প্রযুক্তি ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে বাজারে আসতে যাচ্ছে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা ফোন বা ‘আইফোন ফোল্ড’ (iPhone Fold)। প্রযুক্তি বিশ্বের প্রধান আকর্ষণ এখন এই ডিভাইসটিকে ঘিরে। যেখানে স্যামসাং বা গুগলের মতো কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে ফোল্ডেবল বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, সেখানে অ্যাপল কেন এতদিন অপেক্ষা করল এবং তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী কী চমক থাকছে—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অপূর্ব ডিসপ্লে ও ‘সেলফ-হিলিং’ প্রযুক্তি আইফোন ফোল্ডের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এর ডিসপ্লে। বিভিন্ন পেটেন্ট ও তথ্যসূত্র অনুযায়ী, অ্যাপল এমন এক ধরণের নমনীয় ডিসপ্লে নিয়ে কাজ করছে যা ভাঁজ করার স্থানে কোনো দাগ (Crease) তৈরি হতে দেবে না। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এতে ‘সেলফ-হিলিং’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাগ মুছে ফেলার প্রযুক্তি থাকতে পারে। ফলে নখ বা অন্য কোনো ছোটখাটো আঁচড় পড়লে তা নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ফোনটি খোলা অবস্থায় ৮ ইঞ্চির একটি ট্যাবলেটের মতো কাজ করবে।
আরো পড়ুনঃ আইফোন এর ইতিহাসে বড় বাঁক: স্ট্যান্ডার্ড মডেলের লঞ্চ পিছিয়ে ২০২৭-এ, ২০২৬-এই আসছে আইফোন ‘ফোল্ড’
শক্তিশালী প্রসেসর ও মাল্টিটাস্কিং যেহেতু আইফোন ফোল্ড ২০২৬ সালে আইফোন ১৮ প্রো মডেলের সাথে আসবে, তাই এতে অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের এআই-অপ্টিমাইজড চিপসেট (সম্ভবত A20 Bionic বা M-সিরিজের কোনো ভ্যারিয়েন্ট) ব্যবহার করা হবে। ভাঁজ করা ফোনের বড় স্ক্রিনকে কাজে লাগাতে আইওএস (iOS)-এ আনা হবে বিশেষ পরিবর্তন, যা অনেকটা আইপ্যাডওএস (iPadOS)-এর মতো উন্নত মাল্টিটাস্কিং অভিজ্ঞতা দেবে। একই সাথে ভিডিও এডিটিং ও গেমারদের জন্য এটি হবে এক শক্তিশালী পকেট ডিভাইস।
ক্যামেরা ও ডিজাইনে আভিজাত্য আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো মডেলগুলোর মতো এটিতেও থাকবে উন্নতমানের ট্রিপল লেন্স ক্যামেরা সিস্টেম। তবে ফোনের আকার পাতলা রাখতে অ্যাপল এর লেন্স ডিজাইনে নতুনত্ব আনতে পারে। টাইটানিয়াম ফ্রেম এবং প্রিমিয়াম ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে এটি যেমন হবে মজবুত, তেমনি ওজনেও হবে তুলনামূলক হালকা। এটি ‘ক্ল্যামশেল’ (ফ্লিপ ফোন) নাকি ‘বুক-স্টাইল’ (বইয়ের মতো ভাঁজ)—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও অধিকাংশ প্রযুক্তি বিশ্লেষক একে বুক-স্টাইল ফোন হিসেবেই দেখছেন।
সম্ভাব্য দাম: পকেটে কতটা চাপ পড়বে? অ্যাপলের ডিভাইস মানেই প্রিমিয়াম দাম। আইফোন ফোল্ডের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটির প্রাথমিক দাম ১,৫৯৯ থেকে ১,৯৯৯ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশের বাজারে শুল্ক ও ট্যাক্স মিলিয়ে এর দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও অ্যাপলের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও নতুন প্রযুক্তির কারণে এটি বাজারের প্রিমিয়াম সেগমেন্টে রাজত্ব করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? আইফোন ফোল্ড কেবল একটি নতুন ফোন নয়, এটি অ্যাপলের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল। কোম্পানিটি তড়িঘড়ি করে বাজারে না এসে দীর্ঘ সময় নিয়েছে ফোনের স্থায়িত্ব বা ডিউরেবিলিটি নিশ্চিত করতে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যখন এটি উন্মোচন করা হবে, তখন এটি ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আইফোন ১৮ স্ট্যান্ডার্ড মডেলের বিলম্বের সুযোগে এই ফোল্ডেবল ফোনটি সাধারণ মানুষের মাঝে কতটা জনপ্রিয়তা পায়।




