টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ; ক্রিকেটের জন্য এটি বড় ক্ষতি, আক্ষেপ কিংবদন্তি ডি ভিলিয়ার্সের

0
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ; ক্রিকেটের জন্য এটি বড় ক্ষতি, আক্ষেপ কিংবদন্তি ডি ভিলিয়ার্সের

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বইছে আলোচনার ঝড়। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় এবারের আসর থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং আইসিসি কর্তৃক তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করার বিষয়টি মানতে পারছেন না অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, একটি বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মতো দলের না থাকা ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

মিস্টার ৩৬০-এর আক্ষেপ ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৬০’-এ নিয়মিতভাবে ক্রিকেটের খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলেন এই সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক। সাম্প্রতিক এক ভিডিও সেশনে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া প্রসঙ্গে নিজের খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেন। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “আমি এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কথা বলতে চাই না। এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর ব্যক্তিগত বিষয়। আমার কাছে হয়তো সব তথ্য নেই, তাই গভীর মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি বলতে পারি, পরিস্থিতি কখনোই এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয় যেখানে একটি দলকে টুর্নামেন্ট থেকেই নাম সরিয়ে নিতে হয়।”

রাজনীতি ও ক্রিকেটের সংঘাত নিয়ে কড়া বার্তা ডি ভিলিয়ার্স সবসময়ই খেলার মাঠে রাজনীতির অনুপ্রবেশের বিরোধী। ভিডিওতে তিনি সরাসরি বলেন, “ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির মিশে যাওয়া আমি একদমই পছন্দ করি না। আজ রাজনীতি এবং নিরাপত্তার মারপ্যাঁচে একটি দলকে বিশ্বকাপের বাইরে থাকতে হচ্ছে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি জানি না এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কারা বা কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাজ করেছে, তবে তাদের উচিত ছিল এই সংকটের সমাধান করা। ক্রিকেটের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এমন সিদ্ধান্ত কখনোই কাম্য নয়।”

কেন নেই বাংলাদেশ? প্রেক্ষাপট ও ঘটনাক্রম আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। নিরাপত্তা জনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। বিসিবির দাবি ছিল, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে, সম্প্রতি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে উগ্রপন্থী হুমকির মুখে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তবে বিসিবির সেই প্রস্তাব আইসিসি বোর্ড সভায় নাকচ হয়ে যায়। ভোটাভুটির মাধ্যমে অধিকাংশ সদস্য দেশ ভারতকে নিরাপদ ভেন্যু হিসেবে রায় দিলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত গত শনিবার আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের পরিবর্তে গ্রুপ ‘সি’-তে খেলবে স্কটল্যান্ড।

বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিধ্বনি বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে এর আগে পাকিস্তানি কিংবদন্তি মোহাম্মদ ইউসুফসহ অনেক বিশ্লেষকই আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট শক্তির অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের জৌলুস কমিয়ে দেবে। ডি ভিলিয়ার্সের এই নতুন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এল।

উপসংহার বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের জার্সি না থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য যেমন বেদনার, তেমনি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও এটি বড় এক শূন্যতা। ডি ভিলিয়ার্সের মতো তারকারা যখন এই বিষয়ে মুখ খোলেন, তখন বোঝা যায় ক্রিকেটের বিশ্বায়ন ও স্বচ্ছতার জন্য রাজনৈতিক দূরত্বের সমাধান কতটা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি ভবিষ্যতে এই ধরনের সংকট মোকাবিলায় কোনো স্থায়ী সমাধান খুঁজে পায় কি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here