২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী ভোট কাল

0
২০২৬ সাধারণ নির্বাচন: ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী ভোট কাল
২০২৬ সাধারণ নির্বাচন: ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী ভোট কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রতীক্ষা আর সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের পতনের পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই ভোটকে দেখা হচ্ছে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের প্রথম ধাপ হিসেবে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বারবার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অঙ্গীকার করেছিলেন। কালকের এই ভোট কেবল সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করার এক অগ্নিপরীক্ষা। ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার নির্ধারণ করবেন আগামীর বাংলাদেশের পথচলা।

Read More: দেশ পুনর্গঠনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির বিশাল জনসভা

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রধান পক্ষসমূহ এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপট গত দেড় দশকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি মাঠের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, আইনি লড়াই শেষে রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়া জামায়াতে ইসলামীও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২৪-এর আন্দোলনের ছাত্র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে। তারা মূলত তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই রাজনৈতিক ভারসাম্য কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নির্বাচনের মূল প্রচারণায় এবার গুরুত্ব পেয়েছে অর্থনীতি। ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাব সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের কারণ। ভোটাররা এমন এক নেতৃত্ব আশা করছেন যারা কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দ্রুত টেনে তুলতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা, যারা ‘বৈষম্যবিরোধী’ স্লোগান তুলে রাজপথে প্রাণ দিয়েছিল, তাদের কাছে এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার হাতবদল নয়, বরং একটি সুশাসন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম।

নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দেড় লাখের বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায়। আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনের ওপর কড়া নজর রাখছে। তাদের মতে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা কালকের ভোটের স্বচ্ছতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে ১২ ফেব্রুয়ারির সূর্যাস্তের সাথে সাথেই নির্ধারিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য। ফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের মানুষ আশা করছে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তারা এমন এক সরকার পাবে যারা ২০২৪-এর বীর শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করবে। কালকের এই ভোটই বলে দেবে আমরা কি সত্যিই একটি স্বৈরাচারমুক্ত ও টেকসই গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে সক্ষম হলাম কি না।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here