Friday, March 13, 2026
Friday, March 13, 2026
29 C
Dhaka
a2news24
Home Blog Page 5

বর্ডারের সেই অমর জুটি এবার কোর্টরুমে: সানি দেওল ও অক্ষয় খান্নার ধামাকাদার প্রত্যাবর্তন

0

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা: প্রায় তিন দশক আগে ১৯৯৭ সালে জে পি দত্তের ‘বর্ডার’ সিনেমায় কুলাম সিং এবং ধর্মবীরের সেই রসায়ন আজও ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন। দীর্ঘ ২৯ বছর পর আবারও সেই ম্যাজিক পর্দায় ফিরিয়ে আনতে চলেছেন সানি দেওল এবং অক্ষয় খান্না। তবে এবার যুদ্ধের ময়দানে নয়, লড়াই হবে আদালতের চার দেয়ালের মাঝে। নেটফ্লিক্সের নতুন সিনেমা ‘ইক্কা’ (Ikka)-তে মুখোমুখি হতে চলেছেন এই দুই তারকা অভিনেতা।

আইনজীবী সিকান্দার মেহরা বনাম অক্ষয় খান্না নেটফ্লিক্সের প্রকাশিত টিজার অনুযায়ী, ‘ইক্কা’ একটি টানটান উত্তেজনার কোর্টরুম থ্রিলার। এতে সানি দেওলকে দেখা যাবে ‘সিকান্দার মেহরা’ নামক এক দাপুটে ডিফেন্স লয়ারের চরিত্রে। সানি দেওলের পরনে আইনজীবীর পোশাক দেখে ভক্তদের অবধারিতভাবেই মনে পড়ে যাচ্ছে ১৯৯৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘দামিনী’র সেই বিখ্যাত ‘তারিখ পে তারিখ’ সংলাপের কথা। অন্যদিকে, অক্ষয় খান্না থাকছেন সানির প্রতিপক্ষ হিসেবে, যিনি একজন কঠোর ও আপসহীন প্রসিকিউটর বা বিবাদী পক্ষের চরিত্রে অভিনয় করবেন।

আরো পড়ুনঃ রজনীকান্তের ‘জেলর ২’-এ শাহরুখ খান! পর্দার ‘কিং’ এবার সুপারস্টারের পরম বন্ধু

গল্পের প্রেক্ষাপট ও তারকা বহর সিনেমাটির ট্যাগলাইন ইতিমধ্যে দর্শকদের কৌতূহল উসকে দিয়েছে— “আইন না কি রক্তের সম্পর্ক, কার হাতে থাকবে এই খেলার ইক্কা?” ইউটিউব সিনোপসিস থেকে জানা যায়, এটি একজন আইনজীবীর নৈতিক দ্বন্দ এবং আইনের ফাঁকফোকর নিয়ে এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা পরিচালিত এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন দিয়া মির্জা, তিলোত্তমা শোম, সানজিদা শেখ এবং আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর।

সাফল্যের জোয়ারে দুই তারকা বর্তমানে সানি দেওল তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস দুর্দান্তভাবে উপভোগ করছেন। ‘গদর ২’-এর পর তার সাম্প্রতিক ছবি ‘বর্ডার ২’ বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, অক্ষয় খান্নাও তার সর্বশেষ কাজ ‘ধুরন্ধর’-এর জন্য সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এমন দুই জন সফল অভিনেতাকে আবারও এক ফ্রেমে দেখাটা ওটিটি দুনিয়ার জন্য ২০২৬ সালের অন্যতম বড় ইভেন্ট হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশি দর্শকদের উত্তেজনা বাংলাদেশে বলিউডের ক্লাসিক সিনেমাগুলোর প্রতি এক গভীর আবেগ কাজ করে। ‘বর্ডার’ সিনেমার গান ও দৃশ্যগুলো আজও এদেশের মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ফলে সানি দেওল এবং অক্ষয় খান্নার এই পুনর্মিলন নিয়ে ঢাকার সিনেমা পাড়াতেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বাংলাদেশি ভক্তরা এই জুটির প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? যদিও ‘ইক্কা’ সিনেমার প্রিমিয়ারের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে এটি ২০২৬ সালেই মুক্তি পাবে বলে নিশ্চিত করেছে নেটফ্লিক্স। সানি দেওলের সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আর অক্ষয় খান্নার ইনটেন্স অভিনয়—এই দুয়ের লড়াই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নতুন কোনো রেকর্ড গড়বে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

রাজমৌলির ‘বারাণসী’ দিয়ে প্রিয়াঙ্কা’র গ্র্যান্ড কামব্যাক: স্পিলবার্গের সঙ্গে তুলনা করে যা বললেন ‘দেশি গার্ল’

0

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ভারতীয় সিনেমায় ফিরছেন বিশ্বখ্যাত তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। তবে এবার বলিউড নয়, বরং ভারতের সফলতম পরিচালক এসএস রাজমৌলির হাত ধরে দক্ষিণী সিনেমায় অভিষেক হতে যাচ্ছে তার। রাজমৌলির আসন্ন মেগা প্রজেক্ট ‘বারাণসী’তে মহেশ বাবুর বিপরীতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিনেমাটি এবং রাজমৌলির কাজের ধরন নিয়ে বিস্ফোরক ও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।

ভারতের ‘স্পিলবার্গ’ রাজমৌলি! সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রাজমৌলির দূরদর্শী চিন্তাভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “রাজমৌলি স্যারের ভিশন এই দেশের বা বিদেশের অন্য সবার চেয়ে আলাদা। তাকে আমি নির্দ্বিধায় হলিউডের স্টিভেন স্পিলবার্গ, ক্রিস্টোফার নোলান বা ডেভিড ফিঞ্চারের মতো কিংবদন্তিদের কাতারে রাখব।” প্রিয়াঙ্কার মতে, রাজমৌলি যেভাবে পুরাণ আর ইতিহাসকে বর্তমানের ফ্রেমে তুলে ধরেন, তা বিশ্ব চলচ্চিত্রে বিরল।

আরো পড়ুনঃ রজনীকান্তের ‘জেলর ২’-এ শাহরুখ খান! পর্দার ‘কিং’ এবার সুপারস্টারের পরম বন্ধু

ফিরে আসার উপযুক্ত মাধ্যম হলিউডে টানা কয়েক বছর ব্যস্ত থাকার পর প্রিয়াঙ্কা কেন এই সিনেমাটিকেই বেছে নিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। তার মতে, “আমি যদি ভারতীয় সিনেমায় ফিরতে চাইতাম, তবে এর চেয়ে বড় কোনো প্রজেক্ট আর হতে পারত না। এটি ভারতের তৈরি করা অন্যতম বৃহত্তম সিনেমা হতে যাচ্ছে। যখন রাজমৌলি স্যার আমাকে হায়দ্রাবাদে তার অফিসে ডেকে বলেন যে, এই সিনেমার প্রতিটি ফ্রেমে আমার সেরা সংস্করণটিই তিনি চান, তখনই আমি রাজি হয়ে যাই।” যদিও শুরুতে তেলেগু ভাষা না জানায় কিছুটা দ্বিধা ছিল তার মনে, কিন্তু রাজমৌলির আত্মবিশ্বাস তাকে মুগ্ধ করেছে।

মিথোলজি ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ‘বারাণসী’ সিনেমাটি কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস এবং একাধিক মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত একটি কাহিনী। এতে মহেশ বাবু দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করছেন—একদিকে তিনি নায়ক রুদ্র, অন্যদিকে ভগবান রাম। প্রিয়াঙ্কা অভিনয় করছেন মন্দাকিনী চরিত্রে। খলনায়ক হিসেবে দেখা যাবে মালয়ালম তারকা পৃথ্বীরাজ সুকুমারনকে। সিনেমাটির শুটিং কেনিয়ার মাসাই মারায় বন্যপ্রাণীদের অভিবাসনের সময় করা হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর।

