Friday, March 13, 2026
Friday, March 13, 2026
29 C
Dhaka
a2news24
Home Blog Page 7

১০ কোটি ডলার খরচ করেও মেলেনি মুক্তি! অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ব্র্যাড পিটের

0

১০ কোটি ডলার খরচ করেও মেলেনি মুক্তি! অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ব্র্যাড পিটের

হলিউডের এক সময়ের সবচেয়ে চর্চিত এবং জনপ্রিয় জুটি ছিলেন ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ভক্তরা ভালোবেসে তাদের ডাকতেন ‘ব্রাঞ্জেলিনা’ নামে। তবে ২০১৬ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণার পর থেকে সেই ভালোবাসা এখন রূপ নিয়েছে তিক্ত আইনি লড়াইয়ে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা এই বিচ্ছেদ মামলা এখন হলিউডের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সম্প্রতি এই লড়াই নিয়ে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।

বিচ্ছেদের পেছনে পাহাড় সমান খরচ সূত্রমতে, ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির এই আইনি লড়াইয়ে ব্র্যাড পিট ইতিমধ্যে প্রায় ১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি) খরচ করে ফেলেছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে আইনি পরামর্শ, আদালতের ফি এবং সম্পদ ভাগাভাগির জটিলতা নিরসনে। তবুও এই বিবাদের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো মেলেনি। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ব্র্যাড মনে করছেন জোলি তাকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘অ্যাঞ্জেলিনা আমার সব কেড়ে নিয়েছে’ ব্র্যাড পিটের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র দাবি করেছে, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অভিনেতা শুধু অর্থই হারাননি, হারিয়েছেন তার মানসিক শান্তিও। ব্র্যাড পিটের মতে, জোলি পরিকল্পিতভাবে তাকে সন্তানদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। এমনকি তাদের যৌথ মালিকানাধীন ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘মিরাভাল’ আঙুর বাগান (Château Miraval) নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাও জোলির ইচ্ছাকৃত প্রতিহিংসার ফল বলে মনে করছেন অভিনেতা। ব্র্যাড পিটের আক্ষেপ, জোলি তার ইমেজ নষ্ট করার পাশাপাশি তার তিল তিল করে গড়ে তোলা সম্পর্কগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছেন।

সন্তানদের সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক যন্ত্রণা ব্রাঞ্জেলিনা দম্পতির ছয় সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব এই মামলার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে সন্তানদের সঙ্গে ব্র্যাড পিটের দূরত্ব বেড়েছে। ব্র্যাড মনে করেন, জোলি সন্তানদের মনে তার বিরুদ্ধে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়েছেন, যার ফলে আজ বাবার সঙ্গে সন্তানদের স্বাভাবিক সম্পর্ক নেই। এই বিষয়টিই অভিনেতাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

মিরাভাল আঙুর বাগান নিয়ে নতুন মোড় ২০০৮ সালে ফ্রান্সে এই আঙুর বাগানটি কিনেছিলেন তারা। বিচ্ছেদের পর জোলি তার মালিকানাধীন অংশ এক রুশ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন, যা নিয়ে ব্র্যাড পিট আদালতে মামলা করেন। পিটের দাবি ছিল, একে অপরের সম্মতি ছাড়া এই সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। এই সম্পত্তি দখল এবং বিক্রির আইনি লড়াই এখনো চলমান, যা দুজনের তিক্ততাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপসংহার এক সময়ের রূপকথার মতো প্রেম এখন আদালত আর অভিযোগের আবর্তে বন্দি। ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির এই লড়াই কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এটি স্পষ্ট যে, এই বিচ্ছেদ কেবল দুটি মানুষের আলাদা হওয়া নয়, বরং এটি হলিউডের গ্ল্যামারের পেছনের এক অন্ধকার ও দীর্ঘস্থায়ী ট্র্যাজেডির গল্প।

হলিউডে আইনি লড়াইয়ের নতুন মোড়: ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনির দ্বন্দ্বে এবার ফাঁস হলো টেইলর সুইফটের গোপন বার্তা!

0

হলিউডের অন্যতম সফল রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ পর্দার বাইরে এখন এক বিষাক্ত আইনি যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। সিনেমার মূল দুই তারকা ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনির মধ্যকার ব্যক্তিগত বিরোধ এখন আদালতের বারান্দা ছাড়িয়ে জনসমক্ষে। যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে শুরু করে মানহানি মামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বে যুক্ত হয়েছে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফটের নাম, যার ব্যক্তিগত কিছু বার্তা ফাঁস হওয়ার পর নেট দুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

যেভাবে শুরু এই তিক্ততার ২০২৪ সালে ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার প্রচারণার সময় থেকেই ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনির মধ্যে দূরত্বের বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন ভক্তরা। যেখানে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারা দুজন, সেখানে তাদের কোনো যৌথ সাক্ষাৎকারে দেখা যায়নি। বালদোনি পারিবারিক সহিংসতার গুরুত্ব নিয়ে গম্ভীর প্রচারণা চালালেও, ব্লেক লাইভলি ব্যস্ত ছিলেন তার নিজস্ব লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের প্রচারে। সেই সময়কার সৃজনশীল মতপার্থক্য যে একদিন আদালতে গড়াবে, তা কেউ ভাবেনি।

যৌন হয়রানির অভিযোগ ও পাল্টা মামলা ২০২৪ সালের শেষ দিকে ব্লেক লাইভলি জাস্টিন বালদোনির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা করেন। তার দাবি ছিল, সিনেমার শুটিং সেটে বালদোনি তার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন এবং যৌন হয়রানি চালিয়েছেন। লাইভলির অভিযোগ অনুযায়ী, বালদোনি তাকে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও দেখাতেন এবং তার শরীর নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা আঘাত হানেন বালদোনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি লাইভলি ও তার স্বামী রায়ান রেনল্ডসের বিরুদ্ধে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেন। বালদোনির দাবি, ব্লেক লাইভলি সিনেমার সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ বা ‘ক্রিয়েটিভ হাইজ্যাকিং’ করেছেন এবং প্রচারণার সময় তার চরিত্রহননের চেষ্টা চালিয়েছেন।

টেইলর সুইফটের প্রবেশ ও বার্তা ফাঁস এই আইনি লড়াইয়ে নাটকীয়তা যোগ হয় যখন লাইভলির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী টেইলর সুইফটকে সাক্ষী হিসেবে সমন পাঠানো হয়। সম্প্রতি আদালতের কিছু নথি প্রকাশ্যে আসার পর দেখা গেছে, ব্লেক লাইভলি ও টেইলর সুইফটের মধ্যে সিনেমার স্ক্রিপ্ট এবং বালদোনির পিআর কৌশল নিয়ে একাধিক গোপন বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। ফাঁস হওয়া একটি বার্তায় দেখা যায়, টেইলর সুইফট বালদোনির কার্যক্রম নিয়ে কড়া সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে, এই আইনি ঝামেলার কারণে দুই বান্ধবীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও কিছুটা ফাটল ধরেছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

