দিল্লি-কলকাতা থেকে ফেরার ছক: ভারতে বসে শেখ হাসিনার ‘পলিটিক্যাল কামব্যাক’ মিশন

0
দিল্লি-কলকাতা থেকে ফেরার ছক: ভারতে বসে শেখ হাসিনার ‘পলিটিক্যাল কামব্যাক’ মিশন

বিশেষ প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): গত ১৬ মাস আগে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা আবারও রাজনীতিতে ফেরার গোপন পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অন্তত ৬০০ নেতা-কর্মী ভারতের মাটি ব্যবহার করে দেশে তাদের প্রভাব পুনপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাদের এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ‘নীল নকশা’।

দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার নির্দেশনা দিল্লির এক গোপন আস্তানা থেকে শেখ হাসিনা এখনো দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তিনি প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা ভিডিও কল এবং বার্তার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার এই রাজনৈতিক তৎপরতা ভারতের নজরদারিতে থাকলেও, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করা হস্তান্তরের অনুরোধ এখনো ভারতের পক্ষ থেকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরণের শীতলতা কাজ করছে।

কলকাতায় আত্মগোপনে থাকা নেতাদের কৌশল ভারতের সীমান্তঘেঁষা শহর কলকাতায় বর্তমানে আওয়ামী লীগের অনেক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অবস্থান করছেন। তারা জনসম্মুখে না এলেও শপিং মল বা কফিশপের মতো ভিড়াক্রান্ত জায়গায় গোপনে দলীয় সভা করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে এক ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরি করা এবং এই নির্বাচনকে বিশ্ববাসীর কাছে ‘অগণতান্ত্রিক’ হিসেবে তুলে ধরা। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের মতে, তারা বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনা একদিন ‘বীরবেশে’ দেশে ফিরবেন।

নির্বাচন বর্জন ও সম্ভাব্য অস্থিরতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করায় দলটি বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা দাবি করছেন যে, তাদের বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনই সফল হবে না। তারা দেশের ভেতরে থাকা কর্মীদের নির্বাচন বর্জন এবং ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের এই ‘কামব্যাক’ মিশনকে বাংলাদেশ সরকার একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, দলটির নেতাদের বিচারের মুখোমুখি না করে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে দেশে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রভাব ও প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে এখনো জুলাই-আগস্টের গণহত্যার স্মৃতি টাটকা। এর মাঝে আওয়ামী লীগের এমন প্রত্যাবর্তনের খবর জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর তার এমন সক্রিয়তা আইনের শাসনের প্রতি এক ধরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আইন ও বিচারকে পাশ কাটিয়ে এভাবে বিদেশের মাটিতে বসে দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা কতটা যৌক্তিক?

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই বলে দেবে দেশের আগামীর রাজনৈতিক গতিপথ কোন দিকে যাবে। একদিকে আওয়ামী লীগের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা, অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার চ্যালেঞ্জ—দুই মিলিয়ে দেশ এক চরম অস্থির সময় পার করছে। শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফিরতে পারবেন, নাকি বিদেশের মাটিতেই তার রাজনীতির অবসান ঘটবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here