Friday, March 13, 2026
Friday, March 13, 2026
29 C
Dhaka
a2news24
Home Blog Page 6

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, এটুনিউজ২৪ (A2News24): মাঠের লড়াইয়ের আগেই শুরু হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৬-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ভারতের অনড় অবস্থান এবং পাকিস্তানের পাল্টা বয়কটের হুমকির মাঝে ক্রিকেট বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত। সাধারণ সমর্থকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কি মাঠের লড়াই হবে, নাকি রাজনীতির বলি হবে ২২ গজের রোমাঞ্চ?

রাজনীতি যখন খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ। কেবল আইসিসি বা এশিয়ান ইভেন্টগুলোতেই দেশ দুটি মুখোমুখি হয়। তবে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে। ভারত সরকার নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তাদের দলকে পাকিস্তানে পাঠাতে রাজি নয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবার কোনো ‘হাইব্রিড মডেলে’ যেতে নারাজ। তাদের দাবি, যেহেতু টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানের মাটিতে হওয়ার কথা, তাই সব খেলা সেখানেই হতে হবে।

ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। লাহোর ও করাচির রাজপথ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সবখানেই চলছে তর্ক-বিতর্ক। অনেক কট্টর সমর্থক মনে করছেন, পাকিস্তানের সম্মান সবার আগে। তাদের মতে, “ভারত যদি পাকিস্তানে না আসে, তবে পাকিস্তানেরও উচিত ভারতের সাথে সব ধরনের ম্যাচ বয়কট করা।”

অন্যদিকে, ক্রিকেটপ্রেমীদের একটি বড় অংশ এই দ্বৈরথ মিস করতে চান না। তারা মনে করেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অনন্য এক উন্মাদনা। এই ম্যাচ বাতিল হওয়া মানে কোটি কোটি ভক্তের আবেগ নিয়ে খেলা করা। করাচির এক তরুণ ক্রিকেটারের মতে, “আমরা রাজনীতি বুঝি না, আমরা বাবর বনাম কোহলির লড়াই দেখতে চাই।”

আর্থিক ও বৈশ্বিক প্রভাব ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ব্রডকাস্টারদের কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্য। যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বয়কটের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে আইসিসি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বর্তমানে এই সংকট নিরসনে দুই দেশের বোর্ডের সাথে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো একটি পক্ষ নমনীয় না হলে বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করছেন, এটি কেবল খেলার বিষয় নয়, বরং জাতীয় মর্যাদার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই পিসিবি-কে তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে? এখন সবার নজর আইসিসি-র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত তাদের কড়া অবস্থানে টিকে থাকবে, নাকি বৈশ্বিক চাপের মুখে সমঝোতার পথ বেছে নেবে? আর ভারত সরকার কি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে? উত্তর যাই হোক না কেন, ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা—রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যেন খেলাটি জয়ী হয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ল্যাস ভেগাসের মঞ্চে ভবিষ্যতের ঝলক: সিইএস ২০২৬-এ নজর কাড়া সেরা ৫টি গেজেট

0

টেক ডেস্ক, ল্যাস ভেগাস থেকে: প্রতি বছরের মতো এবারও ল্যাস ভেগাসের কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো (সিইএস) ২০২৬-এ বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রদর্শনী করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং হার্ডওয়্যারের অনন্য মিশেলে এবারের মেলাটি ছিল গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে গৃহস্থালির রোবট—সবখানেই ছিল আগামীর প্রযুক্তির ছোঁয়া।

Galaxy Z TriFold
Galaxy Z TriFold

স্যামসাংয়ের তিন ভাঁজের ফোন: স্মার্টফোন দুনিয়ায় নতুন বিপ্লব এবারের মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল স্যামসাংয়ের ‘গ্যালাক্সি জেড ট্রাই-ফোল্ড’ (Galaxy Z TriFold)। সাধারণ ফোল্ডেবল ফোনের ধারণা পাল্টে দিয়ে স্যামসাং এবার নিয়ে এসেছে এমন এক ফোন, যা তিন স্তরে ভাঁজ করা যায়। এটি পুরোপুরি খুললে একটি বড় ট্যাবলেটের আকার ধারণ করে, আবার ভাঁজ করলে অনায়াসেই পকেটে রাখা যায়। প্রযুক্তিবোদ্ধারা মনে করছেন, এই ফোনটিই হবে আগামী দিনে মোবাইল ব্যবহারের নতুন মানদণ্ড।

OLED Evo W6
OLED Evo W6

এলজির অদৃশ্যপ্রায় ওয়ালপেপার টিভি: লিভিং রুমের ভোল পাল্টে দেবে এলজি উন্মোচন করেছে তাদের ওএলইডি ইভো ডব্লিউ-৬ (OLED Evo W6) মডেলের ‘ওয়ালপেপার টিভি’। এটি পেন্সিলের চেয়েও পাতলা এবং দেওয়ালে কোনো তার ছাড়াই স্থাপন করা যায়। এর বিশেষ ‘জিরো কানেক্ট বক্স’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তারহীনভাবেই হাই-ডেফিনিশন ভিডিও ও অডিও স্ক্রিনে পাঠানো সম্ভব। দেওয়ালে লাগানো থাকলে মনেই হবে না সেখানে কোনো টিভি আছে, বরং এটি একটি আধুনিক শিল্পকর্মের মতো দেখাবে।

CLOiD
CLOiD

গৃহকর্মী রোবট ‘ক্লোইড’: ঘরকন্যার কাজ হবে আরও সহজ ঘরের কাজ যারা একদমই পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এলজি নিয়ে এসেছে ‘ক্লোইড’ (CLOiD) নামক একটি এআই রোবট। এটি কেবল আদেশ পালনকারী কোনো মেশিন নয়, বরং এটি আপনার জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখা, রান্নাঘরে সাহায্য করা এবং ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার মতো জটিল কাজগুলোও অনায়াসেই করতে পারে। ব্যস্ত শহর জীবনে এই রোবটটি হতে পারে আধুনিক মানুষের সবচেয়ে বড় সঙ্গী।

Neurable
Neurable

চিন্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হবে গেমিং: ব্রেইন-সেন্সিং হেডফোন নিউরবল (Neurable) নামক একটি প্রতিষ্ঠান এমন এক হেডফোন এনেছে যা আপনার মস্তিষ্কের তরঙ্গ বা ইইজি (EEG) ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে। এর ফলে আপনি কেবল চিন্তা বা মনোযোগের মাধ্যমেই আপনার গেমিং বা অন্যান্য ডিজিটাল কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এটি মূলত আপনার মনোযোগের স্তর পরিমাপ করে গেমের গতি নির্ধারণ করে, যা প্রযুক্তির এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক।

LEGO Smart Bricks
LEGO Smart Bricks

স্মার্ট ব্রিকস: শিশুদের খেলার দুনিয়ায় লেগোর ডিজিটাল ছোঁয়া বিশ্ববিখ্যাত খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেগো (LEGO) নিয়ে এসেছে ‘স্মার্ট ব্রিকস’। এই প্লাস্টিকের টুকরোগুলোর ভেতরে রয়েছে উন্নত সেন্সর এবং ছোট স্পিকার। শিশুরা যখন কোনো কিছু তৈরি করবে, তখন সেই অনুযায়ী এই ব্রিকসগুলো থেকে আলো জ্বলবে বা শব্দ হবে। এটি শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপসংহার: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রভাব বিদেশের মাটিতে এই প্রযুক্তিগুলো উন্মোচিত হলেও খুব দ্রুতই এগুলোর প্রভাব বাংলাদেশেও দেখা যাবে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে এই স্মার্ট গেজেটগুলো বাজারে এলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এখন কেবল দেখার বিষয়, এই কল্পবিজ্ঞানের মতো প্রযুক্তিগুলো ঠিক কবে নাগাদ আমাদের হাতের নাগালে পৌঁছায়।