আদালতের সর্বশেষ অবস্থান ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বালদোনির কিছু অভিযোগ আদালত খারিজ করে দিলেও ব্লেক লাইভলির করা যৌন হয়রানির মামলাটি এখনো বহাল রয়েছে। আগামী মে মাসে এই মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সহশিল্পী জেনি স্লেট ও ইসাবেলা ফেরার ইতিমধ্যে লাইভলির পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা বালদোনির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

হলিউডের এই দীর্ঘস্থায়ী আইনি যুদ্ধ এখন শুধু ব্যক্তিগত জেদ নয়, বরং ক্ষমতা ও সম্মানের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের এই আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিনোদন বিশ্ব।

ট্রাম্পের শাসনে ‘অস্থির’ ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট; স্থায়ীভাবে ছাড়তে পারেন দেশ!

0

বিনোদন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা নিয়ে পশ্চিমা বিনোদন জগতে বইছে বিতর্কের ঝড়। হলিউডের জনপ্রিয় ও অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট এবার সেই ঝড়ে নতুন মাত্রা যোগ করলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আর নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে স্থায়ীভাবে আমেরিকা ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই ‘টোয়াইলাইট’ খ্যাত তারকা।

বাস্তবতা যখন ভেঙে পড়ে সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস অব লন্ডন’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট তার মনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকার বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো বা ‘বাস্তবতা’ পুরোপুরি খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এমন এক গুমোট পরিবেশে স্বাধীনভাবে সৃজনশীল কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টুয়ার্ট বলেন, “আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে বাস্তবতাকে নিজের সুবিধামতো সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। আমাদের উচিত এই বৈরী পরিবেশ থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নিজেদের জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ কাজের পরিবেশ তৈরি করা।”

আমেরিকা ত্যাগের পথে আরও এক তারকা সাক্ষাৎকারে যখন তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয় যে তিনি কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন? উত্তরে স্টুয়ার্ট বলেন, “সম্ভবত হ্যাঁ। কারণ বর্তমান মার্কিন মুলুকে আমি স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রেরণা পাচ্ছি না। তবে আমি পুরোপুরি হাল ছাড়তে চাই না। আমি ইউরোপে গিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে চাই এবং সেই সৃষ্টিগুলো মার্কিন দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাই।”

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টই প্রথম নন, যিনি দেশ ছাড়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এর আগে জনপ্রিয় সঞ্চালক এলেন ডিজেনারেস এবং কমেডিয়ান রোজি ও’ডোনেলও ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে আমেরিকা ছেড়েছেন। এমনকি ‘টাইটানিক’ ও ‘অ্যাভাটার’ খ্যাত কিংবদন্তি নির্মাতা জেমস ক্যামেরনও বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী হয়েছেন। ক্যামেরনের মতে, তিনি নিউজিল্যান্ডের সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজকে পছন্দ করেন, যা বর্তমানে মেরুকরণ হওয়া আমেরিকার ঠিক বিপরীত।

পুরানো শত্রুতা যখন সামনে আসে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের মধ্যে শীতল সম্পর্কের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০১২ সালে যখন রবার্ট প্যাটিনসনের সঙ্গে স্টুয়ার্টের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল, তখন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে প্যাটিনসনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন স্টুয়ার্টকে ত্যাগ করার জন্য। একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর কেন একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত আগ্রহ থাকবে, তা নিয়ে সেসময় বেশ আলোচনা হয়েছিল। স্টুয়ার্ট সেই স্মৃতি মনে করে বলেন, “তিনি কেন আমাকে নিয়ে এতটা আচ্ছন্ন ছিলেন, তা আজও আমার কাছে এক রহস্য। বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত ছিল।”

উপসংহার ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের এই মন্তব্য হলিউড এবং বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাক-স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার অন্তরায় হিসেবে তিনি বর্তমান প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। এখন দেখার বিষয়, আসলেই কি এই প্রভাবশালী অভিনেত্রী তার মাতৃভূমি ছেড়ে ইউরোপে নতুন ঠিকানা গড়েন কি না।

সানি দেওলের ‘বর্ডার ২’ ভাঙল ‘পাঠান’-এর রেকর্ড

0

বলিউডের নতুন যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘বর্ডার ২’ মুক্তির পর থেকে বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে। প্রথম দিন থেকেই দর্শকউন্মুখ হাউসফুল দেখানো এই ছবিটি গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে একদিনে আয় করেছে ৫৯ কোটি রুপি, যা বলিউডের হিট ছবি ‘পাঠান’-এর চতুর্থ দিনের আয়কে ছাড়িয়ে গেছে।


📈 বক্স অফিসে তোপের মতো রিস্পন্স

‘বর্ডার ২’-এর ব্যবসা শুরুতেই ছিল শক্তিশালী। প্রথম দিন ছবিটি আয় করে ৩০ কোটি রুপি। দ্বিতীয় দিনে ব্যবসা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ রুপি এবং তৃতীয় দিনে আয় হয় ৫৪ কোটি ৫ লাখ রুপি। চতুর্থ দিনে ছুটি ও উৎসবের প্রভাব মিলিয়ে অর্থের রেকর্ড আয় করে ছবিটি নতুন করে তাক লাগিয়েছে।

চার দিনের মোট ব্যবসা এখন পর্যন্ত ১৮০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা হিসেবে ‘বর্ডার ২’-কে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


📊 অন্য ছবির রেকর্ডও টপকে

‘বর্ডার ২’-এর এই রেকর্ডকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে খুব কম ছবি সক্ষম হয়েছে। শাহরুখ খানের জনপ্রিয় অ্যাকশন ছবি ‘পাঠান’-এর চতুর্থ দিনে আয় ছিল ৫১ কোটি ৫ লাখ রুপি, যা এবার ‘বর্ডার ২’-এর সাথে টক্কর না করতে পারে।

এছাড়া সানি দেওলের আগের হিট ‘গদর ২’-এর চতুর্থ দিনের আয় ছিল ৩৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি, বলিউড হিরো হৃতিক রোশনের ‘ফাইটার’ ছিল ২৯ কোটি রুপি। অন্য সাম্প্রতিক মুক্তির ছবিগুলিও তুলনামূলকভাবে কম ব্যবসা করেছে।


