এআই-এর জন্য ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে ওরাকল: প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন আতঙ্ক

0
এআই-এর জন্য ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে ওরাকল: প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেক ডেস্ক: বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে ওরাকল। আর এই বিশাল সংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রতি কোম্পানির অদম্য ঝোঁক এবং স্যাম অল্টম্যানের ‘ওপেনএআই’-এর সাথে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব।

কেন এই বিশাল ছাঁটাই? ওরাকল তাদের ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রথাগত সফটওয়্যার সার্ভিস থেকে সরে এসে পুরোপুরি এআই-নির্ভর অবকাঠামো তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে। স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন ওপেনএআই-এর জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং পাওয়ার এবং ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সরবরাহে ওরাকল বড় অংকের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিশাল বিনিয়োগের খরচ মেটাতে এবং প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত ব্যয় কমাতে বর্তমান জনবল কমিয়ে ফেলার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানুষের জায়গা নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওরাকলের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি কোম্পানির বিষয় নয়, বরং এটি পুরো টেক ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি সতর্কবার্তা। কোম্পানিগুলো এখন মানুষের পরিবর্তে এআই-চালিত অটোমেশনে বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ব্যাক-অফিস অপারেশন, ডেটা এন্ট্রি এবং সাধারণ কোডিংয়ের মতো কাজগুলো এখন এআই দিয়ে করানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে অনেক কর্মীর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে।

বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার ও আইটি পেশাজীবীদের ওপর প্রভাব ওরাকলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের এই ছাঁটাই অভিযান বাংলাদেশের তরুণ আইটি পেশাজীবীদের জন্যও উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক ফ্রিল্যান্সার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বৈশ্বিক আইটি খাতের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বজুড়ে যখন এ ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঢেউ ওঠে, তখন আউটসোর্সিংয়ের বাজারেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এটি একটি বড় শিক্ষা যে, প্রথাগত দক্ষতার পাশাপাশি এখন এআই এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়া ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হবে।

উপসংহার: কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? ওরাকলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছাঁটাইয়ের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি, তবে অনেক বিভাগেই ইতিমধ্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এখন বড় প্রশ্ন হলো—এই ছাঁটাইয়ের মিছিল কি এখানেই থামবে, নাকি এআই-এর বিকাশের সাথে সাথে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here