বারাণসীর সাথে আধ্যাত্মিক যোগ উত্তরপ্রদেশে জন্ম নেওয়া প্রিয়াঙ্কার বারাণসী শহরের সাথে একটি নিবিড় আধ্যাত্মিক যোগসূত্র রয়েছে। তিনি নিজেকে একজন বড় ‘শিব ভক্ত’ হিসেবে দাবি করেন। সিনেমার নামকরণের সার্থকতা এবং শহরের গুরুত্ব যেভাবে রাজমৌলি ফুটিয়ে তুলেছেন, তাতে প্রিয়াঙ্কা অভিভূত। তিনি মনে করেন, এই সিনেমাটি বারাণসীর ইতিহাস ও গাম্ভীর্যের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করেছে।

বাংলাদেশি দর্শকদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে রাজমৌলির ‘বাহুবলী’ এবং ‘আরআরআর’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। একই সাথে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার একটি বিশাল ভক্তকূল রয়েছে আমাদের দেশে। ফলে এই দুইয়ের সংমিশ্রণ এবং মহেশ বাবুর সাথে প্রিয়াঙ্কার রসায়ন দেখার জন্য বাংলাদেশি সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ৭ এপ্রিল ২০২৭-এ সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

উপসংহার: পরবর্তী চমক কী? রাজমৌলির এই ফ্যান্টাসি-অ্যাকশন সিনেমাটি ভারতীয় সিনেমার মানদণ্ডকে বিশ্বদরবারে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা ও মহেশ বাবুর এই নতুন জুটি বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়তে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Follow Us on Facebook: A2news24

পালেকেলেতে লঙ্কানদের হোয়াইটওয়াশ করল ইংল্যান্ড: বেথেল-কারান জাদুতে ৩-০ ব্যবধানে জয়

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচেও ঘুরে দাঁড়াতে পারল না শ্রীলঙ্কা। পালেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ১২ রানে হেরেছে স্বাগতিকরা। এর মাধ্যমে তিন ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দল।

কারানের লড়াকু ফিফটি ও চামিরার ৫ উইকেট টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। তবে শুরুতেই শ্রীলঙ্কান পেসার দুশমন্ত চামিরার তোপের মুখে পড়ে ইংলিশ টপ অর্ডার। মাত্র ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ডের হাল ধরেন স্যাম কারান। তিনি ৪৮ বলে ৫৮ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন। চামিরা মাত্র ২৪ রান দিয়ে একাই ৫ উইকেট শিকার করে ইংল্যান্ডকে ১২৮ রানে থামিয়ে দেন।

আড় পোরূণঃ ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা

বেথেলের স্পিন জাদুতে কপাল পুড়ল লঙ্কানদের ১২৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নড়বড়ে ছিল শ্রীলঙ্কা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। পাথুম নিসাঙ্কা (২৩) এবং কুশল মেন্ডিস (২৬) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে থিতু হতে পারেননি। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৮তম ওভার, যখন তরুণ স্পিনার জ্যাকব বেথেল এক ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও সিরিজ সেরা কারান পুরো সিরিজ জুড়েই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ম্যাচ ও সিরিজ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন স্যাম কারান। কারান ছাড়াও ইংল্যান্ডের হয়ে জ্যাকব বেথেল ৩.৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন, যা জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। হ্যারি ব্রুকের অধীনে এই সিরিজ জয় ইংল্যান্ডের জন্য আসন্ন বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা ব্যাটিং ব্যর্থতাকে পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? এই হোয়াইটওয়াশ শ্রীলঙ্কার জন্য বড় এক ধাক্কা হলেও তারা চাইবে দ্রুত ভুলগুলো শুধরে বিশ্বকাপ মিশনের দিকে মনোযোগ দিতে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড তাদের এই অপরাজেয় ধারা বিশ্বকাপে বজায় রাখতে পারবে কি না, সেটাই এখন ক্রিকেট বিশ্বের দেখার বিষয়। আগামী রবিবারে ইংল্যান্ড নেপালের বিপক্ষে এবং শ্রীলঙ্কা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের পরবর্তী মিশনে মাঠে নামবে।

আর্সেনাল বনাম চেলসি: এমিরেটসে নীল বধ করে ফাইনালে গানার্সরা

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: লন্ডনের ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আবারও শেষ হাসি হাসল আর্সেনাল। কারাবাও কাপের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে চেলসিকে ২-১ গোলে (অ্যাগ্রিগেটে ৩-১) হারিয়ে শিরোপার মঞ্চে পা রাখল মিকেল আর্তেতার দল। প্রথম লেগের ১-০ ব্যবধানের লিড সাথে নিয়ে মাঠে নামা গানার্সরা ঘরের মাঠে শুরু থেকেই ছিল বিধ্বংসী।

শুরুতেই ওডেগার্ডের জাদু ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই এমিরেটস স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। গানার্স ভক্তদের হতাশ করেননি অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে চেলসির জাল কাঁপান তিনি। এই গোলের পর চেলসি কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেলেও রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালায়।

আরো পড়ুনঃ ২০২৬ বিশ্বকাপে কি খেলবেন মেসি? মাশ্চেরানোর ‘তিন শব্দের’ জবাবে নতুন আশা ফুটবল বিশ্বে

চেলসির লড়াই ও কোল পালমারের গোল বিরতির ঠিক আগে চেলসি ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। দলের তরুণ তারকা কোল পালমার ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক চোখ ধাঁধানো শটে গোল করে সমতা ফেরান। এই গোলের পর ব্লুজ শিবিরে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও আর্সেনালের জমাট রক্ষণের সামনে তারা বারবার খেই হারিয়েছে। চেলসির ফরওয়ার্ডরা সুযোগ পেলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে লিড নিতে ব্যর্থ হয়।

হাফার্তজের জয়সূচক গোল ও ওয়েম্বলি যাত্রা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল তাদের আক্রমণের ধার আরও বাড়ায়। ম্যাচের ৭০ মিনিটে নিজের প্রাক্তন ক্লাবের বিপক্ষে গোল করে গানার্সদের উল্লাসে মাতান কাই হাফার্তজ। এই গোলের পর চেলসির আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল না। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ওয়েম্বলির ফাইনালের টিকিট কাটে গানার্সরা।

বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা বাংলাদেশে ইউরোপীয় ফুটবলের এক বিশাল দর্শকগোষ্ঠী রয়েছে, বিশেষ করে আর্সেনাল এবং চেলসির সমর্থক সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। গভীর রাত হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার বিভিন্ন কফি শপ এবং রেস্টুরেন্টে এই ম্যাচ দেখার জন্য ফুটবল প্রেমীদের ভিড় জমেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের আর্সেনাল ভক্তদের উল্লাস এখন তুঙ্গে। গানার্সদের এই জয় বাংলাদেশের ফুটবল পাড়াতেও নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? কারাবাও কাপের ফাইনালে এখন আর্সেনাল প্রতিপক্ষের জন্য অপেক্ষা করছে। ওয়েম্বলির সেই মাহেন্দ্রক্ষণে আর্তেতার দল কি পারবে তাদের শিরোপা খরা কাটাতে? গানার্সদের বর্তমান ফর্ম যা বলছে, তাতে ভক্তরা স্বপ্ন দেখছেন সিজনের প্রথম বড় কোনো ট্রফি ঘরে তোলার। আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য সেই ফাইনাল ম্যাচটিই হবে গানার্সদের জন্য আসল পরীক্ষা।

Follow Us on Facebook: A2news24

তারেক রহমান এর বিশেষ সাক্ষাৎকার: নতুন বাংলাদেশের জন্য এক মহাপরিকল্পনা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তাকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি কেবল তার ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কথা বলেননি, বরং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বিশদ পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন।

নির্বাসন থেকে ফেরা এবং এক নতুন নেতৃত্বের বার্তা ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এক আবেগঘন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বিমানবন্দরে লাখো মানুষের উষ্ণ সংবর্ধনা এবং এর মাত্র পাঁচ দিন পর মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু তার কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করে। ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ এবং ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার এই পদযাত্রা কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং কর্মীদের ভালোবাসায় এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার থেকে শুরু হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারত থেকে ফেরার নতুন ছক

রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের ব্লুপ্রিন্ট তারেক রহমান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলছেন না, তিনি একটি টেকনোক্র্যাটিক বা প্রযুক্তি নির্ভর সংস্কার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তার বিশেষ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:

  • পরিবেশ রক্ষা: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় ১২ হাজার মাইল খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা।