🎥 সিনেমার কাস্ট ও দর্শক প্রতিক্রিয়া

‘বর্ডার ২’-তে সানি দেওলের সাথে অভিনয় করেছেন বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, আহান শেঠি, মোনা সিং, অন্যা সিং, মেধা রানা ও সোনম বাজওয়া। যুদ্ধ ও দেশপ্রেমকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।


🌍 আন্তর্জাতিক বাজারেও সাফল্য

ভারত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্ক্রিনেও ‘বর্ডার 2’ বৈশ্বিকভাবে ২০০ কোটি রুপি আয় করেছে। এখন পর্যন্ত মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ২০ লাখ রুপি-রও বেশি, যা জানুয়ারির মুক্তি নেওয়া ছবিগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয়।

বলিউডের গত কয়েক দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ছবি ‘বর্ডার’-এর ভিত্তিতে নির্মিত ‘বর্ডার ২’-এর এই সাফল্য নানামুখী বিশ্লেষণ সৃষ্টি করেছে।


🏁 উপসংহার

বক্স অফিসে ‘বর্ডার ২’-এর অপ্রতিরোধ্য ব্যবসা ও দর্শকপ্রিয়তা ইঙ্গিত করছে, এটি শীঘ্রই বলিউডের অন্যতম ব্লকবাস্টার সিনেমা হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখাবে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে মহানাটক: গোলরক্ষকের গোলে বেনফিকার ইতিহাস, প্লে-অফে রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি

0

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটে লিগ পর্বের শেষ রাতটি ফুটবল বিশ্বকে উপহার দিল এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চ। যে রাতে নাটকীয়তা, লাল কার্ড এবং এক গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য গোল ভাগ্য বদলে দিল ইউরোপের জায়ান্ট দলগুলোর। ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ও টুর্নামেন্টের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদকে সরাসরি শেষ ষোলোর টিকিট না পেয়ে এখন খেলতে হবে অতিরিক্ত প্লে-অফ রাউন্ড।

ত্রুবিনের গোল এবং বেনফিকার রূপকথা লিসবনে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচটি ছিল টিকে থাকার লড়াই। জোসে মরিনিওর শিষ্যরা তখন ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে, কিন্তু এই ব্যবধান তাদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ড্র করলেই সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত হতো রিয়ালের। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে ঘটে সেই মহানাটক। রিয়ালের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে চাপে পড়ে যায় লস ব্লাঙ্কোসরা। ম্যাচের একেবারে শেষ মিনিটে (৯৮ মিনিট) ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করে বসেন বেনফিকার গোলরক্ষক আনাতলি ত্রুবিন। এই এক গোলই মার্শেইকে গোল ব্যবধানে পেছনে ফেলে বেনফিকাকে তুলে দেয় প্লে-অফে।

শীর্ষ আটে যারা: সরাসরি শেষ ষোলোতে কোয়ালিফাই করল যারা লিগ পর্ব শেষে কোনো হার ছাড়াই শীর্ষে থেকে শেষ করেছে আর্সেনাল। শেষ ম্যাচে কাইরাত আলমাতিকে হারিয়ে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। আর্সেনালের পাশাপাশি সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করা অন্য ৭টি দল হলো— বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহাম, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্তিং সিপি এবং ম্যানচেস্টার সিটি। এই দলগুলো এখন সরাসরি নকআউট পর্বের ড্রয়ের জন্য অপেক্ষা করবে।

বিপাকে রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য রাতটি ছিল দুঃস্বপ্নের। হারার কারণে তারা টেবিলের ৯ম স্থানে নেমে গেছে। ফলে এখন তাদের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে একটি অতিরিক্ত প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হবে। একই দশা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিরও। ঘরের মাঠে নিউক্যাসলের সাথে ১-১ ড্র করায় তারা ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১০ম স্থানে অবস্থান করছে। বড় দলগুলোর মধ্যে ইন্টার মিলান, আতলেতিকো মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকেও এখন প্লে-অফের কঠিন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে।

লিভারপুল ও আর্সেনালের দাপট লিগ পর্বের শেষ দিনে সবচেয়ে বড় জয়টি পেয়েছে লিভারপুল। কারাবাগকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে অল রেডরা তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের জানান দিয়েছে। অন্যদিকে, নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিমট বড় চমক দেখিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদকে তাদের মাঠেই ২-১ গোলে হারিয়ে। এই জয়ের ফলে তারাও প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

বিদায় নিল যারা সব হিসাব-নিকাশ শেষে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে ফরাসি ক্লাব মার্শেই, ইতালির নাপোলি, ডাচ ক্লাব আয়াক্স এবং পিএসভি আইন্দহফেনের মতো বড় দলগুলো। নতুন ফরম্যাটের এই লিগ পর্ব ফুটবল ভক্তদের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে রেখেছিল। এখন সবার চোখ নকআউট প্লে-অফের ড্র এবং শেষ ষোলোর লড়াইয়ের দিকে।

প্লেব্যাক থেকে বিরতি নিচ্ছেন অরিজিৎ সিং: এবার কি তবে নতুন পরিচয়ে পর্দায় আসছেন গায়ক?

0

বিনোদন ডেস্ক, এটুনিউজ২৪.কম: ভারতীয় সঙ্গীত জগতের ধ্রুবতারা এবং কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন অরিজিৎ সিং। যার মায়াবী কণ্ঠ ছাড়া বলিউডের রোমান্টিক সিনেমা কল্পনা করাও কঠিন, সেই জাদুকরী কণ্ঠই কি তবে এবার থমকে যাচ্ছে? সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অরিজিতের একটি পোস্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিনোদন জগতে। প্লেব্যাক সিঙ্গিং বা সিনেমার গানে কণ্ঠ দেওয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ভক্তদের জন্য হতাশার পাশাপাশি রয়েছে এক চমকপ্রদ খবর—খুব শীঘ্রই তাকে দেখা যেতে পারে চলচ্চিত্র পরিচালকের আসনে।

আচমকা অবসরের ঘোষণা: ভক্তদের মনে সংশয় নতুন বছরের শুরুতেই অরিজিৎ সিং তার অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে ভক্তদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি একটি বড় সিদ্ধান্ত শেয়ার করেন। তিনি জানান, প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে তিনি আর কোনো নতুন কাজ নিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “এই সফরটি ছিল সত্যিই অসাধারণ। আমি আপাতত প্লেব্যাক থেকে ইতি টানছি।” এই ঘোষণার পর থেকেই নেটিজেনদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি আর সিনেমার পর্দায় শোনা যাবে না তার গান? তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, গান তৈরি করা তিনি পুরোপুরি বন্ধ করছেন না, কেবল বাণিজ্যিক সিনেমার চুক্তিবদ্ধ কাজ থেকে বিরতি নিচ্ছেন।

