Friday, March 13, 2026
Friday, March 13, 2026
29 C
Dhaka
a2news24
Home Blog Page 4

পল্লবী তে হৃদয়বিদারক দৃশ্য: এক ঘরেই মিলল স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশুর প্রাণহীন দেহ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার এক চরম শোকাবহ ও রহস্যজনক ঘটনার সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। একটি পরিত্যক্ত ভবনের ঘর থেকে একই পরিবারের চারজন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের দুই অবুঝ শিশু সন্তান। প্রাথমিক আলামত ও স্বজনদের দাবি অনুযায়ী, অভাব-অনটন এবং জীবনযুদ্ধের ক্লান্তিই হয়তো এই পরিবারটিকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থলের চিত্র ও পরিচয় মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের কালশী রোড সংলগ্ন পরিত্যক্ত ওয়াপদা ভবনের নিচতলায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন মাসুম (৩৫), তাঁর স্ত্রী সুমি (৩০) এবং তাঁদের দুই শিশু সন্তান—৪ বছর বয়সী মিনহাজ ও ২ বছর বয়সী আসহাব। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ফ্যানের সাথে মাসুমের ঝুলন্ত লাশ এবং বিছানায় স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে।

অভাবের কালো ছায়া: পুলিশের প্রাথমিক ধারণা পল্লবী অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিঞ্চার মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, মাসুমের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অভাবের যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে মাসুম প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে নিজে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ রমজানে অফিস সময় পুনর্বিন্যাস: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি

স্বজনদের ভিন্ন দাবি তবে মাসুমের ফুপাতো ভাই মান্না এই ঘটনার একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মাসুম বেনারসি শাড়ির কারচুপির কাজ করার পাশাপাশি রিকশাও চালাতেন। অভাব এতটাই তীব্র ছিল যে, জীবন চালানো দায় হয়ে পড়েছিল। মান্নার ধারণা, মাসুমের স্ত্রী হয়তো প্রথমে সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন এবং নিজে বিষপান করেছেন, যা দেখে পরে মাসুম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। যদিও বিষক্রিয়া নাকি শ্বাসরোধ—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? একটি সাজানো-গোছানো পরিবারের এভাবে নিভে যাওয়ার পেছনে কেবল দারিদ্র্য নাকি অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ আছে, তা নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। পরিত্যক্ত ভবনে এমন অবমানবিক পরিস্থিতিতে বসবাস করা এই পরিবারটির ট্র্যাজেডি সমাজের বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের দিকেই আঙ্গুল তুলছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশের ফরেনসিক তদন্তই বলে দেবে ঠিক কী ঘটেছিল সেই রুদ্ধদ্বার ঘরে। আপাতত পুরো কালশী এলাকায় বিরাজ করছে এক থমথমে নীরবতা।

স্মার্টফোন দুনিয়ায় নতুন বিপ্লব: আইফোন ফোল্ড কি পারবে স্যামসাং-গুগলকে টক্কর দিতে?

0

প্রযুক্তি ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে বাজারে আসতে যাচ্ছে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা ফোন বা ‘আইফোন ফোল্ড’ (iPhone Fold)। প্রযুক্তি বিশ্বের প্রধান আকর্ষণ এখন এই ডিভাইসটিকে ঘিরে। যেখানে স্যামসাং বা গুগলের মতো কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে ফোল্ডেবল বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, সেখানে অ্যাপল কেন এতদিন অপেক্ষা করল এবং তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী কী চমক থাকছে—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

অপূর্ব ডিসপ্লে ও ‘সেলফ-হিলিং’ প্রযুক্তি আইফোন ফোল্ডের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এর ডিসপ্লে। বিভিন্ন পেটেন্ট ও তথ্যসূত্র অনুযায়ী, অ্যাপল এমন এক ধরণের নমনীয় ডিসপ্লে নিয়ে কাজ করছে যা ভাঁজ করার স্থানে কোনো দাগ (Crease) তৈরি হতে দেবে না। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এতে ‘সেলফ-হিলিং’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাগ মুছে ফেলার প্রযুক্তি থাকতে পারে। ফলে নখ বা অন্য কোনো ছোটখাটো আঁচড় পড়লে তা নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ফোনটি খোলা অবস্থায় ৮ ইঞ্চির একটি ট্যাবলেটের মতো কাজ করবে।

আরো পড়ুনঃ আইফোন এর ইতিহাসে বড় বাঁক: স্ট্যান্ডার্ড মডেলের লঞ্চ পিছিয়ে ২০২৭-এ, ২০২৬-এই আসছে আইফোন ‘ফোল্ড’

শক্তিশালী প্রসেসর ও মাল্টিটাস্কিং যেহেতু আইফোন ফোল্ড ২০২৬ সালে আইফোন ১৮ প্রো মডেলের সাথে আসবে, তাই এতে অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের এআই-অপ্টিমাইজড চিপসেট (সম্ভবত A20 Bionic বা M-সিরিজের কোনো ভ্যারিয়েন্ট) ব্যবহার করা হবে। ভাঁজ করা ফোনের বড় স্ক্রিনকে কাজে লাগাতে আইওএস (iOS)-এ আনা হবে বিশেষ পরিবর্তন, যা অনেকটা আইপ্যাডওএস (iPadOS)-এর মতো উন্নত মাল্টিটাস্কিং অভিজ্ঞতা দেবে। একই সাথে ভিডিও এডিটিং ও গেমারদের জন্য এটি হবে এক শক্তিশালী পকেট ডিভাইস।

ক্যামেরা ও ডিজাইনে আভিজাত্য আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো মডেলগুলোর মতো এটিতেও থাকবে উন্নতমানের ট্রিপল লেন্স ক্যামেরা সিস্টেম। তবে ফোনের আকার পাতলা রাখতে অ্যাপল এর লেন্স ডিজাইনে নতুনত্ব আনতে পারে। টাইটানিয়াম ফ্রেম এবং প্রিমিয়াম ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে এটি যেমন হবে মজবুত, তেমনি ওজনেও হবে তুলনামূলক হালকা। এটি ‘ক্ল্যামশেল’ (ফ্লিপ ফোন) নাকি ‘বুক-স্টাইল’ (বইয়ের মতো ভাঁজ)—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও অধিকাংশ প্রযুক্তি বিশ্লেষক একে বুক-স্টাইল ফোন হিসেবেই দেখছেন।

সম্ভাব্য দাম: পকেটে কতটা চাপ পড়বে? অ্যাপলের ডিভাইস মানেই প্রিমিয়াম দাম। আইফোন ফোল্ডের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটির প্রাথমিক দাম ১,৫৯৯ থেকে ১,৯৯৯ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশের বাজারে শুল্ক ও ট্যাক্স মিলিয়ে এর দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও অ্যাপলের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও নতুন প্রযুক্তির কারণে এটি বাজারের প্রিমিয়াম সেগমেন্টে রাজত্ব করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? আইফোন ফোল্ড কেবল একটি নতুন ফোন নয়, এটি অ্যাপলের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল। কোম্পানিটি তড়িঘড়ি করে বাজারে না এসে দীর্ঘ সময় নিয়েছে ফোনের স্থায়িত্ব বা ডিউরেবিলিটি নিশ্চিত করতে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যখন এটি উন্মোচন করা হবে, তখন এটি ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আইফোন ১৮ স্ট্যান্ডার্ড মডেলের বিলম্বের সুযোগে এই ফোল্ডেবল ফোনটি সাধারণ মানুষের মাঝে কতটা জনপ্রিয়তা পায়।