  • জ্বালানি ও পরিচ্ছন্নতা: বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিশেষ জেনারেটর স্থাপন এবং ঢাকাকে ধোঁয়াশামুক্ত করতে ৫০টি নতুন গ্রিন স্পেস তৈরি।

  • অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দক্ষ অভিবাসী কর্মী তৈরিতে কারিগরি কলেজগুলোর সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ প্রদান।

প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচার ও সাম্য সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তার দল প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা সাধারণ মানুষকে হত্যার সাথে জড়িত ছিল, তাদের অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি করতে হবে। তিনি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছেন যেখানে নারী, শিশু এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে।

কূটনৈতিক সমীকরণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়ার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথেও বিএনপির একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এই সাক্ষাৎকারে ফুটে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ‘পরিবর্তিত ইমেজ’ এবং ‘পলিসি মেকার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হতে পারে। যদি তারেক রহমান তার পরিকল্পনার ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে তা বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেন। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তার এই স্বপ্নের বাংলাদেশের পক্ষে কতটা সমর্থন জানায়।

Follow Us on Facebook: A2news24

রোনালদো বনাম বেনজেমা: সৌদি আরবে রাজত্বের লড়াইয়ে বড় অস্থিরতা

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: এক সময় তারা রিয়াল মাদ্রিদে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গোল করেছেন, জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং করিম বেনজেমার সম্পর্ক এখন এক চরম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের ফুটবল সাম্রাজ্যে কে শ্রেষ্ঠ—এই লড়াই এখন কেবল ট্রফি জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ক্লাব পরিবর্তন এবং দলবদলের রাজনীতিতে নতুন এক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

বেনজেমার দলবদল ও রোনালদোর অসন্তোষ সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দেখা যাচ্ছে, করিম বেনজেমা আল ইত্তিহাদ ছেড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব আল হিলালে যোগ দিয়েছেন। এই দলবদলটি সাউদি ফুটবলে বড় এক ঝড় তুলেছে। বিশেষ করে আল নাসরের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য নাখোশ হয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আল হিলালের প্রতি সাউদি ফুটবল কর্তৃপক্ষের এই বিশেষ আনুকূল্য রোনালদোর কাছে বৈষম্যমূলক মনে হয়েছে, যার ফলে তিনি আল নাসরের হয়ে মাঠে নামতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

আরো পড়ুনঃ ২০২৬ বিশ্বকাপে কি খেলবেন মেসি? মাশ্চেরানোর ‘তিন শব্দের’ জবাবে নতুন আশা ফুটবল বিশ্বে

মাঠের লড়াই বনাম পর্দার রাজনীতি রোনালদো বরাবরই সাউদি লিগকে বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগ বানানোর স্বপ্ন দেখান। কিন্তু আল হিলালের একের পর এক তারকা কেনা এবং আল নাসরের তুলনামূলক কম বিনিয়োগ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে, বেনজেমা আল হিলালে যোগ দিয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। আল হিলাল বর্তমানে লিগের শীর্ষে রয়েছে এবং বেনজেমার অন্তর্ভুক্তি তাদের শিরোপার লড়াইয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতা রোনালদোর মতো উচ্চাভিলাষী খেলোয়াড়ের জন্য মানসিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিরোপা খরা ও ১০০০ গোলের লক্ষ্য সাউদি আরবে আসার পর রোনালদো এখনো বড় কোনো অফিশিয়াল ট্রফি জিততে পারেননি। এর বিপরীতে বেনজেমা গত মৌসুমে আল ইত্তিহাদকে শিরোপা জেতানোর স্বাদ দিয়েছেন। রোনালদোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ১০০০ ক্যারিয়ার গোল পূর্ণ করা, কিন্তু ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং দলবদলের বিরোধ তার এই যাত্রাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? রোনালদো এবং বেনজেমার এই দ্বৈরথ সাউদি ফুটবলের জনপ্রিয়তা যেমন বাড়াচ্ছে, তেমনি লিগের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্নও তুলছে। রোনালদোর এই ‘ধর্মঘট’ বা অসন্তোষ কতদিন চলবে এবং বেনজেমা আল হিলালের হয়ে কতটা সফল হবেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বোঝা যাবে, রিয়ালের দুই পুরনো বন্ধু কি আবার মাঠে হাসিমুখে করমর্দন করবেন, না কি এই সংঘাত আরও গভীরে যাবে।

আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারত থেকে ফেরার নতুন ছক

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে দলটি অনেকটা দৃশ্যপটের বাইরে থাকলেও, ভারতের মাটিতে বসেই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাসিত নেতারা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে আওয়ামী লীগের এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের খবরটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুনর্গঠনের গোপন তৎপরতা সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের মাঝারি ও উচ্চপর্যায়ের নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দেশের ভেতর থাকা কর্মীদের সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গোপন যোগাযোগের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আবার চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে। দলটির প্রধান লক্ষ্য এখন ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের একটি সুসংগঠিত অবস্থানে নিয়ে আসা। তবে দেশে যে বিপুল জনরোষ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করা দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরো পড়ুনঃ দিল্লি-কলকাতা থেকে ফেরার ছক: ভারতে বসে শেখ হাসিনার ‘পলিটিক্যাল কামব্যাক মিশন

দিল্লির ভূমিকা ও কূটনৈতিক সমীকরণ আওয়ামী লীগের এই ফিরে আসার চেষ্টায় ভারতের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিরাপদ আশ্রয় এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও আওয়ামী লীগের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রতাকে পুরোপুরি বিসর্জন দিতে চাইছে না। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে।

আইনি বাধা ও মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে গত বছরের আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার মামলাগুলো। শেখ হাসিনাসহ দলটির শীর্ষ প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণ মানুষের মনে দলটির প্রতি যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। এছাড়া, দলটির অনেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার পথে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ থাকায় আর্থিক সংকটেও রয়েছে তারা।

তৃণমূলের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা দেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা এখনো আত্মগোপনে বা নিষ্ক্রিয়। পুলিশের মামলা ও জনরোষের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। নির্বাসিত নেতারা কর্মীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে, সময় হলে তারা আবার প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পাবেন। তবে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ মনে করে, বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনীতিতে ফেরার নৈতিক অধিকার নেই।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? আওয়ামী লীগ কি পারবে তাদের হৃত গৌরব উদ্ধার করতে? ভারতের সাহায্য নিয়ে তারা কি বাংলাদেশে কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে সক্ষম হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের গতি এবং আগামী নির্বাচনের স্বচ্ছতার ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগকে ফিরতে হলে কেবল পরিকল্পনা করলেই হবে না, বরং অতীতের ভুল স্বীকার করে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। আগামী মাসগুলোতে দলটির কৌশল এবং আইনি লড়াইয়ের মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

Follow Us on Facebook: A2news24

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৪ লাখ ৬৮ হাজার প্রবাসীর ভোটদান সম্পন্ন, দেশে এলো ৩ লাখ ব্যালট

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে প্রবাসীদের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭০৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫০টি পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

ডিজিটাল ভোটিংয়ে প্রবাসীদের জোয়ার মঙ্গলবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮০ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং প্রায় সাড়ে ৪ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

আরো পড়ুনঃ ১৭ মাসে ৯৭ মাজারে হামলা: আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে আঘাত ও নিরাপত্তার সংকট

ব্যালট সংগ্রহের বর্তমান অবস্থা সালীম আহমাদ খান আরও জানান, ৪ লাখ ২৩ হাজার ৭১২ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৪২টি ব্যালট ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৭ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

অ্যাপ নিবন্ধনের পরিসংখ্যান ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। দেশের ভেতরে এখন পর্যন্ত ৯৬ হাজার ৬৩২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৩ হাজার ৬৫৫টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রেক্ষাপট প্রবাসীরা দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি ভোটাধিকারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট ও অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ তাদের এই দাবি পূরণে বড় পদক্ষেপ। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ডিজিটাল ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জনঅংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উপসংহার: নির্বাচনী রূপরেখায় পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের এই ডিজিটাল উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। পোস্টাল ব্যালটগুলো দ্রুত দেশে নিয়ে আসা এবং গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এখন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনী আমেজে প্রবাসীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।