পরিচালকের আসনে অরিজিৎ: নতুন স্বপ্নের পথে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, অরিজিৎ সিংয়ের এই ‘অবসর’ আসলে তার দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতির অংশ। তিনি এখন চলচ্চিত্র পরিচালনার কাজে মনোনিবেশ করতে চান। শোনা যাচ্ছে, অরিজিৎ একটি বড় বাজেটের ‘জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চার’ ঘরানার সিনেমা পরিচালনা করতে চলেছেন। এই ছবির চিত্রনাট্য তিনি নিজেই লিখেছেন তার স্ত্রী কোয়েল সিংয়ের সাথে মিলে। সিনেমাটি প্যান-ইন্ডিয়া বা সর্বভারতীয় স্তরে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন? অরিজিৎ সিং সবসময়ই গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। গত এক দশক ধরে তিনি বলিউডের শীর্ষস্থানে রয়েছেন। তবে অন্দরমহলের গুঞ্জন, বাণিজ্যিক সিনেমার গানের ধরাবাঁধা নিয়ম এবং লবিংয়ের সংস্কৃতি থেকে কিছুটা মুক্তি চেয়েছেন তিনি। স্বাধীনভাবে সঙ্গীত চর্চা করা এবং সৃজনশীল অন্য মাধ্যমে (যেমন চলচ্চিত্র পরিচালনা) নিজেকে পরখ করে দেখার জন্যই এই এক বছরের বিরতি বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এছাড়া অনুরাগ বসুর মতো প্রখ্যাত পরিচালকরাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অরিজিতের ভেতরে একজন দক্ষ পরিচালক সত্তা লুকিয়ে আছে।

পুরোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন শিল্পী ভক্তদের জন্য একটি স্বস্তির খবর হলো, অরিজিৎ সিং তার আগে থেকে হাতে নেওয়া কাজগুলো শেষ করবেন। অর্থাৎ ২০২৬ সালেও তার বেশ কিছু নতুন গান মুক্তি পাবে যা ইতিমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন কোনো সিনেমার গানে চুক্তিবদ্ধ না হলেও তার নিজস্ব মিউজিক লেবেল ‘ওরিয়ন মিউজিক’-এর মাধ্যমে তিনি স্বাধীন গান প্রকাশ করে যাবেন।

উপসংহার জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র অরিজিৎ সিং প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল একজন গায়ক নন, একজন প্রকৃত শিল্পী। প্লেব্যাক থেকে তার এই প্রস্থান সাময়িক না দীর্ঘস্থায়ী—তা সময় বলবে। তবে ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের প্রিয় গায়কের পরিচালিত প্রথম সিনেমাটি দেখার জন্য। অরিজিতের এই নতুন সফর সফল হোক—এটাই এখন কোটি কোটি অনুরাগীর চাওয়া।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড: পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শরীফের ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা

0

আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ দল ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের জায়গায় খেলার সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে স্কটিশ শিবিরে নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভিজ্ঞ পেসার সাফিয়ান শরীফের ভিসা প্রাপ্তি। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়ায় ভারতের ভিসা পেতে বিলম্ব হতে পারে—এমন আশঙ্কায় এখন আইসিসির দিকে তাকিয়ে আছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।

কেন বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড? নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হওয়ায় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি বড় সিদ্ধান্ত নেয়। বাছাইপর্ব উতরে আসতে না পারা দলগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকায় স্কটল্যান্ডকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টে এখন লাল-সবুজের পরিবর্তে দেখা যাবে স্কটিশদের।

ভিসা জটিলতায় সাফিয়ান শরীফ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে স্কটল্যান্ড। এই দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার সাফিয়ান শরীফ। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ভারতীয় ভিসা পেতে প্রায়ই দীর্ঘসূত্রিতার মুখোমুখি হতে হয়। সাফিয়ান শরীফের জন্ম যুক্তরাজ্যে হলেও তার পৈত্রিক পরিচয় পাকিস্তানি হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্কটল্যান্ড ক্রিকেট দলের চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। তার আগেই শরীফের ভিসা নিশ্চিত করতে বিসিসিআই ও ভারত সরকারের সাথে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে আইসিসি।

আইসিসি ও স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য স্কটল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড এই বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারা আইসিসির সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। ভিসার বিষয়টি অনেকটা অনিশ্চিত হলেও আইসিসি তাদের সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। দলের পারফরম্যান্স প্রধান স্টিভ স্নেল জানিয়েছেন, আইসিসি এবং বিসিসিআই এই জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের অসাধারণ সহযোগিতা করছে। কোনো কারণে মূল খেলোয়াড়রা ভিসা না পেলে যেন দল পূর্ণ শক্তিতে নামতে পারে, সেজন্য বাড়তি রিজার্ভ খেলোয়াড়দেরও ভিসার আবেদন করা হচ্ছে।

স্কটল্যান্ড স্কোয়াডে চমক এবারের স্কটিশ স্কোয়াডে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলে নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন ১৯ বছর বয়সী আফগান বংশোদ্ভূত পেসার জাইনুল্লাহ ইহসান। এছাড়া বড় সংযোজন হিসেবে থাকছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা টম ব্রুস। গত বছর নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে তিনি স্কটল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে অভিষেক করেছিলেন। রিচি বেরিংটনের নেতৃত্বে এই দলটি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে।

একনজরে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াড: রিচি বেরিংটন (অধিনায়ক), টম ব্রুস, ম্যাথু ক্রস, ব্র্যাড কারি, ওলি ডেভিডসন, ক্রিস গ্রিভস, জাইনুল্লাহ ইহসান, মাইকেল জোন্স, মাইকেল লিস্ক, ফিনলে ম্যাকক্রিথ, ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন, জর্জ মানসি, সাফিয়ান শরীফ, মার্ক ওয়াট এবং ব্র্যাড হুইল।

ভিসা জটিলতা কাটিয়ে সাফিয়ান শরীফ সময়মতো দলের সাথে যোগ দিতে পারবেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশ্ব ক্রিকেট ভক্তদের নজর এখন ৭ ফেব্রুয়ারির উদ্বোধনী ম্যাচের দিকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ; ক্রিকেটের জন্য এটি বড় ক্ষতি, আক্ষেপ কিংবদন্তি ডি ভিলিয়ার্সের