আইফোন এর ইতিহাসে বড় বাঁক: স্ট্যান্ডার্ড মডেলের লঞ্চ পিছিয়ে ২০২৭-এ, ২০২৬-এই আসছে আইফোন ‘ফোল্ড’

0

প্রযুক্তি ডেস্ক, এটুনিউজ২৪: প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল তাদের স্মার্টফোন রিলিজের গতানুগতিক বার্ষিক চক্রে এক বড় ধরণের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে আইফোনের সবকটি ভ্যারিয়েন্ট একসাথে বাজারে আসলেও, আইফোন ১৮ সিরিজের ক্ষেত্রে এই ধারায় ছেদ পড়তে যাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আইফোন ১৮-এর স্ট্যান্ডার্ড বা সাধারণ মডেলটির লঞ্চ পিছিয়ে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রো মডেলের ব্যবহারকারী এবং যারা ভাঁজ করা আইফোনের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য সুখবর রয়েছে।

কেন এই বিলম্ব? কারণ ও প্রেক্ষাপট নিক্কেই এশিয়া এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন (Supply Chain) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনের জটিলতা এবং যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতেই অ্যাপল এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে এআই (AI) প্রযুক্তির প্রসারের ফলে মেমরি চিপসহ অন্যান্য হার্ডওয়্যারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপল চাইছে তাদের প্রিমিয়াম এবং উচ্চ-লাভজনক ডিভাইসগুলোকে প্রথমে বাজারে এনে উৎপাদন ব্যয় ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে।

২০২৬-এ আসছে আইফোন ফোল্ড ও প্রো মডেল আইফোন ১৮ সিরিজের স্ট্যান্ডার্ড মডেল পিছিয়ে গেলেও, প্রিমিয়াম আইফোন ১৮ প্রো, প্রো ম্যাক্স এবং অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ফোল্ড’ ২০২৬ সালের শেষার্ধেই বাজারে আসবে। অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা ফোনটি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক উদ্দীপনা রয়েছে। এই ফোনের জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতেই অ্যাপল তাদের সাধারণ মডেলের উৎপাদন কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

আরো পড়ুনঃ বাজারে আসছে ভাঁজ করা আইফোন: ২০২৬ সালে বড় চমক দিতে পারে অ্যাপল

বাংলাদেশি গ্রাহকদের ওপর প্রভাব বাংলাদেশের আইফোন প্রেমীদের জন্য এই খবরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত নতুন আইফোন আসার পর স্ট্যান্ডার্ড মডেলটির জনপ্রিয়তা আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি থাকে। লঞ্চ পিছিয়ে যাওয়ার ফলে যারা নিয়মিত ফোন পরিবর্তন করেন, তাদের ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে অথবা ২০২৬-এই বাজারে আসা প্রো মডেল বা নতুন ফোল্ডেবল সংস্করণে সুইচ করতে হতে পারে। তবে অ্যাপল যদি যন্ত্রাংশের দাম বাড়া সত্ত্বেও রিটেইল দাম স্থিতিশীল রাখতে পারে, তবে সেটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হবে।

উপসংহার: স্মার্টফোন বাজারের নতুন ট্রেন্ড অ্যাপলের এই সিদ্ধান্ত কেবল তাদের নিজস্ব কৌশলের অংশ নয়, বরং এটি পুরো স্মার্টফোন শিল্পের একটি নতুন ট্রেন্ড নির্দেশ করছে। উদ্ভাবন এবং স্থায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে কোম্পানিগুলো এখন আর কেবল বার্ষিক লঞ্চের ওপর নির্ভর করছে না। আইফোন ১৮ স্ট্যান্ডার্ড মডেলের এই বিলম্ব অ্যাপলকে তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনটিকে আরও নিখুঁত করার সুযোগ দেবে। ২০২৬ সালের শেষে যখন আইফোন ফোল্ড বাজারে আসবে, তখন সেটি স্মার্টফোনের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে।

রমজানে অফিস সময় পুনর্বিন্যাস: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অফিসের নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, রমজান মাসে অফিসের সময়সীমা কমানো হয়েছে যাতে রোজাদাররা ইফতারের আগে সুশৃঙ্খলভাবে ঘরে ফিরতে পারেন।

সময়সূচির বিস্তারিত তথ্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান মাসে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। বর্তমানের স্বাভাবিক সময়সূচির চেয়ে এটি কিছুটা সংক্ষিপ্ত। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের জন্য ১৫ মিনিটের বিশেষ বিরতি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ গুগল পিক্সেল ১০এ-তে আমূল পরিবর্তন: গুগলের নতুন চমক ও প্রি-অর্ডার তারিখ ফাঁস

বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়ম পাবলিক সার্ভিস বা সরকারি অফিসের জন্য এই সময়সূচি বাধ্যতামূলক হলেও ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রাহকদের প্রয়োজনীয়তা ও কাজের ধরণ অনুযায়ী আলাদা অফিস সূচি নির্ধারণ করবে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্যান্য বিশেষায়িত সংস্থাও তাদের নিজস্ব সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

কবে থেকে কার্যকর হবে? চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর ২০ এপ্রিল থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানের প্রথম দিন থেকেই এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে এবং ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। প্রতি বছরই রোজাদারদের কষ্ট লাঘব করতে সরকার অফিস সময় পুনর্বিন্যাস করে থাকে, যার ধারাবাহিকতায় এই বছরও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? নতুন এই সময়সূচি ঘোষণার ফলে অফিস শেষে বাড়িতে ফেরার জন্য পরিবহনের ওপর চাপের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের যানজট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাফিক বিভাগকে আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া রমজান উপলক্ষে স্কুল-কলেজের ছুটির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুতই আলাদা নির্দেশনা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সঠিক সময়ে কাজ শেষ করে ইফতারের পূর্বেই ঘরে পৌঁছানোই এখন সাধারণ চাকরিজীবীদের মূল লক্ষ্য।

লহোর কালান্দার্সে ‘ মুস্তাফিজুর রহমান ‘ আইপিএলের বঞ্চনার জবাব কি পিএসএলেই দেবেন ‘দ্য ফিজ’?