রজনীকান্তের ‘জেলর ২’-এ শাহরুখ খান! পর্দার ‘কিং’ এবার সুপারস্টারের পরম বন্ধু

0

বিনোদন ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): রুপালি পর্দায় যখন উত্তর আর দক্ষিণ মেলবন্ধন ঘটে, তখন তা কেবল সিনেমাই থাকে না, হয়ে ওঠে এক উৎসব। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জানা গেল, দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের আসন্ন মেগা প্রজেক্ট ‘জেলর ২’-এ দেখা যাবে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানকে। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই সিক্যুয়েলে শাহরুখের চরিত্রটি কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়েও নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

রজনীকান্তের ছায়াসঙ্গী হিসেবে শাহরুখ ২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘জেলর’-এর সাফল্যের পর থেকেই এর দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে দর্শকদের মাঝে ছিল প্রবল কৌতূহল। নতুন খবর অনুযায়ী, এই সিনেমায় শাহরুখ খান কেবল একটি সাধারণ ক্যামিও চরিত্রে নয়, বরং রজনীকান্তের অভিনীত চরিত্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী সম্প্রতি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সিনেমায় শাহরুখ এমন এক বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করবেন, যার ওপর রজনীকান্তের চরিত্রটি জীবনের চেয়েও বেশি ভরসা করেন।

আরো পড়ুনঃ ৫ কোটি টাকা প্রতিদিনের খরচ! শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমায় থাকছে ৫০ কোটির অ্যাকশন ধামাকা

কামাল হাসান ও বিজয় সেতুপতির চমক ‘জেলর ২’ সিনেমাটিকে একটি সত্যিকারের মাল্টি-স্টারার হিসেবে গড়ে তুলছেন পরিচালক নেলসন। এতে কেবল শাহরুখ খান নন, বরং বিজয় সেতুপতিকেও একটি বিশেষ ক্যামিও চরিত্রে দেখা যাবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিজয় জানিয়েছেন, সুপারস্টার রজনীকান্তের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি এই সিনেমায় কাজ করতে রাজি হয়েছেন। এছাড়া সিনেমাটিতে মোহনলাল, শিবরাজকুমার এবং বিদ্যা বালানের মতো তারকাদেরও বিশেষ উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশি ভক্তদের উন্মাদনা বাংলাদেশে বলিউড এবং দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা—উভয় ঘরানারই বিশাল দর্শকশ্রেণি রয়েছে। শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর তুমুল জনপ্রিয়তার পর রজনীকান্তের সাথে তার এই যুগলবন্দি নিয়ে ওপার বাংলার মতো এপার বাংলাতেও বইছে উত্তেজনার ঢেউ। ভক্তদের মতে, দুই কিংবদন্তিকে এক ফ্রেমে দেখা হবে আগামী বছরের সবচেয়ে বড় সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: থালাইভার ১৭৩ ‘জেলর ২’-এর কাজ শেষ করার পরপরই রজনীকান্ত তার পরবর্তী প্রজেক্ট ‘থালাইভার ১৭৩’-এর শুটিং শুরু করবেন। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন ‘ডন’ খ্যাত সিবি চক্রবর্তী এবং সহ-প্রযোজক হিসেবে থাকছেন স্বয়ং কামাল হাসান। এই সিনেমাতেও অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের সংগীত পরিচালনার জাদু দেখা যাবে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? অ্যাকশন ও কমেডির মিশেলে নির্মিত হতে যাওয়া ‘জেলর ২’ কি পারবে প্রথম পর্বের রেকর্ড ভাঙতে? শাহরুখ-রজনীকান্তের এই অনস্ক্রিন বন্ধুত্ব দর্শকদের কতটা আপ্লুত করবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। ২০২৬ সালের অন্যতম প্রতীক্ষিত এই সিনেমার মুক্তি নিয়ে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা এখনই বড় ধরণের বাণিজ্যের পূর্বাভাস দিচ্ছেন।

শাবানা আজমির বাড়িতে ফারাহ খান কুক দিলীপের ‘ওভারঅ্যাক্টিং’! ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা

0

বিনোদন ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): বলিউড কোরিওগ্রাফার ও নির্মাতা ফারাহ খানের ইউটিউব ভ্লগ এখন অন্তর্জাল দুনিয়ায় বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে তার ব্যক্তিগত কুক দিলীপের সাথে তার মজার কথোপকথন দর্শকরা বরাবরই পছন্দ করেন। তবে ফারাহর সাম্প্রতিক একটি ভ্লগ যেন হিতে বিপরীত হয়েছে। কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং গীতিকার জাভেদ আখতারের খাণ্ডালা ভিলায় ফারাহর সফরটি দিলীপের ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’র কারণে দর্শকদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাবানা-জাভেদের অন্দরমহলে ফারাহ সম্প্রতি ফারাহ খান তার ইউটিউব চ্যানেলে জাভেদ আখতার এবং শাবানা আজমির খাণ্ডালার বাড়ির একটি ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওটিতে এই প্রবীণ দম্পতির চমৎকার বাড়ি এবং তাদের জীবনের নানা খুঁটিনাটি উঠে এসেছে। সেখানে বিরিয়ানি রান্না থেকে শুরু করে কবিতা পাঠ—সবই ছিল। কিন্তু পুরো ভিডিওর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফারাহর কুক দিলীপ। সচরাচর দিলীপের রসবোধ ভক্তরা উপভোগ করলেও, এই ভিডিওতে তার বারবার হস্তক্ষেপ ভালো চোখে দেখছেন না নেটিজেনরা।

আরো পড়ুনঃ ৫ কোটি টাকা প্রতিদিনের খরচ! শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমায় থাকছে ৫০ কোটির অ্যাকশন ধামাকা

দিলীপের ‘ওভারঅ্যাক্টিং’ ও বাধা দান ভিডিওতে দেখা যায়, যখনই শাবানা আজমি বা জাভেদ আখতার কোনো সিরিয়াস বা সুন্দর স্মৃতি শেয়ার করার চেষ্টা করছেন, তখনই দিলীপ মাঝখানে এসে কথা বলছেন। একটি দৃশ্যে শাবানা আজমি যখন তাদের বাগানের ১৫০ বছরের পুরনো গাছের ইতিহাস বলছিলেন, তখন দিলীপ মাঝখান থেকে বলে ওঠেন, “ম্যাম, এগুলো তো আপনার (ফারাহ) চেয়েও পুরনো!” এছাড়া শাবানা কথা বলার সময় বারবার “ইরশাদ, ইরশাদ” বলে চিৎকার করা এবং অকারণে ওভারঅ্যাক্টিং করা দর্শকদের মোটেও ভালো লাগেনি।

খেপে লাল নেটিজেনরা ভিডিওটির কমেন্ট সেকশন এখন নেটিজেনদের ক্ষোভের বার্তায় সয়লাব। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আজকের ভিডিওতে দিলীপ খুব বিরক্তিকর ছিল… এভাবে চলতে থাকলে আপনি আপনার অডিয়েন্স হারাবেন।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “শাবানা ম্যাম যখন ১০০ বছরের পুরনো গাছের কথা বলছিলেন, তখন আপনি দিলীপকে দিয়ে কথা বলালেন। আমি এটা একদম পছন্দ করিনি।” দর্শকদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, তারা শাবানা আজমি ও জাভেদ আখতারের কথা শুনতে এসেছিলেন, দিলীপের অযথা চিৎকার শুনতে নয়। অনেকেই ফারাহকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন পরবর্তী ভ্লগে দিলীপের উপস্থিতি কিছুটা কমিয়ে অতিথিদের কথা শোনার সুযোগ দেওয়া হয়।

জাভেদ আখতারের মজার ‘রোস্ট’ তবে ভিডিওটিতে দিলীপের যন্ত্রণার পাশাপাশি জাভেদ আখতারের ফারাহকে করা একটি মজার ‘রোস্ট’ দর্শকদের হাসিয়েছে। যখন শাবানা আজমি বলছিলেন যে তাদের বিয়ের ৪১ বছর (Ektalis saal) হয়েছে, তখন ফারাহ ‘একতালিশ’ শব্দের অর্থ বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসা করেন। জাভেদ আখতার তখন হাসতে হাসতে ফারাহকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “আমরা গরিব ইন্ডিয়ানরা ৪১-কে একতালিশ বলি।” ফারাহর হিন্দি জ্ঞানের এই অভাব নিয়ে জাভেদের এই রসিকতা ভিডিওর অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? ইউটিউবে দিলীপকে কেন্দ্র করে ফারাহর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকলেও এই বিতর্ক তাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলতে পারে। দর্শকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা ফারাহর চ্যানেলে গুণী শিল্পীদের কথা শুনতে বেশি আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ভিডিওগুলোতে ফারাহ দর্শকদের এই মতামত গুরুত্ব দিয়ে দিলীপের চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আনেন কি না।

৫ কোটি টাকা প্রতিদিনের খরচ! শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমায় থাকছে ৫০ কোটির অ্যাকশন ধামাকা

0

বিনোদন ডেস্ক: বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান মানেই বড় পর্দার ম্যাজিক। ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার তিনি আসছেন তার পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট ‘কিং’ (King) নিয়ে। এই সিনেমাটি নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনার মাঝেই সামনে এলো এক চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য। জানা গেছে, সিনেমার মাত্র একটি অ্যাকশন সিকুয়েন্সের পেছনে খরচ করা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা!