0

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বইছে আলোচনার ঝড়। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় এবারের আসর থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং আইসিসি কর্তৃক তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করার বিষয়টি মানতে পারছেন না অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, একটি বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মতো দলের না থাকা ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

মিস্টার ৩৬০-এর আক্ষেপ ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৬০’-এ নিয়মিতভাবে ক্রিকেটের খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলেন এই সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক। সাম্প্রতিক এক ভিডিও সেশনে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া প্রসঙ্গে নিজের খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেন। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “আমি এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কথা বলতে চাই না। এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর ব্যক্তিগত বিষয়। আমার কাছে হয়তো সব তথ্য নেই, তাই গভীর মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি বলতে পারি, পরিস্থিতি কখনোই এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয় যেখানে একটি দলকে টুর্নামেন্ট থেকেই নাম সরিয়ে নিতে হয়।”

রাজনীতি ও ক্রিকেটের সংঘাত নিয়ে কড়া বার্তা ডি ভিলিয়ার্স সবসময়ই খেলার মাঠে রাজনীতির অনুপ্রবেশের বিরোধী। ভিডিওতে তিনি সরাসরি বলেন, “ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির মিশে যাওয়া আমি একদমই পছন্দ করি না। আজ রাজনীতি এবং নিরাপত্তার মারপ্যাঁচে একটি দলকে বিশ্বকাপের বাইরে থাকতে হচ্ছে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি জানি না এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কারা বা কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাজ করেছে, তবে তাদের উচিত ছিল এই সংকটের সমাধান করা। ক্রিকেটের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এমন সিদ্ধান্ত কখনোই কাম্য নয়।”

কেন নেই বাংলাদেশ? প্রেক্ষাপট ও ঘটনাক্রম আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। নিরাপত্তা জনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। বিসিবির দাবি ছিল, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে, সম্প্রতি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে উগ্রপন্থী হুমকির মুখে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তবে বিসিবির সেই প্রস্তাব আইসিসি বোর্ড সভায় নাকচ হয়ে যায়। ভোটাভুটির মাধ্যমে অধিকাংশ সদস্য দেশ ভারতকে নিরাপদ ভেন্যু হিসেবে রায় দিলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত গত শনিবার আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের পরিবর্তে গ্রুপ ‘সি’-তে খেলবে স্কটল্যান্ড।

বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিধ্বনি বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে এর আগে পাকিস্তানি কিংবদন্তি মোহাম্মদ ইউসুফসহ অনেক বিশ্লেষকই আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট শক্তির অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের জৌলুস কমিয়ে দেবে। ডি ভিলিয়ার্সের এই নতুন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এল।

উপসংহার বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের জার্সি না থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য যেমন বেদনার, তেমনি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও এটি বড় এক শূন্যতা। ডি ভিলিয়ার্সের মতো তারকারা যখন এই বিষয়ে মুখ খোলেন, তখন বোঝা যায় ক্রিকেটের বিশ্বায়ন ও স্বচ্ছতার জন্য রাজনৈতিক দূরত্বের সমাধান কতটা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি ভবিষ্যতে এই ধরনের সংকট মোকাবিলায় কোনো স্থায়ী সমাধান খুঁজে পায় কি না।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন কী চলছে: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় ক্রিকেটাররা কী করছেন?

0

বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন অপ্রত্যাশিত শূন্য সময় পার করছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল গঠিত হওয়া সত্ত্বেও ম্যাচ মাঠে নামার অপেক্ষা আর ষড়যন্ত্রে ভরপুর পরিস্থিতি ক্রিকেট অঙ্গনের গতিবিধি স্থগিত করে দিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে বহু প্রতীক্ষা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ মাঠে দেখা যাবে না।

সোমবার রাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি স্কটল্যান্ডকে টাইগারদের পরিবর্তে বিশ্বকাপের টিকিট দেয়ার ঘোষণা করলে সেই ধাক্কা দেশের খেলোয়াড় ও ভক্তদের মনোবল কমিয়ে দিয়েছে।


🧑‍🎤 ক্রিকেটারদের দৈনন্দিন জীবন এখন কেমন?

বিশ্বকাপের উইকেট টপকানোর পর বাংলাদেশের নির্বাচিত কিছু ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে দেশে ফিরে গ্রামের বাড়িতে থাকছেন, আবার কিছু খেলোয়াড় ঢাকায় সময় কাটাচ্ছেন। কেউ সরাসরি অনুশীলনে ব্যস্ত নন, আবার কেউ আবার পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা গেছে, একাডেমি মাঠে ক্রিকেটারদের অনুশীলন বা ফিটনেস কার্যক্রম আজ মুখে পড়ার মতো নেই। সাধারণত যারা প্রতিদিন অনুশীলনে ব্যস্ত থাকেন, গতকাল তারা মাঠে দেখা যায়নি।

একাডেমি মাঠে দুপুরে শুধু মাঠকর্মীরা ঘাস কেটে যাচ্ছিলেন — ব্যস্ত অধিকাংশ খেলোয়াড় আর প্রশাসনিক কার্যক্রম নেই এমনটাই পরিস্থিতি।


📊 ক্রিকেট বোর্ডে কোন ব্যস্ততা?

মিরপুরে শুধু খেলোয়াড় নয়, বিসিবি ভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও তাড়াহুড়ো করতে দেখা যায়নি। অনেকেই মনে করছেন, এখন ক্রিকেট পরিচালনা বোর্ড কিছুটা স্থবির অবস্থায় আছে। একটি সূত্র বলছে, “সবাই আসলে জাতীয় বোর্ড নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষা করছে। এখনো বহু সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়নি। তাই সবাই চুপচাপ অপেক্ষা করছে।”


👕 ঘরোয়া ও ক্লাব ক্রিকেটেও লক্ষ্যণীয় শংকা

ক্রিকেটের একমাত্র ঘরোয়া স্তরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। ঢাকার ক্রিকেটে সম্প্রতি অনেক বড় ক্লাব অনশন বা বয়কট ঘোষণা করেছে। বিসিবি-র বর্তমান পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে ৪৮টি ক্লাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ফলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মতো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া সিরিজেও খেলোয়াড় ও ক্লাবের অংশগ্রহণ হ্রাস পেতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


🏆 নতুন টুর্নামেন্ট: সাময়িক সমাধান?

