বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এবং উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মেঘ অবশেষে কেটেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সফল মধ্যস্থতায় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য বিশেষ সমঝোতা প্যাকেজ ঘোষণার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে রাজি হয়েছে। এর ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হওয়া বয়কট বা বর্জনের শঙ্কা দূর হলো।
যেভাবে কাটল রাজনৈতিক জট গত কয়েক মাস ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে ভারতের পাকিস্তান সফরে অসম্মতি এবং পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনের হুমকি টুর্নামেন্টের সফলতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং বিসিবি প্রতিনিধিদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর একটি ‘রোডম্যাপ’ চূড়ান্ত করা হয়, যা সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
Read More: শাস্তি নয়, বরং বড় সুখবর পেল বিসিবি: ২০৩১ বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশে আইসিসি ইভেন্ট
বাংলাদেশ ফ্যাক্টর ও আইসিসির নমনীয়তা মজার বিষয় হলো, ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের জট খুলতে বড় ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশের জন্য নেওয়া আইসিসির কিছু বিশেষ সিদ্ধান্ত। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর যে বিশাল আর্থিক ও প্রশাসনিক শাস্তির খড়গ ঝুলছিল, তা মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। একই সাথে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে একটি বড় আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এই ‘প্যাকেজ ডিল’ দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় এবং পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলাতে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।
মাঠে ফেরার অপেক্ষায় দুই দল পাকিস্তানের সরকার এর আগে ভারতকে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, আইসিসির এই নতুন সমঝোতার পর তারা সুর নরম করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিশাল বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং দর্শকদের চাপের মুখে আইসিসি এই মধ্যস্থতায় বাধ্য হয়েছে। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এখন দুই দলের ক্রিকেটারদের মাঠের লড়াই দেখার অপেক্ষায় কোটি কোটি ভক্ত।
বাংলাদেশি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই খবরটি মিশ্র অনুভূতির। যদিও বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপ বর্জন করেছে, তবুও ভারত-পাকিস্তান লড়াই সবসময়ই এদেশের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে বড় ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাওয়াকে দেশের ক্রিকেটের বড় জয় হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া প্রেমীরা।
উপসংহার: সামনে যা ঘটছে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আকাশ কি নীল জার্সির দখলে যাবে নাকি সবুজ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হবে—তা নিয়ে এখন তুঙ্গে আলোচনা। তবে মাঠের বাইরের এই লড়াই জেতার কৃতিত্ব আইসিসিকে দিতেই হবে। এই সমঝোতা কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে এক ধরণের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। এখন সবার চোখ মাঠের সেই মহাযুদ্ধের দিকে।




