনেক প্রভাবশালী নারী নেত্রী আমরা দেখেছি, কিন্তু তাদের ক্ষমতার নেপথ্যে অনেক সময়ই শক্তিশালী পারিবারিক পরিচয় কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে পরিবর্তন আসছে। স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে এবং নিজের যোগ্যতায় শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা নারীর সংখ্যা এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পুরুষদের প্রাধান্য দিচ্ছে, যা নারীদের জন্য এক ধরণের ‘গ্লাস সিলিং’ বা অদৃশ্য বাধা তৈরি করছে।

বাংলাদেশের চিত্র ও বাস্তবতা নারী নেতৃত্বের কথা বললে বাংলাদেশের নাম বিশ্ব দরবারে বারবার উচ্চারিত হয়। গত কয়েক দশক ধরে দেশটির শীর্ষ পর্যায় সামলাচ্ছেন নারীরা। তবে তৃণমূল পর্যায়ে বা নীতিনির্ধারণী বড় সভাগুলোতে এখনো পুরুষের আধিপত্য দৃশ্যমান। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শীর্ষ পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব থাকলেও সামগ্রিকভাবে রাজনীতিতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার পথে চ্যালেঞ্জগুলো এখনো রয়ে গেছে। রাজনীতিতে নারীদের কোটা থাকলেও তা কি তাদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে, নাকি তা কেবল সংখ্যার হিসেবেই সীমাবদ্ধ—সেটি আজ বড় প্রশ্ন।

অবকাঠামোগত অন্তরায় রাজনীতিতে অর্থ ও শক্তির দাপট নারীদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকায় অনেক যোগ্য নারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভয় পান। এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সাইবার বুলিং-এর শিকার হওয়া বর্তমান সময়ে নারী নেত্রীদের জন্য এক চরম আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের চরিত্রহনন করার প্রবণতা অনেক শিক্ষিত ও মার্জিত নারীকে রাজনীতি বিমুখ করছে।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে নারী নেতৃত্ব কেবল একটি নৈতিক দাবি নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি অপরিহার্য। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা বলছে, যেসব দেশে নারীরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছেন, সেখানে মানবিক উন্নয়ন এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতি বেশি হয়েছে। তবে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে কেবল সদিচ্ছা নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব কি পারবে নারীদের জন্য এক সমতার পৃথিবী গড়ে তুলতে? নাকি ক্ষমতার লড়াইয়ে নারীরা আড়ালেই রয়ে যাবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

নিউজিল্যান্ড এর গতির গোলকধাঁধায় আফগানিস্তান স্পিন-বিষ: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজকের বড় লড়াই

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান। কাগজে-কলমে কিউইরা অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকলেও বর্তমান ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে ‘অঘটন’ ঘটানো দল ভাবলে ভুল হবে। বরং তারা এখন যেকোনো বড় দলের জন্য ত্রাস। আজকের ম্যাচে একদিকে থাকবে নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণ ও ব্যাটিং স্থায়িত্ব, অন্যদিকে থাকবে আফগানিস্তানের বিশ্বসেরা স্পিন বৈচিত্র্য।

আফগান স্পিনে কুপোকাত হওয়ার ভয় আফগানিস্তান দলের শক্তির প্রধান জায়গা তাদের স্পিন বিভাগ। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান এবং নুর আহমেদরা বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আফগান স্পিনারদের পরাস্ত করা কিউই ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কিউইদের টপ অর্ডার যদি শুরুতে আফগান স্পিন সামলাতে না পারে, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুতই রশিদদের হাতে চলে যাবে।

Read More: বাবর আজম এর ‘স্লো ব্যাটিং’ কি পাকিস্তানের জন্য বোঝা? নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর নতুন বিতর্ক

নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা ও কিউই পেস অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড সবসময়ই তাদের গেম প্ল্যানে সুশৃঙ্খল। দলের পেস আক্রমণ বরাবরই ধারালো। ট্রেন্ট বোল্ট বা টিম সাউদিদের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা শুরুতে ব্রেক-থ্রু এনে দিতে পারলে আফগান ব্যাটাররা চাপে পড়ে যেতে পারেন। তবে নিউজিল্যান্ডের মূল দুশ্চিন্তা হতে পারে তাদের ব্যাটারদের স্পিন খেলার দক্ষতা নিয়ে। কেন উইলিয়ামসন বা ড্যারিল মিচেলের মতো অভিজ্ঞরা যদি মাঝের ওভারগুলোতে টিকে থাকতে পারেন, তবেই কিউইদের জয়ের পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশের দর্শকদের কেন নজর এই ম্যাচে? বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ পর্বের সমীকরণে আফগানিস্তানের হার বা জয় অনেক সময় বাংলাদেশের পরবর্তী রাউন্ডের ভাগ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া আফগানিস্তানের মতো একটি উদীয়মান এশীয় শক্তির উত্থান বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি রোমাঞ্চেরও। অনেকেই মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে আফগানিস্তানের এই দাপট টুর্নামেন্টের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে।

