চ্যাটজিপিটি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর কেবল মানুষের দৈনন্দিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন সম্ভাব্য অপরাধ দমনেও এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) ব্যবহারকারী এক তরুণীর কথোপকথনে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা খুঁজে পেয়েছে ওপেনএআই-এর স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিষয়টি এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল যে, ওপেনএআই-এর কর্মীরা কানাডীয় পুলিশকে বিষয়টি দ্রুত জানানোর জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন।
যেভাবে ফাঁস হলো ভয়ংকর সেই পরিকল্পনা ঘটনাটি ঘটেছিল কানাডায়। ২১ বছর বয়সী এক তরুণী চ্যাটজিপিটির সাথে কথোপকথনের সময় পরোক্ষভাবে স্কুলে বড় ধরনের হামলার বা ‘স্কুল শ্যুটিং’-এর পরিকল্পনা এবং নিজের মানসিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেন। ওপেনএআই-এর উন্নত এআই রিভিউ সিস্টেম ব্যবহারকারীর এই শব্দগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বা সহিংসতা হিসেবে শনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দলের কাছে ফ্ল্যাগ বা চিহ্নিত করে পাঠায়।
Read More: আপনার প্রিয়জনের কণ্ঠেই আসছে প্রতারকের ফোন: এআই ভয়েস ক্লোনিং জালিয়াতি থেকে সাবধান!
ওপেনএআই কর্মীদের নৈতিক অবস্থান ও তৎপরতা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই-এর কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তারা বিশ্বাস করেছিলেন যে, এই কথোপকথনটি কেবল একটি সাধারণ কৌতূহল নয় বরং একটি বাস্তব জীবনের হুমকি। গত কয়েক মাস ধরেই কোম্পানির ভেতরে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল যে, কখন এবং কীভাবে পুলিশকে এই তথ্য দেওয়া হবে। যদিও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি একটি বড় বিষয়, কিন্তু জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওপেনএআই-এর কর্মীরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেছিলেন।
এআই রিভিউ সিস্টেম কীভাবে কাজ করে? ওপেনএআই তাদের ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ফিল্টারিং এবং রিভিউ সিস্টেম ব্যবহার করে। কোনো ব্যবহারকারী যখন ক্ষতিকারক কনটেন্ট, স্বঘোষিত সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন কোনো বিষয় চ্যাটে উল্লেখ করেন, তখন এআই সেটি পর্যালোচনা করে। এই প্রযুক্তিটি মূলত অপরাধীদের কোনো সুযোগ না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। বর্তমানে বড় বড় টেক কোম্পানিগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনো ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করছে।
নিরাপত্তা বনাম প্রাইভেসির বিতর্ক এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নাকি জননিরাপত্তা, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে কোনো এআই সিস্টেম যখন বড় ধরনের অপরাধের পূর্বাভাস পায়, তখন সেটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একটি সঠিক সময়ে দেওয়া তথ্য অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে।
উপসংহার: প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত ওপেনএআই-এর এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, এআই এখন অনেক বেশি সজাগ ও দায়িত্বশীল। কানাডার এই ঘটনাটি প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য একটি বড় উদাহরণ যে, এআই ব্যবহার করে অপরাধ করার পরিকল্পনা করলে পার পাওয়ার সুযোগ এখন অনেক কমে আসছে। আগামী দিনে এআই প্রযুক্তির এই নজরদারি ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, যা অপরাধ দমনে বিশ্বজুড়ে পুলিশের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।




