বাবর আজম এর ‘স্লো ব্যাটিং’ কি পাকিস্তানের জন্য বোঝা? নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর নতুন বিতর্ক

0
বাবর আজম এর 'স্লো ব্যাটিং' কি পাকিস্তানের জন্য বোঝা? নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর নতুন বিতর্ক
বাবর আজম এর 'স্লো ব্যাটিং' কি পাকিস্তানের জন্য বোঝা? নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি আর আগ্রাসী ব্যাটিং। যেখানে প্রতিটি বলের গুরুত্ব অপরিসীম, সেখানে বাবর আজমের মতো একজন বিশ্বসেরা ব্যাটারের ‘মন্থর ব্যাটিং’ কি দলের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের পরও এই প্রশ্নটিই এখন ক্রিকেট পাড়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও বাবর আজমের ইনিংস নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেলেও সমর্থকদের মনে স্বস্তি নেই। বিশেষ করে অধিনায়ক বাবর আজমের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও বাবরের স্ট্রাইক রেট ছিল আধুনিক টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে বেশ নিচে। ইনিংসের শুরুতে উইকেটে সেট হতে তিনি যে পরিমাণ বল খরচ করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাই।

কেন এই বিতর্ক? টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন আর শুধু উইকেট বাঁচিয়ে খেলার খেলা নয়। পাওয়ার-প্লে এবং মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি সচল রাখা এখন অপরিহার্য। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাবর আজম যখন ক্রিজে ছিলেন, তখন রানের গতি ছিল মন্থর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবরের এই ‘অ্যাঙ্কর’ রোল পালন করতে গিয়ে দলের অন্য ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে পাকিস্তান নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছে।

Read More: সূর্যকুমারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র: বড় জয় দিয়ে দাপট দেখাল ভারত

আধুনিক বনাম ক্লাসিক্যাল ব্যাটিং বাবর আজম নিঃসন্দেহে একজন ক্লাসিক্যাল ব্যাটার। তার কভার ড্রাইভ বা ব্যাকফুট পাঞ্চ ক্রিকেট প্রেমীদের চোখের শান্তি দেয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেখানে ইংল্যান্ড বা ভারতের মতো দলগুলো শুরু থেকেই ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করার চেষ্টা করছে, সেখানে বাবরের ১০০ বা ১১০ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিং কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে এই মন্থর গতি পাকিস্তানের জন্য হারের কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশি দর্শকদের ভাবনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যেও এই বিতর্ক বেশ আলোচিত। কারণ, বাংলাদেশ জাতীয় দলেও টপ অর্ডার ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকরা মনে করেন, আধুনিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে বাবর আজমের মতো বড় মাপের ব্যাটারদের নিজেদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আগে বাবর আজম কি নিজের খেলার ধরণ পরিবর্তন করবেন? নাকি এই ক্লাসিক্যাল স্টাইলই বজায় রাখবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তান ম্যানেজমেন্ট যদি এই সমস্যার সমাধান দ্রুত না করতে পারে, তবে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অধিনায়ককে শুধু রান করলেই হবে না, সেই রান হতে হবে ‘ইমপ্যাক্টফুল’।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here