কন্ডিশন ও সম্ভাব্য একাদশ আজকের উইকেট কিছুটা ধীরগতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরোক্ষভাবে আফগানিস্তানকে সাহায্য করতে পারে। তবে শিশিরের প্রভাব থাকলে টস জয়ী দল প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নিউজিল্যান্ড হয়তো তাদের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে, যেখানে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রণ থাকবে। আফগানিস্তানও তাদের তুরুপের তাস স্পিনারদের ওপরই ভরসা রাখবে।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে ম্যাচটি যে একটি হাই-ভোল্টেজ লড়াই হতে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিউইদের ধারাবাহিকতা বনাম আফগানদের আক্রমণাত্মক মেজাজ—কে শেষ হাসি হাসবে তা নির্ভর করবে মাঠের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর। আজকের জয় যে দলকেই আসরে অনেকটা এগিয়ে রাখবে, তা নিশ্চিত। ক্রিকেট ভক্তদের চোখ এখন মাঠের লড়াইয়ের দিকে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

বাবর আজম এর ‘স্লো ব্যাটিং’ কি পাকিস্তানের জন্য বোঝা? নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর নতুন বিতর্ক

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি আর আগ্রাসী ব্যাটিং। যেখানে প্রতিটি বলের গুরুত্ব অপরিসীম, সেখানে বাবর আজমের মতো একজন বিশ্বসেরা ব্যাটারের ‘মন্থর ব্যাটিং’ কি দলের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের পরও এই প্রশ্নটিই এখন ক্রিকেট পাড়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও বাবর আজমের ইনিংস নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেলেও সমর্থকদের মনে স্বস্তি নেই। বিশেষ করে অধিনায়ক বাবর আজমের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও বাবরের স্ট্রাইক রেট ছিল আধুনিক টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে বেশ নিচে। ইনিংসের শুরুতে উইকেটে সেট হতে তিনি যে পরিমাণ বল খরচ করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাই।

কেন এই বিতর্ক? টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন আর শুধু উইকেট বাঁচিয়ে খেলার খেলা নয়। পাওয়ার-প্লে এবং মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি সচল রাখা এখন অপরিহার্য। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাবর আজম যখন ক্রিজে ছিলেন, তখন রানের গতি ছিল মন্থর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবরের এই ‘অ্যাঙ্কর’ রোল পালন করতে গিয়ে দলের অন্য ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে পাকিস্তান নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছে।

Read More: সূর্যকুমারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র: বড় জয় দিয়ে দাপট দেখাল ভারত

আধুনিক বনাম ক্লাসিক্যাল ব্যাটিং বাবর আজম নিঃসন্দেহে একজন ক্লাসিক্যাল ব্যাটার। তার কভার ড্রাইভ বা ব্যাকফুট পাঞ্চ ক্রিকেট প্রেমীদের চোখের শান্তি দেয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেখানে ইংল্যান্ড বা ভারতের মতো দলগুলো শুরু থেকেই ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করার চেষ্টা করছে, সেখানে বাবরের ১০০ বা ১১০ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিং কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে এই মন্থর গতি পাকিস্তানের জন্য হারের কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশি দর্শকদের ভাবনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যেও এই বিতর্ক বেশ আলোচিত। কারণ, বাংলাদেশ জাতীয় দলেও টপ অর্ডার ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকরা মনে করেন, আধুনিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে বাবর আজমের মতো বড় মাপের ব্যাটারদের নিজেদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আগে বাবর আজম কি নিজের খেলার ধরণ পরিবর্তন করবেন? নাকি এই ক্লাসিক্যাল স্টাইলই বজায় রাখবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তান ম্যানেজমেন্ট যদি এই সমস্যার সমাধান দ্রুত না করতে পারে, তবে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অধিনায়ককে শুধু রান করলেই হবে না, সেই রান হতে হবে ‘ইমপ্যাক্টফুল’।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

সূর্যকুমারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র: বড় জয় দিয়ে দাপট দেখাল ভারত

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘরের মাঠে বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার মিশনটা দাপটের সাথেই শুরু করল টিম ইন্ডিয়া। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ২৯ রানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের একক নৈপুণ্য এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের আধিপত্য জানান দিল স্বাগতিকরা।

