Friday, March 13, 2026
Friday, March 13, 2026
29 C
Dhaka
a2news24
Home Blog Page 3

আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: ১৯ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঐতিহাসিক চুক্তি সই

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনল (আমেরিকা) ওয়াশিংটন। দীর্ঘ ৯ মাসের স্নায়ুক্ষয়ী আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে। নতুন এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কের হার ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়াবে। একই সাথে আমেরিকান তুলা বা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পোশাকে মিলবে ‘জিরো ট্যারিফ’ বা শুল্কমুক্ত সুবিধা।

ঐতিহাসিক চুক্তির প্রেক্ষাপট সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এই চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জ্যামিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে সই করেন। উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীতে তা কয়েক দফায় কমিয়ে বর্তমানে ১৯ শতাংশে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

Read More: ২০২৬ সাধারণ নির্বাচন: নতুন বাংলাদেশের পথে ১২ কোটি ভোটারের ভাগ্যনির্ধারণী পদযাত্রা

পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো—আমেরিকায় উৎপাদিত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু (Man-made fiber) ব্যবহার করে বাংলাদেশে যে পোশাক তৈরি হবে, তা আমেরিকার বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, “এই মেকানিজম আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য বিশ্ববাজারে নতুন করে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরি করবে”।

বিনিময়ে যা দিচ্ছে বাংলাদেশ এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশও মার্কিন পণ্যের জন্য নিজেদের বাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকান রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, মোটর যান এবং কৃষি পণ্য যেমন—সয়াবিন, গরুর মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বিশেষ বাজার সুবিধা দেবে ঢাকা। এছাড়া বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বাংলাদেশি পাঠকদের গুরুত্ব বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ছাড় পাওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান আরও সুরক্ষিত হবে। বিশেষ করে ভারতের সাথে সম্প্রতি আমেরিকার ১৮ শতাংশ শুল্কের যে চুক্তি হয়েছে, তার সাথে পাল্লা দিতে বাংলাদেশের ১৯ শতাংশ শুল্কের এই হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই বড় ধরণের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চুক্তি কার্যকরের ফলে আগামী মাসগুলো থেকেই বাংলাদেশি পোশাক কারখানায় মার্কিন কার্যাদেশের (অর্ডার) হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Follow Us ON Facebook: A2NEWS24

২০২৬ সাধারণ নির্বাচন: নতুন বাংলাদেশের পথে ১২ কোটি ভোটারের ভাগ্যনির্ধারণী পদযাত্রা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ভাগ্যনির্ধারণী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ১৮ মাস পর এই ভোটের মাধ্যমে দেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় পরীক্ষাও বটে।

বিশাল ভোটার সংখ্যার পরিসংখ্যান এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ তরুণ প্রজন্ম। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ভোটার (মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশ) ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ তরুণ ভোটার এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন। ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৩৬৬ জন মানুষের বসবাস, যা ভারতের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। এই বিশাল জনপদ এখন তাকিয়ে আছে নতুন এক নেতৃত্বের দিকে।

Read More: দেশ পুনর্গঠনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির বিশাল জনসভা

নির্বাচনী ময়দানে যারা আছেন ২০২৬-এর এই নির্বাচনী লড়াইয়ে ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ১,৯৮১ জন, যার মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দিতে পারছে না। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বড় দুটি শক্তির মধ্যে:

  • বিএনপি: তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

  • জামায়াতে ইসলামী: প্রায় এক দশকের নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন শক্তিতে আবির্ভূত হয়েছে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই দল।

  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ২০২৪-এর বিপ্লবের ছাত্র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন দল তরুণ ভোটারদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

অর্থনীতি ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বেড়েছে, তবে সম্প্রতি প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়ে ৩.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক হারের সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের বড় লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল আগামী ৫ বছরের সরকার নির্ধারণ করবে না, বরং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ বা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদের মতো প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো আলোর মুখ দেখবে কি না, তাও স্পষ্ট হবে।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর দ্রুতই ফলাফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্যে দেশ কতটা স্থিতিশীল থাকে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এই ভোটের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’।

Follow Us On Facebook: A2News24

দেশ পুনর্গঠনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির বিশাল জনসভা

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত বিএনপির এক বিশাল জনসভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিগত দিনের স্বৈরশাসন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, যা পুনর্গঠনে জনগণের নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই।

জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার ডাক ঠাকুরগাঁওয়ের এই বিশাল জনসমাবেশে তারেক রহমান তার ভাষণের শুরুতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রয়োজন। একমাত্র জনগণের সরকারই পারে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করতে।” তিনি ঠাকুরগাঁওবাসীকে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

Read More: কেন দেশ পরিচালনায় নারীরা এখনো পিছিয়ে? বাধা কোথায়?

রাষ্ট্র সংস্কার ও ৩১ দফা প্রস্তাব তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই সংস্কার প্রস্তাব একটি মাইলফলক। তার মতে, দেশ পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ জরুরি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগই হচ্ছে সেই অংশগ্রহণের প্রথম ধাপ।

ভঙ্গুর অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনাই আমাদের অগ্রাধিকার।” তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বাধা ও সতর্কতা তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “গণতন্ত্রের পথে অনেক ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে জনগণের রায় কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে।” তিনি তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ানোর এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

উপসংহার: আগামী দিনের প্রত্যাশা ঠাকুরগাঁওয়ের এই জনসভাটি কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং দেশজুড়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার একটি জোরালো বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। তারেক রহমানের এই আহ্বানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

কেন দেশ পরিচালনায় নারীরা এখনো পিছিয়ে? বাধা কোথায়?

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন আধুনিকতা ও সমানাধিকারের কথা বলি, তখন বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র এক ভিন্ন ও কিছুটা হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের অনেক দেশেই রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হ্রাস পাচ্ছে। কেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীরা আজও সংখ্যালঘু? কেন একটি দেশ নারী নেতৃত্বের জন্য ‘অনুকূল’ হয়ে উঠতে পারছে না? এই প্রশ্নগুলো এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

প্রথাগত বাধার অদৃশ্য দেওয়াল নারী নেতৃত্বের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে বিদ্যমান সামাজিক কাঠামো এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। রাজনীতিতে একজন নারীকে যতটা কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, একজন পুরুষকে তার অর্ধেকও হতে হয় না। একজন নারী নেত্রীকে শুধু তার কাজ দিয়ে বিচার করা হয় না, বরং তার পোশাক, পারিবারিক জীবন এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও প্রতিনিয়ত কাটাছেঁড়া চলে। এই দ্বিমুখী মানদণ্ড অনেক দক্ষ নারী নেত্রীকেও মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।

Read More: গোপালগঞ্জ এ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভঙ্গ: নৌকাশূন্য ব্যালট পেপার নিয়ে নতুন সমীকরণে ভোটাররা

এশীয় রাজনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশেষ করে এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে রাজনীতি অনেকটা বংশপরম্পরা বা পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এই অঞ্চলে অনেক প্রভাবশালী নারী নেত্রী আমরা দেখেছি, কিন্তু তাদের ক্ষমতার নেপথ্যে অনেক সময়ই শক্তিশালী পারিবারিক পরিচয় কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে পরিবর্তন আসছে। স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে এবং নিজের যোগ্যতায় শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা নারীর সংখ্যা এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পুরুষদের প্রাধান্য দিচ্ছে, যা নারীদের জন্য এক ধরণের ‘গ্লাস সিলিং’ বা অদৃশ্য বাধা তৈরি করছে।

