আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত এবং কারাবন্দী অবস্থায় মৃত মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টাইনের সম্পর্কিত নতুন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম আসায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ বা ইশারাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রকাশিত নথিতে প্রধানমন্ত্রীর নামের উল্লেখ কেবল তার একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং এর বাইরে অন্য কোনো যোগসাজশ থাকার দাবি অবান্তর।
বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথির একটি বিশাল অংশ প্রকাশ করেছে। প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র, হাজার হাজার ভিডিও এবং কয়েক লাখ ছবি এই ডিসক্লোজারের অন্তর্ভুক্ত। তথাকথিত এই ‘এপস্টাইন ফাইল’-এর একটি ইমেইল বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম আসায় বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের নির্দেশে এই নথিগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, এপস্টাইন ফাইলের একটি ইমেইলে প্রধানমন্ত্রীর নাম শুধুমাত্র তার ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফরের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই তথ্যের বাইরে নথিতে উল্লিখিত অন্য সব দাবি বা গুজব ভিত্তিহীন এবং এগুলোকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞার সাথে দেখা উচিত। ২০১৭ সালের ওই ইসরায়েল সফর ছিল ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯৯২ সালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনের পর মোদিই ছিলেন প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি ইসরায়েল সফর করেছিলেন।
এপস্টাইন ফাইল ও মার্কিন স্বচ্ছতা আইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে এই নথিপত্রগুলো জনসমক্ষে আনা হচ্ছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো, এপস্টাইনের মতো অপরাধীর সাথে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কী ধরণের যোগাযোগ ছিল তা উন্মোচন করা। জেফ্রি এপস্টাইন ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের একটি জেলে আত্মহত্যা করেন বলে জানানো হয়েছিল, যখন তার বিরুদ্ধে যৌন পাচারের ভয়াবহ অভিযোগ ছিল।
বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো আন্তর্জাতিক অভিযোগ এদেশের পাঠকদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে ভারত সরকারের এই তাৎক্ষণিক ও কড়া জবাব কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের ভাবমূর্তি রক্ষায় দিল্লি কোনো ধরণের সুযোগ দিতে নারাজ, যা এই বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে।
উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আরও অনেক তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। তবে মোদির নাম কেবল একটি কূটনৈতিক সফরের সূত্র ধরে আসায় আপাতত বড় ধরণের কোনো কূটনৈতিক সংকটের আশঙ্কা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, ডিসক্লোজারের পরবর্তী অংশগুলোতে আর কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে কিনা।




