নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘বৃহত্তর নোয়াখালী’ সব সময়ই অত্যন্ত প্রভাবশালী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘকাল ধরে একটি বড় আক্ষেপ বিরাজমান—তা হলো একটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েক কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ‘নোয়াখালী বিভাগ’ বাস্তবায়ন। আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দাবি এখন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী জনসভা, পথসভা এবং চায়ের দোকানে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এই একটিই বিষয়।
প্রশাসনিক জটিলতা ও বঞ্চনার ইতিহাস বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের জন্য যেকোনো বড় প্রশাসনিক কাজে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে যাওয়া এক বিরাট ভোগান্তির নাম। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে সময় ও অর্থের অপচয় করতে হয়। সাধারণ ভোটারদের মতে, নোয়াখালী প্রাচীন একটি জেলা হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অভাবে এই অঞ্চলের উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বিচারিক কাজের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে যাওয়া প্রান্তিক মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারত থেকে ফেরার নতুন ছক
ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা যখন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, তখন ভোটাররা সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন—‘বিভাগ হবে কি না?’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় ‘বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’ এর মতো সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের জোরালো প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করবেন, তাদেরই এবার সমর্থন দেবেন তারা।
প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা রাজনৈতিক দলগুলোর বড় নেতাদের বক্তব্যেও এই দাবির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো প্রার্থী একে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সংশয়ও রয়েছে। তারা বলছেন, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তী সময়ে তা হিমাগারে চলে যায়। তাই এবার কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চাইছেন তারা।
উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? নোয়াখালী বিভাগ গঠন কেবল একটি আবেগ নয়, বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রগতির জন্য এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে যে দল বা প্রার্থী এই দাবিটিকে গুরুত্বসহকারে নেবে, তারা জনসমর্থনের দৌড়ে অনেক এগিয়ে থাকবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রচারণার গতি বাড়ার সাথে সাথে এই আন্দোলন আরও বেগবান হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই গণদাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে কতটা প্রভাব ফেলে এবং নির্বাচনের পর এর বাস্তবায়ন কতটুকু হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ।