ইনকগনিটো মোডেও নজরদারি? ২ বিলিয়ন ডলারের মামলায় বড় জয় পেল গুগল

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, A2News24: ইন্টারনেটে গোপনীয়তা রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার মনে করা হয় গুগল ক্রোমের ‘ইনকগনিটো মোড’কে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ধারণা, এই মোডে ব্রাউজ করলে তাদের কার্যকলাপ কেউ দেখছে না। কিন্তু এই মোডেও গোপনে ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে বিশাল অঙ্কের মামলার মুখে পড়েছিল টেক জায়ান্ট গুগল। অবশেষে সেই ২ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা) মামলায় বড় ধরনের আইনি বিজয় পেল কোম্পানিটি।

মামলার প্রেক্ষাপট ও গুরুতর অভিযোগ গুগল ক্রোমের ‘ইনকগনিটো’ বা অন্যান্য ব্রাউজারের প্রাইভেট মোড চালু থাকলে ব্যবহারকারীরা সাধারণত মনে করেন তারা অনলাইনে অদৃশ্য। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ব্যবহারকারীরা যখন এই মোডে থাকেন, তখনও গুগল গোপনে তাদের ব্রাউজিং ডেটা এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এই কার্যকলাপকে ‘অবৈধ আড়ি পাতা’ বা গোপনীয়তা লঙ্ঘন দাবি করে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে গুগলের বিরুদ্ধে একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়। বাদীরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন।

আদালতের রায় ও বিচারকের পর্যবেক্ষণ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মার্কিন জেলা বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স এই মামলায় গুগলের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। আদালতের মতে, বাদীরা (ব্যবহারকারীরা) গুগলের পরিষেবা ব্যবহারের সময় তাদের প্রাইভেসি পলিসি বা গোপনীয়তা নীতিতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সেই নীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, গুগল তাদের ডেটা সংগ্রহ করতে পারে।

বিচারক আরও বলেন, গুগল ব্যবহারকারীদের মধ্যে এমন কোনো ভুল ধারণা তৈরি করেনি যে ‘ইনকগনিটো মোড’ মানে খোদ গুগলের কাছেও পুরোপুরি অদৃশ্য থাকা। যেহেতু গুগল নিজেই এই পরিষেবার প্রদানকারী, তাই তাদের সিস্টেমে তথ্য যাওয়াকে ফেডারেল আইন অনুযায়ী ‘অবৈধ আড়ি পাতা’ বলা যায় না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা ও প্রভাব বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটি বিশাল অংশ গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করেন। অনেকেই ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখতে ইনকগনিটো মোডের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করেন। এই মামলার রায়টি বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ‘প্রাইভেট’ বা ‘ইনকগনিটো’ মোড মানেই আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP), আপনার অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগ, কিংবা খোদ গুগলের কাছ থেকে আপনার কার্যকলাপ লুকিয়ে রাখা নয়। এই মোড মূলত আপনার নিজের ডিভাইসে ব্রাউজিং হিস্ট্রি, কুকিজ বা সাইট ডেটা সেভ হওয়া বন্ধ করে মাত্র। তাই অনলাইনে সংবেদনশীল কাজ করার সময় বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের এখন থেকে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

উপসংহার এই রায় গুগলের জন্য একটি বড় আইনি স্বস্তি বয়ে এনেছে এবং তাদের ব্যবসায়িক মডেলের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ডেটা প্রাইভেসি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করছে, তা নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠতে পারে।

এআই-এর জন্য ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে ওরাকল: প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন আতঙ্ক

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেক ডেস্ক: বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে ওরাকল। আর এই বিশাল সংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রতি কোম্পানির অদম্য ঝোঁক এবং স্যাম অল্টম্যানের ‘ওপেনএআই’-এর সাথে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব।

কেন এই বিশাল ছাঁটাই? ওরাকল তাদের ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রথাগত সফটওয়্যার সার্ভিস থেকে সরে এসে পুরোপুরি এআই-নির্ভর অবকাঠামো তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে। স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন ওপেনএআই-এর জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং পাওয়ার এবং ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সরবরাহে ওরাকল বড় অংকের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিশাল বিনিয়োগের খরচ মেটাতে এবং প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত ব্যয় কমাতে বর্তমান জনবল কমিয়ে ফেলার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানুষের জায়গা নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওরাকলের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি কোম্পানির বিষয় নয়, বরং এটি পুরো টেক ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি সতর্কবার্তা। কোম্পানিগুলো এখন মানুষের পরিবর্তে এআই-চালিত অটোমেশনে বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ব্যাক-অফিস অপারেশন, ডেটা এন্ট্রি এবং সাধারণ কোডিংয়ের মতো কাজগুলো এখন এআই দিয়ে করানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে অনেক কর্মীর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে।

বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার ও আইটি পেশাজীবীদের ওপর প্রভাব ওরাকলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের এই ছাঁটাই অভিযান বাংলাদেশের তরুণ আইটি পেশাজীবীদের জন্যও উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক ফ্রিল্যান্সার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বৈশ্বিক আইটি খাতের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বজুড়ে যখন এ ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঢেউ ওঠে, তখন আউটসোর্সিংয়ের বাজারেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এটি একটি বড় শিক্ষা যে, প্রথাগত দক্ষতার পাশাপাশি এখন এআই এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়া ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হবে।

উপসংহার: কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? ওরাকলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছাঁটাইয়ের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি, তবে অনেক বিভাগেই ইতিমধ্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এখন বড় প্রশ্ন হলো—এই ছাঁটাইয়ের মিছিল কি এখানেই থামবে, নাকি এআই-এর বিকাশের সাথে সাথে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে?

বাজারে আসছে ভাঁজ করা আইফোন: ২০২৬ সালে বড় চমক দিতে পারে অ্যাপল

0

টেক ডেস্ক, A2News24: স্মার্টফোন দুনিয়ায় নতুন উদ্ভাবনের নাম বললেই মাথায় আসে অ্যাপলের নাম। আইফোন প্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ছিল—কবে আসবে ভাঁজ করা বা ফোল্ডেবল আইফোন? অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল নাগাদ বাজারে আসতে পারে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন।

স্যামসাংয়ের আদলে ক্ল্যামশেল ডিজাইন অ্যাপলের এই নতুন ফোনটির ডিজাইন নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, এটি স্যামসাং গ্যালাক্সি জি ফ্লিপ (Samsung Galaxy Z Flip) সিরিজের মতো ‘ক্ল্যামশেল’ ডিজাইনের হতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ আইফোনের মতোই দেখতে হবে, তবে মাঝখান থেকে ভাঁজ করে পকেটে রাখা যাবে। অ্যাপল ইতিমধ্যে এই ধরনের ডিজাইনের জন্য বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সরবরাহকারীদের সাথে আলোচনা শুরু টেক জায়ান্ট অ্যাপল সাধারণত কোনো নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনার আগে দীর্ঘ সময় নিয়ে গবেষণা করে। ফোল্ডেবল ফোনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। খবর পাওয়া গেছে, অ্যাপল তাদের এশিয়ার সরবরাহকারীদের সাথে ফোল্ডেবল আইফোনের ডিসপ্লে এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। পর্দার ভাঁজ যেন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় কোনো বাধা না হয়, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছে কোম্পানিটি।

