দেশের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবং প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বড় ধরণের রদবদল করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমান্ডকে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্ব পরিবর্তন এবং কাউকে কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
রদবদলের নেপথ্য কারণ ও প্রেক্ষাপট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে। সেনাবাহিনীকেও সেই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়নি। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে যেসব কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল কিংবা যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবের বলয়ে ছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে, তাদের সরিয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান নেতৃত্ব।
Read More: চ্যাটজিপিটিতে হামলার পরিকল্পনা ফাঁস: সজাগ ওপেনএআই কর্মীরা
কারা আসলেন নতুন দায়িত্বে? এই রদবদলের ফলে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মতো সংবেদনশীল সংস্থাগুলোতে নতুন নেতৃত্ব বসানো হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবং মেজর জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নতুন দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। বিশেষ করে লে. জেনারেল সাইফুল আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা এবং মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সব মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পেশাদারিত্ব ও সংস্কারের প্রভাব প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীতে এই ধরণের রদবদল কেবল নিয়মিত বদলি নয়, বরং এটি একটি বড় ধরণের শুদ্ধি অভিযান বা সংস্কারের ইঙ্গিত দেয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এবং বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চেইন অব কমান্ড যেমন সুসংহত হবে, তেমনি মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সৈনিকদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা যাবে।
জনসাধারণের প্রত্যাশা ও দেশের সুরক্ষা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সবসময়ই সেনাবাহিনীকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। নেতৃত্বের এই পরিবর্তন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে আরও দক্ষ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপসংহার: পরবর্তী ধাপ কী? সেনাবাহিনীতে এই রদবদল প্রক্রিয়া এখানেই শেষ কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে আরও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হলো বাহিনীকে পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তোলা, যাতে তারা যে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংকটে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।