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: ক্রিকেটের দুনিয়ায় এক দুয়ার বন্ধ হলে অন্য হাজারো দুয়ার খুলে যায়—মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে এটি আবারও প্রমাণিত হলো। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগ আইপিএলের সবশেষ নিলামে যখন কোনো দল বাংলাদেশের এই ‘কাটার মাস্টার’কে নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি, তখন তার কদর বুঝল পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। ২০২৬ সালের পিএসএলের আসরে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লহোর কালান্দার্স।

নিলামের ট্র্যাজেডি বনাম নতুন সম্ভাবনা চলতি মৌসুমে আইপিএলে মুস্তাফিজ দল না পাওয়ায় তার ভক্তরা বেশ হতাশ ছিলেন। বিশেষ করে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে গত আসরে দুর্দান্ত বোলিং করার পরও তার প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনাগ্রহ অবাক করার মতো ছিল। তবে মুস্তাফিজের সামর্থ্যে পূর্ণ আস্থা রেখেছে লহোর কালান্দার্স। পাকিস্তান সুপার লিগের অন্যতম সফল এই দলটি তাদের বোলিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করতে মুস্তাফিজের অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্যকে কাজে লাগাতে চায়।

লহোরের পেস আক্রমণে নতুন শক্তি লহোর কালান্দার্স ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বমানের পেস বোলারদের পছন্দের দল। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফদের মতো গতিদানবদের পাশে মুস্তাফিজের মন্থর গতির মারণাস্ত্র এবং স্লাইসার কাটার এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান আটকে রাখা এবং উইকেট শিকারের ক্ষমতার কারণে লহোর কর্তৃপক্ষ তাকে পেতে মরিয়া ছিল। লহোরের ঘরের মাঠে মুস্তাফিজের এই বাঁহাতি বোলিং প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ও মুস্তাফিজের প্রস্তুতি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে মুস্তাফিজের জন্য পিএসএলের এই মঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক সময়ে মুস্তাফিজের বোলিংয়ে কিছুটা উঠানামা দেখা দিলেও, পিএসএলের মতো হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্টে খেলা তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এটি বড় আনন্দের সংবাদ, কারণ তারা আবারও তাদের প্রিয় ‘দ্য ফিজ’কে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে লড়তে দেখবেন।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? পিএসএল ২০২৬-এর এই যাত্রা মুস্তাফিজের ক্যারিয়ারের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। যদি লহোরের জার্সিতে তিনি তার চেনা ছন্দে ফিরতে পারেন, তবে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য সেটি হবে একটি শক্তিশালী জবাব। ভক্তদের প্রত্যাশা, শাহীন আফ্রিদির নেতৃত্বে মুস্তাফিজ তার সেরাটা উজাড় করে দেবেন এবং লহোর কালান্দার্সকে আরও একটি শিরোপা জয়ে সাহায্য করবেন। ফিজের নতুন এই মিশনের দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ।

গুগল পিক্সেল ১০এ-তে আমূল পরিবর্তন: গুগলের নতুন চমক ও প্রি-অর্ডার তারিখ ফাঁস

0

প্রযুক্তি ডেস্ক: স্মার্টফোন দুনিয়ায় গুগল পিক্সেল সিরিজের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে, বিশেষ করে এর ক্যামেরা এবং ক্লিন অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতার জন্য। পিক্সেল ১০ সিরিজের সবচেয়ে সাশ্রয়ী সংস্করণ গুগল পিক্সেল ১০এ’ (Pixel 10a) নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার বড় ধরণের তথ্য সামনে এসেছে। গুগলের সাম্প্রতিক একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও টিজারে ফোনটির নকশায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা পিক্সেল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।

ডিজাইনে আমূল পরিবর্তন: বিদায় নিচ্ছে সিগনেচার ক্যামেরা বার

পিক্সেল ৬ সিরিজ থেকে গুগল তাদের ফোনে যে সিগনেচার ‘ক্যামেরা বার’ ব্যবহার করে আসছিল, পিক্সেল ১০এ সংস্করণে তা বদলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। নতুন লিক হওয়া তথ্য ও টিজার অনুযায়ী, ফোনটির পেছনে এখন সম্পূর্ণ সমতল (Flat) ক্যামেরা মডিউল থাকবে। অর্থাৎ ফোনের পেছনের অংশটি এখন আরও স্লিম এবং মিনিমালিস্টিক হবে। যারা পিক্সেলের আগের ভারী ক্যামেরা বাম্প অপছন্দ করতেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ খবর।

আরো পড়ূনঃ ল্যাস ভেগাসের মঞ্চে ভবিষ্যতের ঝলক: সিইএস ২০২৬-এ নজর কাড়া সেরা ৫টি গেজেট

পারফরম্যান্স ও ডিসপ্লে

পিক্সেল ১০এ ফোনে গুগলের শক্তিশালী ‘টেনসর জি৪’ (Tensor G4) চিপসেট ব্যবহার করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এর সাথে থাকবে ৮ জিবি র‍্যাম এবং ১২৮ ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ অপশন। ডিসপ্লের ক্ষেত্রে ৬.৩ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস অ্যামোলেড প্যানেল থাকতে পারে, যা ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করবে। এছাড়া ফোনটিতে ২,০০০ নিটস পর্যন্ত পিক ব্রাইটনেস থাকবে, ফলে কড়া রোদেও স্ক্রিন ব্যবহারে সমস্যা হবে না।

ক্যামেরা ও ব্যাটারি

ক্যামেরার জন্য পিক্সেল সব সময়ই সেরা। পিক্সেল ১০এ মডেলে পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে—৪৮ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর এবং ১৩ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্স। সামনে সেলফির জন্য থাকবে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখার জন্য এতে ৫,১০০ এমএএইচ ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে। সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো, গুগল এই ফোনেও ৭ বছরের সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

প্রি-অর্ডার তারিখ ও সম্ভাব্য দাম

গুগলের টিজার অনুযায়ী, পিক্সেল ১০এ-এর প্রি-অর্ডার শুরু হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ইউরোপের বাজারে এর ১২৮ জিবি সংস্করণের দাম হতে পারে প্রায় ৫৪৯ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৭০ হাজার টাকার বেশি, তবে ভ্যাট ও শুল্ক মিলিয়ে দেশে এর দাম আরও বাড়তে পারে)। ফোনটি বেরি, ফগ, ল্যাভেন্ডার এবং অবসিডিয়ান—এই চারটি আকর্ষণীয় রঙে পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? গুগল সাধারণত তাদের ‘এ’ সিরিজের ফোনগুলো কিছুটা কম দামে ভালো ফিচার দেওয়ার জন্য পরিচিত। যদি ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রি-অর্ডার শুরু হয়, তবে চলতি মাসের শেষ দিকেই ফোনটি হাতে পেতে পারেন গ্রাহকরা। বাংলাদেশের বাজারে ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে না আসলেও গ্রে-মার্কেটে বা আমদানিকারকদের মাধ্যমে এটি মার্চের শুরুতেই পাওয়া যেতে পারে। পিক্সেল ১০এ কি মধ্যবিত্তের পছন্দের শীর্ষে জায়গা করে নিতে পারবে? তা জানার জন্য আমাদের আর মাত্র কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

ত্রয়োদশ নির্বাচন এর বড় প্রশ্ন— জনগণ কি আদৌ ভোটকেন্দ্রে যাবে?

