নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও বড় ধরনের ভূকম্পন শুরু হয়েছে। রাজধানীর পূর্বাচলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ তার পরিবারের আরও দুই সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ের পাশাপাশি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পক্ষ থেকে নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
আদালতের রায় ও সাজার বিবরণ আদালত সূত্র এবং সাম্প্রতিক সংবাদ প্রবাহ থেকে জানা যায়, পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আদালত তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারত থেকে ফেরার নতুন ছক
টিআইবি-র উদ্বেগ ও নির্বাচনী সহিংসতা এদিকে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত ৩৬ দিনে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনের আগে মাঠপর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই প্রাণহানি ঘটছে। এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এল যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
জনজীবনে প্রভাব ও জনমত আদালতের এই রায় এবং টিআইবি-র প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে দুর্নীতির বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনের ঠিক আগে এমন রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন দলের সমর্থকরা। বিশেষ করে টিউলিপ সিদ্দিকের সাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের ফলে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজপথে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক এই ডামাডোল দেশবাসীকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সরকারের পদক্ষেপই বলে দেবে বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘুরছে।