বাংলাদেশের চিত্র ও বাস্তবতা নারী নেতৃত্বের কথা বললে বাংলাদেশের নাম বিশ্ব দরবারে বারবার উচ্চারিত হয়। গত কয়েক দশক ধরে দেশটির শীর্ষ পর্যায় সামলাচ্ছেন নারীরা। তবে তৃণমূল পর্যায়ে বা নীতিনির্ধারণী বড় সভাগুলোতে এখনো পুরুষের আধিপত্য দৃশ্যমান। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শীর্ষ পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব থাকলেও সামগ্রিকভাবে রাজনীতিতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার পথে চ্যালেঞ্জগুলো এখনো রয়ে গেছে। রাজনীতিতে নারীদের কোটা থাকলেও তা কি তাদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে, নাকি তা কেবল সংখ্যার হিসেবেই সীমাবদ্ধ—সেটি আজ বড় প্রশ্ন।

অবকাঠামোগত অন্তরায় রাজনীতিতে অর্থ ও শক্তির দাপট নারীদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকায় অনেক যোগ্য নারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভয় পান। এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সাইবার বুলিং-এর শিকার হওয়া বর্তমান সময়ে নারী নেত্রীদের জন্য এক চরম আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের চরিত্রহনন করার প্রবণতা অনেক শিক্ষিত ও মার্জিত নারীকে রাজনীতি বিমুখ করছে।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে নারী নেতৃত্ব কেবল একটি নৈতিক দাবি নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি অপরিহার্য। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা বলছে, যেসব দেশে নারীরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছেন, সেখানে মানবিক উন্নয়ন এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতি বেশি হয়েছে। তবে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে কেবল সদিচ্ছা নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব কি পারবে নারীদের জন্য এক সমতার পৃথিবী গড়ে তুলতে? নাকি ক্ষমতার লড়াইয়ে নারীরা আড়ালেই রয়ে যাবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

নিউজিল্যান্ড এর গতির গোলকধাঁধায় আফগানিস্তান স্পিন-বিষ: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজকের বড় লড়াই

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান। কাগজে-কলমে কিউইরা অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকলেও বর্তমান ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে ‘অঘটন’ ঘটানো দল ভাবলে ভুল হবে। বরং তারা এখন যেকোনো বড় দলের জন্য ত্রাস। আজকের ম্যাচে একদিকে থাকবে নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণ ও ব্যাটিং স্থায়িত্ব, অন্যদিকে থাকবে আফগানিস্তানের বিশ্বসেরা স্পিন বৈচিত্র্য।

আফগান স্পিনে কুপোকাত হওয়ার ভয় আফগানিস্তান দলের শক্তির প্রধান জায়গা তাদের স্পিন বিভাগ। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান এবং নুর আহমেদরা বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আফগান স্পিনারদের পরাস্ত করা কিউই ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কিউইদের টপ অর্ডার যদি শুরুতে আফগান স্পিন সামলাতে না পারে, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুতই রশিদদের হাতে চলে যাবে।

Read More: বাবর আজম এর ‘স্লো ব্যাটিং’ কি পাকিস্তানের জন্য বোঝা? নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর নতুন বিতর্ক

নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা ও কিউই পেস অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড সবসময়ই তাদের গেম প্ল্যানে সুশৃঙ্খল। দলের পেস আক্রমণ বরাবরই ধারালো। ট্রেন্ট বোল্ট বা টিম সাউদিদের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা শুরুতে ব্রেক-থ্রু এনে দিতে পারলে আফগান ব্যাটাররা চাপে পড়ে যেতে পারেন। তবে নিউজিল্যান্ডের মূল দুশ্চিন্তা হতে পারে তাদের ব্যাটারদের স্পিন খেলার দক্ষতা নিয়ে। কেন উইলিয়ামসন বা ড্যারিল মিচেলের মতো অভিজ্ঞরা যদি মাঝের ওভারগুলোতে টিকে থাকতে পারেন, তবেই কিউইদের জয়ের পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশের দর্শকদের কেন নজর এই ম্যাচে? বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ পর্বের সমীকরণে আফগানিস্তানের হার বা জয় অনেক সময় বাংলাদেশের পরবর্তী রাউন্ডের ভাগ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া আফগানিস্তানের মতো একটি উদীয়মান এশীয় শক্তির উত্থান বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি রোমাঞ্চেরও। অনেকেই মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে আফগানিস্তানের এই দাপট টুর্নামেন্টের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে।

কন্ডিশন ও সম্ভাব্য একাদশ আজকের উইকেট কিছুটা ধীরগতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরোক্ষভাবে আফগানিস্তানকে সাহায্য করতে পারে। তবে শিশিরের প্রভাব থাকলে টস জয়ী দল প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নিউজিল্যান্ড হয়তো তাদের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে, যেখানে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রণ থাকবে। আফগানিস্তানও তাদের তুরুপের তাস স্পিনারদের ওপরই ভরসা রাখবে।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে ম্যাচটি যে একটি হাই-ভোল্টেজ লড়াই হতে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিউইদের ধারাবাহিকতা বনাম আফগানদের আক্রমণাত্মক মেজাজ—কে শেষ হাসি হাসবে তা নির্ভর করবে মাঠের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর। আজকের জয় যে দলকেই আসরে অনেকটা এগিয়ে রাখবে, তা নিশ্চিত। ক্রিকেট ভক্তদের চোখ এখন মাঠের লড়াইয়ের দিকে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

বাবর আজম এর ‘স্লো ব্যাটিং’ কি পাকিস্তানের জন্য বোঝা? নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর নতুন বিতর্ক

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি আর আগ্রাসী ব্যাটিং। যেখানে প্রতিটি বলের গুরুত্ব অপরিসীম, সেখানে বাবর আজমের মতো একজন বিশ্বসেরা ব্যাটারের ‘মন্থর ব্যাটিং’ কি দলের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের পরও এই প্রশ্নটিই এখন ক্রিকেট পাড়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও বাবর আজমের ইনিংস নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেলেও সমর্থকদের মনে স্বস্তি নেই। বিশেষ করে অধিনায়ক বাবর আজমের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও বাবরের স্ট্রাইক রেট ছিল আধুনিক টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে বেশ নিচে। ইনিংসের শুরুতে উইকেটে সেট হতে তিনি যে পরিমাণ বল খরচ করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাই।

কেন এই বিতর্ক? টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন আর শুধু উইকেট বাঁচিয়ে খেলার খেলা নয়। পাওয়ার-প্লে এবং মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি সচল রাখা এখন অপরিহার্য। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাবর আজম যখন ক্রিজে ছিলেন, তখন রানের গতি ছিল মন্থর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবরের এই ‘অ্যাঙ্কর’ রোল পালন করতে গিয়ে দলের অন্য ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে পাকিস্তান নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছে।

Read More: সূর্যকুমারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র: বড় জয় দিয়ে দাপট দেখাল ভারত

আধুনিক বনাম ক্লাসিক্যাল ব্যাটিং বাবর আজম নিঃসন্দেহে একজন ক্লাসিক্যাল ব্যাটার। তার কভার ড্রাইভ বা ব্যাকফুট পাঞ্চ ক্রিকেট প্রেমীদের চোখের শান্তি দেয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেখানে ইংল্যান্ড বা ভারতের মতো দলগুলো শুরু থেকেই ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করার চেষ্টা করছে, সেখানে বাবরের ১০০ বা ১১০ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিং কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে এই মন্থর গতি পাকিস্তানের জন্য হারের কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশি দর্শকদের ভাবনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যেও এই বিতর্ক বেশ আলোচিত। কারণ, বাংলাদেশ জাতীয় দলেও টপ অর্ডার ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকরা মনে করেন, আধুনিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে বাবর আজমের মতো বড় মাপের ব্যাটারদের নিজেদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