বাংলাদেশি ক্রেতাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের বাজারে আইফোনের একটি বিশাল এবং অনুগত ফ্যানবেস রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আইফোন মানেই আভিজাত্য। স্যামসাং ইতিমধ্যে তাদের ফোল্ডেবল ফোন দিয়ে বাজারে জায়গা করে নিলেও, অ্যাপল এই প্রযুক্তিতে আসায় গ্রাহকদের আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রেমীরা মনে করছেন, অ্যাপল যদি ফোল্ডেবল বাজারে আসে, তবে তা স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরনেই আমূল পরিবর্তন আনবে। তবে ফোনের দাম কত হবে, তা নিয়ে এখনই সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ কাজ করছে।

উপসংহার: কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? যদিও অ্যাপলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে ২০২৬ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরে কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী বছরগুলোতে আইফোনের প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক মডেলগুলো নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। স্যামসাং এবং গুগলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দিতে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কোন কোন বিশেষ ফিচার যুক্ত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ব্যান্টন ও ব্রুকের বীরত্বে লঙ্কানদের বধ: এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ পকেটে পুরলো ইংল্যান্ড

0

স্পোর্টস ডেস্ক, ঢাকা: ক্রিকেট মাঠে আবারও নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিল ইংল্যান্ড। সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান সিরিজে দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে জস বাটলারের দল। রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে জয়ের নায়ক ছিলেন টম ব্যান্টন ও হ্যারি ব্রুক। তাদের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় লঙ্কান বোলারদের লড়াই শেষ পর্যন্ত বৃথা গেছে।

ব্যান্টন ও ব্রুকের ব্যাটিং তাণ্ডব ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ইংল্যান্ড। ওপেনিংয়ে নামা টম ব্যান্টন লঙ্কান বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন। তার দৃষ্টিনন্দন শটগুলো মাঠের চারদিকে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ব্যান্টনের বিদায়ের পর হ্যারি ব্রুক হাল ধরেন এবং ইনিংসের সমাপ্তি টানেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। ব্রুকের ঠান্ডা মাথার ব্যাটিং ইংল্যান্ডকে একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোরে পৌঁছে দিতে মূল ভূমিকা পালন করে। এই দুই ব্যাটারের অর্ধশতকই মূলত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।

শ্রীলঙ্কার লড়াই ও ব্যর্থতা জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুটা মন্দ করেনি। লঙ্কান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত বিরতিতে রান তুলতে থাকলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় তারা কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়ে। ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর ক্ষুরধার ফিল্ডিংয়ের সামনে লঙ্কানদের সংগ্রাম দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। শেষ কয়েক ওভারে জয়ের পাল্লা শ্রীলঙ্কার দিকে হেলে পড়ার সম্ভাবনা জাগলেও ইংলিশ পেসারদের দুর্দান্ত ডেথ বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাদের।

বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য প্রভাব ভারত ও পাকিস্তানের মতো শ্রীলঙ্কাও এশিয়ার একটি অন্যতম শক্তিশালী দল। স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের কাছে এই সিরিজের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। শ্রীলঙ্কার এই পরাজয় এশীয় ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে বড় একটি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে এশীয় দলগুলোর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইংল্যান্ডের এমন আগ্রাসী ফর্ম আসন্ন আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর আগে অন্যান্য দলগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা।

উপসংহার: কী হবে পরবর্তী ম্যাচে? সিরিজ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় শেষ ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা। তবে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে শেষ ম্যাচে মরণকামড় দিতে চাইবে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পেতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। ক্রিকেট ভক্তরা এখন দেখার অপেক্ষায়, শেষ ম্যাচে লঙ্কানরা কি মান রক্ষা করতে পারে নাকি ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করে।

ম্যান সিটিকে হারিয়ে লিগ টেবিল জমিয়ে দিল টটেনহ্যাম: প্রিমিয়ার লিগের নাটকীয় জয়

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্পোর্টস ডেস্ক: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে বড় এক ধাক্কা খেল ম্যানচেস্টার সিটি। ঘরের মাঠে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে দিল টটেনহ্যাম হটস্পার। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ঠাসা ম্যাচে স্পার্সদের কৌশলী ফুটবল আর রক্ষণভাগের দৃঢ়তার কাছে পরাস্ত হতে হলো পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের। লন্ডনের টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি লিগ টেবিলের সমীকরণকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।

সিটির আধিপত্য বনাম টটেনহ্যামের প্রতিরোধ ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে কেভিন ডি ব্রুইন ও আর্লিং হালান্ডরা। তবে টটেনহ্যামের জমাট রক্ষণভাগের সামনে বারবার তাদের আক্রমণগুলো থমকে যাচ্ছিল। প্রতি-আক্রমণ (Counter-attack) নির্ভর ফুটবল খেলে সিটির রক্ষণে ফাটল ধরার অপেক্ষায় ছিল স্পার্সরা। প্রথমার্ধে সিটির দাপট থাকলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো পক্ষই।

ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া মুহূর্ত দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই টটেনহ্যাম আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে। ম্যাচের ঠিক মাঝপথে এক বিদ্যুৎ গতির পাল্টা আক্রমণে সিটির রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে লক্ষ্যভেদ করে স্বাগতিকরা। গোল হজম করার পর মরিয়া হয়ে ওঠে সিটিজেনরা। একের পর এক আক্রমণ করেও ফিনিশিংয়ের অভাবে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় তারা। বিশেষ করে শেষ ১০ মিনিটে সিটির মুহুর্মুহু আক্রমণগুলো রুখে দিয়ে টটেনহ্যামের গোলরক্ষক অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন।

লিগ টেবিলে প্রভাব ও বাংলাদেশি দর্শকদের উন্মাদনা এই পরাজয়ের ফলে শিরোপা দৌড়ে বড় পয়েন্ট হারাল ম্যানচেস্টার সিটি। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখন আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই ৩ পয়েন্ট অর্জন করে চ্যাম্পিয়নস লিগের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল টটেনহ্যাম। বাংলাদেশে প্রিমিয়ার লিগের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং বড় এই দুটি ক্লাবের লড়াই নিয়ে দেশের ফুটবল প্রেমীদের মাঝে তুমুল উত্তেজনা কাজ করছিল। বিশেষ করে রাতের ঘুমে বিসর্জন দিয়েও অনেক ভক্ত এই নাটকীয় লড়াই উপভোগ করেছেন।

উপসংহার: কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এই হার এখন দুশ্চিন্তার বড় কারণ। পেপ গার্দিওলাকে এখন নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে লিগে ফিরে আসার জন্য। অন্যদিকে, টটেনহ্যামের এই জয় তাদের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে নিয়ে গেছে। আগামী ম্যাচগুলোতে স্পার্সরা এই ধারা বজায় রাখতে পারে কি না এবং সিটি তাদের ভুল সংশোধন করে ফিরতে পারে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি ইসলামাবাদের

0

স্পোর্টস ডেস্ক, ঢাকা: বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মহারণ হিসেবে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান লড়াই এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কটের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ক্রিকেটীয় দ্বন্দ্বে এই নতুন মাত্রা বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