অনেক ক্রিকেটার এবং বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার জানান, একটি বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা করছেন যাতে খেলোয়াড়দের সক্রিয় রাখা যায়।

এ বিষয়ে তারা বলেছে যে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে ওয়ানডে ও চার দিনের ফরম্যাটের ম্যাচগুলোও আয়োজন করা হতে পারে।


📰 সারসংক্ষেপ

  • আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানায়।

  • খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও প্রস্তুতি স্থবির হয়ে আছে।

  • বিসিবি-র কার্যক্রমও অপেক্ষাশীল মনে হচ্ছে।

  • ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেটেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

  • নতুন টুর্নামেন্টের পরিকল্পনায় চলছে আলোচনা।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন- ‘কড়া হিসাব রাখব, গণ্ডায় গণ্ডায় হিসাব গুঁজে দেব’

0

বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে দলের সমাবেশে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) চেয়ার‌ম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে দলের নেতাকর্মীদের কোনো দিকচ্যুতি ছাড়াই মাঠে থাকতে হবে। তিনি দাবি করেছেন, মানুষের অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষায় সব জায়গায় হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে করা হবে

তিনি আরও বলেন, কোনো শক্তি যদি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, তাহলে দলের নেতৃত্ব ও কর্মীরা “কড়া হিসাব” মনে রেখে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে। তার এসব মন্তব্য পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি পুনরায় শক্তি জোগানোর উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে সামনে এসেছে।


🟢 সমাবেশে তারেকের বক্তব্য

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, “যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের শোনার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটের মর্যাদা রক্ষার জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণের পক্ষে কথা বলাই আমাদের দায়িত্ব।” তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমান সুযোগ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, সমাবেশে দলের সাধারণ সদস্যরা অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন এবং দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর কথাবার্তা হয়। সমাবেশের শেষে বিএনপি সভাপতি তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আগামী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে একটি নান্দনিক বার্তা দেন।


🔵 রাজনৈতিক পরিবেশে বিএনপি

বাংলাদেশে রাজনীতিতে বর্তমান সময়কে অনেক বিশ্লেষক “সংঘর্ষময়” বলে অভিহিত করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্রে রেখে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ময়মনসিংহের মতো বড় শহরে এভাবে সরাসরি নেতার বক্তব্য জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে বিএনপি নিজেদের কার্যক্রমকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু ও সাধারণ মানুষের আপেক্ষিক চাহিদাগুলোর ওপর ভিত্তি করে দলটি সমর্থকের মধ্যে উৎসাহ ও প্রত্যাশা তৈরি করতে চাইছে, বিশেষ করে ভোটের সামনেই এটা দিকপাল্টানো একটি প্রভাবশালী স্ট্র্যাটেজি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


📊 অবস্থান ও বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু

রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সমাবেশে পরিবেশিত বক্তব্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিয়েও বিএনপি নেতারা সমালোচনায় অংশ নেন। তাদের বক্তব্য, সরকার সাধারণ মানুষের চাহিদা ও সমস্যাগুলোর প্রতিকারে যথাযথ মনোযোগ দিচ্ছে না এবং এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিরোধী দলগুলোর এমন বক্তব্য জনগণের মনোভাবকে প্রভাবিত করে ক্ষমতার ক্যাপসুলে পরিবর্তন আনতে পারে।

রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত

0

ওগাঁর সাপাহার উপজেলায় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব থেকে রাজনৈতিক চাপ-সম্পর্কিত বিতর্কের মধ্যে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

🧑‍🕌 চাকরি হারানোর পেছনে দায় কোন প্রেক্ষাপট?

উপজেলার তালপুকুর মাস্টারপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে, তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি সমর্থনের আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ওঠে।

তার দাবি, তার রাজনৈতিক মতাদর্শ ও বিপক্ষের সমর্থনে ফেসবুক পোস্ট করার কারণে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী কমিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে যাতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।”

🪪 মসজিদ কমিটির বক্তব্য

মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বক্স এই ঘটনাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার ভাষ্য, আল আমিনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব স্থানীয় মানুষ ও কমিটির অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। একই সাথে মসজিদের সামনে একটি দোকান বসানোর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। দোকানদারকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের পরও দোকান না সরানোর কারণে কমিটিকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, মুয়াজ্জিন ওই দোকানদারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

📣 রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার broad প্রেক্ষাপটে সাপাহার উপজেলা জামায়াত একটি পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, আবিদ করা বক্তব্য ভুল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এবং এই ঘটনায় জামায়াতের কোনো সরাসরি অংশগ্রহণ নেই।

📍 সমাজ ও রাজনীতিতে প্রভাব

এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষ করে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব কতটা উচিত, সে বিষয়ে সিরিয়াস আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মাদুরো স্টাইলে’ তুলে আনার হুমকি দিল ইরান: বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা

0

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক এক হুমকি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ঝড় তুলেছে। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োগ করা কৌশলের মতোই (মাদুরো স্টাইল) পাকড়াও করার পরিকল্পনা করছে।

কী এই ‘মাদুরো স্টাইল’ হুমকি? ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের অভিযোগ এনে তার মাথার ওপর বিপুল অংকের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। ইরানের পক্ষ থেকে এখন প্রায় একই ধরণের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। তেহরানের দাবি, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বা অন্য কোনো পন্থায় তাদের হাতে তুলে নিতে তারা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি ইরান সরকার বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মুদ্রার পতন এমন এক সময়ে এই হুমকির খবর সামনে এলো যখন ইরানের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি বেশ নাজুক। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভের মুখে ইরানি মুদ্রার (রিয়াল) রেকর্ড পরিমাণ দরপতন ঘটেছে। অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ জনরোষ থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই ইরান সরকার পুনরায় ট্রাম্প-বিদ্বেষী এবং জাতীয়তাবাদী আবেগ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তুরস্কের নজরদারি ও বাফার জোনের আশঙ্কা ইরানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, যদি ইরানে বর্তমান সরকারের পতন ঘটে বা বড় ধরণের কোনো গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তবে তুরস্ক সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘বাফার জোন’ বা বিশেষ নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। আঙ্কারার এই অবস্থান তেহরানের জন্য নতুন এক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌবহর মোতায়েন ইরানের ক্রমাগত হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রও হাত গুটিয়ে বসে নেই। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ইতিমধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিশাল নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরণের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। সাগরে রণতরীর এই উপস্থিতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘসহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো এই পাল্টাপাল্টি হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই ধরণের কড়া অবস্থান বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কোনো ধরণের অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়বে সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে।

উপসংহার ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ট্রাম্পকে তুলে আনার এই হুমকি কেবল বাগাড়ম্বর নাকি এর পেছনে ইরানের কোনো গোপন পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি যে সুতোয় ঝুলছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ঢাকা-৮ আসনে ফের উত্তাপ: শান্তিনগরে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর ডিম হামলা, নেপথ্যে কী?