সূর্যকুমারের অধিনায়কত্বসুলভ ইনিংস ম্যাচের শুরুতেই টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে হলেও ভারতের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। মাত্র ৪৯ বলে ৮৪ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে লড়াকু পুজি এনে দেন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল মুগ্ধকর সব শটের মহড়া। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ইশান কিশান ও তিলক ভার্মা। তাদের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান সংগ্রহ করে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত শুরু করলেও ডেথ ওভারে সূর্যকুমারের তান্ডব থামাতে ব্যর্থ হয়।

Read More: বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি পাকিস্তান: সংকট মেটাতে শ্রীলঙ্কার আরজি

ভারতীয় বোলারদের তোপ ১৬২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে মোহাম্মদ সিরাজের গতি আর সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারছিল না আমেরিকান টপ অর্ডার। সিরাজ ২৯ রান দিয়ে একাই শিকার করেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে যোগ্য সহায়তা করেন আর্শদীপ সিং। মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপে রাখে ভারতের বোলিং ইউনিট।

যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই ও হার যদিও মিডল অর্ডারে সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (৩৭) এবং মিলিন্দ কুমার (৩৪) কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ দিকে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানে থামে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস। ফলে ২৯ রানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

বিশ্লেষণ ও প্রভাব এই জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করল কেন তারা ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় দাবিদার। বিশেষ করে বড় আসরের প্রথম ম্যাচেই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, হারলেও ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী সমীকরণে এই জয় ভারতকে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল।

সামনের লক্ষ্য ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নজর থাকবে ভক্তদের। বিশেষ করে ব্যাটিং অর্ডারের শুরুর দিকের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে চাইবে ম্যানেজমেন্ট। মুম্বাইয়ের এই জয়ের রেশ নিয়ে পরের ম্যাচে আরও আত্মবিশ্বাসী ভারতকেই দেখা যাবে বলে আশা করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি পাকিস্তান: সংকট মেটাতে শ্রীলঙ্কার আরজি

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: বিশ্ব ক্রিকেটে ফের বাজছে অস্থিরতার সুর। ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি পুরুষ টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বড়সড় চমক দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা।

কেন এই বয়কটের ঘোষণা? ঘটনার সূত্রপাত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় দ্বন্দ্ব থেকে। ভারত সরকার তাদের জাতীয় দলকে পাকিস্তানে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিসহ একাধিক টুর্নামেন্টে ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করতে হচ্ছে। পিসিবি মনে করছে, ভারত যদি পাকিস্তানে না যায়, তবে তাদেরও ভারতে গিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই নীতিগত অবস্থান থেকেই বয়কটের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান।

Read More: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিশেষ আবেদন যেহেতু ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, তাই পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে বড় ধরণের আর্থিক ও দর্শক-চাহিদার ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশটি। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা উল্লেখ করেছে যে, এশিয়ার একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের সার্থকতা এবং এশিয়ার ক্রিকেটীয় সংহতির জন্য অপরিহার্য। শ্রীলঙ্কা অনুরোধ জানিয়েছে যাতে ব্যক্তিগত বা দ্বিপাক্ষিক বিরোধের জেরে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ও দর্শকদের ওপর প্রভাব ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ বরাবরই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশও আইসিসির পূর্ণ সদস্য এবং এই অঞ্চলের একটি বড় শক্তি। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে সেটি হবে আইসিসির জন্য বড় একটি বাণিজ্যিক ক্ষতি। অন্যদিকে, বাংলাদেশি দর্শকদের কাছে পাকিস্তান-ভারত লড়াই সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এই মহারণ না থাকলে বিশ্বকাপের জৌলুস অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে।

আইসিসি-র অবস্থান ও আইনি জটিলতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনো এই বিষয়ে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে তাদের বড় ধরণের জরিমানা এবং ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্ট থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকি থাকে। পাকিস্তান এখন সেই ঝুঁকি নিয়েও তাদের দাবিতে অনড় থাকতে চায় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? শ্রীলঙ্কার এই আবেদন পিসিবি কতটা গুরুত্ব সহকারে নেবে, তা এখনো অস্পষ্ট। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আইসিসির বোর্ড সভায় এই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা হবে এবং মাঠের লড়াই মাঠেই থাকবে। তবে আপাতত এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে উত্তাপ বেড়েই চলেছে।