কেন এই বয়কটের হুমকি? পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) অনমনীয় অবস্থান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তানে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের পাকিস্তানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এখন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

পিসিবি ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, “যদি ভারত আমাদের দেশে খেলতে না আসে, তবে আমরাও তাদের বিরুদ্ধে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যু বা তাদের দেশে গিয়ে খেলব না।” পাকিস্তানের দাবি, ক্রিকেটে সমতা থাকা প্রয়োজন এবং একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

আইসিসি ও বিসিসিআই-এর অবস্থান এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টুর্নামেন্টের সিংহভাগ রাজস্ব। এই ম্যাচ না হওয়া মানে আইসিসির জন্য বিশাল আর্থিক ক্ষতি। অন্যদিকে, বিসিসিআই এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থানে অনড়। ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া তারা পাকিস্তানে দল পাঠাবে না বলে আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে।

বাংলাদেশি দর্শকদের ওপর প্রভাব বাংলাদেশি ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই আলাদা উত্তেজনার নাম। নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশ অনেক সময় এই দুই দেশের লড়াই দেখেছে। কিন্তু যদি পাকিস্তান সত্যিই এই ম্যাচ বয়কট করে, তবে তা বিশ্বকাপের জৌলুস অনেকখানি কমিয়ে দেবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। ঢাকার রাজপথে বা চায়ের দোকানে যে ক্রিকেটীয় উন্মাদনা দেখা যায়, তা এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে ফিকে হয়ে যেতে পারে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন বনাম ক্রিকেট ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠের লড়াই যখন মাঠের বাইরে চলে যায়, তখন ক্ষতিটা হয় সাধারণ সমর্থকদের। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নেই। আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোই ছিল একমাত্র ভরসা। এখন সেই পথও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই দ্বৈরথ ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে পারে।

উপসংহার: কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? আপাতত বিষয়টি আইসিসির কোর্টে। বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি কি পারবে এই সমস্যার সমাধান করতে? নাকি ২০২৬ বিশ্বকাপে সত্যিই দেখা যাবে না চিরচেনা সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াই? পাকিস্তান তাদের দাবিতে অটল থাকলে আইসিসিকে হয়তো টুর্নামেন্টের সূচি বা ভেন্যু নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। পর্দার আড়ালে কূটনীতি সফল না হলে ক্রিকেটের এক কালো অধ্যায়ের সাক্ষী হতে পারে বিশ্ব।

শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণার দিন আজ। ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালত আজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করবেন। মামলার অপর আসামি হলেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক।

মামলার প্রেক্ষাপট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হচ্ছে। তবে আজকের এই মামলার গুরুত্ব একটু ভিন্ন। কারণ এতে কেবল সাবেক প্রধানমন্ত্রীই নন, বরং তার পরিবারের আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত সদস্যদের নামও রয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজকের দিনটি রায়ের জন্য ধার্য করেছেন।

আইনজীবীদের বক্তব্য মামলার শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের সাথে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন। আজকের রায়ে আদালত মামলার নথিপত্র এবং পেশকৃত প্রমাণের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেন, তার দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

দেশজুড়ে কৌতূহল শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পর থেকে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে দাবি উঠেছে, এই রায়কে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনের বর্তমান সরকারের একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হওয়ায় এই মামলার আন্তর্জাতিক একটি মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই রায়ের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর এবং এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মী ও উৎসুক জনতার ভিড় সামাল দিতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উপসংহার: কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? আদালতের রায়ে যদি আসামিরা দোষী সাব্যস্ত হন, তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে সাজা কার্যকরের দাবি উঠবে। অন্যদিকে, রায় আসামিদের বিপক্ষে গেলে তাদের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি আইনি লড়াইয়ের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।

স্মার্ট ভবিষ্যৎ আপনার হাতের মুঠোয়; ২০২৬ সালে জীবনযাত্রার মান বাড়াবে যে সেরা ৫০টি গ্যাজেট

0

টেক ডেস্ক, A2News24: প্রযুক্তির জয়যাত্রায় আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে কল্পবিজ্ঞান আর বাস্তবতা মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সাল শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির এক নতুন জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের প্রাত্যহিক কাজকে আরও সহজ, সুন্দর এবং গতিশীল করতে বাজারে এসেছে বেশ কিছু যুগান্তকারী গ্যাজেট। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি পর্যালোচনায় এমন ৫০টি ডিভাইসের কথা উঠে এসেছে, যা আপনার লাইফস্টাইলকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

এআই বিপ্লব এবং ব্যক্তিগত সহকারী ২০২৬ সালের গ্যাজেট তালিকার শীর্ষে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত ডিভাইসগুলো। এখন আর এআই কেবল স্মার্টফোনের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আপনার চশমা, ঘড়ি এমনকি ঘরের আয়নাতেও জায়গা করে নিয়েছে। উন্নত এআই প্রসেসর যুক্ত স্মার্ট গ্লাসগুলো এখন কেবল ভিডিও ধারণই করে না, বরং রিয়েল-টাইম অনুবাদ এবং নেভিগেশনেও সাহায্য করছে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ফ্রিল্যান্সার এবং টেক-প্রেমীদের জন্য এই প্রযুক্তিগুলো কাজের দক্ষতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর হতে পারে।

স্বাস্থ্য সচেতনতায় আধুনিক ওয়্যারেবলস স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে এ বছর স্বাস্থ্যবিষয়ক গ্যাজেটগুলোতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সাধারণ স্মার্টওয়াচের দিন ফুরিয়ে এখন এসেছে ‘স্মার্ট রিং’ এবং উন্নত বায়ো-সেন্সর যুক্ত ব্যান্ড। এগুলো কেবল আপনার হার্ট রেট নয়, বরং রক্তের সুগার লেভেল এবং মানসিক চাপের সঠিক মাত্রাও জানিয়ে দিতে সক্ষম। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অনেকের জন্য কঠিন, সেখানে এই পোর্টেবল ডিভাইসগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

স্মার্ট হোম এবং টেকসই জীবনযাপন ২০২৬ সালের অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো স্মার্ট হোমের ধারণা। পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তির দিকে মানুষের ঝোঁক বেড়েছে। সৌরশক্তি চালিত পোর্টেবল পাওয়ার স্টেশন এবং এআই নিয়ন্ত্রিত হোম অ্যাপ্লায়েন্স এখন অনেকের ড্রয়িং রুমে। এগুলো বিদ্যুতের অপচয় রোধ করার পাশাপাশি আপনার ঘরের নিরাপত্তাকেও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে স্মার্ট ডোর লক এবং অটোমেটেড এয়ার পিউরিফায়ার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।

বিনোদন ও গেমিংয়ের নতুন দিগন্ত বিনোদন জগতের অভিজ্ঞতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাজারে এসেছে আরও উন্নত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) হেডসেট। আগের চেয়ে হালকা এবং শক্তিশালী ব্যাটারি যুক্ত এই ডিভাইসগুলো আপনাকে ঘরের কোণে বসেই স্টেডিয়ামের অনুভূতি দেবে। বাংলাদেশের তরুণ গেমারদের জন্য এটি হতে পারে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

উপসংহার: প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নেওয়া প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তনশীল। ২০২৬ সালে আমাদের জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে এই ৫০টি গ্যাজেট কেবল শুরু মাত্র। তবে মনে রাখতে হবে, গ্যাজেট ব্যবহারের পাশাপাশি আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তার দিকেও নজর দিতে হবে। স্মার্ট ডিভাইসের সঠিক ব্যবহার যেমন আমাদের সময় বাঁচাবে, তেমনি আমাদের জীবনকে করবে আরও আধুনিক। সামনে আরও কী কী বিস্ময় অপেক্ষা করছে, তা দেখতে আমাদের চোখ রাখতে হবে প্রযুক্তির আগামীর পাতায়।

ক্রিকেট বিশ্বে নতুন অস্থিরতা: বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের পথে কি পাকিস্তান?