1

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূর্যোদয় হতে যাচ্ছে নাকি মেঘের আড়ালে আরও একটি সংঘাতময় অধ্যায় শুরু হচ্ছে—এই প্রশ্ন এখন প্রতিটি চায়ের কাপে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যত কাছে আসছে, ততই এক অদ্ভূত টানাপোড়েন শুরু হয়েছে নাগরিকদের মাঝে। একদিকে দীর্ঘদিনের হারানো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে রাজপথে প্রতিদিনের সংঘাত ও রক্তের দাগ। এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দেশজুড়ে এখন একটাই সংশয়—জনগণ কি জীবন বাজি রেখে আদৌ ভোটকেন্দ্রে যাবে?

সহিংসতার লাল খেরোখাতা: ভোটারদের জন্য কতটুকু নিরাপদ? বিগত ৫৩ দিনের পরিসংখ্যান কোনো সাধারণ নাগরিকের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ২৭৪টি বড় ধরণের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজপথে ঝরেছে ৫টি তাজাপ্রাণ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে ১৫বার। এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি ভোটারদের মনে তৈরি হওয়া সেই আতঙ্কের প্রতিফলন, যা তাদের ভোটের দিন ঘর থেকে বের হতে বাধা দিতে পারে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, জানুয়ারিতে সহিংসতার হার ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কি কেবল একটি ‘সিল’ মারার জন্য প্রাণ ঝুঁকিতে ফেলবে?

আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর সমর্থকদের বড় অংশই এখন বিএনপি ৪৮% ও জামায়াতপন্থী ৩০%

সংস্কার বনাম সক্ষমতা: মাঠ পর্যায়ে কতটা কার্যকর? নির্বাচনের মোক্ষম সময়ে র‍্যাবের নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) করা এবং বাহিনীর খোলনলচে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সরকার বাহবা পেলেও ভোটাররা এখনো ধোঁয়াশায়। সাদা পোশাকে হোক কিংবা কালো পোশাক—পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী কি পারবে প্রার্থীর সমর্থকদের গুণ্ডামি থামিয়ে একজন সাধারণ ভোটারকে নিরাপদে ব্যালট বক্স পর্যন্ত পৌঁছে দিতে? মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কেবল বাহিনীর নাম বদলে জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়; দরকার মাঠ পর্যায়ে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা। ভোটারদের মধ্যে আস্থা নেই বলেই গত কয়েক দিন ধরে জনমনে এই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলছে— ‘ভোট তো হবে, কিন্তু আমরা কি পৌঁছাতে পারব?’

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সংজ্ঞা কি কেবল প্রার্থীর সংখ্যায়? উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা দেশগুলো এবার একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য মরিয়া। কিন্তু এই ‘অংশগ্রহণ’ কি কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রতিফলিত হবে? পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ৫৪-৫৫ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির লক্ষ্যমাত্রা কি কেবলই এক অলীক স্বপ্ন? যদি বুথের বাইরে লাঠিসোটা ও ককটেলের রাজত্ব থাকে, তবে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় যাবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উপসংহার: ব্যালটের জয় নাকি আতঙ্কের পরাজয়? নির্বাচনের মাঠ এখন এক বিশাল প্রশ্নের সম্মুখীন। রাজনৈতিক দলগুলোর উস্কানি এবং পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার যদি না কমে, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আরও একটি ‘খালি কেন্দ্রের’ ইতিহাস গড়তে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভোটারদের হাতে কালি লাগানো নয়, বরং তাদের মনে এই বিশ্বাস ফেরানো যে— ‘ভোটকেন্দ্রে গেলে আপনি নিরাপদে ফিরে আসবেন’। শেষ পর্যন্ত কি ব্যালটের জয় হবে নাকি আতঙ্কের রাজত্বে সাধারণ ভোটাররা নীরব থেকে যাবেন, তা জানতে আমাদের কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

সবাইকে নিয়েই হবে আগামীর বাংলাদেশ”: ভারতীয় গণমাধ্যমে জামায়াত আমীর এর বড় বার্তা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই মাহেন্দ্রক্ষণে ভারতীয় প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দলের আমীর ড. শফিকুর রহমান তার রাজনৈতিক দর্শন এবং আগামী দিনের বাংলাদেশের চিত্র নিয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে একটি বহুবাদী সমাজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

অতীতের ভুল ও ক্ষমা প্রার্থনা সাক্ষাৎকারে ড. শফিকুর রহমান এক নজিরবিহীন ও মানবিক অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত যদি আমাদের কোনো কর্মীর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সামান্যতম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে আমি আমীর হিসেবে বিনম্রভাবে তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি।” তার মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয় বরং নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং জাতীয় ঐক্যের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের মানুষের আস্থা অর্জনে এই স্বচ্ছতা ও বিনয় অত্যন্ত জরুরি।

আরো পড়ুনঃ ৪১ দফা ‘জনতার ইশতেহার’: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের মহাপরিকল্পনা

নতুন প্রজন্মের জন্য সুশৃঙ্খল বিকল্প দুর্নীতি এবং অপশাসনে বীতশ্রদ্ধ তরুণ প্রজন্মের কাছে জামায়াত এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে। ড. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, “জামায়াত একটি ক্যাডার-ভিত্তিক আদর্শিক দল হলেও আমাদের মূল লক্ষ্য হলো জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আজকের তরুণরা বাগাড়ম্বর নয় বরং কাজের সততা দেখতে চায়।” সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের জয়জয়কারকে তিনি তরুণদের এই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

সংখ্যালঘু অধিকার ও নির্বাচনী প্রস্তুতি জামায়াতের বিরুদ্ধে থাকা ধর্মীয় গোঁড়ামির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, তাদের দল এখন অনেক বেশি প্রগতিশীল এবং মধ্যপন্থী। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এবারের নির্বাচনে জামায়াত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীকেও মনোনয়ন দিয়েছে, যা দলটির অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এক বড় উদাহরণ। এছাড়া ৩শ আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং তারা এককভাবে বা নীতিগত মিল আছে এমন দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত।

জাতীয় ঐক্য ও জুলাইয়ের চেতনা ড. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা এই চেতনাকে ধারণ করে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করতে চাই যেখানে নারী, সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক শেখ হাসিনার গণ্ডি পেরিয়ে জনগণের পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত এবং তা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? ড. শফিকুর রহমানের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জামায়াতের প্রতি থাকা ধারণা পরিবর্তনের একটি বড় চেষ্টা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামায়াতের এই ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ ও ‘উদারপন্থী’ ইমেজ সাধারণ ভোটারদের ব্যালটে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনেই প্রমাণিত হবে। সংস্কারের এই আহ্বান এবং ক্ষমার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আশুলিয়া রায়: স্বস্তি ফিরলেও অধরা ৮ আসামি, পলাতকদের ফেরাতে হার্ডলাইনে সরকার

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর নৃশংস ঘটনার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পর সারা দেশে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের এই রায়কে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারগুলো ‘ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ১৬ জন আসামির মধ্যে ৮ জনই এখনো পলাতক থাকায় দণ্ড কার্যকর করা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