উপসংহার: সামনে যা ঘটছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আগে বাবর আজম কি নিজের খেলার ধরণ পরিবর্তন করবেন? নাকি এই ক্লাসিক্যাল স্টাইলই বজায় রাখবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তান ম্যানেজমেন্ট যদি এই সমস্যার সমাধান দ্রুত না করতে পারে, তবে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অধিনায়ককে শুধু রান করলেই হবে না, সেই রান হতে হবে ‘ইমপ্যাক্টফুল’।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

সূর্যকুমারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র: বড় জয় দিয়ে দাপট দেখাল ভারত

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এ২নিউজ২৪ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘরের মাঠে বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার মিশনটা দাপটের সাথেই শুরু করল টিম ইন্ডিয়া। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ২৯ রানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের একক নৈপুণ্য এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের আধিপত্য জানান দিল স্বাগতিকরা।

সূর্যকুমারের অধিনায়কত্বসুলভ ইনিংস ম্যাচের শুরুতেই টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে হলেও ভারতের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। মাত্র ৪৯ বলে ৮৪ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে লড়াকু পুজি এনে দেন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল মুগ্ধকর সব শটের মহড়া। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ইশান কিশান ও তিলক ভার্মা। তাদের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান সংগ্রহ করে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত শুরু করলেও ডেথ ওভারে সূর্যকুমারের তান্ডব থামাতে ব্যর্থ হয়।

Read More: বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি পাকিস্তান: সংকট মেটাতে শ্রীলঙ্কার আরজি

ভারতীয় বোলারদের তোপ ১৬২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে মোহাম্মদ সিরাজের গতি আর সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারছিল না আমেরিকান টপ অর্ডার। সিরাজ ২৯ রান দিয়ে একাই শিকার করেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে যোগ্য সহায়তা করেন আর্শদীপ সিং। মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপে রাখে ভারতের বোলিং ইউনিট।

যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই ও হার যদিও মিডল অর্ডারে সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (৩৭) এবং মিলিন্দ কুমার (৩৪) কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ দিকে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানে থামে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস। ফলে ২৯ রানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

বিশ্লেষণ ও প্রভাব এই জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করল কেন তারা ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় দাবিদার। বিশেষ করে বড় আসরের প্রথম ম্যাচেই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, হারলেও ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী সমীকরণে এই জয় ভারতকে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল।

সামনের লক্ষ্য ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নজর থাকবে ভক্তদের। বিশেষ করে ব্যাটিং অর্ডারের শুরুর দিকের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে চাইবে ম্যানেজমেন্ট। মুম্বাইয়ের এই জয়ের রেশ নিয়ে পরের ম্যাচে আরও আত্মবিশ্বাসী ভারতকেই দেখা যাবে বলে আশা করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি পাকিস্তান: সংকট মেটাতে শ্রীলঙ্কার আরজি

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: বিশ্ব ক্রিকেটে ফের বাজছে অস্থিরতার সুর। ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি পুরুষ টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বড়সড় চমক দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা।

কেন এই বয়কটের ঘোষণা? ঘটনার সূত্রপাত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় দ্বন্দ্ব থেকে। ভারত সরকার তাদের জাতীয় দলকে পাকিস্তানে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিসহ একাধিক টুর্নামেন্টে ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করতে হচ্ছে। পিসিবি মনে করছে, ভারত যদি পাকিস্তানে না যায়, তবে তাদেরও ভারতে গিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই নীতিগত অবস্থান থেকেই বয়কটের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান।

Read More: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিশেষ আবেদন যেহেতু ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, তাই পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে বড় ধরণের আর্থিক ও দর্শক-চাহিদার ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশটি। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা উল্লেখ করেছে যে, এশিয়ার একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের সার্থকতা এবং এশিয়ার ক্রিকেটীয় সংহতির জন্য অপরিহার্য। শ্রীলঙ্কা অনুরোধ জানিয়েছে যাতে ব্যক্তিগত বা দ্বিপাক্ষিক বিরোধের জেরে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ও দর্শকদের ওপর প্রভাব ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ বরাবরই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশও আইসিসির পূর্ণ সদস্য এবং এই অঞ্চলের একটি বড় শক্তি। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে সেটি হবে আইসিসির জন্য বড় একটি বাণিজ্যিক ক্ষতি। অন্যদিকে, বাংলাদেশি দর্শকদের কাছে পাকিস্তান-ভারত লড়াই সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এই মহারণ না থাকলে বিশ্বকাপের জৌলুস অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে।

আইসিসি-র অবস্থান ও আইনি জটিলতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনো এই বিষয়ে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে তাদের বড় ধরণের জরিমানা এবং ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্ট থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকি থাকে। পাকিস্তান এখন সেই ঝুঁকি নিয়েও তাদের দাবিতে অনড় থাকতে চায় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? শ্রীলঙ্কার এই আবেদন পিসিবি কতটা গুরুত্ব সহকারে নেবে, তা এখনো অস্পষ্ট। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আইসিসির বোর্ড সভায় এই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা হবে এবং মাঠের লড়াই মাঠেই থাকবে। তবে আপাতত এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে উত্তাপ বেড়েই চলেছে।

Follow Us On Facebook: A2News24

মাঠের বাইরে সিআরসেভেন: আল নাসর সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক এবং নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে বর্তমানে মাঠের বাইরে রয়েছেন তিনি। তবে মাঠের সবুজ ঘাসে তাকে পাওয়া না গেলেও গ্যালারিতে তার উপস্থিতি যেন আগের চেয়েও বেশি প্রখর। আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে সমর্থকদের পক্ষ থেকে রোনালদোর প্রতি যে অকুন্ঠ সমর্থন এবং ভালোবাসা ফুটে উঠেছে, তা এখন ক্রীড়া জগতে টক অফ দ্য টাউন।

গ্যালারিতে ‘সিআরসেভেন’ আবেগ রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে গ্যালারি ভর্তি দর্শক রোনালদোর অনুপস্থিতি অনুভব করলেও তার প্রতি সমর্থন জানাতে ভুলেননি। গ্যালারিতে বড় বড় ব্যানার ও প্লাকার্ডে লেখা ছিল— “উই আর উইথ ইউ, সিআরসেভেন” এবং “লেজেন্ড নেভার ডাইস”। আল নাসরের ভক্তরা সমস্বরে রোনালদোর নাম ধরে স্লোগান দিয়ে পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত করে রাখেন। অনেক সমর্থককে রোনালদোর সিগনেচার জার্সি গায়ে দিয়ে তার ট্রেডমার্ক ‘সিউ’ (Siuuu) উদযাপন করতেও দেখা যায়।

Read More: ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন না মেসি? ‘যুক্তি’ দিয়ে ভক্তদের বড় আশঙ্কার কথা জানালেন খুদে জাদুকর

কেন এই অনুপস্থিতি? মূলত সৌদি প্রো লিগের একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের উস্কানিমূলক স্লেজিংয়ের প্রতিক্রিয়ায় এক বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে রোনালদোকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়েছে। সৌদি ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টিকে কঠোরভাবে আমলে নেওয়ায় তাকে কয়েক ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে। যদিও রোনালদোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, সেটি কোনো আপত্তিকর ইঙ্গিত ছিল না, তবুও সৌদি আরবের ফুটবল সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলার খাতিরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিস্থিতি রোনালদো এবং তার ক্লাব আল নাসরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশি সমর্থকদের ভাবনা ও প্রভাব বাংলাদেশে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভক্তের সংখ্যা অগণিত। ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে যখন তিনি এশিয়ায় তথা সৌদি আরবের ক্লাবে যোগ দিলেন, তখন থেকে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে সৌদি প্রো লিগ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি ভক্তরা রোনালদোর এই নিষেধাজ্ঞার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আল নাসর সমর্থকদের মতো তারাও সিআরসেভেনের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন। বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের কাছে রোনালদো কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যের প্রতীক। ফলে তার অনুপস্থিতি বাংলাদেশি ফুটবল অনুরাগীদেরও ব্যথিত করেছে।