ইউরোপের মাটিতে মেগা অ্যাকশন সিনেমাটির একটি বড় অংশ চিত্রায়িত হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন লোকেশনে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে ১০ দিনের একটি টানা অ্যাকশন শিডিউল ছিল যার মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রতিদিনের শুটিংয়ের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। সিনেমার এই অ্যাকশন ডিজাইন করেছেন ‘পাঠান’ ও ‘ওয়ার’ খ্যাত নির্মাতা সিদ্ধার্থ আনন্দ। এই সিকুয়েন্সটিকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ ‘ব্যবসা আগে নয়, সৃজনশীলতাই আসল’: বলিউড নিয়ে শহীদ কাপুরের বিস্ফোরক মন্তব্য

অ্যাকশন ডিজাইনে খোদ শাহরুখ মজার বিষয় হলো, সিনেমার অ্যাকশন কেবল পেশাদারদের হাতে ছেড়ে দেননি শাহরুখ। তিনি নিজেই অ্যাকশন ডিজাইনের পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ইউরোপের রাস্তায় উচ্চ গতির গাড়ি তাড়া করার দৃশ্য এবং হাই-ভোল্টেজ স্টান্টগুলো শাহরুখ নিজে তদারকি করেছেন। তার লক্ষ্য হলো দর্শকদের এমন একটি থিয়েট্রিক্যাল অভিজ্ঞতা দেওয়া যা আগে কখনো দেখেনি বলিউড।

বড় বাজেট ও তারকার মেলা ‘কিং’ সিনেমার বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা (মার্কেটিং খরচ বাদে)। এই সিনেমায় শাহরুখের পাশাপাশি মূল ভূমিকায় দেখা যাবে তার কন্যা সুহানা খানকে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন এবং রানী মুখার্জি। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন সুজয় ঘোষ এবং সিদ্ধার্থ আনন্দ এর অ্যাকশন ও প্রোডাকশন তদারকি করছেন।

মুক্তির সময় সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সিনেমার শুটিং শেষ হবে। বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে ২০২৬ সালের ক্রিসমাস বা বড়দিনের ছুটিতে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে শাহরুখের এই মেগা অ্যাকশন এন্টারটেইনার।

উপসংহার: ভক্তদের প্রত্যাশা বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, ‘কিং’ সিনেমার মাধ্যমে শাহরুখ খান বিশ্বমানের অ্যাকশনকে দেশি দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে চাইছেন। ৫০ কোটির এই ব্যয়বহুল দৃশ্যটি পর্দার রোমাঞ্চ কতখানি বাড়িয়ে দেবে, তা দেখার জন্য এখন অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।

এপস্টাইন ফাইলের ৩০ লাখ নতুন পাতা ফাঁস: ইলন মাস্ক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গোপন তথ্য প্রকাশ্যে

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী জেফ্রি এপস্টাইন যৌন কেলেঙ্কারির নথিপত্র প্রকাশের ধারায় এবার সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণটি ঘটল। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ এই মামলার আরও ৩০ লাখেরও বেশি নতুন নথিপত্র জনসমক্ষে এনেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ফাইলগুলোতে ২০০০-এর বেশি ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে, যা বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইলন মাস্কের নাম ও চাঞ্চল্যকর ইমেইল: প্রকাশিত নতুন নথিতে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের নাম। ২০১২ সালের একটি ইমেইল চালাচালিতে দেখা যায়, এপস্টাইন মাস্ককে তার ব্যক্তিগত দ্বীপে একটি হেলিকপ্টার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। জবাবে মাস্ক জানতে চেয়েছিলেন, “কোন দিন বা রাতে আমাদের দ্বীপে সবচেয়ে বন্য পার্টি (wildest party) হবে?” যদিও মাস্ক আগে দাবি করেছিলেন তার সাথে এপস্টাইনের কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক নেই, এই নতুন তথ্য সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দীর্ঘ তালিকা: নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও উঠে এসেছে। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন ২০০৫ সালের পর তিনি এপস্টাইনের সাথে দেখা করেননি, নতুন ইমেইল বলছে ২০১২ সালে তিনি সপরিবারে এপস্টাইনের দ্বীপে দুপুরের খাবারের দাওয়াতে গিয়েছিলেন। এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের সাথে এপস্টাইনের আর্থিক লেনদেনের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। ম্যান্ডেলসনকে এমনকি কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য লেনদেনগুলোকে ‘লোন’ হিসেবে দেখানোর পরামর্শও দিয়েছিলেন এপস্টাইন।

আরো পড়ুনঃ বিল গেটসকে নিয়ে এপস্টাইনের ‘বিস্ফোরক’ ইমেইল: মুখ খুললেন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও স্বচ্ছতা বিতর্ক: এদিকে, এই নথি প্রকাশের ধরন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া সারভাইভাররা। তাদের অভিযোগ, নতুন ফাইলে ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হলেও অনেক অপরাধীর নাম ঢেকে রাখা (Redacted) হয়েছে। তারা একে ‘স্বচ্ছতার নামে প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য রো খান্নাও এই বিপুল পরিমাণ তথ্যের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বাদ দেওয়া হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রেক্ষাপট: জেফ্রি এপস্টাইন মামলাটি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং এটি বিশ্বরাজনীতি ও কর্পোরেট বিশ্বের অন্ধকার দিকগুলোকে উন্মোচন করে। বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে ইলন মাস্ক বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্বরা অত্যন্ত পরিচিত। এই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নৈতিক স্খলন বা অপরাধী চক্রের সাথে সংশ্লিষ্টতা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রযুক্তির দুনিয়ার আইকন ইলন মাস্কের নাম আসায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ৬০ লাখ পাতার মধ্যে সাড়ে ৩ লাখ পাতা এখনো পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের জন্য অভিযোগ জানানোর জন্য একটি বিশেষ ইমেইল বক্স খোলা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই ফাইলগুলো প্রকাশ করলেও এর ফলে তার নিজ দলেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এই ৩০ লাখ পাতার নথি থেকে আরও কত প্রভাবশালী ব্যক্তির মুখোশ উন্মোচিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আমদের ফলো করুন Facebook এ : www.facebook.com/a2news24

বিল গেটসকে নিয়ে এপস্টাইনের ‘বিস্ফোরক’ ইমেইল: মুখ খুললেন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জেফ্রি এপস্টাইন ফাইলের সর্বশেষ অংশটি আবারও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত লক্ষ লক্ষ গোপন নথির মধ্যে একটি ড্রাফট করা ইমেইল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যেখানে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটসকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর এবং বিতর্কিত কিছু দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিল গেটসের মুখপাত্র।

এপস্টাইনের ইমেইলে কী ছিল? প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৩ সালের দিকে জেফ্রি এপস্টাইন নিজের একটি ইমেইল ড্রাফটে বিল গেটস সম্পর্কে বেশ কিছু ব্যক্তিগত অভিযোগ লিখেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, বিল গেটস ‘রাশিয়ান মেয়েদের’ মাধ্যমে একটি যৌনবাহিত রোগে (STI) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পরে তার স্ত্রীর কাছ থেকে এটি গোপন করার জন্য বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেছিলেন। যদিও এই ইমেইলটি শেষ পর্যন্ত কোথাও পাঠানো হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে নথিপত্রে এর উপস্থিতি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