0

ক্রীড়া ডেস্ক, A2News24: বিশ্ব ক্রিকেটের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক বৈরিতা এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বড় আইসিসি ইভেন্টগুলোতেও। সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যা বাংলাদেশে আয়োজনের কথা রয়েছে (যৌথভাবে বা এককভাবে আইসিসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী), তা বর্জনের হুমকি দিতে শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই সিদ্ধান্তে কেবল পাকিস্তান নয়, বরং আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট অর্থনীতি ও উন্মাদনাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সংকটের মূলে সেই ‘হাইব্রিড মডেল’ মূলত এই টানাপোড়েনের শুরু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনকে কেন্দ্র করে। ভারত পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আইসিসি যখন ‘হাইব্রিড মডেল’ এর প্রস্তাব দেয়, তখনই পাকিস্তান কড়া অবস্থান নেয়। পিসিবির স্পষ্ট বার্তা—যদি ভারত পাকিস্তানে না যায়, তবে পাকিস্তানও ভারতের আয়োজনে বা ভারতের প্রভাবাধীন কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। এই রেশ ধরেই বাংলাদেশের মাটিতে হতে যাওয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের আলোচনা সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশ সবসময়ই ক্রিকেটের জন্য একটি নিরাপদ এবং আবেগী জনপদ। কিন্তু এশীয় দেশগুলোর মধ্যে এই রাজনৈতিক বিভাজন বাংলাদেশের মতো আয়োজক দেশগুলোকে বিপাকে ফেলছে। পাকিস্তান যদি সত্যিই বিশ্বকাপ বর্জন করে, তবে টুর্নামেন্টের জৌলুস যেমন কমবে, তেমনই টিকিট বিক্রয় ও স্পন্সরশিপের দিক থেকেও বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের কাছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, যা থেকে বঞ্চিত হতে পারে সাধারণ দর্শকরা।

পিসিবির অনড় অবস্থান ও আইসিসির ভূমিকা পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, তারা আর ‘একতরফা’ ছাড় দিতে রাজি নন। আইসিসি বর্তমানে এই সংকট নিরসনে দৌড়ঝাঁপ করছে। যদি আইসিসি কোনো সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে না পারে, তবে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ইভেন্টগুলো জৌলুস হারাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি যদি এখনই শক্ত হাতে হাল না ধরে, তবে ক্রিকেটের মানচিত্র বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে।

আশঙ্কার মেঘ বনাম আশার আলো ক্রিকেট প্রেমীরা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত কূটনীতির টেবিলেই এর সমাধান মিলবে। খেলাধুলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার যে কথা সবসময় বলা হয়, বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখার সময় এসেছে। বাংলাদেশের মাঠগুলো যখন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন এমন বর্জনের হুমকি আয়োজক হিসেবে বিসিবির জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ।

উপসংহার: সামনে কী হতে যাচ্ছে? আপাতত বল এখন আইসিসির কোর্টে। পাকিস্তানের এই হুমকির পর আইসিসি তাদের ইভেন্টগুলোর নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ সভায় বসার কথা রয়েছে। পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অনড় থাকবে নাকি বড় কোনো সমঝোতায় আসবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

বিতর্ক থেকে দূরে থাকতেই কি এই কৌশলী পথ? রহমানের মন্তব্যে সৌরভ শুক্লার জুতসই জবাব

0

বিনোদন ডেস্ক, A2News24: বলিউড বা গ্ল্যামার জগতে তারকাদের যেকোনো মন্তব্যই এখন কাঁটাছেঁড়া হয় নতুন কোনো বিতর্কের খোঁজে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের একটি বিশেষ মন্তব্য নিয়ে যখন বিনোদন পাড়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই এক অনন্য প্রতিক্রিয়া দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন শক্তিমান অভিনেতা সৌরভ শুক্লা। তার এই প্রতিক্রিয়া যেমন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, তেমনই ইঙ্গিত দেয় বর্তমান সময়ের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো থেকে শিল্পীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতাকেও।

প্রেক্ষাপট ও রহমানের মন্তব্য ঘটনার সূত্রপাত হয় এ আর রহমানের একটি সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপট থেকে, যেখানে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠীগত বিভাজন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। ভারতের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে রহমানের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীর মুখে এমন কথা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের একাংশ একে সাহসিকতা হিসেবে দেখলেও, অন্য পক্ষ এর সমালোচনা করতে শুরু করে।

সৌরভ শুক্লার সেই ‘মজার’ জবাব সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অভিনেতা সৌরভ শুক্লাকে যখন রহমানের সেই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি সরাসরি কোনো তর্কে জড়াননি। বরং নিজের স্বভাবজাত রসবোধকে কাজে লাগিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে হয় এখন এখান থেকে যাই।” তার এই সংক্ষিপ্ত ও কৌশলী প্রস্থান মূলত এটিই বুঝিয়ে দেয় যে, সমসাময়িক রাজনৈতিক বা স্পর্শকাতর তর্কে তিনি নিজের নাম জড়াতে ইচ্ছুক নন। এই এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গিটি নেটিজেনদের কাছে ‘ইউনিক’ বা অনন্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বলিউডে মতপ্রকাশের চ্যালেঞ্জ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, বলিউডের কোনো তারকা সামাজিক বা রাজনৈতিক ইস্যুতে মন্তব্য করলে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সিনেমা বয়কটের ডাক পর্যন্ত দেওয়া হয়। সৌরভ শুক্লার মতো অভিজ্ঞ অভিনেতারা সম্ভবত এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই বিতর্ক এড়িয়ে চলার শিল্প আয়ত্ত করেছেন। তিনি সরাসরি রহমানের পক্ষ নেননি, আবার তার বিরোধিতা করে কোনো বিতর্কও উসকে দেননি।

বাংলাদেশি দর্শকদের ওপর প্রভাব এ আর রহমান এবং সৌরভ শুক্লা—দুজনেই বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রহমানের সুরে যেমন বাঙালি শ্রোতারা মুগ্ধ হন, তেমনি ‘পিকে’ বা ‘জলি এলএলবি’র মতো সিনেমায় সৌরভ শুক্লার অভিনয়ের কদর বাংলাদেশেও আকাশচুম্বী। এদেশের পাঠকদের কাছে বলিউডের ভেতরের এই মান-অভিমান বা কৌশলী অবস্থান সবসময়ই কৌতূহলের বিষয়। বিশেষ করে সাম্প্রদায়িকতা বা সম্প্রীতির মতো বিষয়গুলো যেহেতু দুই দেশের প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই সংবাদটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