টিমের ওপর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রোনালদো ছাড়া আল নাসরের আক্রমণভাগ কিছুটা শক্তি হারিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। দলের প্রধান গোলদাতা ও নেতার অভাব মাঠে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খুব শীঘ্রই এই সংকট কাটিয়ে রোনালদো মাঠে ফিরবেন এবং আগের মতোই গোলবন্যায় ভাসাবেন প্রতিপক্ষকে। তার এই সাময়িক বিরতি তাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা সমর্থকদের।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? বিতর্ক আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তবে যতবারই তাকে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই তিনি ফিরে এসেছেন আরও শক্তিশালী হয়ে। আল নাসর সমর্থকদের এই ভালোবাসা তাকে পুনরায় উজ্জীবিত করবে। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে তার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে। মাঠের বাইরে থেকেও যে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখা যায়, সিআরসেভেন আবারও তা প্রমাণ করলেন।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

গোপালগঞ্জ এ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভঙ্গ: নৌকাশূন্য ব্যালট পেপার নিয়ে নতুন সমীকরণে ভোটাররা

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গোপালগঞ্জ মানেই ছিল আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। কিন্তু ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখছে জেলার ভোটাররা। কয়েক দশক ধরে যে ব্যালট পেপারে ‘নৌকা’ প্রতীক ছিল অবধারিত, এবার সেখানে সেই পরিচিত প্রতীকটি নেই। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা এবার এক ‘অচেনা’ নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন।

রাজনৈতিক পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে। তবে আইনি জটিলতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না। ফলে গোপালগঞ্জের নির্বাচনী মাঠ এখন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দখলে।

Read More: ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ প্রস্তাব নাকচ: এককভাবে জয়ের ব্যাপারে অনড় তারেক রহমান

গোপালগঞ্জের পরিবর্তিত চিত্র রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জের রাস্তাঘাটে এবার নৌকা প্রতীকের বদলে দেখা যাচ্ছে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা এবং নানা স্বতন্ত্র প্রতীকের পোস্টার। ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। প্রবীণ অনেক ভোটার যারা সারাজীবন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই ব্যালট পেপারটি একেবারেই অপরিচিত। অন্যদিকে, তরুণ ভোটাররা মনে করছেন এটি গণতন্ত্রের একটি নতুন পরীক্ষা যেখানে কেবল প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা গুরুত্ব পাবে।

নিরাপত্তা ও চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গোপালগঞ্জের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো ধরণের সহিংসতা ছাড়াই একটি সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন।

ভোটারদের ভাবনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার একজন সাধারণ ভোটার রয়টার্সকে জানান, “সারাজীবন আমরা এক দলের আধিপত্য দেখে বড় হয়েছি। এবার আমাদের কাছে অপশন অনেক, কিন্তু আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারছি না এই নতুন পরিবেশে আমাদের ভূমিকা কী হবে।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে একটি তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? গোপালগঞ্জের এই পরিবর্তন কেবল একটি জেলার পরিবর্তন নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনীতিরই প্রতিফলন। নৌকাশূন্য এই নির্বাচনে গোপালগঞ্জবাসী কি নতুন কোনো নেতৃত্ব বেছে নেবে, নাকি ভোটের উপস্থিতিতে এর প্রভাব পড়বে, তা জানতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কোন প্রতীকের জয় হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

১৪ বছরেই ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়: সূর্যবংশীর ব্যাটে ভারতের ঘরে বিশ্বকাপ!

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৪ বছর বয়স—অধিকাংশ কিশোরের কাছে যখন পড়াশোনা আর বন্ধুদের সাথে আড্ডাই জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্র বদলে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী। তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ভর করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল ভারত। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ১৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই ভারতীয় কিশোর।

ফাইনালে সূর্যবংশীর মহাকাব্যিক ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনালে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো ছেলেখেলায় পরিণত করেন বৈভব। দলের প্রয়োজনে যখন সবাই তাকিয়ে ছিল সিনিয়রদের দিকে, তখন ব্যাট হাতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন দলের কনিষ্ঠতম সদস্য। তার ১৭৫ রানের ইনিংসটি কেবল রান সংখ্যায় নয়, বরং ব্যাটিংশৈলী, আত্মবিশ্বাস এবং চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ম্যাচ বের করে আনার ক্ষমতার কারণে কিংবদন্তিদেরও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তার এই দানবীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ভারত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাহাড়সম স্কোর গড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দাপটের সাথে ম্যাচ জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

Read More: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা

রেকর্ডবুক ও নতুন ইতিহাস ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদদের মতে, এত কম বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনো বড় দলের বিপক্ষে এমন ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলার নজির নেই বললেই চলে। তার ব্যাটিং দেখে মনেই হচ্ছিল না যে তিনি বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের (এমনকি প্রতিপক্ষের সবার) চেয়েও ছোট। এই ইনিংসটি তাকে রাতারাতি বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সেনসেশনে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য অনেক। ২০২০ সালে আকবর আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশও এই শিরোপা জেতার স্বাদ পেয়েছিল। ভারতের এই জয় এবং বিশেষ করে ১৪ বছর বয়সী বৈভবের এই উত্থান বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কীভাবে ভয়ডরহীন মানসিকতা নিয়ে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে হয়, বৈভবের এই ইনিংস তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন ভারতের বিশ্বকাপ জয় এবং বৈভবের বন্দনায় মুখর। সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, বৈভব কেবল রান করছেন না, তিনি ১৪ বছর বয়সেই ক্রিকেটের ব্যাকরণকে নতুন করে লিখছেন। নেটিজেনরা তাকে তুলনা করছেন শচীন টেন্ডুলকার বা ব্রায়ান লারার শুরুর দিকের দিনগুলোর সাথে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই অবিশ্বাস্য প্রতিভা ধরে রাখা এবং সঠিক যত্ন নেওয়াই হবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

উপসংহার: আগামীর তারকা বৈভব সূর্যবংশীর এই ১৭৫ রানের ইনিংস এবং ভারতের বিশ্বকাপ জয়—এটি কেবল একটি শিরোপা নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য বজায় রাখার এক নতুন বার্তা। ১৪ বছরেই যিনি বিশ্বজয় করলেন, বড়দের ক্রিকেটে তার যাত্রাটা কেমন হবে, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

Follow Us On Facebook: A2News24

টাইগারদের ছাড়াই আজ পর্দা উঠছে টি-২০ বিশ্বকাপ: জেনে নিন পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: শুরু হলো ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের মহারণ। আজ থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠছে আইসিসি পুরুষ টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। ২০টি দেশের অংশগ্রহণে এই মহাযজ্ঞ চলবে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত। তবে এবারের আসরে বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য রয়েছে বড় এক আক্ষেপ—টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এই প্রথম লাল-সবুজের প্রতিনিধি ছাড়াই মাঠে গড়াচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপ।

নতুন ফরম্যাট ও অংশগ্রহণকারী দল ২০২৪ সালের আসরের মতোই এবারের টুর্নামেন্টেও ২০টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলগুলোকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে ৫টি করে দল।

  • গ্রুপ এ: ভারত, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান।

  • গ্রুপ বি: ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল ও নেদারল্যান্ডস।

  • গ্রুপ সি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড ও ইতালি। (উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পরিবর্তে এখানে জায়গা পেয়েছে স্কটল্যান্ড)।

  • গ্রুপ ডি: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও কানাডা।

টুর্নামেন্টের ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে অন্তত চারটি করে ম্যাচ খেলবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল জায়গা করে নেবে ‘সুপার এইট’ পর্বে। এরপর সেমিফাইনাল এবং ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল।