আরো পড়ুনঃ এপস্টাইন ফাইলে মোদির নাম: অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিল ভারত

বিল গেটসের মুখপাত্রের কড়া জবাব এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিল গেটসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তার মুখপাত্র বলেন, “এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং চূড়ান্ত মিথ্যা।” বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, এপস্টাইনের এই নথিগুলো কেবল এটাই প্রমাণ করে যে বিল গেটসের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখতে না পেরে এপস্টাইন কতটা হতাশ ছিলেন। নিজের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরেই তিনি গেটসের সম্মানহানি করার জন্য এমন বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিলেন।

বৃহত্তর নথিপত্রের অংশ জেফ্রি এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের আওতায় এবার প্রায় ৩০ লক্ষ ফাইল প্রকাশিত হয়েছে। এটিই সম্ভবত এই মামলার শেষ বড় নথি প্রকাশ। এতে কেবল বিল গেটস নন, বরং বিশ্বের আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবীদ এবং বিলিয়নেয়ারদের নাম ও তাদের সাথে এপস্টাইনের যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ইলন মাস্ক, প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও এই নথিপত্রের বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রভাব বিল গেটস বাংলাদেশে কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং তার দাতব্য কাজের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন বিতর্কিত খবর বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এপস্টাইনের মতো একজন অপরাধীর ব্যক্তিগত ডায়েরি বা ড্রাফট করা ইমেইলকে ধ্রুব সত্য হিসেবে দেখার অবকাশ নেই, যতক্ষণ না তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? এপস্টাইন মামলার নথিপত্র প্রকাশের এই অধ্যায়টি সম্ভবত এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এই ফাইলগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া আরও কতদূর গড়াবে, তা সময়ই বলে দেবে। বিল গেটসের ইমেজ রক্ষায় তার আইনি দল আগামীতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমাদের Follow করুনঃ On Facebook.

www.facebook.com/a2news24

এপস্টাইন ফাইলে মোদির নাম: অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিল ভারত

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত এবং কারাবন্দী অবস্থায় মৃত মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টাইনের সম্পর্কিত নতুন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম আসায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ বা ইশারাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রকাশিত নথিতে প্রধানমন্ত্রীর নামের উল্লেখ কেবল তার একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং এর বাইরে অন্য কোনো যোগসাজশ থাকার দাবি অবান্তর।

বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথির একটি বিশাল অংশ প্রকাশ করেছে। প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র, হাজার হাজার ভিডিও এবং কয়েক লাখ ছবি এই ডিসক্লোজারের অন্তর্ভুক্ত। তথাকথিত এই ‘এপস্টাইন ফাইল’-এর একটি ইমেইল বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম আসায় বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের নির্দেশে এই নথিগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, এপস্টাইন ফাইলের একটি ইমেইলে প্রধানমন্ত্রীর নাম শুধুমাত্র তার ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফরের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই তথ্যের বাইরে নথিতে উল্লিখিত অন্য সব দাবি বা গুজব ভিত্তিহীন এবং এগুলোকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞার সাথে দেখা উচিত। ২০১৭ সালের ওই ইসরায়েল সফর ছিল ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯৯২ সালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনের পর মোদিই ছিলেন প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি ইসরায়েল সফর করেছিলেন।

এপস্টাইন ফাইল ও মার্কিন স্বচ্ছতা আইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে এই নথিপত্রগুলো জনসমক্ষে আনা হচ্ছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো, এপস্টাইনের মতো অপরাধীর সাথে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কী ধরণের যোগাযোগ ছিল তা উন্মোচন করা। জেফ্রি এপস্টাইন ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের একটি জেলে আত্মহত্যা করেন বলে জানানো হয়েছিল, যখন তার বিরুদ্ধে যৌন পাচারের ভয়াবহ অভিযোগ ছিল।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো আন্তর্জাতিক অভিযোগ এদেশের পাঠকদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে ভারত সরকারের এই তাৎক্ষণিক ও কড়া জবাব কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের ভাবমূর্তি রক্ষায় দিল্লি কোনো ধরণের সুযোগ দিতে নারাজ, যা এই বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আরও অনেক তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। তবে মোদির নাম কেবল একটি কূটনৈতিক সফরের সূত্র ধরে আসায় আপাতত বড় ধরণের কোনো কূটনৈতিক সংকটের আশঙ্কা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, ডিসক্লোজারের পরবর্তী অংশগুলোতে আর কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে কিনা।

১৭ মাসে ৯৭ মাজারে হামলা: আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে আঘাত ও নিরাপত্তার সংকট

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): বাংলাদেশের সুফি ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মাজারগুলো এখন নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকটের মুখে। গত ১৭ মাসে সারা দেশে অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

হামলার পরিসংখ্যান ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে সারা দেশে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও সরেজমিনে ৯৭টি ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকায় ৩৬টি এবং চট্টগ্রামে ২৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলা হিসেবে শীর্ষস্থানে রয়েছে কুমিল্লা, যেখানে ১৭টি মাজারে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এছাড়া নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলা হয়েছে। মাকামের মতে, মোট হামলার দুই-তৃতীয়াংশই ঘটেছে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে।

নেপথ্যের কারণ ও হামলার ধরন: গবেষণা অনুযায়ী, ৫৯টি হামলার মূলে ছিল ধর্মীয় মতবিরোধ। এছাড়া ২১টি ক্ষেত্রে স্থানীয় বিরোধ এবং ১৬টি ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা বিশ্লেষণ করে জানানো হয়, অন্তত ২৩টি ঘটনায় নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হামলাকারীদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ঘরানার ধর্মীয় উগ্রতা লক্ষ্য করা গেছে। কেবল মাজার নয়, মাজার সংলগ্ন ৭টি মসজিদেও হামলার ঘটনা ঘটেছে এই সময়ে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও হতাহত: প্রতিবেদনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার তথ্যমতে, ১৩টি ঘটনায় একটি বিশেষ ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোর নামও উঠে এসেছে কয়েকটি ঘটনায়। এসব তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪৬৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে আহত ও নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

আরো পড়ুনঃ দিল্লি-কলকাতা থেকে ফেরার ছক: ভারতে বসে শেখ হাসিনার ‘পলিটিক্যাল কামব্যাক’ মিশন

প্রশাসন ও আইনি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা: সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি ঘটনায় হামলার আগে মাইকিং করে লোক জড়ো করা হলেও পুলিশ বা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৪৪টি মাজার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে বার্ষিক ওরসসহ সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ৬টি মাজার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো চরম ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রভাব: বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই পীর-আউলিয়া ও সুফি সাধকদের দেশ হিসেবে পরিচিত। মাজারগুলোতে হামলা কেবল ধর্মীয় স্থাপনায় আঘাত নয়, বরং হাজার বছরের লালিত উদার সংস্কৃতির ওপর বড় ধরণের আঘাত। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাগুলো সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও ভীতির সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাধারণ ভক্তদের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? মাকাম-এর পক্ষ থেকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষতিগ্রস্ত মাজার সংস্কার ও নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রশাসন যদি দ্রুত এসব ঘটনার কঠোর বিচার নিশ্চিত না করে এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ফিরিয়ে না আনে, তবে ভবিষ্যতে সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিদায়বেলায় তড়িঘড়ি শিক্ষা আইন: সংস্কার নাকি শুভঙ্করের ফাঁকি? তোলপাড় শিক্ষাঙ্গন