Follow Us On Facebook: A2News24

মাঠের বাইরে সিআরসেভেন: আল নাসর সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক এবং নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে বর্তমানে মাঠের বাইরে রয়েছেন তিনি। তবে মাঠের সবুজ ঘাসে তাকে পাওয়া না গেলেও গ্যালারিতে তার উপস্থিতি যেন আগের চেয়েও বেশি প্রখর। আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে সমর্থকদের পক্ষ থেকে রোনালদোর প্রতি যে অকুন্ঠ সমর্থন এবং ভালোবাসা ফুটে উঠেছে, তা এখন ক্রীড়া জগতে টক অফ দ্য টাউন।

গ্যালারিতে ‘সিআরসেভেন’ আবেগ রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে গ্যালারি ভর্তি দর্শক রোনালদোর অনুপস্থিতি অনুভব করলেও তার প্রতি সমর্থন জানাতে ভুলেননি। গ্যালারিতে বড় বড় ব্যানার ও প্লাকার্ডে লেখা ছিল— “উই আর উইথ ইউ, সিআরসেভেন” এবং “লেজেন্ড নেভার ডাইস”। আল নাসরের ভক্তরা সমস্বরে রোনালদোর নাম ধরে স্লোগান দিয়ে পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত করে রাখেন। অনেক সমর্থককে রোনালদোর সিগনেচার জার্সি গায়ে দিয়ে তার ট্রেডমার্ক ‘সিউ’ (Siuuu) উদযাপন করতেও দেখা যায়।

Read More: ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন না মেসি? ‘যুক্তি’ দিয়ে ভক্তদের বড় আশঙ্কার কথা জানালেন খুদে জাদুকর

কেন এই অনুপস্থিতি? মূলত সৌদি প্রো লিগের একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের উস্কানিমূলক স্লেজিংয়ের প্রতিক্রিয়ায় এক বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে রোনালদোকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়েছে। সৌদি ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টিকে কঠোরভাবে আমলে নেওয়ায় তাকে কয়েক ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে। যদিও রোনালদোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, সেটি কোনো আপত্তিকর ইঙ্গিত ছিল না, তবুও সৌদি আরবের ফুটবল সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলার খাতিরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিস্থিতি রোনালদো এবং তার ক্লাব আল নাসরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশি সমর্থকদের ভাবনা ও প্রভাব বাংলাদেশে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভক্তের সংখ্যা অগণিত। ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে যখন তিনি এশিয়ায় তথা সৌদি আরবের ক্লাবে যোগ দিলেন, তখন থেকে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে সৌদি প্রো লিগ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি ভক্তরা রোনালদোর এই নিষেধাজ্ঞার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আল নাসর সমর্থকদের মতো তারাও সিআরসেভেনের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন। বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের কাছে রোনালদো কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যের প্রতীক। ফলে তার অনুপস্থিতি বাংলাদেশি ফুটবল অনুরাগীদেরও ব্যথিত করেছে।

টিমের ওপর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রোনালদো ছাড়া আল নাসরের আক্রমণভাগ কিছুটা শক্তি হারিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। দলের প্রধান গোলদাতা ও নেতার অভাব মাঠে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খুব শীঘ্রই এই সংকট কাটিয়ে রোনালদো মাঠে ফিরবেন এবং আগের মতোই গোলবন্যায় ভাসাবেন প্রতিপক্ষকে। তার এই সাময়িক বিরতি তাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা সমর্থকদের।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? বিতর্ক আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তবে যতবারই তাকে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই তিনি ফিরে এসেছেন আরও শক্তিশালী হয়ে। আল নাসর সমর্থকদের এই ভালোবাসা তাকে পুনরায় উজ্জীবিত করবে। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে তার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে। মাঠের বাইরে থেকেও যে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখা যায়, সিআরসেভেন আবারও তা প্রমাণ করলেন।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

গোপালগঞ্জ এ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভঙ্গ: নৌকাশূন্য ব্যালট পেপার নিয়ে নতুন সমীকরণে ভোটাররা

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গোপালগঞ্জ মানেই ছিল আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। কিন্তু ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখছে জেলার ভোটাররা। কয়েক দশক ধরে যে ব্যালট পেপারে ‘নৌকা’ প্রতীক ছিল অবধারিত, এবার সেখানে সেই পরিচিত প্রতীকটি নেই। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা এবার এক ‘অচেনা’ নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন।

রাজনৈতিক পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে। তবে আইনি জটিলতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না। ফলে গোপালগঞ্জের নির্বাচনী মাঠ এখন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দখলে।

Read More: ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ প্রস্তাব নাকচ: এককভাবে জয়ের ব্যাপারে অনড় তারেক রহমান

