আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জেফ্রি এপস্টাইন ফাইলের সর্বশেষ অংশটি আবারও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত লক্ষ লক্ষ গোপন নথির মধ্যে একটি ড্রাফট করা ইমেইল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যেখানে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটসকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর এবং বিতর্কিত কিছু দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিল গেটসের মুখপাত্র।
এপস্টাইনের ইমেইলে কী ছিল? প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৩ সালের দিকে জেফ্রি এপস্টাইন নিজের একটি ইমেইল ড্রাফটে বিল গেটস সম্পর্কে বেশ কিছু ব্যক্তিগত অভিযোগ লিখেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, বিল গেটস ‘রাশিয়ান মেয়েদের’ মাধ্যমে একটি যৌনবাহিত রোগে (STI) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পরে তার স্ত্রীর কাছ থেকে এটি গোপন করার জন্য বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেছিলেন। যদিও এই ইমেইলটি শেষ পর্যন্ত কোথাও পাঠানো হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে নথিপত্রে এর উপস্থিতি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আরো পড়ুনঃ এপস্টাইন ফাইলে মোদির নাম: অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিল ভারত
বিল গেটসের মুখপাত্রের কড়া জবাব এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিল গেটসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তার মুখপাত্র বলেন, “এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং চূড়ান্ত মিথ্যা।” বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, এপস্টাইনের এই নথিগুলো কেবল এটাই প্রমাণ করে যে বিল গেটসের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখতে না পেরে এপস্টাইন কতটা হতাশ ছিলেন। নিজের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরেই তিনি গেটসের সম্মানহানি করার জন্য এমন বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিলেন।
বৃহত্তর নথিপত্রের অংশ জেফ্রি এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের আওতায় এবার প্রায় ৩০ লক্ষ ফাইল প্রকাশিত হয়েছে। এটিই সম্ভবত এই মামলার শেষ বড় নথি প্রকাশ। এতে কেবল বিল গেটস নন, বরং বিশ্বের আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবীদ এবং বিলিয়নেয়ারদের নাম ও তাদের সাথে এপস্টাইনের যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ইলন মাস্ক, প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও এই নথিপত্রের বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রভাব বিল গেটস বাংলাদেশে কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং তার দাতব্য কাজের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন বিতর্কিত খবর বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এপস্টাইনের মতো একজন অপরাধীর ব্যক্তিগত ডায়েরি বা ড্রাফট করা ইমেইলকে ধ্রুব সত্য হিসেবে দেখার অবকাশ নেই, যতক্ষণ না তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? এপস্টাইন মামলার নথিপত্র প্রকাশের এই অধ্যায়টি সম্ভবত এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এই ফাইলগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া আরও কতদূর গড়াবে, তা সময়ই বলে দেবে। বিল গেটসের ইমেজ রক্ষায় তার আইনি দল আগামীতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমাদের Follow করুনঃ On Facebook.