শহীদ পরিবারে কান্নার সাথে স্বস্তির নিঃশ্বাস ৫ আগস্টের সেই নারকীয় ঘটনায় শহীদ হওয়া সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর ও তানজিল মাহমুদ সুজয়সহ সাতজন শহীদের পরিবার আজ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। রায় শোনার পর তারা কান্নায় ভেঙে পড়লেও বিচারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শহীদ সজলের এক স্বজন বলেন, “লাশ পুড়িয়ে দিয়ে তারা আমাদের শেষ চিহ্নটুকু মুছে দিতে চেয়েছিল। আজ আদালতের রায়ে প্রমাণ হলো অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, পার পাবে না।” তবে তাদের দাবি, সাবেক এমপি সাইফুল এবং ওসিসহ যারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর নজিরবিহীন রায়: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

পলাতক আসামিদের ধরতে বিশেষ তৎপরতা এই মামলায় মোট ১৬ জন আসামির মধ্যে ৮ জনই এখনো ধরা পড়েনি, যাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম এবং যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া অন্যতম। সরকারি সূত্র মতে, পলাতক আসামিরা দেশের বাইরে পালিয়ে থাকতে পারেন এমন আশঙ্কায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ওসি এফ এম সায়েদ এবং এসআই আব্দুল মালেকসহ অন্যদের ধরতে দেশের সব স্থল ও বিমান বন্দরে কঠোর নজরদারি জারি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক স্তরে রেড নোটিশের পরিকল্পনা যেহেতু পলাতক আসামিদের মধ্যে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাই তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারির প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ভাবছে সরকার। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় ঘোষণার পর এখন দণ্ড কার্যকরের জন্য পলাতকদের ফিরিয়ে আনাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হকের জবানবন্দিতে ঘটনার যে বীভৎসতা উঠে এসেছে, তা আন্তর্জাতিক জনমতকে এই আসামিদের ফেরাতে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

উপসংহার: অপরাধীদের জন্য নেই কোনো ক্ষমা আশুলিয়ার এই রায় কেবল একটি অঞ্চলের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের একটি বড় অর্জন। সাতজন শহীদ—সজল, সাবুর, সুজয়, বায়েজিদ, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও শাহাবুল ইসলামের রক্ত মাখা স্মৃতি আজ বিচারিক স্বীকৃতি পেল। তবে ন্যায়বিচার তখনই পূর্ণতা পাবে যখন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামির প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আসবে। পলাতকদের গ্রেপ্তারে সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে শহীদদের পরিবার ও সাধারণ জনতা।

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর নজিরবিহীন রায়: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ দিন ৫ আগস্ট রাজধানীর আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ ভ্যানে স্তূপ করে আগুন দিয়ে পোড়ানোর সেই বীভৎস ঘটনার বিচার শেষ হলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এই মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ মোট ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম একটি যুগান্তকারী রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্তদের তালিকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এফ এম সায়েদ (রনি), সাবেক এসআই আব্দুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, স্থানীয় যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া এবং কনস্টেবল মুকুল। উল্লেখ্য, সাবেক এমপি সাইফুলসহ কয়েকজন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ ফেসবুকের ‘হাহা’ রিয়্যাকশন যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: নির্বাচনের আগে বাড়ছে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ডিজিটাল হয়রানি

একই মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফি, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক ইন্সপেক্টর আরাফাত হোসেন, সাবেক পরিদর্শক মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন এবং সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস। এছাড়া সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভস্মীভূত সেই নৃশংসতা ও সাত শহীদ ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানা সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহতদের লাশ একটি ভ্যানে করে নিয়ে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই নারকীয় ঘটনায় শহীদ হওয়া সাতজন হলেন— সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক এবং মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রাজসাক্ষীর ক্ষমা ও বিচার প্রক্রিয়া এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হকের রাজসাক্ষী হওয়া। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। গত বছরের ২১ আগস্ট এই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ এই চূড়ান্ত রায় দিলেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে গ্রেপ্তারকৃত ৮ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে এক নতুন মাইলফলক রচিত হলো। যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন শহীদদের পরিবার। এই রায়ের পর সারা দেশের ছাত্র-জনতা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তির ছায়া নেমে এসেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এক কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

আবারও বাবা-মা হতে যাচ্ছেন শাকিব-বুবলী: নতুন অতিথির অপেক্ষায় তারকা দম্পতি

0

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী অভিনেতা শাকিব খান এবং জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী ফের বাবা-মা হতে যাচ্ছেন। তাদের প্রথম সন্তান শেহজাদ খান বীরের পর এবার তাদের পরিবারে আসতে চলেছে এক নতুন অতিথি। বুবলী বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং শাকিব খানের পরামর্শেই তিনি নতুন এই অতিথির আগমনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গোপন গুঞ্জনই যখন সত্যি বেশ কিছুদিন ধরেই চলচ্চিত্র পাড়ায় বুবলীর মা হওয়ার গুঞ্জন উঠছিল। বিশেষ করে তার জনসম্মুখে আসা কমে যাওয়া এবং শুটিং থেকে দূরে থাকাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা চলছিল। অবশেষে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত বছরের শেষের দিকে শাকিব ও বীরের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো দীর্ঘ ছুটির সময়ই তাদের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয় এবং ফের তারা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিচ্ছেন বুবলী বিগত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এই সন্তানকেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বুবলী। শেহজাদ খান বীরের জন্মও হয়েছিল আমেরিকার মাটিতে। জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকেই তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য এবং সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন। শাকিব খান এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন এবং বুবলীকে সব ধরণের মানসিক সমর্থন দিচ্ছেন।

আরো পড়ুনঃ বর্ডারের সেই অমর জুটি এবার কোর্টরুমে: সানি দেওল ও অক্ষয় খান্নার ধামাকাদার প্রত্যাবর্তন

সিনেমা ও ক্যারিয়ারে সাময়িক বিরতি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে বুবলী বর্তমানে কোনো ধরণের শারীরিক ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ফলে ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। প্রথম ধাপের কাজ শেষ করলেও দ্বিতীয় লটের কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সিনেমার প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার জানিয়েছেন, বুবলী প্রায় দেড় বছরের ছুটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করায় তারা তাকে ছাড়াই সিনেমার বাকি কাজ শেষ করার কথা ভাবছেন।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কি আজই? আগামীকাল রাজধানীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে একটি আউটলেট উদ্বোধন করার কথা রয়েছে বুবলীর। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই তিনি গণমাধ্যমের সামনে নিজের মা হতে যাওয়ার খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন। এর আগে বীরের খবরটি প্রকাশ্যে আনতে বুবলী ফেসবুকে ছবি শেয়ার করেছিলেন, এবারও কি তিনি একই পথে হাঁটবেন নাকি প্রকাশ্যেই দেবেন এই খুশির সংবাদ—তা নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? শাকিব-বুবলীর এই দ্বিতীয় সন্তানের খবর তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মান-অভিমানের ইতি ঘটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। ঢালিউড সুপারস্টারের পরিবারে এই নতুন সদস্যের আগমন ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে বইছে খুশির হাওয়া। এখন দেখার বিষয়, বুবলীর অনুপস্থিতিতে তার অসমাপ্ত সিনেমাগুলো কীভাবে আলোর মুখ দেখে এবং শাকিব খান তার এই নতুন দায়িত্ব কীভাবে সামলান।

এক বাবার শত শত সন্তান! ভোটার তালিকায় ডিজিটাল জালিয়াতি নাকি নিছক ভুল?

