নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
‘জেন-জি’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি আর স্লোগানে মুখরিত ছিল রাজপথ। এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় যে বড় পরিবর্তন এসেছিল, তার মূল কারিগর ছিল এদেশের ‘জেন-জি’ বা জেনারেশন জেড। সেই বিপ্লবের ১৮ মাস পর, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন। প্রশ্ন উঠেছে, রাজপথে অসাধ্য সাধন করা সেই তরুণ প্রজন্ম এখন কোথায়? তারা কি পারবেন ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে?
প্রতিবাদী তারুণ্য এখন ভোটার ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা প্রথম সারিতে ছিলেন, তাদের একটি বড় অংশই এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি নতুন ও তরুণ ভোটার রয়েছেন, যারা কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দলের আদর্শে অন্ধ নন। তারা চান সুশাসন, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আমূল সংস্কার। রাজপথের লড়াই থেকে এসে তারা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের সচেতন করতে কাজ করছেন।
Read More: ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী ভোট কাল
আন্দোলনের নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক দল গত দেড় বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ছাত্র নেতাদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ। অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা অনেক তরুণ নেতা এখন নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম বা নতুন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা প্রথাগত বড় দলগুলোর বাইরে একটি ‘থার্ড ফোর্স’ বা তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো—পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সংশয় বনাম সম্ভাবনা তবে জেন-জি ভোটারদের মধ্যে কেবল আশাবাদই নয়, কিছুটা সংশয়ও কাজ করছে। সংস্কারের গতি এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে মোহভঙ্গ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। এই ভোটাররা কেবল মুখ চিনে নয়, বরং ইশতেহার এবং প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার করে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে জেন-জি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জেন-জি ভোটাররাই হবে ‘কিংমেকার’। বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাই তাদের ইশতেহারে তরুণদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা, আইটি সেক্টরে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে। তরুণদের এই বিশাল ভোটব্যাংক যেদিকে ঝুঁকবে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
উপসংহার: সামনে যা ঘটছে আগামীকালকের ভোট কেবল একটি সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং ২০২৪-এর শহীদদের রক্তের অঙ্গীকার রক্ষার দিন। রাজপথের সেই সাহসী জেন-জি প্রতিনিধিরা যদি ব্যালট বক্সেও তাদের বিপ্লব জারি রাখতে পারেন, তবেই বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ১২ ফেব্রুয়ারির এই ঐতিহাসিক গণরায়ের দিকে।




