টেক ডেস্ক, ল্যাস ভেগাস থেকে: প্রতি বছরের মতো এবারও ল্যাস ভেগাসের কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো (সিইএস) ২০২৬-এ বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রদর্শনী করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং হার্ডওয়্যারের অনন্য মিশেলে এবারের মেলাটি ছিল গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে গৃহস্থালির রোবট—সবখানেই ছিল আগামীর প্রযুক্তির ছোঁয়া।

স্যামসাংয়ের তিন ভাঁজের ফোন: স্মার্টফোন দুনিয়ায় নতুন বিপ্লব এবারের মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল স্যামসাংয়ের ‘গ্যালাক্সি জেড ট্রাই-ফোল্ড’ (Galaxy Z TriFold)। সাধারণ ফোল্ডেবল ফোনের ধারণা পাল্টে দিয়ে স্যামসাং এবার নিয়ে এসেছে এমন এক ফোন, যা তিন স্তরে ভাঁজ করা যায়। এটি পুরোপুরি খুললে একটি বড় ট্যাবলেটের আকার ধারণ করে, আবার ভাঁজ করলে অনায়াসেই পকেটে রাখা যায়। প্রযুক্তিবোদ্ধারা মনে করছেন, এই ফোনটিই হবে আগামী দিনে মোবাইল ব্যবহারের নতুন মানদণ্ড।

এলজির অদৃশ্যপ্রায় ওয়ালপেপার টিভি: লিভিং রুমের ভোল পাল্টে দেবে এলজি উন্মোচন করেছে তাদের ওএলইডি ইভো ডব্লিউ-৬ (OLED Evo W6) মডেলের ‘ওয়ালপেপার টিভি’। এটি পেন্সিলের চেয়েও পাতলা এবং দেওয়ালে কোনো তার ছাড়াই স্থাপন করা যায়। এর বিশেষ ‘জিরো কানেক্ট বক্স’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তারহীনভাবেই হাই-ডেফিনিশন ভিডিও ও অডিও স্ক্রিনে পাঠানো সম্ভব। দেওয়ালে লাগানো থাকলে মনেই হবে না সেখানে কোনো টিভি আছে, বরং এটি একটি আধুনিক শিল্পকর্মের মতো দেখাবে।

গৃহকর্মী রোবট ‘ক্লোইড’: ঘরকন্যার কাজ হবে আরও সহজ ঘরের কাজ যারা একদমই পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এলজি নিয়ে এসেছে ‘ক্লোইড’ (CLOiD) নামক একটি এআই রোবট। এটি কেবল আদেশ পালনকারী কোনো মেশিন নয়, বরং এটি আপনার জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখা, রান্নাঘরে সাহায্য করা এবং ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার মতো জটিল কাজগুলোও অনায়াসেই করতে পারে। ব্যস্ত শহর জীবনে এই রোবটটি হতে পারে আধুনিক মানুষের সবচেয়ে বড় সঙ্গী।

চিন্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হবে গেমিং: ব্রেইন-সেন্সিং হেডফোন নিউরবল (Neurable) নামক একটি প্রতিষ্ঠান এমন এক হেডফোন এনেছে যা আপনার মস্তিষ্কের তরঙ্গ বা ইইজি (EEG) ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে। এর ফলে আপনি কেবল চিন্তা বা মনোযোগের মাধ্যমেই আপনার গেমিং বা অন্যান্য ডিজিটাল কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এটি মূলত আপনার মনোযোগের স্তর পরিমাপ করে গেমের গতি নির্ধারণ করে, যা প্রযুক্তির এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক।

স্মার্ট ব্রিকস: শিশুদের খেলার দুনিয়ায় লেগোর ডিজিটাল ছোঁয়া বিশ্ববিখ্যাত খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেগো (LEGO) নিয়ে এসেছে ‘স্মার্ট ব্রিকস’। এই প্লাস্টিকের টুকরোগুলোর ভেতরে রয়েছে উন্নত সেন্সর এবং ছোট স্পিকার। শিশুরা যখন কোনো কিছু তৈরি করবে, তখন সেই অনুযায়ী এই ব্রিকসগুলো থেকে আলো জ্বলবে বা শব্দ হবে। এটি শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপসংহার: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রভাব বিদেশের মাটিতে এই প্রযুক্তিগুলো উন্মোচিত হলেও খুব দ্রুতই এগুলোর প্রভাব বাংলাদেশেও দেখা যাবে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে এই স্মার্ট গেজেটগুলো বাজারে এলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এখন কেবল দেখার বিষয়, এই কল্পবিজ্ঞানের মতো প্রযুক্তিগুলো ঠিক কবে নাগাদ আমাদের হাতের নাগালে পৌঁছায়।