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভোটার তালিকায় সাধারণত ছোটখাটো ভুল বা নামের বানান ভুল লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় এমন এক তথ্য উঠে এসেছে যা স্রেফ বিস্ময়কর নয়, বরং অসম্ভবও বটে। একটি বা দুটি নয়, এক ব্যক্তির নামের পাশে ‘সন্তান’ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে ৩৮৯ জন ভোটারকে। বাস্তব ও বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব এই ঘটনাটি ধরা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায়।

বীরভূমে ‘আজব’ কাণ্ড নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া একটি হলফনামায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। বীরভূম জেলার নানুর বিধানসভা এলাকায় এক ব্যক্তিকে ৩৮৯ জন ভোটারের অভিভাবক বা বাবা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোটার তালিকার ডাটাবেজে এটি একটি বড় ধরণের তথ্যগত ও যুক্তিগত ত্রুটি (Logical Error)।

একাধিক জেলায় একই ধরণের অসঙ্গতি শুধু বীরভূম নয়, পশ্চিমবঙ্গের আরও বেশ কিছু জেলায় একই ধরণের অস্বভাবিক তথ্য মিলেছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • হাওড়া (সাঁকরাইল): এখানে এক ব্যক্তিকে ৩১০ জন ভোটারের অভিভাবক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

  • মুর্শিদাবাদ: এক ব্যক্তির নামে ১৯৯ জন ভোটার নিবন্ধিত।

  • দার্জিলিং: এক অভিভাবকের অধীনে ১৫২ জন ভোটার।

  • জলপাইগুড়ি (নাগরাকাটা): এখানে ১২০ জন ভোটার একই ব্যক্তিকে তাদের অভিভাবক হিসেবে দাবি করেছেন।

  • আসানসোল: এখানে একই বাবার নামে ১৭০ জন ভোটার নথিভুক্ত।

কমিশনের পদক্ষেপ ও আইনি লড়াই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ছয় জন বা তার বেশি সন্তান একই অভিভাবকের অধীনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এই ধরণের অসঙ্গতি কেন এবং কীভাবে হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা চলছে এবং আগামী বুধবার এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের এই হলফনামার পর ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে পরিকল্পিত জালিয়াতি হিসেবে দেখলেও কমিশন একে টেকনিক্যাল ত্রুটি হিসেবে সংশোধনের চেষ্টা করছে। আগামী বুধবারের শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচনের শুদ্ধতা।

আওয়ামী লীগ এর সমর্থকদের বড় অংশই এখন বিএনপি ৪৮% ও জামায়াতপন্থী ৩০%

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করার সাথে সাথেই জনমতের এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক বা নিয়মিত ভোটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ভিন্ন এক প্রবণতা。 সাম্প্রতিক এক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ভোটারদের একটি বড় অংশই এখন তাদের রাজনৈতিক পছন্দ পরিবর্তন করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দিকে ঝুঁকছেন。

জরিপের চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রায় অর্ধেক বা ৪৮ শতাংশ ভোটার আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে বেছে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন。 এটি দলটির চিরাচরিত ভোট ব্যাংকে এক বিরাট ধসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের ভোটারদের প্রায় ৩০ শতাংশ এখন জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। এই পরিসংখ্যানটি দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের বাইরের মানুষের কাছেও বিস্ময় তৈরি করেছে।

আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারত থেকে ফেরার নতুন ছক

রাজনৈতিক মেরুকরণের নেপথ্যে কী? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বর্তমানের সংস্কারমুখী পরিস্থিতির প্রভাবে সমর্থকদের মানসিকতায় এই বদল এসেছে। যারা আগে একটি নির্দিষ্ট আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ এখন সুশাসন এবং পরিবর্তনের আশায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যক্রম এই সমর্থকদের প্রভাবিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব এই পরিবর্তনের ফলে আগামী নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিতে পারে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের এই দলত্যাগ বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের জন্যই এক বিশাল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। যদি এই বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের ফলাফলে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারে বাংলাদেশ।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা ততই জোরদার হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের এই বিশাল অংশকে ধরে রাখা বা ফিরিয়ে আনা এখন দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, বিএনপি ও জামায়াত এই নতুন সমর্থকদের আস্থা কতটা অর্জন করতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী বাংলাদেশের শাসনভার। মাঠপর্যায়ের এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে পুরো দেশ।

ফেসবুকের ‘হাহা’ রিয়্যাকশন যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: নির্বাচনের আগে বাড়ছে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ডিজিটাল হয়রানি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ যেমন উত্তপ্ত, ঠিক তেমনি উত্তাপ ছড়িয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। তবে এবারের লড়াই স্রেফ বাকযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং তাদের কণ্ঠ রোধ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুকের ‘হাহা’ রিয়্যাকশন। আগে যা ছিল নিছক মজার বহিঃপ্রকাশ, এখন তা সঙ্ঘবদ্ধ সাইবার আক্রমণের এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণের নতুন কৌশল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারণার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তবে এই জনপ্রিয়তাকে ম্লান করতে এবং জনমতে বিভ্রান্তি ছড়াতে একদল ব্যবহারকারী পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের পোস্টে ‘হাহা’ রিয়্যাকশন দিয়ে থাকে। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক নেতার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট পোস্টে যখন কয়েক হাজার ব্যঙ্গাত্মক রিয়্যাকশন পড়ে, তখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে ওই বার্তার গুরুত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা কমে যায়। এটি এক ধরণের ‘ডিজিটাল মকিং’ বা উপহাস করার প্রক্রিয়া, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়।

কেন বেছে নেওয়া হচ্ছে ‘হাহা’ রিয়্যাকশন? সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি গালাগালি বা আপত্তিকর মন্তব্য করলে ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা মডারেশন টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু ইমোজির ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক কঠিন। ফলে ‘হাহা’ রিয়্যাকশন ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বুলিং করা অনেক সহজ। নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি করতে এবং প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে এটি একটি কার্যকরী অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে ‘বট’ বা ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার এমন রিয়্যাকশন নিশ্চিত করা হয়।

গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনমতে প্রভাব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সুস্থ বিতর্কের বদলে যখন এমন উপহাসের সংস্কৃতি জায়গা করে নেয়, তখন সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য যাচাই করতে দ্বিধায় পড়ে যায়। রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ, তাদের ইতিবাচক পোস্টগুলোকেও হাস্যরসে পরিণত করে মূল ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে যেমন প্রার্থীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, ঠিক তেমনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা সামাজিক মাধ্যমের এই প্রবণতা দেখে প্রভাবিত হতে পারেন।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা এই ধরণের ডিজিটাল হয়রানি বন্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ডিজিটাল সেল থেকে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আরও উন্নত মডারেশন টুল এবং রিয়্যাকশন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন যাতে এটি কারো হয়রানির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসবে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরণের ‘ইমোজি যুদ্ধ’ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সচেতন ভোটাররা তথ্যের উৎস ও সত্যতা যাচাই করতে পারলে এই ধরণের অপপ্রচার খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিজিটাল মনিটরিং সেল এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। শেষ পর্যন্ত ফেসবুকের এই ছোট একটি ইমোজি বড় কোনো রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