Read More: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা

কেন নেই বাংলাদেশ? এবারের বিশ্বকাপের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি। মূলত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং নিরাপত্তা শঙ্কার অজুহাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। বিসিবি তাদের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যু বা শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে নিশ্চিতকরণ না পাওয়ায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

নজরে থাকবে যেসব ভেন্যু ও মহারণ টুর্নামেন্টের ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের মোট ৮টি ভেন্যুতে। ভারতের আহমেদাবাদ, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাই এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো (আর প্রেমাদাসা ও এসএসসি) ও ক্যান্ডিতে বসবে তারার মেলা। বরাবরের মতোই দর্শকদের মূল আকর্ষণ হয়ে থাকবে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি।

সম্প্রচার ও বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য তথ্য টাইগাররা না থাকলেও ক্রিকেটপ্রেমী বাঙালির উন্মাদনা কমেনি। বাংলাদেশে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি দেখা যাবে টি-স্পোর্টস (T Sports) এবং নাগরিক টেলিভিশনে (Nagorik TV)। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম র‍্যাবিটহোল-এ (Rabbithole) সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং উপভোগ করা যাবে।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? বাংলাদেশহীন এই বিশ্বকাপে কার মাথায় উঠবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট, তা নিয়ে চলছে বিস্তর বিশ্লেষণ। স্বাগতিক ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারত কি পারবে শিরোপা ধরে রাখতে, নাকি শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে বাজিমাত করবে? উত্তর মিলবে আগামী এক মাসে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের শূন্যতা ঘোচাতে বিসিবি দেশেই আয়োজন করছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ কাপ’, যেখানে জাতীয় দলের তারকারা নিজেদের ফিটনেস ও ফর্ম ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ প্রস্তাব নাকচ: এককভাবে জয়ের ব্যাপারে অনড় তারেক রহমান

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: এককভাবে জয়ের ব্যাপারে অনড় তারেক রহমান বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর সব দলের অংশগ্রহণে একটি ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নেতা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দল মনে করছে, আগামী নির্বাচনে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হতে যাচ্ছে, ফলে ক্ষমতার অংশীদারত্বের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি দীর্ঘদিনের। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, তার দল এককভাবে দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক মহল এবং দেশের ভেতরে কোনো কোনো পক্ষ স্থিতিশীলতার স্বার্থে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেও বিএনপি এই মুহূর্তে সেই পথে হাঁটতে রাজি নয়।

Read More: ত্রয়োদশ নির্বাচন এর বড় প্রশ্ন— জনগণ কি আদৌ ভোটকেন্দ্রে যাবে?

কেন এই প্রত্যাখ্যান? তারেক রহমানের মতে, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল। এখন সময় এসেছে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের। তিনি মনে করেন, ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ বা কোয়ালিশন সরকার অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধীরগতির হয় এবং এতে জবাবদিহিতার অভাব দেখা দিতে পারে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান জনমত তাদের পক্ষে রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা এককভাবেই সরকার গঠন করতে সক্ষম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এটি দলের তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করছে, অন্যদিকে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে যে কোনো ধরণের সমঝোতার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। তবে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দেশের সুশীল সমাজ মনে করছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ চায় এমন একটি সরকার, যারা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংস্কারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে যে, ক্ষমতায় গেলে তারা সংবিধানের আমূল সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে বিএনপি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে যে তারা ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায়। এখন দেখার বিষয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই অবস্থানকে কীভাবে গ্রহণ করে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে কার হাতে দেশের চাবিকাঠি তুলে দেয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

বাজেট যখন ২৫ হাজার: ২০২৬ সালে বাংলাদেশের বাজারে সেরা স্মার্টফোন এখন কোনগুলো?

0

প্রযুক্তি ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা দেখা যায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার প্রাইস সেগমেন্টে। এই বাজেটের ফোনগুলো যেমন সাধারণ ব্যবহারকারীদের চাহিদা মেটায়, তেমনি তরুণ প্রজন্মের গেমিং কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ফিচারের সমন্বয়ও থাকে এখানে। তবে মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের দাম বাড়ার কারণে বর্তমানে এই বাজেটে একটি মানসম্মত ফোন খুঁজে পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের এই দ্বিধা দূর করতে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেরা কয়েকটি স্মার্টফোনের আদ্যোপান্ত নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ আয়োজন।

ফিচারের লড়াই: কী থাকছে এই বাজেটে? একটা সময় ২৫ হাজার টাকার ফোনে প্রিমিয়াম ফিচার আশা করা কঠিন ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। বর্তমানে এই বাজেটে অধিকাংশ ব্র্যান্ডই ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের অ্যামোলেড (AMOLED) ডিসপ্লে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া ৫জি কানেক্টিভিটি এখন এই সেগমেন্টের একটি অলিখিত স্ট্যান্ডার্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বড় ব্যাটারি এবং দ্রুতগতির চার্জিং সুবিধাতো থাকছেই।

বাজারের শীর্ষ কয়েকটি মডেল বর্তমানে বাজারের ট্রেন্ড অনুযায়ী শাওমি, রিয়েলমি এবং স্যামসাং এই তিনটি ব্র্যান্ডের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। শাওমির রেডমি সিরিজের ফোনগুলো বরাবরের মতোই তাদের পাওয়ারফুল প্রসেসরের জন্য এগিয়ে আছে। যারা গেমিং পছন্দ করেন, তাদের জন্য স্ন্যাপড্রাগন বা মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি সিরিজের হাই-পারফরম্যান্স চিপসেট সমৃদ্ধ মডেলগুলো সেরা হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ফেব্রুয়ারি: বাজারে আসছে শক্তিশালী ৭টি নতুন ফোন

অন্যদিকে, যারা ডিসপ্লে এবং সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্সকে প্রাধান্য দেন, তাদের জন্য স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এ-সিরিজ বা এম-সিরিজের ফোনগুলো আস্থার প্রতীক। বিশেষ করে স্যামসাংয়ের ডিসপ্লে কোয়ালিটি এবং নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট এই বাজেটে অন্য অনেক ব্র্যান্ডের তুলনায় এগিয়ে রাখে। রিয়েলমি এবং ইনফিনিক্সের মতো ব্র্যান্ডগুলো নজর কাড়ছে তাদের আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং দ্রুতগতির চার্জিং টেকনোলজি দিয়ে।

ক্যামেরা ও ব্যাটারি পারফরম্যান্স স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্রাধান্য দেন ক্যামেরাকে। বর্তমানে ২০-২৫ হাজার টাকার ফোনগুলোতে ৫০ মেগাপিক্সেল থেকে শুরু করে ১০৮ মেগাপিক্সেল পর্যন্ত মেইন সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কেবল মেগাপিক্সেল নয়, ইমেজ প্রসেসিং এবং কালার অপ্টিমাইজেশনের দিকেও নজর দিতে হবে। দিনের আলোতে প্রায় সব ফোনই ভালো ছবি দিলেও, রাতের ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে পার্থক্য গড়ে দেয় চিপসেট ও লেন্সের গুণমান। অন্যদিকে, ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এখন একটি সাধারণ ফিচারে পরিণত হয়েছে, যা সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।

কেনাকাটায় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন নতুন ফোন কেনার আগে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের ফিচারের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পারফরম্যান্স যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ফোনটি কিস্তিতে কেনার সুবিধা আছে কি না, ওয়ারেন্টি পলিসি এবং আপনার এলাকায় সার্ভিস সেন্টারের লভ্যতা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া অফিসিয়াল নাকি আন-অফিসিয়াল—কোন ফোনটি আপনি কিনছেন, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