শেষ কথা: আগামীর পথ কী? সৌরভ শুক্লার এই প্রতিক্রিয়া কি কেবল রসিকতা নাকি বলিউডের বড় তারকাদের নীরব থাকার ইঙ্গিত? বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পের আঙিনায় রাজনীতি সরাসরি প্রভাব ফেললে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই হয়তো অনেক শিল্পীই এখন নিজের শিল্পকর্ম দিয়ে কথা বলতে চান, বিতর্ক দিয়ে নয়। রহমানের মন্তব্যের রেশ কতদূর গড়ায় এবং অন্যান্য তারকারা এ নিয়ে মুখ খোলেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বক্স অফিসে বাজিমাত: সাফল্যের উদযাপনে মঞ্চ কাঁপালেন নাভিন পলিশেট্টি ও মীনাক্ষী চৌধুরী

0

বিনোদন ডেস্ক, A2News24: সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া দক্ষিণী চলচ্চিত্র ‘অনাগানাগা ওকা রাজু’ বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ছবির এই অভাবনীয় সাফল্যে আয়োজিত ‘সাকসেস ব্যাশ’ বা বিজয় উৎসবে ভিন্ন মাত্রার আনন্দ যোগ করলেন অভিনেতা নাভিন পলিশেট্টি এবং অভিনেত্রী মীনাক্ষী চৌধুরী। তাঁদের দুজনের স্বতঃস্ফূর্ত নাচ এবং রসায়ন এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।

সাফল্যের পার্টিতে তারার মেলা দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাভিন পলিশেট্টি তাঁর সহজাত কৌতুকবোধ এবং অভিনয়ের জন্য আগে থেকেই পরিচিত। তবে এবারের উদযাপনে তিনি দেখালেন তাঁর নাচের মুন্সিয়ানা। ছবির প্রধান অভিনেত্রী মীনাক্ষী চৌধুরীর সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে নাভিনের পারফরম্যান্স উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেছে। হায়দ্রাবাদের এক অভিজাত ভেন্যুতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছবির পুরো টিম এবং দক্ষিণী চলচ্চিত্র পাড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ভাইরাল সেই মুহূর্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছবির একটি জনপ্রিয় গানের তালে স্টেজে ঝড় তুলেছেন নাভিন ও মীনাক্ষী। কেবল পেশাদার পারফরম্যান্স নয়, বরং একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আনন্দ ভাগাভাগি করার বিষয়টিই দর্শকদের বেশি নজর কেড়েছে। নাভিনের এনার্জি এবং মীনাক্ষীর লাবণ্যময়ী উপস্থিতিতে পার্টিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে দক্ষিণী সিনেমার প্রভাব গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সাধারণ দর্শকদের মধ্যে দক্ষিণী সিনেমার (South Indian Cinema) জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ইউটিউবের কল্যাণে নাভিন পলিশেট্টির ‘জাতি রত্নালু’ বা ‘মিশেল শেট্টি পলিশেট্টি’-এর মতো ছবিগুলো এদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ সমাদৃত। ফলে তাঁর নতুন ছবির এই সাফল্য এবং সেলিব্রেশন বাংলাদেশের বিনোদন প্রেমীদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

‘অনাগানাগা ওকা রাজু’র প্রেক্ষাপট একটি সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক এবং ফ্যামিলি ড্রামা নির্ভর এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন তরুণ পরিচালক কল্যাণ শংকর। ছবিটির চিত্রনাট্য এবং নাভিনের নিখুঁত টাইমিং দর্শকদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাসিয়ে রেখেছে। সমালোচকদের মতে, বর্তমান সময়ে সিরিয়াস অ্যাকশন সিনেমার ভিড়ে এমন একটি হালকা মেজাজের কমেডি ড্রামা বক্স অফিসের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাকসেস পার্টির এক পর্যায়ে নাভিন জানান, দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। মীনাক্ষীও তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান যে, সামনে আরও বেশ কিছু বড় বাজেটের প্রজেক্টে তাঁদের দেখা যেতে পারে। এই ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য দক্ষিণী ইন্ডাস্টিতে নাভিনের অবস্থানকে আরও মজবুত করল বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।

বিদায় ‘হোম অ্যালোন’ খ্যাত মা; কিংবদন্তি অভিনেত্রী ক্যাথরিন ও’হারার প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে শোক

0

বিনোদন ডেস্ক, A2News24: সারা বিশ্বকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ক্যাথরিন ও’হারা। ‘হোম অ্যালোন’ সিনেমায় কেভিনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই শক্তিশালী অভিনেত্রী ৭১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে হলিউড থেকে বলিউড পর্যন্ত।

অসাধারণ এক ক্যারিয়ারের অবসান ক্যাথরিন ও’হারা ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হোম অ্যালোন’-এ কেট ম্যাক্যালিস্টারের চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন। তবে কেবল কমেডি নয়, ‘বিটলজুস’ থেকে শুরু করে আধুনিক সময়ের জনপ্রিয় সিরিজ ‘শিটস ক্রিক’-এ মইরা রোজ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এই সিরিজের জন্য তিনি এমি এবং গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছিলেন।

শোকাতুর সহকর্মী ও ভক্তরা ক্যাথরিনের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো শোকবার্তায় ভরে উঠেছে। হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ম্যারিল স্ট্রিপ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাথরিন ছিলেন একজন বিরল প্রতিভাধর শিল্পী। তাঁর টাইমিং এবং অভিনয়ের গভীরতা আমাদের অনুপ্রাণিত করত। তাঁর অভাব পূরণ হওয়ার নয়।”

বলিউড থেকেও শোকবার্তা এসেছে। বলিউড মেগাস্টার কারিনা কাপুর খান তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্যাথরিনের একটি ছবি শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কারিনা লিখেছেন, “একজন সত্যিকারের আইকনকে হারালাম। শান্তিতে ঘুমান ক্যাথরিন।” এছাড়াও হলিউড তারকা রায়ান রেনল্ডস, ড্যান লেভি এবং আরো অনেকে এই গুণী শিল্পীর প্রয়াণে স্মৃতিচারণ করেছেন।

বাংলাদেশি দর্শকদের সাথে আত্মিক টান বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও ক্যাথরিন ও’হারা অত্যন্ত পরিচিত মুখ। নব্বইয়ের দশকের যে প্রজন্মটি বিটিভিতে বা ভিসিআর-এ ‘হোম অ্যালোন’ দেখে বড় হয়েছে, তাদের কাছে তিনি চিরকাল সেই ‘ভুলোমনা কিন্তু মমতাময়ী মা’ হিসেবেই বেঁচে থাকবেন। বাংলাদেশে হলিউড সিনেমার ভক্তদের মধ্যে তাঁর প্রয়াণ গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

সাফল্য ও স্বীকৃতি ১৯৫৪ সালে কানাডায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী সত্তর দশকে স্কেচ কমেডি শো ‘এসসিটিভি’ (SCTV)-র মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তাঁর সুখ্যাতি ছিল। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একাধিক প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড এবং অর্ডার অফ কানাডা সম্মাননা পেয়েছেন।

আগামীর পথে তাঁর উত্তরাধিকার ক্যাথরিন ও’হারা কেবল একজন অভিনেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শিক্ষকতুল্য ব্যক্তিত্ব। অভিনয় জগতে তাঁর রেখে যাওয়া কাজগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পাঠ্য হয়ে থাকবে। বিশেষ করে কমেডি জেনারে তাঁর প্রোটোকল ভাঙা অভিনয় এবং ইউনিক বাচনভঙ্গি সিনেমা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে বাড়িতেই শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে বিনোদন প্রেমীরা। কিংবদন্তিরা চলে যান, কিন্তু তাঁদের সৃষ্টি থেকে যায় অমর হয়ে। ক্যাথরিন ও’হারাও তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগান্তর।