গোপালগঞ্জের পরিবর্তিত চিত্র রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জের রাস্তাঘাটে এবার নৌকা প্রতীকের বদলে দেখা যাচ্ছে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা এবং নানা স্বতন্ত্র প্রতীকের পোস্টার। ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। প্রবীণ অনেক ভোটার যারা সারাজীবন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই ব্যালট পেপারটি একেবারেই অপরিচিত। অন্যদিকে, তরুণ ভোটাররা মনে করছেন এটি গণতন্ত্রের একটি নতুন পরীক্ষা যেখানে কেবল প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা গুরুত্ব পাবে।

নিরাপত্তা ও চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গোপালগঞ্জের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো ধরণের সহিংসতা ছাড়াই একটি সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন।

ভোটারদের ভাবনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার একজন সাধারণ ভোটার রয়টার্সকে জানান, “সারাজীবন আমরা এক দলের আধিপত্য দেখে বড় হয়েছি। এবার আমাদের কাছে অপশন অনেক, কিন্তু আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারছি না এই নতুন পরিবেশে আমাদের ভূমিকা কী হবে।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে একটি তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? গোপালগঞ্জের এই পরিবর্তন কেবল একটি জেলার পরিবর্তন নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনীতিরই প্রতিফলন। নৌকাশূন্য এই নির্বাচনে গোপালগঞ্জবাসী কি নতুন কোনো নেতৃত্ব বেছে নেবে, নাকি ভোটের উপস্থিতিতে এর প্রভাব পড়বে, তা জানতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কোন প্রতীকের জয় হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

১৪ বছরেই ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়: সূর্যবংশীর ব্যাটে ভারতের ঘরে বিশ্বকাপ!

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৪ বছর বয়স—অধিকাংশ কিশোরের কাছে যখন পড়াশোনা আর বন্ধুদের সাথে আড্ডাই জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্র বদলে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী। তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ভর করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল ভারত। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ১৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই ভারতীয় কিশোর।

ফাইনালে সূর্যবংশীর মহাকাব্যিক ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনালে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো ছেলেখেলায় পরিণত করেন বৈভব। দলের প্রয়োজনে যখন সবাই তাকিয়ে ছিল সিনিয়রদের দিকে, তখন ব্যাট হাতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন দলের কনিষ্ঠতম সদস্য। তার ১৭৫ রানের ইনিংসটি কেবল রান সংখ্যায় নয়, বরং ব্যাটিংশৈলী, আত্মবিশ্বাস এবং চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ম্যাচ বের করে আনার ক্ষমতার কারণে কিংবদন্তিদেরও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তার এই দানবীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ভারত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাহাড়সম স্কোর গড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দাপটের সাথে ম্যাচ জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

Read More: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা

রেকর্ডবুক ও নতুন ইতিহাস ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদদের মতে, এত কম বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনো বড় দলের বিপক্ষে এমন ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলার নজির নেই বললেই চলে। তার ব্যাটিং দেখে মনেই হচ্ছিল না যে তিনি বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের (এমনকি প্রতিপক্ষের সবার) চেয়েও ছোট। এই ইনিংসটি তাকে রাতারাতি বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সেনসেশনে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য অনেক। ২০২০ সালে আকবর আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশও এই শিরোপা জেতার স্বাদ পেয়েছিল। ভারতের এই জয় এবং বিশেষ করে ১৪ বছর বয়সী বৈভবের এই উত্থান বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কীভাবে ভয়ডরহীন মানসিকতা নিয়ে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে হয়, বৈভবের এই ইনিংস তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন ভারতের বিশ্বকাপ জয় এবং বৈভবের বন্দনায় মুখর। সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, বৈভব কেবল রান করছেন না, তিনি ১৪ বছর বয়সেই ক্রিকেটের ব্যাকরণকে নতুন করে লিখছেন। নেটিজেনরা তাকে তুলনা করছেন শচীন টেন্ডুলকার বা ব্রায়ান লারার শুরুর দিকের দিনগুলোর সাথে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই অবিশ্বাস্য প্রতিভা ধরে রাখা এবং সঠিক যত্ন নেওয়াই হবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

উপসংহার: আগামীর তারকা বৈভব সূর্যবংশীর এই ১৭৫ রানের ইনিংস এবং ভারতের বিশ্বকাপ জয়—এটি কেবল একটি শিরোপা নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য বজায় রাখার এক নতুন বার্তা। ১৪ বছরেই যিনি বিশ্বজয় করলেন, বড়দের ক্রিকেটে তার যাত্রাটা কেমন হবে, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

Follow Us On Facebook: A2News24