ম্যানচেস্টার সিটির রাজত্ব বনাম আর্সেনাল এর চ্যালেঞ্জ: লিগ কাপের ফাইনালে দুই জায়ান্টের লড়াই

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক, লন্ডন: ইংলিশ ফুটবলে আধিপত্য বজায় রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ম্যানচেস্টার সিটি। বুধবার রাতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লিগ কাপের (ইএফএল কাপ) ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে ওয়েম্বলির টিকিট হাতে পেল সিটিজেনরা। আগামী ২২ মার্চ শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল।

মারমুশ ম্যাজিক ও সিটির দাপট ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রথম লেগে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই নিউক্যাসলের মাঠে খেলতে গিয়েছিল ম্যান সিটি। দ্বিতীয় লেগেও সিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে নিউক্যাসলের স্বপ্ন প্রায় শেষ করে দেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ। এরপর বিরতির ঠিক আগে তিজানি রেইজন্ডার্সের তৃতীয় গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় গার্দিওলার দল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় অ্যান্থনি এলাঙ্গা নিউক্যাসলের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।

আরো পড়ুনঃ আর্সেনাল বনাম চেলসি: এমিরেটসে নীল বধ করে ফাইনালে গানার্সরা

শিরোপা লড়াইয়ে গার্দিওলা বনাম আর্তেতা এই ফাইনালটি ফুটবলের দুই মাস্টারমাইন্ড—পেপ গার্দিওলা এবং মিকেল আর্তেতার কৌশলের লড়াই হতে যাচ্ছে। আর্তেতা এক সময় সিটিতে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, তবে এখন তিনি আর্সেনালকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আর্সেনাল গত মঙ্গলবার চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। গার্দিওলা যেখানে তার ১৬তম প্রধান শিরোপা এবং পঞ্চম লিগ কাপ জয়ের লক্ষ্যে নামবেন, আর্তেতা চাইবেন ২০২০ সালের পর আর্সেনালকে প্রথম বড় কোনো ট্রফি এনে দিতে।

পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট ম্যানচেস্টার সিটি এই প্রতিযোগিতাটি এর আগে ৮ বার জিতেছে, অন্যদিকে আর্সেনালের ঝুলিতে আছে মাত্র ২টি শিরোপা—যার শেষটি এসেছিল ১৯৯৩ সালে। তবে এবারের লড়াইটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে ম্যান সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। ফলে লিগ কাপের ফাইনালটি হতে পারে সিটির জন্য প্রিমিয়ার লিগের প্রতিশোধ নেওয়ার বড় সুযোগ। ২০১৮ সালেও এই দুই দল লিগ কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে ম্যান সিটি জয়ী হয়েছিল।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? মার্চের ২২ তারিখ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্ব এক রোমাঞ্চকর ফাইনালের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। এই ট্রফিটি হবে মৌসুমের প্রথম বড় শিরোপা। ম্যান সিটি কি তাদের ট্রফি ক্যাবিনেটে আরও একটি রুপোলি পাত্র যোগ করবে, নাকি আর্তেতার হাত ধরে আর্সেনাল ফিরবে শিরোপার উল্লাসে? ইংলিশ ফুটবলের নতুন এই ‘রাইভালরি’ এখন চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সের অপেক্ষায়।

বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান: ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা শাহবাজ শরিফের

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই ‘ভারত বনাম পাকিস্তান’ ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা। ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কেন এই বয়কট? বাংলাদেশের প্রতি সংহতি বুধবার ইসলামাবাদে ফেডারেল ক্যাবিনেটের এক বৈঠকে শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা একটি পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি যে আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলব না। খেলাধুলায় রাজনীতি থাকা উচিত নয়, তবে অনেক বিচার-বিবেচনার পরেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি”। মূলত বাংলাদেশ দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদেই পাকিস্তানের এই সংহতি প্রকাশ।

আরো পড়ুনঃ ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ: বয়কটের হুঙ্কার নাকি সমঝোতা? দ্বিধাবিভক্ত সমর্থকরা

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের জায়গা নেয় স্কটল্যান্ড। বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতের মাটিতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। আইসিসির দাবি ছিল, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রকৃত ঝুঁকি নেই এবং শেষ মুহূর্তে সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

আইসিসির প্রতিক্রিয়া ও কঠোর অবস্থান পাকিস্তানের এই আকস্মিক বয়কটের ঘোষণায় বেশ বিপাকে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের চেতনা রক্ষা করতে প্রতিটি দলের পূর্ণ অংশগ্রহণ বাঞ্ছনীয়। আইসিসি আরও যোগ করেছে যে, বাছাইকৃত বা সিলেক্টিভ অংশগ্রহণ বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করছে।

ক্রিকেট বিশ্বে প্রভাব ও সমর্থকদের হতাশা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কোটি কোটি দর্শকের উন্মাদনা এবং সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর বিশাল আয়ের উৎস। শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি পণ্ড হয়ে গেলে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের আধিপত্য এবং পাকিস্তানের লড়াই দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে এই খবরটি তীব্র হতাশা তৈরি করেছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে পাকিস্তান ‘গ্রুপ-এ’ তে ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রয়েছে। পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের ফলে পিসিবিকে কোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট কূটনীতি জয়ী হয় নাকি রাজনৈতিক ও সংহতির প্রশ্নে বিশ্বকাপের মাঠ থেকে দূরে থাকে পাকিস্তান—তা জানার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

বরিশালে তারেক রহমান এর হুঙ্কার: ‘গুপ্ত’ শক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ডাক

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ দুই দশক পর রূপসী বাংলার প্রাণকেন্দ্র বরিশালে দলীয় জনসভায় ভাষণ দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত বিশাল এই বিভাগীয় সমাবেশে তিনি আগামী ১৩ তারিখের পর থেকে পাঁচ বছর জনগণের সেবক হিসেবে থাকার দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি নাম উল্লেখ না করে একটি ‘গুপ্ত’ সংগঠনের কঠোর সমালোচনা করে তাদের রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেন।

২০ বছর পর বেলস পার্কে জনসমুদ্র হেলিকপ্টারে করে দুপুর ১২টায় বরিশালে পৌঁছান তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের প্রবল ভিড় ঠেলে জনসভাস্থলে পৌঁছাতে তার গাড়িবহরের বেশ সময় লাগে। ২০ বছর আগে তিনি এই মাঠেই সর্বশেষ ভাষণ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসন থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বেলস পার্ক এলাকা। সমাবেশের মাঠ উপচে জনস্রোত আশেপাশের বান্দ রোড ও জেলা স্কুল মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