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): দেড় দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার যখন মেয়াদের একদম শেষ প্রান্তে, ঠিক তখনই হঠাৎ আলোর মুখ দেখল বহু আলোচিত শিক্ষা আইন। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই আইনের খসড়া প্রকাশ পেতেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। শিক্ষাবিদদের মতে, মাত্র ৯ দিন পর জাতীয় নির্বাচন অথচ এমন এক সন্ধিক্ষণে জনমতের তোয়াক্কা না করে আইনের খসড়া প্রকাশ করা মূলত এক ধরণের ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। তাদের আশঙ্কা, এই আইন শিক্ষার প্রকৃত সংস্কার না করে বরং বর্তমান ব্যবস্থাকেই আরও জটিল করে তুলবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় ফিরছে পুরনো পদ্ধতি? প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি এবং পরবর্তী বিভিন্ন সরকারি ঘোষণায় প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার কথা থাকলেও, নতুন খসড়ায় এটিকে আবারও পঞ্চম শ্রেণিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি মূলত ১৯৯০ সালের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইনেরই একটি কপি-পেস্ট সংস্করণ, যা আধুনিক বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেখানে পুরো মাধ্যমিক স্তরকে সর্বজনীন করার জোর দাবি ছিল, সেখানে এমন পিছু হটা সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোচিং ও গাইড বই: নিষিদ্ধ নাকি বৈধতা? কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট টিউশন এবং নোট-গাইড বই চিরতরে বন্ধ করার স্লোগান থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে সেগুলোকে কৌশলে আরও তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য বৈধতা দেওয়া হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সমালোচকরা বলছেন, দেড় দশক ধরে আলোচনার পরও কেন আরও পাঁচ বছরের সময় প্রয়োজন, তা প্রশ্নাতীত নয়। তাদের মতে, এটি মূলত বাণিজ্যিক শিক্ষা মাফিয়াদের সুযোগ দেওয়ার একটি কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।

তড়িঘড়ি খসড়া প্রকাশ ও জনমতের অবহেলা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। এর মাত্র কিছুদিন আগে ১ ফেব্রুয়ারি খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এবং মতামত দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যে আবার তিন দিনই সরকারি ছুটি। শিক্ষাবিদ মনজুর আহমদের নেতৃত্বে গঠিত পরামর্শক কমিটি এখনো তাদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেয়নি। সেই রিপোর্ট পাওয়ার আগেই কেন এই তাড়াহুড়ো, তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

কওমি মাদ্রাসা ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা আইনের খসড়ায় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থী কোনো কাজ পরিচালনা করা যাবে না বলেও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে আইনটি বিধি-নির্ভর হওয়ায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই নির্বাহী আদেশের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

উপসংহার: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি একটি যুগোপযোগী শিক্ষা আইন কেবল কাগজের দলিল নয়, বরং জাতির মেরুদণ্ড গড়ার হাতিয়ার। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়লগ্নে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেনতেনভাবে করা হলে তার মাশুল দিতে হবে পরবর্তী প্রজন্মকে। শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি—এই তড়িঘড়ি খসড়া বাদ দিয়ে নতুন নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে সকল অংশীজনের মতামত নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হোক।

ট্রান্সফার ডেডলাইন ডে ধামাকা: লিভারপুলে ৬০ মিলিয়নের ডিফেন্ডার, আর্সেনালে নতুন চমক!

0

স্পোর্টস ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): ইউরোপীয় ফুটবলের শীতকালীন দলবদলের শেষ দিনটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ঘড়ির কাঁটা যত ১২টার দিকে এগিয়েছে, ততই বেড়েছে ক্লাবগুলোর দৌড়ঝাঁপ। বড় বড় ক্লাবগুলো তাদের শক্তি বাড়াতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছে। ২০২৬ সালের এই ট্রান্সফার ডেডলাইন ডে-তে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে লিভারপুল এবং আর্সেনাল। বিশেষ করে লিভারপুলের ৬০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল চুক্তিটি এখন ফুটবল বিশ্বের প্রধান আলোচনার বিষয়।

লিভারপুলে জেরেমি জ্যাকেট: ভবিষ্যতের রক্ষণভাগ রক্ষনভাগ মজবুত করতে অলরেডরা এবার হাত বাড়িয়েছে উদীয়মান তারকা জেরেমি জ্যাকেটের দিকে। ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরো সমমূল্যের) বিনিময়ে তাকে দলে ভেড়ানোর চুক্তি চূড়ান্ত করেছে লিভারপুল। যদিও তিনি আগামী ১ জুলাই ক্লাবটিতে যোগ দেবেন, তবে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের ভিড় থেকে তাকে ছিনিয়ে আনা লিভারপুলের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্পোর্টিং ডিরেক্টর রিচার্ড হিউজ এই চুক্তিতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন।

আরো পডুনঃ ২০২৬ বিশ্বকাপে কি খেলবেন মেসি? মাশ্চেরানোর ‘তিন শব্দের’ জবাবে নতুন আশা ফুটবল বিশ্বে

আর্সেনালের নজর তরুণ প্রতিভায় অন্যদিকে, আর্সেনাল তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে সই করিয়েছে ১৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এভান মুনিকে। সেন্ট মিরেন থেকে আসা এই তরুণ প্রতিভাকে আপাতত অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলানো হবে। এছাড়াও সান্দ্রো টোনালির মতো বড় নামকে নিয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও, শেষ পর্যন্ত নিউক্যাসেল ইউনাইটেড তাদের এই মধ্যমাঠের তারকাকে ছাড়তে রাজি হয়নি।

রেনজার্স ও সেল্টিকের লড়াই স্কটিশ ফুটবলেও ছিল দলবদলের উত্তাপ। রেনজার্স ৪.৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে জার্মান ক্লাব হানসা রোস্টক থেকে স্ট্রাইকার রায়ান নাদেরিকে দলে ভিড়িয়েছে। অন্যদিকে, সেল্টিকও পিছিয়ে নেই। তারা ব্রেন্টফোর্ড থেকে বেনজামিন আর্থারকে লোনে নিয়ে এসেছে এবং জোয়েল এমভুকার চুক্তি নিয়েও সফল আলোচনা সেরেছে।

বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য প্রভাব বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের বড় একটি অংশ লিভারপুল এবং আর্সেনাল সমর্থক। প্রিয় ক্লাবের নতুন সাইনিং নিয়ে ফুটবল গ্রুপগুলোতে এখন ব্যাপক উত্তেজনা। বিশেষ করে লিভারপুলের নতুন ডিফেন্ডার জ্যাকেটকে নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা অনেক। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে এই নতুন সংযোজনগুলো কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? দলবদলের বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন সব নজর মাঠের লড়াইয়ে। নতুন খেলোয়াড়রা কি দ্রুত দলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন? নাকি মিড-সিজন ট্রান্সফার হিসেবে তারা ব্যর্থ হবেন? আগামী কয়েক সপ্তাহের ম্যাচগুলোই বলে দেবে কোন ক্লাবের অর্থ খরচ সার্থক হয়েছে।

দিল্লি-কলকাতা থেকে ফেরার ছক: ভারতে বসে শেখ হাসিনার ‘পলিটিক্যাল কামব্যাক’ মিশন

0

বিশেষ প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): গত ১৬ মাস আগে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা আবারও রাজনীতিতে ফেরার গোপন পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অন্তত ৬০০ নেতা-কর্মী ভারতের মাটি ব্যবহার করে দেশে তাদের প্রভাব পুনপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাদের এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ‘নীল নকশা’।

দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার নির্দেশনা দিল্লির এক গোপন আস্তানা থেকে শেখ হাসিনা এখনো দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তিনি প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা ভিডিও কল এবং বার্তার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার এই রাজনৈতিক তৎপরতা ভারতের নজরদারিতে থাকলেও, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করা হস্তান্তরের অনুরোধ এখনো ভারতের পক্ষ থেকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরণের শীতলতা কাজ করছে।

কলকাতায় আত্মগোপনে থাকা নেতাদের কৌশল ভারতের সীমান্তঘেঁষা শহর কলকাতায় বর্তমানে আওয়ামী লীগের অনেক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অবস্থান করছেন। তারা জনসম্মুখে না এলেও শপিং মল বা কফিশপের মতো ভিড়াক্রান্ত জায়গায় গোপনে দলীয় সভা করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে এক ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরি করা এবং এই নির্বাচনকে বিশ্ববাসীর কাছে ‘অগণতান্ত্রিক’ হিসেবে তুলে ধরা। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের মতে, তারা বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনা একদিন ‘বীরবেশে’ দেশে ফিরবেন।

নির্বাচন বর্জন ও সম্ভাব্য অস্থিরতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করায় দলটি বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা দাবি করছেন যে, তাদের বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনই সফল হবে না। তারা দেশের ভেতরে থাকা কর্মীদের নির্বাচন বর্জন এবং ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের এই ‘কামব্যাক’ মিশনকে বাংলাদেশ সরকার একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, দলটির নেতাদের বিচারের মুখোমুখি না করে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে দেশে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য প্রভাব ও প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে এখনো জুলাই-আগস্টের গণহত্যার স্মৃতি টাটকা। এর মাঝে আওয়ামী লীগের এমন প্রত্যাবর্তনের খবর জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর তার এমন সক্রিয়তা আইনের শাসনের প্রতি এক ধরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আইন ও বিচারকে পাশ কাটিয়ে এভাবে বিদেশের মাটিতে বসে দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা কতটা যৌক্তিক?