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে প্রচার-প্রচারণা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর আবারও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। শান্তিনগরের হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এ ঘটনা ঘটে।

শান্তিনগরে প্রচারণাকালে অতর্কিত হামলা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ প্রাঙ্গণে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী তার সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন। সভা চলাকালীন হঠাৎ একদল যুবক তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে। এ সময় সভাস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির আকস্মিকতায় নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও তার কর্মীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার তার নির্বাচনী প্রচারণায় এ ধরনের বাধা ও হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে।

নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ হামলার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী একে ‘গণতন্ত্রের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন দেখে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মহল ভীত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “বারবার আমার ওপর হামলা করে আমাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। জনগণের অধিকার আদায়ে আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।” এই ঘটনার জন্য তিনি তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও তাদের উস্কানিকে দায়ী করেছেন।

প্রতিপক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি: ‘সস্তা জনপ্রিয়তার কৌশল’ নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবান্তর অভিযোগ তুলছেন। তিনি একে ‘ভাইরাল হওয়ার কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-৮ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকায় প্রার্থীরা একে অপরের ওপর দোষারোপের মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ঢাকার বিভিন্ন আসনে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। শুধু ঢাকা-৮ নয়, নড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যেও দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে বারবার সুষ্ঠু পরিবেশের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

১১ দলীয় জোটের কঠোর অবস্থান নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে। জোটের নেতারা মনে করছেন, এই ধরণের হামলা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি অপচেষ্টা। তারা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

উপসংহার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ প্রচারণার অধিকার সবার রয়েছে। নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর বারবার হামলা রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে। ঢাকা-৮ আসনের সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে একটি সহিংসতামুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ বয়কট করলে কি কি ক্ষতির মুখে পড়বে পাকিস্তান? আইসিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

0

স্পোর্টস ডেস্ক: ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আয়োজিত হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের একটি হুমকি ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার যে অনড় অবস্থান নিয়েছে, তা তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ হতে পারে। আইসিসি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলে পাকিস্তানকে বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা আইসিসির লভ্যাংশ হিসেবে পাকিস্তান প্রতি বছর প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা পেয়ে থাকে। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে এই বিশাল অংকের টাকা থেকে তারা বঞ্চিত হতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য এই অর্থের গুরুত্ব অপরিসীম।

নির্বাসন ও হাইব্রিড মডেলের ইতি পিসিবি তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য আইসিসির কাছ থেকে ‘হাইব্রিড মডেল’ আদায় করেছে। কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করলে ভবিষ্যতে আর কখনোই তারা এ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবে না। এছাড়া, যদি প্রমাণ হয় যে সরকারের হস্তক্ষেপে পিসিবি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে জিম্বাবুয়ে বা শ্রীলঙ্কার মতো পাকিস্তানকেও অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাসিত করতে পারে আইসিসি। এমনকি এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) তাদের এশিয়া কাপ থেকেও বহিষ্কার করতে পারে।

পিএসএল ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ শঙ্কা পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে ক্রিকেট বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেক দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে অসম্মতি জানাতে পারে। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বড় আকর্ষণ বিদেশি ক্রিকেটাররা। আইসিসির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে বিদেশি বোর্ডগুলো তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলার জন্য ছাড়পত্র (NOC) নাও দিতে পারে, যা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়কটের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের ক্রিকেটের স্বার্থেই পাকিস্তানকে হয়তো পিছু হটতে হতে পারে।

ইয়ামাল ম্যাজিক! ওভিয়েডোকে উড়িয়ে লা লিগার সিংহাসন ফিরে পেল বার্সেলোনা

0

স্পোর্টস ডেস্ক: রিয়াল মাদ্রিদের রাজত্ব কেড়ে নিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও লা লিগার শীর্ষে ফিরল বার্সেলোনা। রবিবার রাতে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা রিয়াল ওভিয়েডোর মুখোমুখি হয়ে ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। ম্যাচের হাইলাইট হয়ে রইল বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের সেই চোখধাঁধানো সাইড ভলি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ওভিয়েডোর রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল বার্সাকে। তবে বিরতির পর ফিরে এসেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে কাতালানরা। ৫২ মিনিটে রাফিনহা ও ইয়ামালের দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সের ভেতর বল পান ডানি অলমো, যা জালে জড়াতে ভুল করেননি তিনি। ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্তটি আসে লামিন ইয়ামালের পা থেকে। অলমোর নিখুঁত ক্রস থেকে এক ডিফেন্ডারকে শরীরে লেপ্টে থাকা অবস্থাতেই বাঁ-পায়ের অবিশ্বাস্য এক সাইড ভলিতে গোল করেন ইয়ামাল। এই গোলের পর ওভিয়েডোর ফেরার আর কোনো পথ খোলা ছিল না।

এই জয়ের ফলে ২১ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের এক নম্বরে উঠে এল বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ লিগের শিরোপা লড়াই এখন রীতিমতো স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক: ট্রাম্পের নীতি ও নিরাপত্তা শঙ্কায় উত্তাল বিশ্ব ফুটবল

0

স্পোর্টস ডেস্ক: মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনও মাস পাঁচেক বাকি। কিন্তু তার আগেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে কালো মেঘ। যৌথভাবে আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকার নাম থাকলেও, দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত নীতি ও কঠোর অভিবাসন আইনের প্রতিবাদে এবার বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিচ্ছে ইউরোপের তিন ফুটবল পরাশক্তি— ডেনমার্ক, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস।

কেন এই বয়কটের ডাক? বিশ্বকাপের মোট ১১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৪টিই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আমেরিকায়। কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে যে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে, তাতে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান এবং হাইতির মতো দেশগুলো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের সমর্থকদের আমেরিকায় প্রবেশ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কারণে ডেনমার্কের সাথে আমেরিকার কূটনৈতিক দূরত্ব বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ফুটবল মাঠে। ডেনমার্ক ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছে। জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসও এই দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেছে। নেদারল্যান্ডসের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ এক পিটিশনে সই করে দাবি জানিয়েছেন যে, অভিবাসীদের ওপর সহিংসতার আশঙ্কায় তাদের দলের এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ফিফার স্বাধীন পরিচালন কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সুইজারল্যান্ডের প্রখ্যাত আইনজীবী মার্ক পিয়েত ফুটবলপ্রেমীদের পরামর্শ দিয়েছেন আমেরিকা থেকে দূরে থাকার জন্য। তার মতে, বর্তমান সীমান্তে পর্যটকদের যে পরিমাণ হেনস্থা হতে হচ্ছে, তাতে সেখানে যাওয়া নিরাপদ নয়। ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট শেপ ব্লাটারও এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন।

