হলিউডের অন্যতম সফল রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ পর্দার বাইরে এখন এক বিষাক্ত আইনি যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। সিনেমার মূল দুই তারকা ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনির মধ্যকার ব্যক্তিগত বিরোধ এখন আদালতের বারান্দা ছাড়িয়ে জনসমক্ষে। যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে শুরু করে মানহানি মামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বে যুক্ত হয়েছে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফটের নাম, যার ব্যক্তিগত কিছু বার্তা ফাঁস হওয়ার পর নেট দুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
যেভাবে শুরু এই তিক্ততার ২০২৪ সালে ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার প্রচারণার সময় থেকেই ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনির মধ্যে দূরত্বের বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন ভক্তরা। যেখানে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারা দুজন, সেখানে তাদের কোনো যৌথ সাক্ষাৎকারে দেখা যায়নি। বালদোনি পারিবারিক সহিংসতার গুরুত্ব নিয়ে গম্ভীর প্রচারণা চালালেও, ব্লেক লাইভলি ব্যস্ত ছিলেন তার নিজস্ব লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের প্রচারে। সেই সময়কার সৃজনশীল মতপার্থক্য যে একদিন আদালতে গড়াবে, তা কেউ ভাবেনি।
যৌন হয়রানির অভিযোগ ও পাল্টা মামলা ২০২৪ সালের শেষ দিকে ব্লেক লাইভলি জাস্টিন বালদোনির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা করেন। তার দাবি ছিল, সিনেমার শুটিং সেটে বালদোনি তার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন এবং যৌন হয়রানি চালিয়েছেন। লাইভলির অভিযোগ অনুযায়ী, বালদোনি তাকে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও দেখাতেন এবং তার শরীর নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা আঘাত হানেন বালদোনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি লাইভলি ও তার স্বামী রায়ান রেনল্ডসের বিরুদ্ধে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেন। বালদোনির দাবি, ব্লেক লাইভলি সিনেমার সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ বা ‘ক্রিয়েটিভ হাইজ্যাকিং’ করেছেন এবং প্রচারণার সময় তার চরিত্রহননের চেষ্টা চালিয়েছেন।
টেইলর সুইফটের প্রবেশ ও বার্তা ফাঁস এই আইনি লড়াইয়ে নাটকীয়তা যোগ হয় যখন লাইভলির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী টেইলর সুইফটকে সাক্ষী হিসেবে সমন পাঠানো হয়। সম্প্রতি আদালতের কিছু নথি প্রকাশ্যে আসার পর দেখা গেছে, ব্লেক লাইভলি ও টেইলর সুইফটের মধ্যে সিনেমার স্ক্রিপ্ট এবং বালদোনির পিআর কৌশল নিয়ে একাধিক গোপন বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। ফাঁস হওয়া একটি বার্তায় দেখা যায়, টেইলর সুইফট বালদোনির কার্যক্রম নিয়ে কড়া সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে, এই আইনি ঝামেলার কারণে দুই বান্ধবীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও কিছুটা ফাটল ধরেছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
আদালতের সর্বশেষ অবস্থান ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বালদোনির কিছু অভিযোগ আদালত খারিজ করে দিলেও ব্লেক লাইভলির করা যৌন হয়রানির মামলাটি এখনো বহাল রয়েছে। আগামী মে মাসে এই মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সহশিল্পী জেনি স্লেট ও ইসাবেলা ফেরার ইতিমধ্যে লাইভলির পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা বালদোনির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
হলিউডের এই দীর্ঘস্থায়ী আইনি যুদ্ধ এখন শুধু ব্যক্তিগত জেদ নয়, বরং ক্ষমতা ও সম্মানের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের এই আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিনোদন বিশ্ব।




