নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): মাঠের লড়াইয়ের আগেই শুরু হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৬-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ভারতের অনড় অবস্থান এবং পাকিস্তানের পাল্টা বয়কটের হুমকির মাঝে ক্রিকেট বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত। সাধারণ সমর্থকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কি মাঠের লড়াই হবে, নাকি রাজনীতির বলি হবে ২২ গজের রোমাঞ্চ?
রাজনীতি যখন খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ। কেবল আইসিসি বা এশিয়ান ইভেন্টগুলোতেই দেশ দুটি মুখোমুখি হয়। তবে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে। ভারত সরকার নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তাদের দলকে পাকিস্তানে পাঠাতে রাজি নয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবার কোনো ‘হাইব্রিড মডেলে’ যেতে নারাজ। তাদের দাবি, যেহেতু টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানের মাটিতে হওয়ার কথা, তাই সব খেলা সেখানেই হতে হবে।
ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। লাহোর ও করাচির রাজপথ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সবখানেই চলছে তর্ক-বিতর্ক। অনেক কট্টর সমর্থক মনে করছেন, পাকিস্তানের সম্মান সবার আগে। তাদের মতে, “ভারত যদি পাকিস্তানে না আসে, তবে পাকিস্তানেরও উচিত ভারতের সাথে সব ধরনের ম্যাচ বয়কট করা।”
অন্যদিকে, ক্রিকেটপ্রেমীদের একটি বড় অংশ এই দ্বৈরথ মিস করতে চান না। তারা মনে করেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অনন্য এক উন্মাদনা। এই ম্যাচ বাতিল হওয়া মানে কোটি কোটি ভক্তের আবেগ নিয়ে খেলা করা। করাচির এক তরুণ ক্রিকেটারের মতে, “আমরা রাজনীতি বুঝি না, আমরা বাবর বনাম কোহলির লড়াই দেখতে চাই।”
আর্থিক ও বৈশ্বিক প্রভাব ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ব্রডকাস্টারদের কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্য। যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বয়কটের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে আইসিসি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বর্তমানে এই সংকট নিরসনে দুই দেশের বোর্ডের সাথে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো একটি পক্ষ নমনীয় না হলে বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করছেন, এটি কেবল খেলার বিষয় নয়, বরং জাতীয় মর্যাদার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই পিসিবি-কে তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? এখন সবার নজর আইসিসি-র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত তাদের কড়া অবস্থানে টিকে থাকবে, নাকি বৈশ্বিক চাপের মুখে সমঝোতার পথ বেছে নেবে? আর ভারত সরকার কি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে? উত্তর যাই হোক না কেন, ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা—রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যেন খেলাটি জয়ী হয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