‘ব্যবসা আগে নয়, সৃজনশীলতাই আসল’: বলিউড নিয়ে শহীদ কাপুরের বিস্ফোরক মন্তব্য

0

বিনোদন ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: গ্ল্যামার আর বক্স অফিসের ঝনঝনানি কি তবে গিলে খাচ্ছে সিনেমার আসল প্রাণ বা শিল্পকে? বলিউডের অন্দরমহলে এই প্রশ্নটি অনেকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। এবার সেই আগুনেই ঘি ঢাললেন জনপ্রিয় অভিনেতা শহীদ কাপুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, সিনেমার সৃজনশীলতার চেয়ে ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা হিন্দি সিনেমার অপূরণীয় ক্ষতি করছে।

শিল্প বনাম ব্যবসা: শহীদের উদ্বেগ শহীদ কাপুরের মতে, বর্তমান সময়ে নির্মাতারা সিনেমার গল্প বা শিল্পের চেয়ে ‘বিজনেস মডেল’ তৈরিতে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। তিনি মনে করেন, যখন কোনো শিল্পকে কারখানার পণ্যের মতো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেই শিল্পের আত্মা হারিয়ে যায়। শহীদ বলেন, “সিনেমা কোনো গাণিতিক ফর্মুলা নয় যে আপনি চাইলে জোর করে দর্শকদের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ চালাবেন। শিল্পের নিজস্ব গতি আছে, তাকে তার মতো করে বিকশিত হতে দিতে হবে।”

দর্শকদের কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? বলিউডের এই তারকা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্মাতাদের উচিত নয় দর্শকদের রুচি বা পছন্দকে আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া। তার মতে, দর্শকরা সবসময় নতুন কিছু খোঁজে। কিন্তু যখন ব্যবসায়িক চিন্তায় পড়ে একই ধরণের ‘ফর্মুলা’ সিনেমা বারবার তৈরি করা হয়, তখন তা একঘেয়েমির সৃষ্টি করে। শহীদ কাপুর জোর দিয়ে বলেন, “আপনারা শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করবেন না। ব্যবসা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু সেটা যেন সৃজনশীলতার ওপর প্রাধান্য না পায়।”

বাংলাদেশি প্রেক্ষাপট ও বলিউডের প্রভাব বাংলাদেশেও হিন্দি সিনেমার বিশাল এক ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সিনেমা হলের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকরা বলিউডের খবরাখবর নিয়মিত রাখেন। আমাদের দেশেও সিনেমার ব্যবসা বনাম সৃজনশীলতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। শহীদের এই বক্তব্য বাংলাদেশের নবীন নির্মাতাদের জন্যও একটি বড় বার্তা হতে পারে। যখন কোনো নির্মাতা কেবল ‘ভাইরাল’ হওয়ার চিন্তায় বা বক্স অফিস কাঁপানোর নেশায় শিল্পকে বিসর্জন দেন, তখন দীর্ঘমেয়াদে সেই ইন্ডাস্ট্রি রুগ্ন হয়ে পড়ে।

ঝুঁকি নিতেই হবে শহীদ কাপুর মনে করেন, বলিউডের হারানো গৌরব ফেরাতে হলে নির্মাতাদের ঝুঁকি নিতে হবে। নতুন ধরণের গল্প এবং অপ্রচলিত বিষয়ের ওপর আস্থা রাখতে হবে। কেবল বড় বাজেটের ভিএফএক্স বা সুপারস্টারদের ওপর ভর করে সিনেমা হিট করার দিন ফুরিয়ে আসছে। দর্শক এখন গল্পের গভীরতা এবং মেকিংয়ের সততা দেখতে চায়।

উপসংহার: এরপর কী? শহীদ কাপুরের এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন বলিউডের বড় বাজেটের অনেক সিনেমাই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ছে। এখন দেখার বিষয়, তার এই সোজাসাপ্টা কথাগুলো বলিউডের বড় প্রযোজক বা নির্মাতাদের ভাবনায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না। যদি সৃজনশীলতা আবার ফ্রন্টসিটে ফিরে আসে, তবেই হিন্দি সিনেমা তার পুরনো জৌলুস ফিরে পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিসিবিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে হঠাৎ কড়াকড়ি: বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঢাকতেই কি এই বিধিনিষেধ?

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ভরাডুবির পর যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কঠোর ও আকস্মিক নিয়ম জারি করা হয়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

হঠাৎ কেন এই কড়াকড়ি? সম্প্রতি শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। বোর্ডের অনেক সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের নির্বাচন নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত সমালোচনা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিসিবি প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশে বাধা দেওয়াকে অনেকেই “তথ্য গোপনের চেষ্টা” হিসেবে দেখছেন। বিসিবির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সাংবাদিকরা চাইলেই বোর্ডের যে কোনো ফ্লোরে বা কর্মকর্তাদের কক্ষে যেতে পারবেন না। নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতের জন্য আগে থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিক্রিয়া বিসিবির এই সিদ্ধান্তে ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মিরপুর স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয় সাংবাদিকদের জন্য একটি উন্মুক্ত জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে খবরের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতো। কিন্তু নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বড় ধরণের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখার পরিবর্তে বোর্ড এখন নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে।

স্বচ্ছতা ও বিসিবির অবস্থান যদিও বিসিবির পক্ষ থেকে এই কড়াকড়িকে “পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার অংশ” হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তবে টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সাধারণত বড় কোনো টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর বোর্ড নানা ধরণের সংস্কারের পথে হাঁটে, কিন্তু সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কোনো গঠনমূলক সংস্কার হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যখন দলের ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখা এবং বোর্ডকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন, তখন এই ধরণের সিদ্ধান্ত মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়।

সাধারণ দর্শকদের ভাবনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স একটি সংবেদনশীল বিষয়। সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন যে, মাঠের ব্যর্থতা ঢাকতে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং বোর্ডের উচিত ছিল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তুলে ধরা।

উপসংহার: এরপর কী? বিসিবির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কতদিন স্থায়ী হয়, তা এখন দেখার বিষয়। সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। যদি এই দূরত্ব বজায় থাকে, তবে বিসিবি ও সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে বড় ধরণের চিড় ধরতে পারে, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

কর্মজীবী নারীদের নিয়ে জামায়াত আমীরের ‘বিতর্কিত’ এক্স পোস্ট: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটিতে কর্মজীবী নারীদের সম্মানহানি করা হয়েছে—এমন অভিযোগে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়ার পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বিতর্ক থামছে না।

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে তিনি কর্মজীবী নারীদের অবস্থানকে একটি আপত্তিকর উপমার সাথে তুলনা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার সংস্থাসমূহ তীব্র নিন্দা জানাতে শুরু করে।

সমালোচনার মুখে পোস্ট মুছে ফেলা পোস্টটি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধলে এবং বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে জামায়াত আমীর তার আইডি থেকে ওই বিতর্কিত পোস্টটি ডিলিট বা মুছে ফেলেন। তবে ততক্ষণে পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই বলছেন, দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অসামান্য অবদানের এই যুগে একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।

নারীদের অবস্থান ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে শুরু করে প্রশাসন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা এখন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। দেশের জিডিপিতে নারীদের অংশগ্রহণ যেখানে ঈর্ষণীয়, সেখানে তাদের সামাজিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষা আশা করে সাধারণ মানুষ।

