আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী জেফ্রি এপস্টাইন যৌন কেলেঙ্কারির নথিপত্র প্রকাশের ধারায় এবার সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণটি ঘটল। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ এই মামলার আরও ৩০ লাখেরও বেশি নতুন নথিপত্র জনসমক্ষে এনেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ফাইলগুলোতে ২০০০-এর বেশি ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে, যা বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইলন মাস্কের নাম ও চাঞ্চল্যকর ইমেইল: প্রকাশিত নতুন নথিতে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের নাম। ২০১২ সালের একটি ইমেইল চালাচালিতে দেখা যায়, এপস্টাইন মাস্ককে তার ব্যক্তিগত দ্বীপে একটি হেলিকপ্টার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। জবাবে মাস্ক জানতে চেয়েছিলেন, “কোন দিন বা রাতে আমাদের দ্বীপে সবচেয়ে বন্য পার্টি (wildest party) হবে?” যদিও মাস্ক আগে দাবি করেছিলেন তার সাথে এপস্টাইনের কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক নেই, এই নতুন তথ্য সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দীর্ঘ তালিকা: নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও উঠে এসেছে। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন ২০০৫ সালের পর তিনি এপস্টাইনের সাথে দেখা করেননি, নতুন ইমেইল বলছে ২০১২ সালে তিনি সপরিবারে এপস্টাইনের দ্বীপে দুপুরের খাবারের দাওয়াতে গিয়েছিলেন। এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের সাথে এপস্টাইনের আর্থিক লেনদেনের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। ম্যান্ডেলসনকে এমনকি কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য লেনদেনগুলোকে ‘লোন’ হিসেবে দেখানোর পরামর্শও দিয়েছিলেন এপস্টাইন।
আরো পড়ুনঃ বিল গেটসকে নিয়ে এপস্টাইনের ‘বিস্ফোরক’ ইমেইল: মুখ খুললেন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও স্বচ্ছতা বিতর্ক: এদিকে, এই নথি প্রকাশের ধরন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া সারভাইভাররা। তাদের অভিযোগ, নতুন ফাইলে ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হলেও অনেক অপরাধীর নাম ঢেকে রাখা (Redacted) হয়েছে। তারা একে ‘স্বচ্ছতার নামে প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য রো খান্নাও এই বিপুল পরিমাণ তথ্যের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বাদ দেওয়া হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রেক্ষাপট: জেফ্রি এপস্টাইন মামলাটি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং এটি বিশ্বরাজনীতি ও কর্পোরেট বিশ্বের অন্ধকার দিকগুলোকে উন্মোচন করে। বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে ইলন মাস্ক বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্বরা অত্যন্ত পরিচিত। এই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নৈতিক স্খলন বা অপরাধী চক্রের সাথে সংশ্লিষ্টতা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রযুক্তির দুনিয়ার আইকন ইলন মাস্কের নাম আসায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ৬০ লাখ পাতার মধ্যে সাড়ে ৩ লাখ পাতা এখনো পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের জন্য অভিযোগ জানানোর জন্য একটি বিশেষ ইমেইল বক্স খোলা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই ফাইলগুলো প্রকাশ করলেও এর ফলে তার নিজ দলেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এই ৩০ লাখ পাতার নথি থেকে আরও কত প্রভাবশালী ব্যক্তির মুখোশ উন্মোচিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আমদের ফলো করুন Facebook এ : www.facebook.com/a2news24




