ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: এক সময় তারা রিয়াল মাদ্রিদে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গোল করেছেন, জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং করিম বেনজেমার সম্পর্ক এখন এক চরম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের ফুটবল সাম্রাজ্যে কে শ্রেষ্ঠ—এই লড়াই এখন কেবল ট্রফি জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ক্লাব পরিবর্তন এবং দলবদলের রাজনীতিতে নতুন এক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
বেনজেমার দলবদল ও রোনালদোর অসন্তোষ সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দেখা যাচ্ছে, করিম বেনজেমা আল ইত্তিহাদ ছেড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব আল হিলালে যোগ দিয়েছেন। এই দলবদলটি সাউদি ফুটবলে বড় এক ঝড় তুলেছে। বিশেষ করে আল নাসরের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য নাখোশ হয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আল হিলালের প্রতি সাউদি ফুটবল কর্তৃপক্ষের এই বিশেষ আনুকূল্য রোনালদোর কাছে বৈষম্যমূলক মনে হয়েছে, যার ফলে তিনি আল নাসরের হয়ে মাঠে নামতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
আরো পড়ুনঃ ২০২৬ বিশ্বকাপে কি খেলবেন মেসি? মাশ্চেরানোর ‘তিন শব্দের’ জবাবে নতুন আশা ফুটবল বিশ্বে
মাঠের লড়াই বনাম পর্দার রাজনীতি রোনালদো বরাবরই সাউদি লিগকে বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগ বানানোর স্বপ্ন দেখান। কিন্তু আল হিলালের একের পর এক তারকা কেনা এবং আল নাসরের তুলনামূলক কম বিনিয়োগ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে, বেনজেমা আল হিলালে যোগ দিয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। আল হিলাল বর্তমানে লিগের শীর্ষে রয়েছে এবং বেনজেমার অন্তর্ভুক্তি তাদের শিরোপার লড়াইয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতা রোনালদোর মতো উচ্চাভিলাষী খেলোয়াড়ের জন্য মানসিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিরোপা খরা ও ১০০০ গোলের লক্ষ্য সাউদি আরবে আসার পর রোনালদো এখনো বড় কোনো অফিশিয়াল ট্রফি জিততে পারেননি। এর বিপরীতে বেনজেমা গত মৌসুমে আল ইত্তিহাদকে শিরোপা জেতানোর স্বাদ দিয়েছেন। রোনালদোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ১০০০ ক্যারিয়ার গোল পূর্ণ করা, কিন্তু ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং দলবদলের বিরোধ তার এই যাত্রাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? রোনালদো এবং বেনজেমার এই দ্বৈরথ সাউদি ফুটবলের জনপ্রিয়তা যেমন বাড়াচ্ছে, তেমনি লিগের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্নও তুলছে। রোনালদোর এই ‘ধর্মঘট’ বা অসন্তোষ কতদিন চলবে এবং বেনজেমা আল হিলালের হয়ে কতটা সফল হবেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বোঝা যাবে, রিয়ালের দুই পুরনো বন্ধু কি আবার মাঠে হাসিমুখে করমর্দন করবেন, না কি এই সংঘাত আরও গভীরে যাবে।




