স্মার্টফোন’র বাজারে দুঃসংবাদ: ২০২৬ সালে কেন বাড়ছে ফোনের দাম?

0
Samsung Galaxy A57
Samsung Galaxy A57

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আপনি কি আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে নতুন স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন? তবে আপনার জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ রয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে স্মার্টফোনের গড় দাম ২০২৬ সালে অন্তত ৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে মেমোরি চিপের যে বিশ্বব্যাপী সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে।

মূল কারণ: এআই ডেটা সেন্টার ও চিপ সংকট স্মার্টফোনের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মেমোরি চিপের (DRAM এবং NAND Flash) ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ। বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো এআই ডেটা সেন্টার তৈরির দিকে ঝুঁকছে। এই ডেটা সেন্টারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী মেমোরি চিপ প্রয়োজন হয়। চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ স্মার্টফোনের চেয়ে উচ্চ-মুনাফাসম্পন্ন এআই সার্ভারের জন্য চিপ তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলে স্মার্টফোনের মেমোরি চিপের সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং দাম বাড়ছে।

Read More: বাজেট যখন ২৫ হাজার: ২০২৬ সালে বাংলাদেশের বাজারে সেরা স্মার্টফোন এখন কোনগুলো?

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাজেট ফোন গবেষণা বলছে, ২০২৬ সালের এই দাম বৃদ্ধির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লাগবে বাজেট বা এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনগুলোর ওপর। যেসব ফোনের দাম ২০০ ডলারের (প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা) নিচে, সেগুলোর উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, মিড-রেঞ্জ এবং প্রিমিয়াম ফোনগুলোর উৎপাদন খরচ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও দাম-সংবেদনশীল বাজারে এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বলিং করা ফোনের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চিপ সংকটের কারণে ইতিমধ্যেই দেশের বাজারে স্মার্টফোনের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যামেরা বা ডিসপ্লের মতো অন্যান্য যন্ত্রাংশের মান কমিয়ে দেওয়ার (Downgrade) কৌশল নিতে পারে।

পণ্য ও মুনাফা রক্ষার কৌশল স্মার্টফোন নির্মাতারা এখন তাদের মুনাফা ধরে রাখতে গ্রাহকদের ‘প্রো’ (Pro) মডেল বা আরও দামি ভ্যারিয়েন্ট কিনতে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করছে। স্যামসাং বা অ্যাপলের মতো বড় কোম্পানিগুলো শক্তিশালী সরবরাহ চেইনের কারণে এই সংকট কিছুটা সামলে নিতে পারলেও ছোট ও বিশেষ করে বাজেট-নির্ভর চীনা ব্র্যান্ডগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

উপসংহার: আগামী দিনের প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিপ সংকট এবং উচ্চ মূল্যের প্রবণতা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ হলো, যদি খুব জরুরি প্রয়োজন থাকে, তবে বর্তমান প্রজন্মের ফোনগুলো কিনে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমত্তার কাজ। কারণ আগামীর ফোনগুলো কেবল দামিই হবে না, অনেক ক্ষেত্রে এগুলোর ফিচারেও বড় কোনো চমক নাও থাকতে পারে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here