উপসংহার: আপনার জন্য কোনটি সঠিক? ২৫ হাজার টাকার বাজেটটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। আপনি যদি একজন গেমার হন তবে প্রসেসরকে প্রাধান্য দিন, আর যদি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা সাধারণ ব্যবহারকারী হন তবে ক্যামেরা এবং ডিসপ্লের দিকে নজর দিন। তবে মনে রাখবেন, প্রযুক্তির এই বাজারে প্রতিদিন নতুন মডেল আসছে, তাই কেনার ঠিক আগ মুহূর্তে বর্তমান বাজারদর এবং স্টক যাচাই করে নেওয়া ভালো। সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারলে এই বাজেটের ফোনটিও আপনাকে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার স্বাদ দিতে পারে।

Follow us On Facebook: A2NEWS24

আকাশচুম্বী দামের ভিড়ে সাধারণের নাগালের বাইরে স্মার্টফোন

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪: ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে যখন পুরো দেশ এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই সেই স্বপ্নের প্রধান হাতিয়ার ‘স্মার্টফোন’ সাধারণ মানুষের কাছে এক বিলাসদ্রব্যে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে প্রয়োজনীয় এই প্রযুক্তি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা—সর্বত্রই এখন আলোচনার মূল বিষয় স্মার্টফোনের অগ্নিমূল্য।

আকাশচুম্বী দামের পেছনে কারণ কী? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো ডলারের উচ্চমূল্য এবং আমদানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে আমদানিকৃত প্রতিটি ফোনের দাম অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। যদিও দেশে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড মোবাইল সংযোজন করছে, কিন্তু সেগুলোর যন্ত্রাংশ আমদানিতেও খরচ বাড়ায় সুফল পাচ্ছে না সাধারণ ক্রেতারা।

Read More: স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ফেব্রুয়ারি: বাজারে আসছে শক্তিশালী ৭টি নতুন ফোন

দিশেহারা তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থী স্মার্টফোন এখন আর কেবল শৌখিনতার বস্তু নয়, বরং অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং এবং যোগাযোগের অপরিহার্য মাধ্যম। ঢাকার বিভিন্ন প্রযুক্তি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, যে ফোনটি আগে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার জন্য গুনতে হচ্ছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “পুরনো ফোনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন একটি ফোন কেনা এখন যুদ্ধের সমান। পছন্দের ফোন তো দূরের কথা, সাধারণ মানের একটি ফোন কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

বাজারের বর্তমান চিত্র ও ভোক্তাদের ক্ষোভ রেডিট এবং ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা তাদের ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, ফোনের দাম যে হারে বাড়ছে, সে হারে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। ফলে অনেকেই পুরনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের দিকে ঝুঁকছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রযুক্তি বাজারে মন্দা দেখা দেওয়ায় খুচরা বিক্রেতারাও দুশ্চিন্তায় আছেন; কারণ দাম বাড়ায় বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।

ডিজিটাল বিভাজন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্মার্টফোনের দাম যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এটি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইন্টারনেটের ব্যবহার ও ডিজিটাল সেবার প্রসারে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

উপসংহার: কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার যদি স্মার্টফোন আমদানিতে বা স্থানীয় উৎপাদনে কর ছাড় দেয় এবং কিস্তিতে ফোন কেনার সুযোগ আরও সহজ করে, তবেই এই স্থবিরতা কাটানো সম্ভব। অন্যথায়, উচ্চমূল্যের এই বাজারে সাধারণ মানুষের ‘স্মার্টফোন’ কেনার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বাজার স্থিতিশীল করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।

গ্যালাক্সি এস২৬: ডিসপ্লেতে নতুন চমক নিয়ে আসছে স্যামসাং, কাঁপবে পুরো টেক দুনিয়া

0

প্রযুক্তি ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনপ্রেমীদের কাছে ‘গ্যালাক্সি এস’ সিরিজ মানেই নতুন কোনো উদ্ভাবনের গল্প। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্যামসাং তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ ‘গ্যালাক্সি এস২৬’ নিয়ে বড় ধরনের টিজার প্রকাশ করেছে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে প্রসেসর বা ক্যামেরা নয়, বরং ফোনের ডিসপ্লে। স্যামসাং ইঙ্গিত দিয়েছে যে, গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজে এমন একটি ডিসপ্লে ফিচার যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা স্মার্টফোন ইতিহাসে এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

ডিসপ্লেতে কী এমন পরিবর্তন আসছে? বিখ্যাত টেক পোর্টালগুলোর তথ্যমতে, স্যামসাং তাদের নতুন টিজারে একটি ‘ফার্স্ট-অফ-ইটস-কাইন্ড’ বা একেবারেই নতুন ধরনের ডিসপ্লে প্রযুক্তির কথা বলেছে। যদিও স্যামসাং এখনো বিস্তারিত খোলসা করেনি, তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন এটি হতে পারে সম্পূর্ণ ‘বেজেল-লেস’ বা সীমানাহীন ডিসপ্লে। অনেকের মতে, স্যামসাং এবার আন্ডার-ডিসপ্লে ক্যামেরাকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে ডিসপ্লের নিচে ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ছবির গুণগত মানে কোনো প্রভাব পড়বে না এবং স্ক্রিনটি হবে একদম নিরবচ্ছিন্ন।

আবার কোনো কোনো প্রযুক্তি বিশ্লেষকের ধারণা, স্যামসাং হয়তো ‘জিরো-ফ্লিকার’ বা ‘আই-সেফটি’র ক্ষেত্রে বড় কোনো মাইলফলক অর্জন করেছে। যা দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারের ফলে চোখের ক্লান্তি দূর করতে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।

Galaxy S26 Ultra
Galaxy S26 Ultra

স্মার্টফোন বাজারে নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি অ্যাপল এবং গুগলের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্যামসাং বরাবরই তাদের ডিসপ্লে টেকনোলজির ওপর জোর দেয়। এস২৬ সিরিজের মাধ্যমে তারা আবারও প্রমাণ করতে চায় কেন তারা ডিসপ্লে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর। নতুন এই সিরিজের টিজার প্রকাশের পর থেকেই আইফোন ভক্তদের মধ্যেও এক ধরনের কৌতুহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্যামসাংয়ের ‘সুপার অ্যামোলেড’ প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ দেখার জন্য মুখিয়ে আছে সবাই।

Read More: স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ফেব্রুয়ারি: বাজারে আসছে শক্তিশালী ৭টি নতুন ফোন

বাংলাদেশি গ্রাহকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের একটি বিশাল ও অনুগত গ্রাহক শ্রেণি রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যারা গেমিং এবং সিনেমা দেখার জন্য প্রিমিয়াম ডিসপ্লে পছন্দ করেন, তাদের জন্য গ্যালাক্সি এস২৬ হতে পারে স্বপ্নের ফোন। ঢাকার বাজারে স্যামসাংয়ের অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটরদের মতে, এস২৬ নিয়ে এখনই টেক প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। উন্নত ডিসপ্লে ফিচারের খবরটি বাংলাদেশি গ্রাহকদের জন্য এই ফোন কেনার আগ্রহ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।

অত্যাধুনিক হার্ডওয়্যার ও এআই-এর সমন্বয় শুধুমাত্র ডিসপ্লে নয়, এস২৬ সিরিজে শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ (অথবা উন্নততর সংস্করণ) চিপসেট ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এর সাথে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘গ্যালাক্সি এআই’ যুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে। ধারণা করা হচ্ছে, ডিসপ্লের নতুন ফিচারটির সাথে এই এআই-এর গভীর সমন্বয় থাকবে, যা পরিবেশের আলো অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট ও কালার টোন পরিবর্তন করবে।

উপসংহার: কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক লঞ্চিংয়ের তারিখ জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বিশ্ববাজারে এই ফোনটি উন্মোচন করা হবে। ডিসপ্লের এই রহস্যময় ফিচারটি শেষ পর্যন্ত কী হতে যাচ্ছে, তা জানতে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ স্মার্টফোন ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে দিতে আসছে।

