বাজারে আইফোন ১৬ সিরিজের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনা শুরু হয়েছে অ্যাপলের আগামী দিনের স্মার্টফোনগুলো নিয়ে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে বাজারে আসতে যাওয়া ‘আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স’ নিয়ে এরই মধ্যে বড় ধরনের তথ্য ফাঁস (Leak) হয়েছে। খ্যাতনামা প্রযুক্তি বিশ্লেষক জেফ পু-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, আসন্ন এই মডেলে অ্যাপল তাদের হার্ডওয়্যারে এমন কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, যা আইফোন ভক্তদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে।
ডায়নামিক আইল্যান্ডে আসছে বড় পরিবর্তন আইফোন ১৪ প্রো সিরিজ থেকে শুরু হওয়া ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’ ফিচারটি আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তবে এর আকার নিয়ে অনেকেরই অভিযোগ ছিল। জেফ পু-এর রিসার্চ নোট অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলে অ্যাপল প্রথমবারের মতো ‘মেটালেন্স’ (Metalens) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। এই প্রযুক্তির ফলে ফেস আইডির সেন্সরগুলো অনেক ছোট হয়ে আসবে, যার ফলে ডায়নামিক আইল্যান্ডের আকার বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র সর্বোচ্চ মডেল ‘প্রো ম্যাক্স’-এই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
Read: More: স্মার্টফোন’র বাজারে দুঃসংবাদ: ২০২৬ সালে কেন বাড়ছে ফোনের দাম?
ক্যামেরা ও র্যামে শক্তিশালী আপগ্রেড স্মার্টফোন ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় অ্যাপল সবসময়ই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে চায়। লিক হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ সিরিজে সেলফি ক্যামেরায় বড় ধরনের উন্নতি দেখা যেতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ১২ মেগাপিক্সেল সেন্সরের বদলে অ্যাপল ২৪ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ (Apple Intelligence)-এর পারফরম্যান্স আরও মসৃণ করতে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ১২ জিবি র্যাম ব্যবহারের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান মডেলগুলোতে র্যামের সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে সমালোচনা ছিল, এই আপগ্রেড তার যোগ্য জবাব হতে পারে।

অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ও আগামীর প্রযুক্তি অ্যাপল এখন তাদের প্রতিটি ডিভাইসে এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে যে নতুন চিপসেট ব্যবহার করা হবে, তা মূলত হাই-এন্ড এআই প্রসেসিংয়ের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ছোট ডায়নামিক আইল্যান্ড এবং শক্তিশালী র্যামের সমন্বয়ে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হবে আইফোনের ইতিহাসের অন্যতম বড় ডিজাইন পরিবর্তন।
বাংলাদেশি গ্রাহকদের জন্য এর প্রভাব বাংলাদেশের প্রযুক্তি বাজারে আইফোনের একটি বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। সাধারণত নতুন আইফোন বাজারে আসার পর দেশের বাজারে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগে না। তবে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং মেটালেন্স সেন্সরের কারণে এর উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে। ফলে ২০২৬ সালে যখন এটি বাংলাদেশের বাজারে আসবে, তখন এর দাম বর্তমানের প্রো ম্যাক্স মডেলগুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যারা নিয়মিত আইফোন আপগ্রেড করেন, তাদের জন্য এই লিক হওয়া তথ্যগুলো এখনই পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।
উপসংহার যদিও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স বাজারে আসতে এখনও দুই বছরের বেশি সময় বাকি, তবুও অ্যাপলের এই নতুন পরিকল্পনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে হাঁটছে। নচ থেকে ডায়নামিক আইল্যান্ড, আর এখন ছোট আকারের পাঞ্চ-হোল স্টাইল—অ্যাপল তাদের বিবর্তন জারি রেখেছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই ফিচারগুলো চূড়ান্ত মডেলে কতটুকু প্রতিফলিত হয়, তা দেখার জন্য আমাদের ২০২৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।