কর্মজীবী নারীদের নিয়ে জামায়াত আমীরের ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য: তোপের মুখে ডিলিট করা হলো এক্স পোস্ট

দলীয় প্রতিক্রিয়া ও জনমত পোস্টটি মুছে ফেলার বিষয়ে বা এই বিতর্কের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে দলটির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে এই ইস্যু নিয়ে অনলাইন মাধ্যমে যুক্তিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে কোনো মন্তব্য করে তা মুছে ফেললেই দায় শেষ হয়ে যায় না, বরং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য স্বচ্ছতা জরুরি।

ভবিষ্যৎ প্রভাব বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতের ভাবমূর্তি এবং নারী ভোটব্যাংকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কতটা সতর্কতা অবলম্বন করবে, তা এখন দেখার বিষয়। নারীর মর্যাদা ও কর্মসংস্থানের অধিকার রক্ষায় দেশের সচেতন সমাজকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে অজ্ঞাত যুবকের আত্মহত্যা: এলাকায় শোকের ছায়া

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল | a2news24 টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবক (আনুমানিক বয়স ২৮-৩০) আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার হাতিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা অভিমুখী ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে ওই যুবক ঝাঁপ দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু রেললাইনের কালিহাতী অংশের হাতিয়া এলাকায় এক যুবককে দীর্ঘক্ষণ রেললাইনের আশেপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। সকালের দিকে সিরাজগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যখন হাতিয়া এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে যুবকটি হঠাৎ লাইনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত স্থানীয়রা হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

রেল পুলিশের তৎপরতা ও লাশ উদ্ধার ঘটনার পর টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছিন্নভিন্ন মরদেহটি উদ্ধার করেন। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত আত্মহত্যার ঘটনা। তবে কী কারণে যুবকটি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, “আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।”

পরিচয় শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার রেলওয়ে পুলিশ আরও জানায়, অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ (ফিংগারপ্রিন্ট) সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিবিআই (Police Bureau of Investigation) এর সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেস ব্যবহার করে তার নাম-ঠিকানা জানার চেষ্টা করা হবে। স্থানীয় কোনো পরিবার থেকে নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

রেললাইনে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা: উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক সময়ে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। পারিবারিক কলহ, বেকারত্ব কিংবা মানসিক অবসাদের কারণে অনেক যুবক এমন মর্মান্তিক পথ বেছে নিচ্ছেন। টাঙ্গাইলের এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আমাদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেললাইনের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

কুমিল্লায় ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভা: ‘নতুন বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদের জায়গা নেই’—ড. শফিকুর রহমান

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গন। শনিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এইচ জে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’ তাদের নির্বাচনী শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেছে। এই ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভা জোটের শীর্ষ নেতারা সমবেত হয়ে একবাক্যে ঘোষণা করেছেন যে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদ বা ফ্যাসিবাদের স্থান হবে না।

মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জান, মাল ও সম্মানের পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাড়ে ১৫ বছরের দুঃশাসন ও জুলুমের অবসান হয়েছে। এখন সময় হয়েছে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার। শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দলের বিজয়ের জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সভায় ড. শফিকুর রহমান দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের প্রতি কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, অতীতে যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তারা যেন নিজেদের সংশোধন করে নেন। তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজির গোড়া কেটে দিতে চাই। তবে যারা নিজেদের সংশোধন করবে, তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই যেখানে হালাল উপায়ে সবাই সম্মানের সাথে বাঁচতে পারবে।”

নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যে নতুন স্বাধীনতা পেয়েছে, তাকে নস্যাৎ করতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষকে জেতাতে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ঐতিহাসিক শোষণের অবসান ও ১১ দলীয় জোট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক তার বক্তব্যে ১৯৭২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়কে ‘শোষণের যুগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন শাসনের নামে জনগণকে শোষণ করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে সত্যিকারের গণপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের। কুমিল্লা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, এই জোট কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

নির্বাচনী আবহে মহাজাগরণ চৌদ্দগ্রামের এই জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জোটের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই বিশাল সমাবেশ প্রমাণ করে যে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পর এই প্রথমবার একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর আগে উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব: আইসিসি ও ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখোমুখি সংঘাত

0

স্পোর্টস ডেস্ক, a2news24.com টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের বিতর্কে উত্তাল হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন। ক্রিকেটারদের অধিকার রক্ষা এবং বাণিজ্যিক শর্তাবলী নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) এখন একে অপরের মুখোমুখি। মূলত খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ইমেজ স্বত্ব এবং অংশগ্রহণের বিতর্কিত কিছু শর্তকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত।

দ্বন্দ্বের মূলে যা আছে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে যে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি ক্রিকেটারদের কাছে এমন কিছু চুক্তিনামা পাঠিয়েছে, যা ২০২৪ সালে হওয়া দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ক্রিকেটারদের সংগঠনের দাবি, নতুন এই শর্তগুলো অত্যন্ত ‘শোষণমূলক’ এবং এতে খেলোয়াড়দের মৌলিক বাণিজ্যিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। বিশেষ করে নাম, ছবি এবং ইমেজ স্বত্ব ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইসিসি এমন কিছু নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছে যা আন্তর্জাতিক মানের পেশাদারিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আইসিসি বনাম ডব্লিউসিএ: পাল্টাপাল্টি অবস্থান ডব্লিউসিএ-র প্রধান নির্বাহী টম মোফাট এই বিষয়ে আইসিসিকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। তার মতে, খেলোয়াড়দের কাছে পাঠানো বর্তমান মেমোতে অন্তত আটটি জায়গায় বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। তবে আইসিসি এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, ২০২৪ সালের সেই চুক্তিটি ছিল নির্দিষ্ট আটটি ক্রিকেট বোর্ডের জন্য। বাকি অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এই চুক্তির আওতাভুক্ত নয়। আইসিসির এই বিভাজনমূলক অবস্থানকে বৈষম্যমূলক হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ও প্রাসঙ্গিকতা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশ নিচ্ছে না। বাংলাদেশের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। তবে বাংলাদেশ সরাসরি এই টুর্নামেন্টে না থাকলেও, বৈশ্বিক এই বিতর্ক বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ডব্লিউসিএ-র সদস্য হিসেবে কোয়াব (Cricketers’ Welfare Association of Bangladesh) এই আইনি লড়াইয়ের অংশ। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রেও এই সংঘাতের ফলাফল সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

শোষণমূলক শর্তের প্রভাব ডব্লিউসিএ-র আশঙ্কা, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর ক্রিকেটারদের ওপর এই ‘শোষণমূলক’ শর্তগুলো জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং উপার্জনের পথ সংকুচিত হতে পারে। বিশেষ করে গণমাধ্যমে উপস্থিতি এবং ব্যক্তিগত স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে আইসিসি কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাচ্ছে, যা আধুনিক ক্রিকেটের যুগে খেলোয়াড়দের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ভবিষ্যৎ কী? বিশ্বকাপের মতো একটি বড় আয়োজনের আগে এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ ক্রিকেটের সৌন্দর্যে কালি লেপন করছে। একদিকে আইসিসি তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় অনড়, অন্যদিকে ডব্লিউসিএ খেলোয়াড়দের অধিকার আদায়ে বদ্ধপরিকর। যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয়, তবে বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।