কিস্তিতে স্মার্টফোন বিক্রির বৈপ্লবিক অনুমোদন দিল বিটিআরসি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪: দেশের ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে এবং প্রযুক্তির সুফল একদম প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এখন থেকে সাধারণ মানুষ মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে সহজ কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নীতিমালাটি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

সবার জন্য স্মার্টফোন: বিটিআরসি-র নতুন ফ্রেমওয়ার্ক বিটিআরসি-র সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর— গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক এবং টেলিটক এখন থেকে বিটিআরসি অনুমোদিত স্মার্টফোনগুলো কিস্তিতে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে পারবে। মূলত যারা এককালীন অর্থ দিয়ে দামী স্মার্টফোন কিনতে পারতেন না, তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের স্বপ্ন পূরণ করতেই এই উদ্যোগ।

আরো পড়ুনঃ স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ফেব্রুয়ারি: বাজারে আসছে শক্তিশালী ৭টি নতুন ফোন

কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? এই প্রক্রিয়ায় অপারেটরদের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে উন্নত ‘সিম-লক’ প্রযুক্তি। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রাহক যদি সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে অপারেটররা ফোনের সিম বা নেটওয়ার্ক স্লটগুলো লক করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে। কিস্তি সম্পূর্ণ পরিশোধ হওয়ার পর ফোনটি স্থায়ীভাবে আনলক করে দেওয়া হবে। এর আগে কেবল আংশিক লকের অনুমতি থাকলেও, নতুন নীতিমালায় পূর্ণাঙ্গ লকের বিধান রাখা হয়েছে যাতে অপারেটরদের ঝুঁকি কমে।

ডিজিটাল বিভাজন নিরসনে প্রভাব প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণ, ই-কমার্স এবং অনলাইন শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার এর ফলে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। স্মার্টফোনের মালিকানা বাড়লে ডেটা ব্যবহারের হারও বাড়বে, যা দেশের টেলিকম খাতের সামগ্রিক রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ বিটিআরসি জানিয়েছে, বাজারে অবৈধ ও অনুমোদনহীন ফোনের ব্যবহার ঠেকাতেও এই নীতিমালা সহায়ক হবে। কারণ অপারেটররা কেবল বৈধভাবে আমদানিকৃত বা দেশি কারখানায় তৈরি ফোনই এই প্রকল্পের আওতায় গ্রাহকদের দেবে। তবে কিস্তির সুদের হার এবং ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ যেন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখার দাবি জানিয়েছেন প্রযুক্তি প্রেমীরা।

উপসংহার: কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? অপারেটররা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তি শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সারা দেশের রিটেইল পয়েন্টগুলোতে কিস্তিতে ফোন কেনার প্রক্রিয়াটি পুরোদমে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশের স্মার্টফোন পেনিট্রেশন রেট বা ব্যবহারের হার নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ফেব্রুয়ারি: বাজারে আসছে শক্তিশালী ৭টি নতুন ফোন

0

প্রযুক্তি ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: ২০২৬ সালের শুরু থেকেই প্রযুক্তি বিশ্বে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। তবে স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য আসল ধামাকা অপেক্ষা করছে এই ফেব্রুয়ারি মাসেই। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো তাদের সেরা সব উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে। স্যামসাংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত ফ্ল্যাগশিপ থেকে শুরু করে অ্যাপলের সাশ্রয়ী মডেল—সব মিলিয়ে চলতি মাসে অন্তত সাতটি বড় স্মার্টফোন লঞ্চের খবর নিশ্চিত হয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনগুলো স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় যোগ করবে নতুন মাত্রা।

Galaxy S26 Ultra
Galaxy S26 Ultra

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ: ফেব্রুয়ারির বড় আকর্ষণ মাসের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ। ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্যালাক্সি আনপ্যাকড ইভেন্টের মাধ্যমে এস২৬, এস২৬ প্লাস এবং এস২৬ আল্ট্রা উন্মোচন হতে পারে। এস২৬ আল্ট্রা মডেলে ব্যবহার করা হতে পারে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ চিপসেট এবং অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক ওয়ান ইউআই ৮.৫। নতুন এই সিরিজের মাধ্যমে স্যামসাং মোবাইল ফটোগ্রাফি ও এআই পারফরম্যান্সে বড় ধরনের চমক দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Read More: স্মার্টফোন দুনিয়ায় নতুন বিপ্লব: আইফোন ফোল্ড কি পারবে স্যামসাং-গুগলকে টক্কর দিতে?

Apple iPhone 17e
Apple iPhone 17e

সাশ্রয়ী বাজারে অ্যাপল ও গুগলের লড়াই প্রিমিয়াম ফোনের পাশাপাশি সাশ্রয়ী মডেলেও এবার প্রতিযোগিতা হবে তুঙ্গে। অ্যাপল আনতে পারে তাদের নতুন ‘আইফোন ১৭ই’। ৬.১ ইঞ্চির ওলেড স্ক্রিন এবং শক্তিশালী প্রসেসরের এই ফোনটি বাজেট সচেতন আইফোন ভক্তদের জন্য হবে বড় উপহার। অন্যদিকে, গুগল নিয়ে আসছে ‘পিক্সেল ১০এ’। এতে টেনসর জি৪ চিপসেট এবং উন্নত ক্যামেরা অ্যালগরিদম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মিড-রেঞ্জ বাজারে গুগলের আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

iQOO 15 Ultra
iQOO 15 Ultra

গেমিং ও ক্যামেরায় সেরা: আইকিউওও ও ভিভো গেমারদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই আইকিউওও (iQOO) নিয়ে আসছে ‘আইকিউওও ১৫ আল্ট্রা’। ৭,৪০০ এমএএইচ-এর বিশাল ব্যাটারি এবং ১০০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সমৃদ্ধ এই ফোনটি হবে পারফরম্যান্সের পাওয়ারহাউজ। অন্যদিকে, ফটোগ্রাফি প্রেমীদের নজর কাড়বে ‘ভিভো ভি৭০ সিরিজ’। স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ চিপসেট এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা সেন্সর নিয়ে ভিভো আবারও তাদের ক্যামেরা টেকনোলজির মুন্সিয়ানা দেখাবে।

Samsung Galaxy A57
Samsung Galaxy A57

মধ্যবিত্তের জন্য স্যামসাং এ-সিরিজ ও মটোরোলা ফ্ল্যাগশিপের পাশাপাশি স্যামসাং তাদের জনপ্রিয় এ-সিরিজের ‘গ্যালাক্সি এ৫৭’ ও ‘এ৩৭’ লঞ্চ করতে পারে। এক্সিনোস চিপসেট চালিত এই ফোনগুলো দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এবং মসৃণ পারফরম্যান্সের জন্য বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মাসের শেষ দিকে মটোরোলা নিয়ে আসছে ‘এজ ৭০ ফিউশন’, যা তার স্লিম ডিজাইন এবং দ্রুতগতির ডিসপ্লের জন্য তরুণ প্রজন্মের পছন্দ হতে পারে।

Vivo V70
Vivo V70

বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে মিড-রেঞ্জ এবং ফ্ল্যাগশিপ—উভয় ক্যাটাগরির ফোনেরই বিশাল চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-সিরিজ এবং ভিভো ভি-সিরিজের ফোনগুলো আসার খবর বাংলাদেশি তরুণদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। আশা করা যাচ্ছে, বিশ্ব বাজারে লঞ্চ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের অফিসিয়াল শোরুমগুলোতে ফোনগুলো পাওয়া যাবে।