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই বলে দেবে দেশের আগামীর রাজনৈতিক গতিপথ কোন দিকে যাবে। একদিকে আওয়ামী লীগের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা, অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার চ্যালেঞ্জ—দুই মিলিয়ে দেশ এক চরম অস্থির সময় পার করছে। শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফিরতে পারবেন, নাকি বিদেশের মাটিতেই তার রাজনীতির অবসান ঘটবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

২০২৬ বিশ্বকাপে কি খেলবেন মেসি? মাশ্চেরানোর ‘তিন শব্দের’ জবাবে নতুন আশা ফুটবল বিশ্বে

0

স্পোর্টস ডেস্ক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): কাতার বিশ্বকাপের সেই সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর থেকেই একটি প্রশ্ন ফুটবল বিশ্বে ধ্রুবতারার মতো ঘুরপাক খাচ্ছে—লিওনেল মেসি কি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলবেন? ফুটবল জাদুকরের বয়স তখন ৩৯ ছুঁইছুঁই হবে। তবুও বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের মনে প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী। সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির বর্তমান কোচ এবং মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ হাভিয়ের মাশ্চেরানোর একটি মন্তব্য এই জল্পনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।

মাশ্চেরানোর সেই রহস্যময় তিন শব্দ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসির আগামী বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাশ্চেরানো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ একটি জবাব দেন। অনেকটা রহস্য ধরে রেখেই তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী” (I hope so)। মাত্র তিনটি শব্দের এই উত্তর এখন ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদের মাঝে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাশ্চেরানো কেবল মেসির বর্তমান ক্লাবের কোচই নন, তিনি মেসির দীর্ঘদিনের বন্ধু। ফলে তার এই ‘আশাবাদী’ হওয়াকে কেবল সৌজন্যমূলক মনে করছেন না ভক্তরা।

শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রস্তুতি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায়। যেহেতু মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতেই খেলছেন, তাই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া তার জন্য সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মূল চ্যালেঞ্জটি হবে শারীরিক। ২০২৬ সালে মেসির বয়স হবে ৩৯। এই বয়সে বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ স্তরের টুর্নামেন্টে খেলার জন্য যে তীব্র শারীরিক সক্ষমতার প্রয়োজন, তা মেসি বজায় রাখতে পারবেন কিনা—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যদিও মাশ্চেরানোর মতে, মেসির ফুটবল মেধা এবং ফিটনেসের প্রতি তার নিষ্ঠা তাকে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করার শক্তি যোগায়।

বাংলাদেশি সমর্থকদের উন্মাদনা ও প্রভাব বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ মানেই বড় এক অংশ জুড়ে থাকে আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের ভক্তদের সেই অবিস্মরণীয় সমর্থন ফিফা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মেসি ভক্ত এখনও স্বপ্ন দেখেন, তাদের প্রিয় তারকা ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে নামবেন। মাশ্চেরানোর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য বাংলাদেশি সমর্থকদের মাঝেও এক পশলা স্বস্তির বাতাসের মতো কাজ করছে।

শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে মেসি কি অপরিহার্য? আর্জেন্টিনার বর্তমান স্কোয়াড অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ হলেও মেসির উপস্থিতি সেখানে এক বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ করে। মাশ্চেরানো মনে করেন, মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি মাঠের ভেতরে এবং বাইরে পুরো দলের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। যদি তিনি খেলেন, তবে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও বেগবান হবে।

উপসংহার: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার? মাশ্চেরানো বা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন যতই আশাবাদী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিতে হবে খোদ লিওনেল মেসিকেই। তিনি কি তার ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত? ফুটবল বিশ্ব এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেসির ফিটনেস এবং মাঠের ফর্মই বলে দেবে—আমরা কি আবারও ‘এলএম ১০’ (LM10) জাদু দেখতে পাবো কিনা।

ইন্টার মায়ামিতে ‘মেসি ম্যাজিক’: অবিশ্বাস্য কম বেতনে যোগ দিচ্ছেন সেরা তারকারা!

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসির নামটাই যেন এক জাদুর কাঠি। তিনি যেখানে যান, সেখানেই বদলে যায় সমীকরণ। মার্কিন ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির চেহারা আমূল বদলে গেছে। তবে এবার যা ঘটছে, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। ২০২৬ সালের নতুন ফুটবল মৌসুমকে সামনে রেখে ইন্টার মায়ামি এমন এক দল গঠন করছে, যা অন্য কোনো এমএলএস (MLS) ক্লাবের পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব। আর এর পেছনের মূল কারণ—‘মেসি ফ্যাক্টর’।

মেসির জন্য বেতন কমাতে রাজি তারকারা সাধারণত বড় তারকাদের দলে ভেড়াতে ক্লাবগুলোকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু ইন্টার মায়ামির ক্ষেত্রে হচ্ছে উল্টো। মেসির সাথে একই ড্রেসিংরুম শেয়ার করার লোভে অনেক নামী খেলোয়াড় তাদের স্বাভাবিক পারিশ্রমিকের চেয়ে অনেক কম বেতনে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কানাডিয়ান গোলরক্ষক ডেন সেন্ট ক্লেয়ার। এমএলএস-এর ‘সেরা গোলরক্ষক’ নির্বাচিত হওয়া এই তারকাকে তার পুরনো ক্লাব মিনেসোটা ইউনাইটেড কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিলেও, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে অনেক কম বেতনে মায়ামিতে যোগ দিয়েছেন। সেন্ট ক্লেয়ার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের পাশে খেলার সুযোগটাই তার কাছে বড়।

২০২৬ মৌসুমের শক্তিশালী লাইনআপ কেবল গোলরক্ষকই নয়, আক্রমণেও শক্তি বাড়িয়েছে মায়ামি। মেক্সিকান স্ট্রাইকার জার্মান বের্টেরামকে ১৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে দলে ভিড়িয়েছে ক্লাবটি। এছাড়াও মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পলের চুক্তি স্থায়ী করা হয়েছে এবং লুইস সুয়ারেজের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের সাথে নিয়ে এক বিধ্বংসী দল গঠন করেছেন কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো। এদিকে, মেসির পুরনো সতীর্থ অস্কার উস্তারি ক্লাব ছেড়েছেন, যা নতুন পুনর্গঠনেরই একটি অংশ।

বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য প্রভাব বাংলাদেশে মেসির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকায় ইন্টার মায়ামির প্রতিটি ম্যাচ এখন এদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও, ক্লাব পর্যায়ে তার এই শক্তিশালী প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে ফুটবল চালিয়ে যেতে ক্ষুধার্ত। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ জয় করাই এখন মায়ামির প্রধান লক্ষ্য, যা মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে আরেকটি নতুন পালক যোগ করতে পারে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? লিওনেল মেসি যত দিন মায়ামিতে আছেন, ক্লাবটি এমএলএস-এর সব নিয়মকানুন ছাপিয়ে এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করবে। বেতন সীমা বা অন্যান্য সীমাবদ্ধতা মেসির ব্যক্তিগত আকর্ষণের কাছে যেন নস্যি। আগামী মাসেই শুরু হতে যাওয়া নতুন সিজনে মেসি-সুয়ারেজ-ডি পল ত্রয়ীর রসায়ন মাঠের লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।