চাপে ফিফা ও আমেরিকা ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্কের কথা সবারই জানা। ট্রাম্পকে ফিফার পক্ষ থেকে শান্তি পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম রাখা সত্ত্বেও ফিফা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে ইউরোপের বড় দলগুলোর বয়কটের হুমকিতে এখন বড় ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপে পড়েছে ফিফা।

ফুটবল মাঠে রক্তাক্ত তাণ্ডব: মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের গুলিতে নারী-শিশুসহ ১১ প্রাণহানি

0

মেক্সিকোর সালামাঙ্কা শহরে ফুটবল মাঠে ভয়াবহ বন্দুকধারী হামলায় নিহত ১১, আহত ১২। নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার বিস্তারিত জানুন।

মূল প্রতিবেদন: মেক্সিকোর অশান্ত গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। সালামাঙ্কা শহরের একটি ফুটবল মাঠে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় আরও ১২ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, সালামাঙ্কার ‘লোমা ডি ফ্লোরেস’ এলাকার একটি ফুটবল মাঠে স্থানীয়রা যখন খেলা শেষে কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই একদল সশস্ত্র হামলাকারী সেখানে হানা দেয়। তারা উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে। ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।

সালামাঙ্কার মেয়র সিজার প্রিয়েতো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও কাপুরুষোচিত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, অপরাধী চক্রগুলো প্রশাসনকে দমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

উলেখ্য, মেক্সিকোর এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী চক্র বা গ্যাংগুলোর লড়াইয়ের কারণে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম দাবি করেছিলেন যে ২০২৫ সালে হত্যাকাণ্ডের হার কমেছে, তবে সাম্প্রতিক এই আক্রমণ দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অপরাধীদের ধরতে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।

জাবি বনাম আরবেলোয়া: পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে নতুন বিপ্লব

0

রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া কি জাবি আলোনসোর চেয়েও সেরা? পরিসংখ্যান ও কৌশলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখুন লস ব্লাঙ্কোসদের বর্তমান পারফরম্যান্সের সব আপডেট।

মূল প্রতিবেদন: ফুটবল বিশ্বে তুলনা একটি সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে যখন মঞ্চটি হয় রিয়াল মাদ্রিদের। গত ১২ জানুয়ারি জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করার পর যখন আলভারো আরবেলোয়ার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, তখন অনেক ভক্তই সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু মাত্র ৪টি ম্যাচেই সেই সন্দেহ দূর করতে শুরু করেছেন আরবেলোয়া।

পরিসংখ্যানের লড়াই: জাবি আলোনসোর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ ৩৪ ম্যাচে ২৪টি জয় পেলেও বড় আসরে খেই হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু আরবেলোয়া আসার পর দল যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ৪ ম্যাচে আলোনসোর রিয়াল ৮ গোল করলেও আরবেলোয়ার দল করেছে ১২ গোল। শুধু গোল সংখ্যাই নয়, বল দখলের লড়াইয়েও আরবেলোয়া (৬৩.৯%) জাবির (৫৭.৩%) চেয়ে এগিয়ে আছেন।

আরবেলোয়ার জাদুর কাঠি: আরবেলোয়া স্কোয়াডে বড় কোনো পরিবর্তন না এনেও কৌশলে এনেছেন ভিন্নতা। আর্দা গুলারকে নিয়মিত একাদশে ফেরানো এবং কামাভিঙ্গাকে রক্ষণভাগের পাশাপাশি মাঝমাঠে কার্যকরী করা তার কোচিং দর্শনের উজ্জ্বল দিক। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোর বিপক্ষে ৬-১ গোলের জয়টি প্রমাণ করে যে, রিয়াল মাদ্রিদ এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে।

উপসংহার: যদিও জাবি আলোনসোকে নিজেকে প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি বলে অনেকে মনে করেন, কিন্তু আরবেলোয়ার শুরুটা সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে লা লিগা এবং ইউরোপীয় আসরে তারা আরও বড় সাফল্যের দাবিদার।

শপথ ভাঙেননি আমৃত্যু: ‘বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাব না’ বলা সেই নিজাম আর নেই

0

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সেই আলোচিত বিএনপি সমর্থক নিজাম উদ্দিন মণ্ডল (৬৫) মারা গেছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) ভোরে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ‘ভাত না খাওয়ার’ কঠিন প্রতিজ্ঞা পালন করে আসছিলেন এই প্রবীণ ব্যক্তি।

কেন নিয়েছিলেন এই কঠিন শপথ? ঘটনাটি ২০১৪ সালের ৩১ মে-র। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ গ্রামে দোয়া ও ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সেই আয়োজন পণ্ড করে রান্না করা খাবার ড্রেনে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় চরম অপমানিত বোধ করেন নিজাম উদ্দিন। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, “যতদিন বিএনপি ক্ষমতায় না ফিরবে, ততদিন তিনি এক দানা ভাতও মুখে তুলবেন না।”

এক যুগের কৃচ্ছ্রসাধন: সেই থেকে আমৃত্যু তিনি ভাত স্পর্শ করেননি। রুটি, চিড়া, কলা আর গুড় খেয়েই বেঁচে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা এবং চিকিৎসকরা বারবার অনুরোধ করলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। নিজাম উদ্দিন বলতেন, “প্রতিজ্ঞা ভাঙলে আমি নিজের বিবেকের কাছে ছোট হয়ে যাব।” দীর্ঘদিনের এই খাদ্যাভ্যাসে তার শরীর ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার তত্ত্বাবধানে ঢাকা ও ফরিদপুরে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা আর হলো না।

নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, তার এই নিরব প্রতিবাদ ও ত্যাগ দলের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে রোমহর্ষক দৃশ্য

0

নিজস্ব প্রতিবেদক | A2news24

রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে বসুন্ধরা সিটির পেছনে তেজতুরী বাজার এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় আবু সুফিয়ান নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি করার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে স্টার হোটেলের সামনে দুর্বৃত্তরা মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে ৫টি গুলি ছোড়ে। গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মুসাব্বিরের সাথে থাকা আবু সুফিয়ান কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনিও বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Join our community today and stay connected with us

👉 Visit our Facebook Page: A2News24 on Facebook