উপসংহার: কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? ফেব্রুয়ারি মাসটি স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। প্রতিটি ব্র্যান্ডই চেষ্টা করছে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সেরা সমন্বয় ঘটাতে। আপনি যদি নতুন ফোন কেনার কথা ভেবে থাকেন, তবে এই মাসের লঞ্চ ইভেন্টগুলোতে চোখ রাখা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এই ফোনগুলোর দাম এবং বাংলাদেশে লভ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন এটুনিউজ২৪-এর পর্দায়।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন না মেসি? ‘যুক্তি’ দিয়ে ভক্তদের বড় আশঙ্কার কথা জানালেন খুদে জাদুকর

0

ক্রীড়া ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: কাতার বিশ্বকাপে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। দীর্ঘ ৩৬ বছরের আক্ষেপ মিটিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে মেসিকে? কোটি ভক্তের মনে যখন আশার প্রদীপ জ্বলছে, ঠিক তখনই এক সাক্ষাৎকারে বাস্তবধর্মী ও কিছুটা মন খারাপ করা মন্তব্য করলেন এলএম১০ (LM10)।

সময়ের হিসেবে না খেলাটাই স্বাভাবিক: মেসি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্তমান ইন্টার মায়ামি তারকা। মেসি জানান, ২০২৬ সালে তার বয়স হবে ৩৯ বছর, যা একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন। তিনি বলেন, “সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলায়। বয়স বাড়ছে, আর সেটি মাথায় রাখলে ২০২৬ বিশ্বকাপে আমার না থাকাটাই হবে সবচেয়ে যৌক্তিক চিন্তা। তবে আমি দিন ধরে এগোতে পছন্দ করি।”

আরো পড়ুনঃ ২০২৬ বিশ্বকাপে কি খেলবেন মেসি? মাশ্চেরানোর ‘তিন শব্দের’ জবাবে নতুন আশা ফুটবল বিশ্বে

কেন অনিশ্চয়তা? মেসির মতে, শুধুমাত্র আবেগের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বকাপে খেলা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, শারীরিক সক্ষমতা এবং দলের প্রতি সর্বোচ্চ অবদান রাখার সামর্থ্য থাকলেই কেবল মাঠে নামা উচিত। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই মেসি বারবার বলে আসছেন যে, তিনি এখন ফুটবলকে উপভোগ করছেন এবং কোনো চাপ নিতে চাচ্ছেন না। তবে ভক্তদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, তিনি এখনই পুরোপুরি ‘না’ বলে দেননি। সবকিছু নির্ভর করছে তার শারীরিক অবস্থা ও সময়ের চাহিদার ওপর।

বাংলাদেশি সমর্থকদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আবেগ বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কাতার বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের উন্মাদনা দেখে খোদ আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। মেসির এই নতুন মন্তব্যের পর বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলোতে বইছে বিষাদের ছায়া। অনেক ভক্ত মনে করছেন, মেসি ছাড়া বিশ্বকাপ ভাবাই অসম্ভব। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, কিংবদন্তিরা যখন শীর্ষে থাকেন তখনই বিদায় নেওয়া ভালো।

কোচ ও সতীর্থদের প্রত্যাশা মেসির মন্তব্য যা-ই হোক না কেন, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং সতীর্থরা এখনো আশাবাদী। স্কালোনি একাধিকবার বলেছেন, মেসির জন্য দলের ১০ নম্বর জার্সি সব সময়ই বরাদ্দ থাকবে। মেসি যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন, তবে ৩৯ বছর বয়সেও তিনি দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারেন বলে মনে করেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

উপসংহার: কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? লিওনেল মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে দুর্দান্ত সময় পার করছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বেশ কিছু সময় বাকি। মেসি কি শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামবেন, নাকি বর্ণিল এক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন কেবল দর্শক হিসেবে? সেই উত্তর সময়ের হাতেই তোলা রইল। তবে ফুটবল বিশ্ব যে তাকে শেষ একবার বড় পর্দায় দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ম্যায় হু না ২’-তে দ্বৈত চরিত্রে শাহরুখ খান? বলিউড বাদশাহকে নিয়ে নতুন গুঞ্জন

0

বিনোদন ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: দুই দশক আগে ২০০৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল পরিচালক ফারাহ খানের সুপারহিট সিনেমা ‘ম্যায় হু না’। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, পারিবারিক আবেগ আর অ্যাকশনে ঠাসা সেই সিনেমা আজও দর্শকদের হৃদয়ে সতেজ। দীর্ঘ ২০ বছর পর সেই নস্টালজিয়া আবারও বড় পর্দায় ফিরতে চলেছে। আর সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে শোনা যাচ্ছে, সিনেমাটির সিক্যুয়েলে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যেতে পারে বলিউড মেগাস্টার শাহরুখ খান ওরফে কিং খানকে।

ফারাহ-শাহরুখ রসায়ন কি আবারও ফিরছে? বলিউড অন্দরমহলের গুঞ্জন অনুযায়ী, ফারাহ খান ইতোমধ্যেই ‘ম্যায় হু না ২’-এর চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর এই নির্মাতা-অভিনেতা জুটিকে আবারও একসঙ্গে দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন ভক্তরা। ‘ম্যায় হু না’, ‘ওম শান্তি ওম’ এবং ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর মতো সফল সিনেমার পর এটি হতে যাচ্ছে তাদের চতুর্থ প্রজেক্ট।

আরো পড়ুনঃ রজনীকান্তের ‘জেলর ২’-এ শাহরুখ খান! পর্দার ‘কিং’ এবার সুপারস্টারের পরম বন্ধু

দ্বৈত চরিত্রে শাহরুখ: বাবা ও ছেলের লড়াই? সূত্রের খবর, এবারের গল্পটি সাজানো হয়েছে এক ভিন্ন আঙ্গিকে। সেখানে শাহরুখ খানকে কেবল ‘মেজর রাম প্রসাদ শর্মা’ হিসেবেই নয়, বরং তার পরবর্তী প্রজন্মের এক তরুণের চরিত্রেও দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ, বাবা ও ছেলে—উভয় চরিত্রই রূপায়ন করবেন শাহরুখ নিজে। যদিও অফিসিয়ালি এখনও কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে চিত্রনাট্যের প্রাথমিক খসড়ায় এই দ্বৈত চরিত্রের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশি দর্শকদের মাঝে উন্মাদনা শাহরুখ খানের সিনেমার আবেদন বাংলাদেশে বরাবরের মতোই আকাশচুম্বী। নব্বই এবং ২০০০-এর দশকের দর্শকদের কাছে ‘ম্যায় হু না’ ছিল একটি মাইলফলক। সেই সিনেমার সিক্যুয়েলে শাহরুখের দ্বৈত চরিত্রের খবর বাংলাদেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তদের মতে, ‘জওয়ান’ সিনেমায় শাহরুখের দ্বৈত অবতার যেমন ব্যবসায়িক সাফল্য এনেছে, ‘ম্যায় হু না ২’-তেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

অ্যাকশন ও ড্রামার নতুন মাত্রা মূল সিনেমায় মেজর রামের মিশন ছিল ‘প্রজেক্ট মিলাপ’ সফল করা। সিক্যুয়েলে আধুনিক ভূ-রাজনীতি এবং নতুন কোনো সংকটের প্রেক্ষাপট থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফারাহ খানের পরিচালনার চিরচেনা মশালা ঘরানার সাথে হাই-টেক অ্যাকশনের সংমিশ্রণ এবার দর্শকদের জন্য বিশেষ পাওনা হতে পারে।

উপসংহার: কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ? বর্তমানে শাহরুখ খান তার পরবর্তী সিনেমা ‘কিং’ এর প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আছেন। ‘ম্যায় হু না ২’ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা শুটিংয়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে এই মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মেজর রাম প্রসাদ শর্মা কি সত্যিই তার পুরনো মেজাজে বড় পর্দায় ফিরছেন কি না।

Follow Us On Facebook: A2NEWS24