আরো পড়ুনঃ তারেক রহমান এর বিশেষ সাক্ষাৎকার: নতুন বাংলাদেশের জন্য এক মহাপরিকল্পনা

‘গুপ্ত’ শক্তির মুখোশ উন্মোচন বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের এক নতুন ‘জালেম’ শক্তির আবির্ভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই সংগঠনের বড় নেতারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন এবং পরে আইডি হ্যাকের অজুহাত দিয়ে পার পেতে চান। তিনি বলেন, “সৎলোকের শাসনের কথা বলে যারা অহরহ মিথ্যা বলছে এবং ভোটের আগে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই শক্তিটি ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরার কথা বললেও ১৩ তারিখ থেকে জনগণকে তাদের পা ধরার হুমকি দিচ্ছে।

বরিশালের জন্য উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বরিশালের উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি নির্বাচিত হলে বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, ভোলায় নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের আধুনিকায়নের কথা বলেন। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের নদীভাঙন রোধ এবং কৃষি ও মৎস্য সম্পদের জন্য হিমাগার নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। পরিবেশ ও কৃষি উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচিত হতে পারলে আমি আবার বরিশালে আসব এবং আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নেব।”

জনগণই সব ক্ষমতার উৎস বিভাগের ২১টি আসনের প্রার্থীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের সমর্থন যার পেছনে থাকে না, তার পরিণতি কী হয় তা আমরা দেখেছি।” তিনি বিএনপি ও শরিক দলের প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেন যেন তারা সর্বদা জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত থাকেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “১৩ তারিখের পর থেকে আমাদের প্রার্থীদের কাজ হবে আপনাদের দেখাশোনা করা। আমরা বিশ্বাস করি জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।”

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে শরিক দলের নেতা আন্দালিব রহমান পার্থ ও নুরুল হক নুরকে সাথে নিয়ে মঞ্চে তার উপস্থিতি এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা দিচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের প্রচারণায় এই জনসভার প্রভাব কতটা পড়ে এবং বিরোধী পক্ষের ‘গুপ্ত’ তৎপরতা রুখতে ভোটাররা কী ভূমিকা নেন, সেদিকেই এখন সবার নজর।

৪১ দফা ‘জনতার ইশতেহার’: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের মহাপরিকল্পনা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আমির ড. শফিকুর রহমান ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামে এই রূপরেখা তুলে ধরেন। রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ২৬টি মূল অগ্রাধিকারসহ মোট ৪১টি দফায় সাজানো হয়েছে এই ইশতেহার।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও অর্থনৈতিক সংস্কার জামায়াতের এবারের ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি নির্মূলে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এছাড়া বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে চালু করা এবং সেখানে ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তরুণ ও শিক্ষিত সমাজের জন্য বিশেষ স্কিম দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। ইশতেহার অনুযায়ী, স্নাতক শেষ করার পর চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ তরুণকে মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রদান করা হবে। এছাড়া আগামী ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদানের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

নারী অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে বিশেষ নজর দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারে ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও হোম ইকোনমিক্স কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ড. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে মা-বোনদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং কর্মক্ষেত্রে তারা নিরাপদ থাকবেন”। এছাড়াও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এবং ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতা’র ভিত্তিতে গঠনমূলক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে জামায়াত। এছাড়া মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎপরতা চালানোর কথাও ইশতেহারে উল্লেখ আছে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবগুলো ভোটারদের মাঝে কী প্রভাব ফেলে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। জামায়াতের এই ‘জনতার ইশতেহার’ যদি মাঠপর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারে, তবে নির্বাচনী ফলাফলে তা বড় ধরণের চমক নিয়ে আসতে পারে।

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনা সহ পরিবারের তিন সদস্যের কারাদণ্ড; রাজপথে অস্থিরতার শঙ্কা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও বড় ধরনের ভূকম্পন শুরু হয়েছে। রাজধানীর পূর্বাচলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ তার পরিবারের আরও দুই সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ের পাশাপাশি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পক্ষ থেকে নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

আদালতের রায় ও সাজার বিবরণ আদালত সূত্র এবং সাম্প্রতিক সংবাদ প্রবাহ থেকে জানা যায়, পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আদালত তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারত থেকে ফেরার নতুন ছক

টিআইবি-র উদ্বেগ ও নির্বাচনী সহিংসতা এদিকে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত ৩৬ দিনে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনের আগে মাঠপর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই প্রাণহানি ঘটছে। এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এল যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

জনজীবনে প্রভাব ও জনমত আদালতের এই রায় এবং টিআইবি-র প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে দুর্নীতির বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনের ঠিক আগে এমন রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন দলের সমর্থকরা। বিশেষ করে টিউলিপ সিদ্দিকের সাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের ফলে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজপথে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক এই ডামাডোল দেশবাসীকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সরকারের পদক্ষেপই বলে দেবে বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘুরছে।

ভোটের মাঠে‘ নোয়াখালী বিভাগ’ ইস্যু: প্রার্থীদের ওপর ভোটারদের প্রবল চাপ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘বৃহত্তর নোয়াখালী’ সব সময়ই অত্যন্ত প্রভাবশালী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘকাল ধরে একটি বড় আক্ষেপ বিরাজমান—তা হলো একটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েক কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ‘নোয়াখালী বিভাগ’ বাস্তবায়ন। আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দাবি এখন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী জনসভা, পথসভা এবং চায়ের দোকানে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এই একটিই বিষয়।

প্রশাসনিক জটিলতা ও বঞ্চনার ইতিহাস বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের জন্য যেকোনো বড় প্রশাসনিক কাজে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে যাওয়া এক বিরাট ভোগান্তির নাম। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে সময় ও অর্থের অপচয় করতে হয়। সাধারণ ভোটারদের মতে, নোয়াখালী প্রাচীন একটি জেলা হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অভাবে এই অঞ্চলের উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বিচারিক কাজের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে যাওয়া প্রান্তিক মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরো পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারত থেকে ফেরার নতুন ছক

ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা যখন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, তখন ভোটাররা সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন—‘বিভাগ হবে কি না?’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় ‘বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’ এর মতো সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের জোরালো প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করবেন, তাদেরই এবার সমর্থন দেবেন তারা।

প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা রাজনৈতিক দলগুলোর বড় নেতাদের বক্তব্যেও এই দাবির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো প্রার্থী একে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সংশয়ও রয়েছে। তারা বলছেন, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তী সময়ে তা হিমাগারে চলে যায়। তাই এবার কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চাইছেন তারা।

উপসংহার: সামনে কী ঘটবে? নোয়াখালী বিভাগ গঠন কেবল একটি আবেগ নয়, বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রগতির জন্য এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে যে দল বা প্রার্থী এই দাবিটিকে গুরুত্বসহকারে নেবে, তারা জনসমর্থনের দৌড়ে অনেক এগিয়ে থাকবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রচারণার গতি বাড়ার সাথে সাথে এই আন্দোলন আরও বেগবান হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই গণদাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে কতটা প্রভাব ফেলে এবং নির্বাচনের পর এর বাস্তবায়ন কতটুকু হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ।